BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

একলা পথিকের বাগান

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬

সুরাজ পাল

আরও পড়ুন:

জার্মানির থুরিনজিয়া। ঘন জঙ্গল। ছায়ায় ঢাকা, স্যাঁতস্যাঁতে গ্রাম। সেখানেই ১৭৮২ সালে জন্ম ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেলের। জন্মের মাত্র নয় মাসের মাথায় মা মারা গেলেন। ছোট্ট ফ্রেডরিখ জানল না মায়ের আদর কাকে বলে। বাবা জোহান জ্যাকব ফ্রয়েবেল ছিলেন গির্জার যাজক। ভীষণ রাশভারী, কড়া মেজাজের মানুষ। তাঁর কাছে ধর্ম মানে কঠোর অনুশাসন, আবেগের কোনো জায়গা নেই। অনাদরে, অবহেলায় বড় হতে লাগল ছেলেটি। সৎ-মা এলেন সংসারে। প্রথম প্রথম একটু স্নেহ জুটল, কিন্তু নিজের সন্তান আসতেই ফ্রেডরিখ হয়ে গেল ‘পর’। ঘরের কোণে, সিঁড়ির তলায় একা বসে থাকত সে। কেউ তার খোঁজ নিত না। তাকে বল হত ‘দুষ্টু’, ‘অপদার্থ’। বাড়িতে টেকা দায়। বাবার চোখরাঙানি। ফ্রেডরিখ পালাল জঙ্গলে। গাছগুলো বকে না। পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। ঝরনাটা কেমন কুলকুল করে কথা কয়। ছেলেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে গাছের পাতার দিকে। ফুলের পাপড়ির দিকে। কী অদ্ভুত সাজানো! তিনটে পাপড়ি, পাঁচটা পাপড়ি। কী সুন্দর জ্যামিতি! স্কুল তো আরেক জেলখানা। তোতাপাখির মতো বুলি আওড়াও। তাঁর মাথায় কিচ্ছুটি ঢোকে না। শিক্ষকরা বলেন, ‘গাধা। কিচ্ছু হবে না একে দিয়ে।’ সবাই যখন ‘বোকা’ বলছে, তখন প্রকৃতির পাঠশালায় সে তৈরি হচ্ছে। সে শিখছে, সব কিছুর মধ্যে একটা মিল আছে। একটা সুর আছে।

আরও পড়ুন:

কৈশোর পেরোল। কিন্তু কী করবেন জীবনে? কিছুই যে ভালো লাগে না। শুরুতে বনবিভাগের কাজ নিলেন। জঙ্গল মাপার কাজ। ভালোই লাগত। তাতে তো পেট চলে না। তারপর গেলেন খনিতে। পাথর দেখার কাজ। হাতে তুলে নিলেন স্ফটিক। অবাক হয়ে দেখলেন, বাইরেটা এবড়োখেবড়ো, অথচ ভিতরটা কী নিখুঁত! আলো পড়লে ঠিকরে বেরোয়। ভাবলেন, মানুষের মনটাও তো স্ফটিকের মতো। বাইরে যতই ধুলোবালি থাক, ভিতরে আলো লুকোনো আছে। সেই আলোটা বের করতে হবে। এরপর আর্কিটেকচার পড়লেন কিছুদিন। এভাবেই কাটছিল। ছন্নছাড়া জীবন। উদ্দেশ্যহীন।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ একদিন দেখা এক বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধু বললেন, ‘তুমি তো পড়াতে ভালোবাসো। চলো ফ্রাঙ্কফুর্ট। ওখানে একটা নতুন ধরনের স্কুল হয়েছে।‘ স্কুলের প্রধান গ্রুনার সাহেব। পেস্তালৎসির ছাত্র। সেখানে গিয়ে ফ্রেডরিখের চোখ ছানাবড়া। আরে! এখানে তো মারধোর নেই। বাচ্চারা হাসছে। ক্লাসঘরে ঢুকে পড়লেন তিনি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বুঝলেন, এটাই তো আমি চেয়েছিলাম! শিশুদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন নিজেকে আবিষ্কার করলেন। ছুটলেন পেস্তালৎসির কাছে। সুইজারল্যান্ডে। ইভারদঁ-এ গিয়ে দেখলেন এলাহি কাণ্ড। ভালোবাসা দিয়ে শেখানো হচ্ছে। কিন্তু ফ্রেডরিখের জ্যামিতিক মন খুতখুত করে উঠল। ভালোবাসা আছে, অথচ কোনো ‘পদ্ধতি’ নেই। সব কেমন যেন ছড়ানো-ছিটোনো। ভাবলেন, ভালোবাসার সঙ্গে বিজ্ঞানকে মেশাতে হবে। আবেগের সঙ্গে নিয়মকে মেশাতে হবে। তবেই তো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ এল। নেপোলিয়নের যুদ্ধ। ফ্রেডরিখও যোগ দিলেন। বন্দুকের নলে মন টেকে না। যুদ্ধশেষে ঘরে ফিরলেন। এবার আর একা নন। সঙ্গে কিছু স্বপ্ন। ইতিমধ্যেই দাদা মারা গেছেন। রেখে গেছেন বিধবা স্ত্রী ও তিন সন্তান। ফ্রেডরিখ ভাইপোদের দায়িত্ব নিলেন। তিনটে বাচ্চাকে মানুষ করতে গিয়েই তাঁর পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হল। দেখলেন, শিশুরা আসলে কী চায়? তারা কি কেবল জ্ঞান চায়? না। তারা চায় ‘কাজ করতে’। হাত-পা নাড়তে। তারা গড়তে চায়। ভাঙতে চায়। বড়রা ভাবে খেলা মানে সময় নষ্ট। অথচ, শিশুর কাছে খেলাটাই কাজ। ওটাই তার তপস্যা। একটা সাত বছরের বাচ্চার কাছে মাটির ঘর বানানো আর একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ব্রিজ বানানো দুটোই সমান সিরিয়াস কাজ।

আরও পড়ুন:

১৮৩৭ সাল। পাহাড়ের কোলের ব্ল্যাঙ্কেনবার্গ গ্রাম। ফ্রেডরিখ একটা প্রতিষ্ঠান খুললেন। কিন্তু নাম কী দেবেন? স্কুল? না, ওটা বড্ড ভারী শব্দ। ইনস্টিটিউট? সেটাও বড্ড যান্ত্রিক। পাহাড়ি পথ ধরে তিনি হাঁটছেন। নিচে সবুজে মোড়া উপত্যকা। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা বাগান। সেখানে ছোট ছোট চারাগাছ। মালী খুব যত্ন করে জল দিচ্ছে। আগাছা সরিয়ে দিচ্ছে। যাতে গাছটা নিজের মতো করে বাড়তে পারে। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ইউরেকা!’ পেয়ে গেছি নাম! কিন্ডারগার্টেন। চিলড্রেনস গার্ডেন। শিশুদের বাগান। শিশু হল চারাগাছ। স্কুল বাগান। আর শিক্ষক? শিক্ষক হলেন মালী। মালী যেমন গাছকে টেনে লম্বা করে না, শুধু পরিবেশটা দেয়, শিক্ষকও তাই করবেন। পৃথিবী অবাক হয়ে শুনল নামটা। স্কুল আবার বাগান হয় নাকি?

আরও পড়ুন:

স্কুল তো হল। কিন্তু বাচ্চারা করবেটা কী? বই নেই। শ্লেট নেই। ফ্রেডরিখ ঝুলি থেকে বের করলেন জাদু-খেলনা। নাম দিলেন ‘গিফট’ বা উপহার। জার্মান ভাষায় ‘গাবে’। প্রথম উপহার নরম উলের বল। রঙিন। কেন বল? কারণ বলের কোনো কোণা নেই। আঘাত লাগে না। বল চঞ্চল। ঠিক শিশুর মতো। গড়িয়ে চলে। বল দিয়েই শিশু শিখবে গতি। শিখবে রং। দ্বিতীয় উপহার কাঠের গোলক, ঘনক ও চোঙ। বাচ্চা খেলতে গিয়ে দেখল গোলকটা গড়িয়ে যায়। কিন্তু চৌকোনা ঘনকটা ধপ করে বসে থাকে। নড়ে না। খেলার ছলে শিশু শিখে গেল, জগতে দু’রকম জিনিস আছে। একদল চলে, একদল থামে। গতি আর স্থিতি। বই পড়ে এটা শেখাতে গেলে ছ’মাস লাগত। বল দিয়ে খেলতে গিয়ে ছ’মিনিটে শেখা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন:

শুধু দেখলে হবে না। করতেও হবে। ফ্রেডরিখ নিয়ে এলেন হাতের কাজ। নাম দিলেন ‘অকুপেশন’। কাগজ ভাঁজ করা। আজ যাকে আমরা ওরিগামি বলি। কাঠি দিয়ে নকশা বানানো। কাদামাটি দিয়ে পুতুল গড়া। বালির ওপর আঁকিবুঁকি। তখনকার দিনের পণ্ডিতরা নাক সিটকোলেন। ‘ছি ছি! ভদ্রলোকের বাচ্চারা কাদা ঘাঁটবে? কাগজ কাটবে?’ তিনি হাসলেন। বললেন, ‘শুনুন মশাই, আঙুলের ডগা যার তৈরি হল না, তার মগজ কোনোদিন তৈরি হবে না।’ সৃজনশীলতা তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। এই যে ভাঙা আর গড়া, এর মাধ্যমেই তো শিশু স্রষ্টা হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সকালবেলা। কিন্ডারগার্টেনে ফ্রেডরিখ সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে দাঁড়ালেন। মাটিতে দাগ কাটা বড় বৃত্ত। সবাই সবার হাত ধরল। কেন গোল হয়ে দাঁড়ানো? বেঞ্চে বসলে কেউ আগে বসে, কেউ পিছে। যে পিছে বসে, সে নিজেকে ছোট ভাবে। কিন্তু বৃত্তে? বৃত্তের কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই। সবাই সমান। সবাই সবার মুখ দেখতে পাচ্ছে। গলা ছেড়ে গান ধরলেন তিনি। ‘এসো খেলি, এসো গড়ি…’ গানের সঙ্গে নাচ। অভিনয়ের ভঙ্গিতে শরীরচর্চা। খরগোশ কেমন করে লাফাচ্ছে? পাখি কেমন করে উড়ছে? শিশুরা নকল করছে আর হাসছে। একঘেয়ে ক্লাসরুমের বদলে প্রাণচঞ্চল হাসিটুকুই তো চেয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

সেকালে মাস্টারমশাই মানেই হাতে বেত, চোখে চশমা, রাশভারী পুরুষ। ফ্রেডরিখ বললেন, ‘ও চলবে না।‘ শিশুর প্রথম শিক্ষক কে? মা। মায়ের চেয়ে ভালো কেউ শিশুকে বোঝে না। তাহলে স্কুলের শিক্ষক কেন পুরুষ হবে? ডাক দিলেন মেয়েদের। বললেন, ‘এসো, তোমরা ভার নাও বাগানের।‘ সমাজ তো রেগে আগুন! মেয়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবে? তাও আবার শিক্ষকতা? তিনি পাত্তা দিলেন না। মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। শেখালেন গান, খেলা, শিশু-মনস্তত্ত্ব। আজ যে আমরা নার্সারি স্কুলে বা প্রাইমারিতে এত দিদিমণি বা ম্যাম দেখি তার রাস্তাটা কিন্তু এই মানুষটাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি নারীকে দিলেন সম্মান, শিশুকে দিলেন মাতৃস্নেহ।

আরও পড়ুন:

বাগানে যখন ফুল ফুটছে, ঠিক তখনই নামল ঝড়। ১৮৫১ সাল। প্রুশিয়ার রাজা আর তাঁর মন্ত্রীরা ভয় পেলেন। ভয়টা কিসের? এই যে বাচ্চারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করছে। গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে সাম্যের গান গাইছে। এসব তো রাজতন্ত্রের জন্য বিপদ! এরা বড় হয়ে যদি প্রশ্ন করে? যদি মাথা নোয়াতে না চায়? রাজা হুকুম দিলেন ‘কিন্ডারগার্টেন নিষিদ্ধ।‘ অপবাদ দেওয়া হল, স্কুলগুলো নাকি সমাজতন্ত্র আর নাস্তিকতা ছড়াচ্ছে। এগুলো ধর্মের শত্রু। পুলিশ এল। তালা ঝোলাল বাগানের ফটকে। বইপত্র বাজেয়াপ্ত হল।

আরও পড়ুন:

খবরটা যখন এল, ফ্রেডরিখের বয়স তখন সত্তর ছুঁইছুঁই। শরীর ভেঙে পড়েছে। যে স্বপ্ন তিনি তিল তিল করে গড়েছিলেন, রাজার এক কলমের খোঁচায় তা চুরমার হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা দুমড়ে গেল তাঁর। বলেছিলেন, ‘ওরা আমার স্কুল বন্ধ করতে পারে। কিন্তু সত্যকে? তাকে তো আর তালাবন্ধ করে রাখা যায় না। আমি যে বীজ বুনে দিয়ে গেলাম, তা একদিন মহীরুহ হবেই।‘ ১৮৫২ সাল। গ্রীষ্মের এক দুপুরে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল চলে গেলেন। দেখে মনে হল সব শেষ। তাঁর বাগান তখন আগাছায় ভরা, ফটকে মরচে ধরা তালা।

আরও পড়ুন:

গল্প এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হল না। আগুন ছাইচাপা থাকে না। জার্মানিতে নিষিদ্ধ কিন্ডারগার্টেন। তাতে কী? ফ্রয়েবেলের ছাত্রীরা ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে। কেউ গেল আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে, কেউ ফ্রান্সে। সঙ্গে করে নিয়ে গেল সেই রঙিন বল, সেই কাগজ ভাঁজ করার খেলা, আর সেই গান। এদেরই একজন ব্যারনেস ফন মারেনহোলজ। অভিজাত মহিলা। তিনি পণ করলেন, গুরুর অপমান ঘুচিয়ে ছাড়বেন। তিনি দেশে দেশে ঘুরে প্রচার করলেন, ‘ওটা নাস্তিকতা নয়, ওটাই মুক্তির পথ।‘ ধীরে ধীরে মানুষের ভুল ভাঙল। জার্মানিও একদিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হল।

আরও পড়ুন:

আজ আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, টোকিও থেকে নিউইয়র্ক, কলকাতা থেকে কায়রো। ছোটদের স্কুল মানেই কিন্ডারগার্টেন বা ‘কেজি’। আজও বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকে। মাটির পুতুল গড়ে। গোল হয়ে হাতে হাত রেখে গান গায়। ব্লক দিয়ে বাড়ি বানায়। ওরা জানে না, এই আনন্দের খেলাটা কে আবিষ্কার করেছিল। জানার দরকারও নেই। কিন্তু আমরা জানি। আমরা জানি, থুরিনজিয়ার সেই একলা ছেলেটা, যে একদিন জঙ্গলে বন্ধু খুঁজেছিল, সে-ই আমাদের শিশুদের একলা হতে দেয়নি। প্রতিটি প্লে-স্কুলের রঙিন দেওয়াল, প্রতিটি খেলার সরঞ্জাম, সবকিছুর মধ্যে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল বেঁচে আছেন। তিনি আছেন সেই মালীর মতো, যে আড়াল থেকে দেখে আর হাসে। কারণ, বাগান মরেনি। ফুলগুলো রোজ নতুন করে ফোটে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder