BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

একলা পথিকের বাগান

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬

সুরাজ পাল

আরও পড়ুন:

জার্মানির থুরিনজিয়া। ঘন জঙ্গল। ছায়ায় ঢাকা, স্যাঁতস্যাঁতে গ্রাম। সেখানেই ১৭৮২ সালে জন্ম ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেলের। জন্মের মাত্র নয় মাসের মাথায় মা মারা গেলেন। ছোট্ট ফ্রেডরিখ জানল না মায়ের আদর কাকে বলে। বাবা জোহান জ্যাকব ফ্রয়েবেল ছিলেন গির্জার যাজক। ভীষণ রাশভারী, কড়া মেজাজের মানুষ। তাঁর কাছে ধর্ম মানে কঠোর অনুশাসন, আবেগের কোনো জায়গা নেই। অনাদরে, অবহেলায় বড় হতে লাগল ছেলেটি। সৎ-মা এলেন সংসারে। প্রথম প্রথম একটু স্নেহ জুটল, কিন্তু নিজের সন্তান আসতেই ফ্রেডরিখ হয়ে গেল ‘পর’। ঘরের কোণে, সিঁড়ির তলায় একা বসে থাকত সে। কেউ তার খোঁজ নিত না। তাকে বল হত ‘দুষ্টু’, ‘অপদার্থ’। বাড়িতে টেকা দায়। বাবার চোখরাঙানি। ফ্রেডরিখ পালাল জঙ্গলে। গাছগুলো বকে না। পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। ঝরনাটা কেমন কুলকুল করে কথা কয়। ছেলেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে গাছের পাতার দিকে। ফুলের পাপড়ির দিকে। কী অদ্ভুত সাজানো! তিনটে পাপড়ি, পাঁচটা পাপড়ি। কী সুন্দর জ্যামিতি! স্কুল তো আরেক জেলখানা। তোতাপাখির মতো বুলি আওড়াও। তাঁর মাথায় কিচ্ছুটি ঢোকে না। শিক্ষকরা বলেন, ‘গাধা। কিচ্ছু হবে না একে দিয়ে।’ সবাই যখন ‘বোকা’ বলছে, তখন প্রকৃতির পাঠশালায় সে তৈরি হচ্ছে। সে শিখছে, সব কিছুর মধ্যে একটা মিল আছে। একটা সুর আছে।

আরও পড়ুন:

কৈশোর পেরোল। কিন্তু কী করবেন জীবনে? কিছুই যে ভালো লাগে না। শুরুতে বনবিভাগের কাজ নিলেন। জঙ্গল মাপার কাজ। ভালোই লাগত। তাতে তো পেট চলে না। তারপর গেলেন খনিতে। পাথর দেখার কাজ। হাতে তুলে নিলেন স্ফটিক। অবাক হয়ে দেখলেন, বাইরেটা এবড়োখেবড়ো, অথচ ভিতরটা কী নিখুঁত! আলো পড়লে ঠিকরে বেরোয়। ভাবলেন, মানুষের মনটাও তো স্ফটিকের মতো। বাইরে যতই ধুলোবালি থাক, ভিতরে আলো লুকোনো আছে। সেই আলোটা বের করতে হবে। এরপর আর্কিটেকচার পড়লেন কিছুদিন। এভাবেই কাটছিল। ছন্নছাড়া জীবন। উদ্দেশ্যহীন।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ একদিন দেখা এক বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধু বললেন, ‘তুমি তো পড়াতে ভালোবাসো। চলো ফ্রাঙ্কফুর্ট। ওখানে একটা নতুন ধরনের স্কুল হয়েছে।‘ স্কুলের প্রধান গ্রুনার সাহেব। পেস্তালৎসির ছাত্র। সেখানে গিয়ে ফ্রেডরিখের চোখ ছানাবড়া। আরে! এখানে তো মারধোর নেই। বাচ্চারা হাসছে। ক্লাসঘরে ঢুকে পড়লেন তিনি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বুঝলেন, এটাই তো আমি চেয়েছিলাম! শিশুদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন নিজেকে আবিষ্কার করলেন। ছুটলেন পেস্তালৎসির কাছে। সুইজারল্যান্ডে। ইভারদঁ-এ গিয়ে দেখলেন এলাহি কাণ্ড। ভালোবাসা দিয়ে শেখানো হচ্ছে। কিন্তু ফ্রেডরিখের জ্যামিতিক মন খুতখুত করে উঠল। ভালোবাসা আছে, অথচ কোনো ‘পদ্ধতি’ নেই। সব কেমন যেন ছড়ানো-ছিটোনো। ভাবলেন, ভালোবাসার সঙ্গে বিজ্ঞানকে মেশাতে হবে। আবেগের সঙ্গে নিয়মকে মেশাতে হবে। তবেই তো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ এল। নেপোলিয়নের যুদ্ধ। ফ্রেডরিখও যোগ দিলেন। বন্দুকের নলে মন টেকে না। যুদ্ধশেষে ঘরে ফিরলেন। এবার আর একা নন। সঙ্গে কিছু স্বপ্ন। ইতিমধ্যেই দাদা মারা গেছেন। রেখে গেছেন বিধবা স্ত্রী ও তিন সন্তান। ফ্রেডরিখ ভাইপোদের দায়িত্ব নিলেন। তিনটে বাচ্চাকে মানুষ করতে গিয়েই তাঁর পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হল। দেখলেন, শিশুরা আসলে কী চায়? তারা কি কেবল জ্ঞান চায়? না। তারা চায় ‘কাজ করতে’। হাত-পা নাড়তে। তারা গড়তে চায়। ভাঙতে চায়। বড়রা ভাবে খেলা মানে সময় নষ্ট। অথচ, শিশুর কাছে খেলাটাই কাজ। ওটাই তার তপস্যা। একটা সাত বছরের বাচ্চার কাছে মাটির ঘর বানানো আর একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ব্রিজ বানানো দুটোই সমান সিরিয়াস কাজ।

আরও পড়ুন:

১৮৩৭ সাল। পাহাড়ের কোলের ব্ল্যাঙ্কেনবার্গ গ্রাম। ফ্রেডরিখ একটা প্রতিষ্ঠান খুললেন। কিন্তু নাম কী দেবেন? স্কুল? না, ওটা বড্ড ভারী শব্দ। ইনস্টিটিউট? সেটাও বড্ড যান্ত্রিক। পাহাড়ি পথ ধরে তিনি হাঁটছেন। নিচে সবুজে মোড়া উপত্যকা। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা বাগান। সেখানে ছোট ছোট চারাগাছ। মালী খুব যত্ন করে জল দিচ্ছে। আগাছা সরিয়ে দিচ্ছে। যাতে গাছটা নিজের মতো করে বাড়তে পারে। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ইউরেকা!’ পেয়ে গেছি নাম! কিন্ডারগার্টেন। চিলড্রেনস গার্ডেন। শিশুদের বাগান। শিশু হল চারাগাছ। স্কুল বাগান। আর শিক্ষক? শিক্ষক হলেন মালী। মালী যেমন গাছকে টেনে লম্বা করে না, শুধু পরিবেশটা দেয়, শিক্ষকও তাই করবেন। পৃথিবী অবাক হয়ে শুনল নামটা। স্কুল আবার বাগান হয় নাকি?

আরও পড়ুন:

স্কুল তো হল। কিন্তু বাচ্চারা করবেটা কী? বই নেই। শ্লেট নেই। ফ্রেডরিখ ঝুলি থেকে বের করলেন জাদু-খেলনা। নাম দিলেন ‘গিফট’ বা উপহার। জার্মান ভাষায় ‘গাবে’। প্রথম উপহার নরম উলের বল। রঙিন। কেন বল? কারণ বলের কোনো কোণা নেই। আঘাত লাগে না। বল চঞ্চল। ঠিক শিশুর মতো। গড়িয়ে চলে। বল দিয়েই শিশু শিখবে গতি। শিখবে রং। দ্বিতীয় উপহার কাঠের গোলক, ঘনক ও চোঙ। বাচ্চা খেলতে গিয়ে দেখল গোলকটা গড়িয়ে যায়। কিন্তু চৌকোনা ঘনকটা ধপ করে বসে থাকে। নড়ে না। খেলার ছলে শিশু শিখে গেল, জগতে দু’রকম জিনিস আছে। একদল চলে, একদল থামে। গতি আর স্থিতি। বই পড়ে এটা শেখাতে গেলে ছ’মাস লাগত। বল দিয়ে খেলতে গিয়ে ছ’মিনিটে শেখা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন:

শুধু দেখলে হবে না। করতেও হবে। ফ্রেডরিখ নিয়ে এলেন হাতের কাজ। নাম দিলেন ‘অকুপেশন’। কাগজ ভাঁজ করা। আজ যাকে আমরা ওরিগামি বলি। কাঠি দিয়ে নকশা বানানো। কাদামাটি দিয়ে পুতুল গড়া। বালির ওপর আঁকিবুঁকি। তখনকার দিনের পণ্ডিতরা নাক সিটকোলেন। ‘ছি ছি! ভদ্রলোকের বাচ্চারা কাদা ঘাঁটবে? কাগজ কাটবে?’ তিনি হাসলেন। বললেন, ‘শুনুন মশাই, আঙুলের ডগা যার তৈরি হল না, তার মগজ কোনোদিন তৈরি হবে না।’ সৃজনশীলতা তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। এই যে ভাঙা আর গড়া, এর মাধ্যমেই তো শিশু স্রষ্টা হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সকালবেলা। কিন্ডারগার্টেনে ফ্রেডরিখ সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে দাঁড়ালেন। মাটিতে দাগ কাটা বড় বৃত্ত। সবাই সবার হাত ধরল। কেন গোল হয়ে দাঁড়ানো? বেঞ্চে বসলে কেউ আগে বসে, কেউ পিছে। যে পিছে বসে, সে নিজেকে ছোট ভাবে। কিন্তু বৃত্তে? বৃত্তের কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই। সবাই সমান। সবাই সবার মুখ দেখতে পাচ্ছে। গলা ছেড়ে গান ধরলেন তিনি। ‘এসো খেলি, এসো গড়ি…’ গানের সঙ্গে নাচ। অভিনয়ের ভঙ্গিতে শরীরচর্চা। খরগোশ কেমন করে লাফাচ্ছে? পাখি কেমন করে উড়ছে? শিশুরা নকল করছে আর হাসছে। একঘেয়ে ক্লাসরুমের বদলে প্রাণচঞ্চল হাসিটুকুই তো চেয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

সেকালে মাস্টারমশাই মানেই হাতে বেত, চোখে চশমা, রাশভারী পুরুষ। ফ্রেডরিখ বললেন, ‘ও চলবে না।‘ শিশুর প্রথম শিক্ষক কে? মা। মায়ের চেয়ে ভালো কেউ শিশুকে বোঝে না। তাহলে স্কুলের শিক্ষক কেন পুরুষ হবে? ডাক দিলেন মেয়েদের। বললেন, ‘এসো, তোমরা ভার নাও বাগানের।‘ সমাজ তো রেগে আগুন! মেয়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবে? তাও আবার শিক্ষকতা? তিনি পাত্তা দিলেন না। মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। শেখালেন গান, খেলা, শিশু-মনস্তত্ত্ব। আজ যে আমরা নার্সারি স্কুলে বা প্রাইমারিতে এত দিদিমণি বা ম্যাম দেখি তার রাস্তাটা কিন্তু এই মানুষটাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি নারীকে দিলেন সম্মান, শিশুকে দিলেন মাতৃস্নেহ।

আরও পড়ুন:

বাগানে যখন ফুল ফুটছে, ঠিক তখনই নামল ঝড়। ১৮৫১ সাল। প্রুশিয়ার রাজা আর তাঁর মন্ত্রীরা ভয় পেলেন। ভয়টা কিসের? এই যে বাচ্চারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করছে। গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে সাম্যের গান গাইছে। এসব তো রাজতন্ত্রের জন্য বিপদ! এরা বড় হয়ে যদি প্রশ্ন করে? যদি মাথা নোয়াতে না চায়? রাজা হুকুম দিলেন ‘কিন্ডারগার্টেন নিষিদ্ধ।‘ অপবাদ দেওয়া হল, স্কুলগুলো নাকি সমাজতন্ত্র আর নাস্তিকতা ছড়াচ্ছে। এগুলো ধর্মের শত্রু। পুলিশ এল। তালা ঝোলাল বাগানের ফটকে। বইপত্র বাজেয়াপ্ত হল।

আরও পড়ুন:

খবরটা যখন এল, ফ্রেডরিখের বয়স তখন সত্তর ছুঁইছুঁই। শরীর ভেঙে পড়েছে। যে স্বপ্ন তিনি তিল তিল করে গড়েছিলেন, রাজার এক কলমের খোঁচায় তা চুরমার হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা দুমড়ে গেল তাঁর। বলেছিলেন, ‘ওরা আমার স্কুল বন্ধ করতে পারে। কিন্তু সত্যকে? তাকে তো আর তালাবন্ধ করে রাখা যায় না। আমি যে বীজ বুনে দিয়ে গেলাম, তা একদিন মহীরুহ হবেই।‘ ১৮৫২ সাল। গ্রীষ্মের এক দুপুরে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল চলে গেলেন। দেখে মনে হল সব শেষ। তাঁর বাগান তখন আগাছায় ভরা, ফটকে মরচে ধরা তালা।

আরও পড়ুন:

গল্প এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হল না। আগুন ছাইচাপা থাকে না। জার্মানিতে নিষিদ্ধ কিন্ডারগার্টেন। তাতে কী? ফ্রয়েবেলের ছাত্রীরা ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে। কেউ গেল আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে, কেউ ফ্রান্সে। সঙ্গে করে নিয়ে গেল সেই রঙিন বল, সেই কাগজ ভাঁজ করার খেলা, আর সেই গান। এদেরই একজন ব্যারনেস ফন মারেনহোলজ। অভিজাত মহিলা। তিনি পণ করলেন, গুরুর অপমান ঘুচিয়ে ছাড়বেন। তিনি দেশে দেশে ঘুরে প্রচার করলেন, ‘ওটা নাস্তিকতা নয়, ওটাই মুক্তির পথ।‘ ধীরে ধীরে মানুষের ভুল ভাঙল। জার্মানিও একদিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হল।

আরও পড়ুন:

আজ আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, টোকিও থেকে নিউইয়র্ক, কলকাতা থেকে কায়রো। ছোটদের স্কুল মানেই কিন্ডারগার্টেন বা ‘কেজি’। আজও বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকে। মাটির পুতুল গড়ে। গোল হয়ে হাতে হাত রেখে গান গায়। ব্লক দিয়ে বাড়ি বানায়। ওরা জানে না, এই আনন্দের খেলাটা কে আবিষ্কার করেছিল। জানার দরকারও নেই। কিন্তু আমরা জানি। আমরা জানি, থুরিনজিয়ার সেই একলা ছেলেটা, যে একদিন জঙ্গলে বন্ধু খুঁজেছিল, সে-ই আমাদের শিশুদের একলা হতে দেয়নি। প্রতিটি প্লে-স্কুলের রঙিন দেওয়াল, প্রতিটি খেলার সরঞ্জাম, সবকিছুর মধ্যে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল বেঁচে আছেন। তিনি আছেন সেই মালীর মতো, যে আড়াল থেকে দেখে আর হাসে। কারণ, বাগান মরেনি। ফুলগুলো রোজ নতুন করে ফোটে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder