BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বিহারের ভূমিপুত্র ব্যারিস্টার ইউনূস পরাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮

মুদাসসির নিয়াজ

আরও পড়ুন:

স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু – এটা সবারই জানা। কিন্তু নেহরুর আগেও ভারতে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদ ছিল। সর্বপ্রথম সেই পদে আসীন ছিলেন বিহারের রাজধানী পাটনা শহরের বাসিন্দা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। যিনি স্বাধীনতার এক দশক আগে ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং এবং ১৯ জুলাই ১৯৩৭ পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। আসলে স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে ইউনূস বিহারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন প্রাদেশিক সরকার প্রধানদের প্রধানমন্ত্রী বলা হত। প্রত্যেক প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত। ১৯৩৭ সালেই এই প্রথা শুরু হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

ইতিহাস রোমন্থন করলে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত সরকার আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে ভারতের সকল প্রদেশে নির্বাচন হত এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের প্রধানকে বলা হত প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্রে বিহার প্রদেশের নির্বাচিত প্রধানই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, সেই অর্থে মোহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯০ দিনের মেয়াদে ইউনূস অসাধারণ কাজ করেছিলেন। কৃষকদের সমস্যা সমাধান এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখার জন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অধুনা বিহার আইনসভা ভবন এবং পাটনা হাইকোর্টের মতো ঐতিহাসিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ইউনূস। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের প্রাদেশিক প্রধানদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউনূসই প্রথম শপথ গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:

ঘটনাক্রমে ব্রিটিশ রাজত্বকালে, ১৯৩৭ সালে সব প্রদেশে নির্বাচন হয়। বিহার-সহ দেশের সব প্রদেশেই কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে। তবে, কংগ্রেস প্রাদেশিক সরকার পরিচালনায় গভর্নরকে (ব্রিটিশ নাগরিক) মানতে প্রস্তুত ছিল না। এই মতবিরোধের কারণে, নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও কংগ্রেস দল সরকার গঠন করতে অস্বীকার করে। ফলে বিহারে সরকার গঠনের সুযোগ পান মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির মোহাম্মদ ইউনূস।

আরও পড়ুন:

मोहम्मद यूनुस थे पहले 'प्रधानमंत्री'! - BBC News हिंदी

মোহাম্মদ ইউনূসের জন্ম ১৮৮৪ সালের ৪ মে পাটনার কাছে পাথারি ব্লকের পানহারা গ্রামে। তার বাবা মৌলবী আলী হাসান মুক্তার ছিলেন একজন নামজাদা আইনজীবী। ছেলে মোহাম্মদ ইউনূস ছিলেন ব্যারিস্টার। রাজনীতিতে ইউনূসের হাতেখড়ি কংগ্রেসেই। পরে তিনি দল ত্যাগ করেন এবং ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে নিজের দল গঠন করেন। ১৯৫২ সালের ১৩ মে লন্ডনে তাঁর ইন্তেকাল হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর ‘কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি’ গঠনে ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন:

তাঁর প্রপৌত্র তথা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস স্মৃতি রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কাশিফ ইউনূস বলেন, জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার আগেও দেশে অনেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কাশিফ ইউনুস অনেক কসরত করে স্বাধীনতা-পূর্ব রেকর্ডে তার দাদুর নাম খুঁজে পান। কিন্তু পরে ষড়যন্ত্র করে সরকারি আর্কাইভ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউনূসের নাম মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও কাশিফের উদ্যোগে ২০১৩ থেকে ইউনূসের জন্মবার্ষিকী বিহারের সরকারি পর্যায়ে পালিত হচ্ছে। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:

তবে, আজও মরহুম জননেতা ইউনূসের নাম বিহার আইনসভার ওয়েবসাইটের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়নি। ওয়েবসাইটে বিহারের প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা মোহাম্মদ ইউনূস দিয়ে শুরু হয়নি। সর্বত্র প্রথমে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণ সিং-এর নাম। কংগ্রেস নেতা শ্রীকৃষ্ণ সিংহ ইউনূসের পর ২০ জুলাই, ১৯৩৭ সালে বিহারের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ৩১ অক্টোবর, ১৯৩৯ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। আবার স্বাধীনতার আগে ১৯৪৬ সালের ২৩ মার্চ শ্রীকৃষ্ণ সিং শপথ নেন। স্বাধীনতার পর যখন ভারত নিজস্ব সংবিধান তৈরি করে, ১৯৫০ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হয়। তখন প্রদেশগুলিতে গঠিত সরকার প্রধানকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

১৯৫০ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস জয়লাভ করে এবং বাবু শ্রীকৃষ্ণ সিং আজাদ স্বাধীন ভারতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন। রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি ইউনূস একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার এবং প্রকাশকও ছিলেন। পাটনায় তিনি যে গ্র্যান্ড হোটেল তৈরি করেছিলেন, তা ছিল তৎকালীন বিহারের প্রথম আধুনিক মানের হোটেল। মোহাম্মদ ইউনূস সেই হোটেলের একটি রুমে থাকতেন। সেই সময় এই হোটেল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। তাঁর নাতি কাশিফ ইউনূস জানান, ওই হোটেলে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, মতিলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ এবং সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো দেশনেতারাও ছিলেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, তিনি সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত হন। শম্ভুনাথ ঝা সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিক ‘পাটনা টাইমস’-এ সিনিয়র এডিটর ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি ১৯৩৭ সালে ‘মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি’র (এমআইপি) প্রতীকে নির্বাচিত হন, যা বিহারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সৈয়দ আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম ইউনাইটেড পার্টি’ (এমইউপি), যা পরবর্তীতে ‘মুসলিম লীগ’-এর সাথে মিশে যায়। সেবার কংগ্রেস ও এমআইপি জোটের ২০ জন প্রার্থী জয়ী হন, আরও ৬ জন নির্দল ওই জোটে যোগ দেয়। এমআইপি ৪০টা আসনে লড়াই করে ১৫টায় এবং কংগ্রেসের ৩ জন মুসলিম এবং ২জন হিন্দু প্রার্থী জয়ী হন।

আরও পড়ুন:

কিন্তু জোট করে ভোটে লড়লেও কংগ্রেস এবং এমআইপি যৌথভাবে বিহারে সরকার গঠন করেনি। কংগ্রেস সরকার গড়তে এমআইপি-কে সমর্থন দেয়নি। ফলে সংখ্যালঘু সরকার হওয়ায় বিহারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রী পদে ইউনূস বেশিদিন থাকতে পারেননি। তিনি মসনদে ছিলেন মাত্র ১১০ দিন। কংগ্রেস এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করায় মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। কংগ্রেসীরাও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি (এমআইপি) ছিল একটি রাজনৈতিক দল, যা ১৯৩৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জামিয়াতুল উলেমা-ই-হিন্দের মাওলানা আবুল মোহাসিন মোহাম্মদ সাজ্জাদের (ইন্তেকাল ১৯৪০) নেতৃত্বে ইমারত-ই-শরীয়াহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমারত-ই-শরীয়াহ ছিল মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মুসলিম দরদি রাজনৈতিক এজেন্ডা।

আরও পড়ুন:

যাহোক, সম্প্রীতির কারিগর মোহাম্মদ ইউনূস সব জাতি ও ধর্ম, বর্ণের মানুষকে তাঁর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছিলেন। আইন শৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, কারা, শিক্ষা এবং নিবন্ধন বিভাগ নিজের কাছে রেখেছিলেন। বাবু গুরু সহায় লালকে গ্রামোন্নয়ন; কুমার অজিত প্রসাদ সিং দেবকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং আব্দুল ওহাব খানকে রাজস্ব বিভাগ দেওয়া দিয়েছিলেন। তাঁর সরকার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

সেই সময় হিন্দি-উর্দু এবং হিন্দু-মুসলিম সমস্যা খুব স্পর্শকাতর বিষয় ছিল। ইউনূস ছিলেন এমন এক জননেতা, যিনি কখনও কারো ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেননি। তবুও শুধুমাত্র হীন রাজনৈতিক কারণে ১৯৩৭ সালের ৩১ মার্চ কংগ্রেসীরা ইউনূসের বাড়ির সামনে বিশাল ধর্না কর্মসূচি পালন করে; যা হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং ইউনূসের বাড়িতে পাথর ছোড়া হয়। ফলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী ইউনূস সকলকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কারাবন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবস্থা দেখতে ঘন ঘন জেল পরিদর্শন করতেন এবং বন্দীদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপচারিতা করতেন ইউনূস। ১৯৩৭ সালের ২২ এপ্রিল আওরঙ্গবাদে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা করেন। পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য না নিয়েই তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য উভয় পক্ষকে রাজি করান। সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঠাকুর বিসর্জনে সহায়তা করেন। এরপর আওরঙ্গবাদের হিন্দু-মুসলিমরা যৌথভাবে একটি ভোজসভার আয়োজন করেছিল, যেখানে ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপসস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

Barrister Muhammad Yunus - First Prime Minister of Bihar - YouTube

১৯৩৭ সালের শেষদিকে তিনি জেলা কালেক্টর, কমিশনার এবং রাজস্ব বোর্ডের সদস্যদের সাথে মুঙ্গের জেলায় জরিপ করেন এবং ওই অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেন। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে খাজনা (রায়তি) অনেকটা কমিয়ে দেন। ৪-৫ বছর আগের বকেয়া খাজনা মুকুব করে দেন এবং পরবর্তী তিন বছরের জন্য ৫০ শতাংশ খাজনা মুকুবের আগাম ঘোষণা দেন ইউনূস।

আরও পড়ুন:

১৯০৮ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন ইউনূস। বহু বছর ধরে তিনি বিহার কংগ্রেস ছাত্র সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৬ সালে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯২১-৩২ সাল পর্যন্ত তিনি বিহার লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বা বিধান পরিষদের সদস্য বা বিধায়ক ছিলেন।

আরও পড়ুন:

তিরহুত বিভাগের চিনিকল মালিকদের সাথে বৈঠক করে তাদেরকে সমস্ত উৎপাদিত আখ মিলে পৌঁছানোর জন্য রাজি করান এবং এজন্য তিনি রেল ভাড়া ৬০শতাংশ কমিয়ে দেন, যাতে মিলগুলোর জন্য পার্শ্ববর্তী প্রদেশ থেকে আখ আমদানি সহজ হয়। এসব কৃষি ও কৃষক-বান্ধব কর্মসূচি ও পদক্ষেপের জন্য তিনি আমআদমির চোখের মণি হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েও মোহাম্মদ ইউনূস সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ছিলেন। গ্রামের মানুষের সমস্যা ও দুর্দশার চালচিত্র বুঝতে তিনি নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতেন, কৃষকদের সমস্যা সরাসরি শুনতেন; তিনি আখ উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder