BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

বিহারের ভূমিপুত্র ব্যারিস্টার ইউনূস পরাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৫৮

মুদাসসির নিয়াজ

আরও পড়ুন:

স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু – এটা সবারই জানা। কিন্তু নেহরুর আগেও ভারতে ‘প্রধানমন্ত্রী’ পদ ছিল। সর্বপ্রথম সেই পদে আসীন ছিলেন বিহারের রাজধানী পাটনা শহরের বাসিন্দা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। যিনি স্বাধীনতার এক দশক আগে ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং এবং ১৯ জুলাই ১৯৩৭ পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। আসলে স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে ইউনূস বিহারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তখন প্রাদেশিক সরকার প্রধানদের প্রধানমন্ত্রী বলা হত। প্রত্যেক প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হত। ১৯৩৭ সালেই এই প্রথা শুরু হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

ইতিহাস রোমন্থন করলে জানা যায়, ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভারত সরকার আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে ভারতের সকল প্রদেশে নির্বাচন হত এবং নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকারের প্রধানকে বলা হত প্রধানমন্ত্রী। সেই সূত্রে বিহার প্রদেশের নির্বাচিত প্রধানই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন, সেই অর্থে মোহাম্মদ ইউনূস ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯০ দিনের মেয়াদে ইউনূস অসাধারণ কাজ করেছিলেন। কৃষকদের সমস্যা সমাধান এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখার জন্য তিনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অধুনা বিহার আইনসভা ভবন এবং পাটনা হাইকোর্টের মতো ঐতিহাসিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ইউনূস। ব্রিটিশ শাসনে ভারতের প্রাদেশিক প্রধানদের মধ্যে মোহাম্মদ ইউনূসই প্রথম শপথ গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:

ঘটনাক্রমে ব্রিটিশ রাজত্বকালে, ১৯৩৭ সালে সব প্রদেশে নির্বাচন হয়। বিহার-সহ দেশের সব প্রদেশেই কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করে। তবে, কংগ্রেস প্রাদেশিক সরকার পরিচালনায় গভর্নরকে (ব্রিটিশ নাগরিক) মানতে প্রস্তুত ছিল না। এই মতবিরোধের কারণে, নির্বাচনে জয়লাভ করা সত্ত্বেও কংগ্রেস দল সরকার গঠন করতে অস্বীকার করে। ফলে বিহারে সরকার গঠনের সুযোগ পান মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির মোহাম্মদ ইউনূস।

আরও পড়ুন:

मोहम्मद यूनुस थे पहले 'प्रधानमंत्री'! - BBC News हिंदी

মোহাম্মদ ইউনূসের জন্ম ১৮৮৪ সালের ৪ মে পাটনার কাছে পাথারি ব্লকের পানহারা গ্রামে। তার বাবা মৌলবী আলী হাসান মুক্তার ছিলেন একজন নামজাদা আইনজীবী। ছেলে মোহাম্মদ ইউনূস ছিলেন ব্যারিস্টার। রাজনীতিতে ইউনূসের হাতেখড়ি কংগ্রেসেই। পরে তিনি দল ত্যাগ করেন এবং ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের আগে নিজের দল গঠন করেন। ১৯৫২ সালের ১৩ মে লন্ডনে তাঁর ইন্তেকাল হয়। দেশ স্বাধীন হবার পর ‘কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টি’ গঠনে ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন:

তাঁর প্রপৌত্র তথা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস স্মৃতি রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কাশিফ ইউনূস বলেন, জওহরলাল নেহেরু স্বাধীনত্তোর ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার আগেও দেশে অনেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কাশিফ ইউনুস অনেক কসরত করে স্বাধীনতা-পূর্ব রেকর্ডে তার দাদুর নাম খুঁজে পান। কিন্তু পরে ষড়যন্ত্র করে সরকারি আর্কাইভ থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইউনূসের নাম মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও কাশিফের উদ্যোগে ২০১৩ থেকে ইউনূসের জন্মবার্ষিকী বিহারের সরকারি পর্যায়ে পালিত হচ্ছে। ২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন:

তবে, আজও মরহুম জননেতা ইউনূসের নাম বিহার আইনসভার ওয়েবসাইটের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়নি। ওয়েবসাইটে বিহারের প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা মোহাম্মদ ইউনূস দিয়ে শুরু হয়নি। সর্বত্র প্রথমে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণ সিং-এর নাম। কংগ্রেস নেতা শ্রীকৃষ্ণ সিংহ ইউনূসের পর ২০ জুলাই, ১৯৩৭ সালে বিহারের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ৩১ অক্টোবর, ১৯৩৯ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। আবার স্বাধীনতার আগে ১৯৪৬ সালের ২৩ মার্চ শ্রীকৃষ্ণ সিং শপথ নেন। স্বাধীনতার পর যখন ভারত নিজস্ব সংবিধান তৈরি করে, ১৯৫০ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হয়। তখন প্রদেশগুলিতে গঠিত সরকার প্রধানকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:

১৯৫০ সালের নির্বাচনেও কংগ্রেস জয়লাভ করে এবং বাবু শ্রীকৃষ্ণ সিং আজাদ স্বাধীন ভারতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন। রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি ইউনূস একজন সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার এবং প্রকাশকও ছিলেন। পাটনায় তিনি যে গ্র্যান্ড হোটেল তৈরি করেছিলেন, তা ছিল তৎকালীন বিহারের প্রথম আধুনিক মানের হোটেল। মোহাম্মদ ইউনূস সেই হোটেলের একটি রুমে থাকতেন। সেই সময় এই হোটেল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। তাঁর নাতি কাশিফ ইউনূস জানান, ওই হোটেলে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু, মতিলাল নেহরু, মাওলানা আজাদ এবং সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো দেশনেতারাও ছিলেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর, তিনি সাংবাদিকতার সাথেও যুক্ত হন। শম্ভুনাথ ঝা সম্পাদিত ইংরেজি দৈনিক ‘পাটনা টাইমস’-এ সিনিয়র এডিটর ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ইউনূস। তিনি ১৯৩৭ সালে ‘মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি’র (এমআইপি) প্রতীকে নির্বাচিত হন, যা বিহারের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সৈয়দ আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত ‘মুসলিম ইউনাইটেড পার্টি’ (এমইউপি), যা পরবর্তীতে ‘মুসলিম লীগ’-এর সাথে মিশে যায়। সেবার কংগ্রেস ও এমআইপি জোটের ২০ জন প্রার্থী জয়ী হন, আরও ৬ জন নির্দল ওই জোটে যোগ দেয়। এমআইপি ৪০টা আসনে লড়াই করে ১৫টায় এবং কংগ্রেসের ৩ জন মুসলিম এবং ২জন হিন্দু প্রার্থী জয়ী হন।

আরও পড়ুন:

কিন্তু জোট করে ভোটে লড়লেও কংগ্রেস এবং এমআইপি যৌথভাবে বিহারে সরকার গঠন করেনি। কংগ্রেস সরকার গড়তে এমআইপি-কে সমর্থন দেয়নি। ফলে সংখ্যালঘু সরকার হওয়ায় বিহারে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। তাই প্রধানমন্ত্রী পদে ইউনূস বেশিদিন থাকতে পারেননি। তিনি মসনদে ছিলেন মাত্র ১১০ দিন। কংগ্রেস এভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করায় মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। কংগ্রেসীরাও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি (এমআইপি) ছিল একটি রাজনৈতিক দল, যা ১৯৩৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জামিয়াতুল উলেমা-ই-হিন্দের মাওলানা আবুল মোহাসিন মোহাম্মদ সাজ্জাদের (ইন্তেকাল ১৯৪০) নেতৃত্বে ইমারত-ই-শরীয়াহ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। ইমারত-ই-শরীয়াহ ছিল মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মুসলিম দরদি রাজনৈতিক এজেন্ডা।

আরও পড়ুন:

যাহোক, সম্প্রীতির কারিগর মোহাম্মদ ইউনূস সব জাতি ও ধর্ম, বর্ণের মানুষকে তাঁর সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়েছিলেন। আইন শৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, কারা, শিক্ষা এবং নিবন্ধন বিভাগ নিজের কাছে রেখেছিলেন। বাবু গুরু সহায় লালকে গ্রামোন্নয়ন; কুমার অজিত প্রসাদ সিং দেবকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং আব্দুল ওহাব খানকে রাজস্ব বিভাগ দেওয়া দিয়েছিলেন। তাঁর সরকার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিল।

আরও পড়ুন:

সেই সময় হিন্দি-উর্দু এবং হিন্দু-মুসলিম সমস্যা খুব স্পর্শকাতর বিষয় ছিল। ইউনূস ছিলেন এমন এক জননেতা, যিনি কখনও কারো ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেননি। তবুও শুধুমাত্র হীন রাজনৈতিক কারণে ১৯৩৭ সালের ৩১ মার্চ কংগ্রেসীরা ইউনূসের বাড়ির সামনে বিশাল ধর্না কর্মসূচি পালন করে; যা হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং ইউনূসের বাড়িতে পাথর ছোড়া হয়। ফলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরদিন ১ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী ইউনূস সকলকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কারাবন্দী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অবস্থা দেখতে ঘন ঘন জেল পরিদর্শন করতেন এবং বন্দীদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপচারিতা করতেন ইউনূস। ১৯৩৭ সালের ২২ এপ্রিল আওরঙ্গবাদে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে ছুটে যান, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা করেন। পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য না নিয়েই তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের জন্য উভয় পক্ষকে রাজি করান। সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ঠাকুর বিসর্জনে সহায়তা করেন। এরপর আওরঙ্গবাদের হিন্দু-মুসলিমরা যৌথভাবে একটি ভোজসভার আয়োজন করেছিল, যেখানে ইউনূস প্রধান অতিথি হিসেবে উপসস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:

Barrister Muhammad Yunus - First Prime Minister of Bihar - YouTube

১৯৩৭ সালের শেষদিকে তিনি জেলা কালেক্টর, কমিশনার এবং রাজস্ব বোর্ডের সদস্যদের সাথে মুঙ্গের জেলায় জরিপ করেন এবং ওই অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেন। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে খাজনা (রায়তি) অনেকটা কমিয়ে দেন। ৪-৫ বছর আগের বকেয়া খাজনা মুকুব করে দেন এবং পরবর্তী তিন বছরের জন্য ৫০ শতাংশ খাজনা মুকুবের আগাম ঘোষণা দেন ইউনূস।

আরও পড়ুন:

১৯০৮ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন ইউনূস। বহু বছর ধরে তিনি বিহার কংগ্রেস ছাত্র সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯১৬ সালে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯২১-৩২ সাল পর্যন্ত তিনি বিহার লেজিসলেটিভ কাউন্সিল বা বিধান পরিষদের সদস্য বা বিধায়ক ছিলেন।

আরও পড়ুন:

তিরহুত বিভাগের চিনিকল মালিকদের সাথে বৈঠক করে তাদেরকে সমস্ত উৎপাদিত আখ মিলে পৌঁছানোর জন্য রাজি করান এবং এজন্য তিনি রেল ভাড়া ৬০শতাংশ কমিয়ে দেন, যাতে মিলগুলোর জন্য পার্শ্ববর্তী প্রদেশ থেকে আখ আমদানি সহজ হয়। এসব কৃষি ও কৃষক-বান্ধব কর্মসূচি ও পদক্ষেপের জন্য তিনি আমআদমির চোখের মণি হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:

ব্যারিস্টার এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েও মোহাম্মদ ইউনূস সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত সহজলভ্য ও জনপ্রিয় ছিলেন। গ্রামের মানুষের সমস্যা ও দুর্দশার চালচিত্র বুঝতে তিনি নিজে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করতেন, কৃষকদের সমস্যা সরাসরি শুনতেন; তিনি আখ উৎপাদন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder