BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

ইসলামে বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১১:০৮ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১১:০৮

পাশারুল আলম

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ইসলামে বিবাহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদ শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার নয়, বরং এগুলো সামাজিক, নৈতিক ও আইনি কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়, ভারসাম্য এবং মানবিকতার ওপর জোর দেয় এবং বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই। অন্যদিকে, ভারতের সাম্প্রতিক আইনি সংস্কার, বিশেষ করে মুসলিম নারীদের অধিকার সুরক্ষা এবং তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, এই বিষয়ে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই প্রবন্ধে আমরা ইসলামে বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের আইনি কাঠামোর সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আরও পড়ুন:

ইসলামে বিবাহ; এক পবিত্র বন্ধন:

আরও পড়ুন:

ইসলামে বিবাহ (নিকাহ) একটি পবিত্র চুক্তি, যা দু’জন মানুষের মধ্যে ভালবাসা, সম্মান, দায়িত্ব এবং প্রশান্তির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। কুরআন মাজিদে আল্লাহ বলেন, “আর তার নিদর্শন সমূহের অন্যতম হল তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা রূম: ২১)। রাসূল (সা.) বলেছেন, “বিবাহ আমার সুন্নাত, আর যে আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হয়, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। এই বাণী থেকে বোঝা যায়, বিবাহ শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়, বরং এক ধর্মীয় দায়িত্ব, যা মানুষকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে পরিচালিত করে। বিবাহের উদ্দেশ্য হল চরিত্র সংরক্ষণ, সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে প্রজন্মের ধারাবাহিকতা, এবং পারস্পরিক ভালবাসা ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি। এটি শুধু শারীরিক সম্পর্কের বৈধতা নিশ্চিত করে না, বরং পারিবারিক জীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে।

আরও পড়ুন:

বিবাহের শর্তাবলি:

আরও পড়ুন:

ইসলামে বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন- স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি: পাত্র ও পাত্রী উভয়ের সম্পূর্ণ এবং স্বাধীন সম্মতি অপরিহার্য। জোরপূর্বক বিবাহ ইসলামে নিষিদ্ধ।
মাহর: বরের পক্ষ থেকে কনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ প্রদান করা ফরয বা আবশ্যিক, যা নারীর আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে।
সাক্ষী: কমপক্ষে দু’জন মুসলিম পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দু’জন নারীর উপস্থিতিতে বিবাহ সুসম্পন্ন হয়।
ইজাব ও কবুল: পাত্র-পাত্রীর মৌখিক সম্মতির মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন হয়। এই শর্তগুলো বিবাহকে একটি সুসংগঠিত ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

আরও পড়ুন:

বিবাহ বিচ্ছেদ; ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তি:

আরও পড়ুন:

ইসলাম তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদকে অপছন্দনীয় হিসেবে বিবেচনা করে, তবে এটি এমন পরিস্থিতিতে বৈধ বলে গণ্য করে, যেখানে সমঝোতার জন্য শত চেষ্টার পরেও দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। হাদিসে বলা হয়েছে, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত হালাল বস্তু হল তালাক।” (আবু দাউদ)।
তালাকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যেমন- স্বামীর নির্যাতন, স্ত্রীর কর্তব্যচ্যুতি, মানসিক বা শারীরিক অসুস্থতা, বিশ্বাসঘাতকতা বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব। তবে, তালাকের অপব্যবহার রোধে ইসলাম সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করেছে।

আরও পড়ুন:

তালাকের প্রক্রিয়া:

আরও পড়ুন:

ইসলামে তালাকের তিনটি প্রধান প্রক্রিয়া রয়েছে- (১)স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক: স্বামী তার স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে তালাক দিতে পারেন। তবে এটি তিনটি পৃথক পর্ব বা পর্যায়ে দেওয়া উচিত, যেখানে প্রতিটি তালাকের পর ইদ্দতকাল অতিক্রম করতে হয়। একবারে তিন তালাককে বলা হয় ‘তালাক-ই-বিদআত’, এক বৈঠকে এভাবে তালাক দেওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ ও গর্হিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। (২) স্ত্রীর পক্ষ থেকে খোলা তালাক: স্ত্রী যদি বিবাহ বিচ্ছেদ চান, তবে তিনি মাহর ফিরিয়ে দিয়ে বা স্বামীকে কিছু দিয়ে খোলার মাধ্যমে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন। এবং (৩) ফাসখ বা ইসলামী আদালতের মাধ্যমে তালাক: চরম অবিচারের ক্ষেত্রে ইসলামী বিচারক বা কাজী বিবাহ ভঙ্গ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:

ইদ্দত; নারীর নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যবস্থা:

আরও পড়ুন:

তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, যা ‘ইদ্দত’ নামে পরিচিত। এর সময়কাল নির্ভর করে পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর। যেমন- তালাক প্রাপ্ত মহিলার জন্য তিনটি হায়েয/মাসিক চক্র। গর্ভবতী মহিলার জন্য সন্তান জন্ম পর্যন্ত। স্বামীর মৃত্যুর পর চার মাস দশ দিন। ইদ্দত নারীর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং পুনর্বিবাহের আগে সম্পর্কের স্পষ্টতা ও সন্তানের পিতৃত্ব নির্ধারণে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন:

নারী-পুরুষের অধিকার ও সামাজিক গুরুত্ব:

আরও পড়ুন:

ইসলাম বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষ উভয়ের অধিকার সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। স্বামীর দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, সঠিক পথে পরিচালনা এবং সম্মানজনক আচরণ। স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে রয়েছে মাহর, ভরণ-পোষণ, শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা এবং সম্মান। এই অধিকারগুলো পারস্পরিক সম্মান ও দায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
ইসলামে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত নীতিমালা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা সুনিশ্চিত করে। এই মৌলিক নীতিগুলো পরিবার ভেঙে পড়া রোধ করে, নারীর সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে এবং তালাকের অপব্যবহার প্রতিরোধ করে।

আরও পড়ুন:

ভারতের আইনি কাঠামো: মুসলিম বিবাহ ও তালাক:

আরও পড়ুন:

ভারতে মুসলিম পার্সোনাল ল’ (শরীয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট-১৯৩৭ অনুযায়ী, মুসলমানদের বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও ওয়াকফ বিষয়ে শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে তিন তালাকের অপব্যবহার রোধে ভারত সরকার একটি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:

মুসলিম ওমেন (প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ) অ্যাক্ট-২০১৯:

আরও পড়ুন:

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে একবারে তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে ‘মুসলিম ওমেন প্রোটেকশন অফ রাইটস অন ম্যারেজ অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মূল বিষয়গুলো হল: একবারে তিন তালাক (তালাক-ই-বিদআত) অবৈধ ও অপরাধ হিসেবে গণ্য। এই ধরনের তালাক প্রদানকারী স্বামীকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান। তালাকপ্রাপ্ত মহিলা ভরণ-পোষণ (অলিমনি) এবং সন্তানের হেফাজত দাবি করতে পারেন — এই আইন মুসলিম নারীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বলা হলেও এই আইন একতরফা বলে সমালোচিত হয়েছে। প্রয়োজনীয় তালাক বিবেচিত হয়নি। তার সঙ্গে যে ব্যক্তি তিন বছর জেলে থাকবে, সেই ব্যক্তি কীভাবে খোরপোষ দেবে, তার ব্যাখ্যা নেই। এটি ইসলামী শরীয়তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে শরীয়তী আইন একবারে তিন তালাককে গর্হিত অপরাধ বলে বিবেচনা করে।

আরও পড়ুন:

ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়ে বিতর্ক:

আরও পড়ুন:

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ (ইউসিসি) বা ‘অভিন্ন নাগরিক বিধি’ প্রণয়ন বিষয়ে বিতর্ক চলছে। এই প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হল সব ধর্মের মানুষের জন্য বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে একটি সাধারণ আইনি কাঠামো প্রণয়ন। তবে, এটি মুসলিম-সহ বৃহত্তর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করেন, এটি শরীয়তের ওপর ভিত্তি করে তাদের ব্যক্তিগত আইনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকরা বলেন, এটি লিঙ্গ সমতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এই বিতর্ক ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো এবং সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলেছে। বৈচিত্রময় ভারতবর্ষে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি চালু করা অসম্ভব। এই আইন লাগু হলে শুধুমাত্র মুসলিম সমাজ সমস্যায় পড়বে, তা নয়। আদিবাসী, দলিত, উপজাতি এবং অন্যান্য জনজাতিগুলির যে নিজস্ব নিয়ম কানুন রয়েছে, সেসব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তাই এই ধরনের আইন সমাজ, ঐতিহ্য, প্রথা ও সংস্কৃতির বিপরীতে যাবে বলে অনেকেই মনে করেন।

আরও পড়ুন:

অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইন:

আরও পড়ুন:

স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট-১৯৫৪: ধর্ম নির্বিশেষে রেজিস্ট্রি বিবাহের সুযোগ প্রদান করে। প্রোহিবিশন অফ চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট-২০০৬: নাবালক/নাবালিকা বিবাহ নিষিদ্ধ করে। প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট-২০০৫: গার্হস্থ্য সহিংসতার বিরুদ্ধে নারীদের সুরক্ষা প্রদান করে।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলামে বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। বিবাহের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠিত হয়, আর তালাকের নিয়মাবলি ন্যায় ও মানবিকতার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করে। এই নীতিগুলো পারিবারিক জীবনে ভালবাসা, সম্মান ও দায়িত্বের শিক্ষা দেয়। ভারতের আইনি সংস্কার, বিশেষ করে তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ, মুসলিম নারীদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করা হলেও এই আইনে অনেকগুলি বিতর্কিত বিষয় থেকেই গেছে। তবে, ইউনিফর্ম সিভিল কোডের মতো বিষয়গুলো ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আধুনিক ন্যায়বিচারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে ইসলামী নীতিমালা এবং আধুনিক আইনের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder