BREAKING:
আবর্জনার স্তূপে শ্বাসরুদ্ধ কুমলাই, ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধে নাগরিক মঞ্চের বিক্ষোভ সারবোঝাই ট্রাক নয়ানজুলিতে, অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা চালকের নলহাটিতে অনুব্রত মণ্ডলের কৌশল বার্তা ময়দায় কংক্রিটের রাস্তা ও কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণের সূচনা, উপস্থিত জয়নগরের বিধায়ক আবর্জনার স্তূপে শ্বাসরুদ্ধ কুমলাই, ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধে নাগরিক মঞ্চের বিক্ষোভ জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয়

তরবারির সাথে গর্দানের বন্ধুত্ব হয় না

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সর্বশেষ সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র। কলোনিয়ালিজম মূলত দুই প্রকার। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজম এবং সেটলার কলোনিয়ালিজম। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজমে বিদেশীরা আসে, দেশ দখল করে, কয়েক দশক পর্যন্ত লুটপাট করে, এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পালিয়ে যায়। এটা ঘটেছিল ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে, কিংবা ফরাসিদের ক্ষেত্রে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বিদেশীরা লুটপাট করে চলে যাওয়ার জন্য আসে না। তারা আসে দেশ দখল করে, স্থানীয়দেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে সেখানেই চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য। এটা আমেরিকানরা ঘটিয়েছিল মূলনিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে। একই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ানরা ঘটিয়েছিল সেখানকার আদিবাসীদের সাথে, ফরাসিরা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল আলজেরিয়ানদের সাথে।

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে এরকমই একটা সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র, যেখানে ইউরোপ থেকে আগত ইহুদিরা স্থানীয় আরব মুসলমান এবং খ্রিস্টানদেরকে নিশ্চিহ্ন করে বা স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করে দেশটাকে পাকাপাকিভাবে দখল করে নিতে চায়।

আরও পড়ুন:

কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে টিকে থাকার শান্তিপূর্ণ কোনো উপায় নেই। সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে তো আরও নেই। এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম না করলে, রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে না গেলে নিজেদেরকেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে হয়। ফিলিস্তিনিরা এটা বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে হাড়ে হাড়ে বুঝেছে। এবং সেজন্যই তারা সবসময় সেই দলের পক্ষেই অবস্থান নেয়, যে দল রেজিস্ট্যান্সকে আঁকড়ে ধরে। সেই রেজিস্ট্যান্সের জন্য তাদেরকে মূল্য দিতে হলেও তারা সেটা মেনে নেয়। কারণ তারা জানে, রেজিস্ট্যান্স থামিয়ে দেওয়ার মূল্য আরও অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:

প্রতিটা দেশেই স্থানীয় অধিবাসীদেরকে কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। আলজেরিয়ায় ফরাসিদের ঔপনিবেশিক শাসন ১৩২ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ আলজেরিয়ানকে জীবন দিতে হয়েছিল। শুধুমাত্র শেষ সাত বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধেই মারা গিয়েছিল ১৫ লক্ষ আলজেরিয়ান স্বাধীনতাকামী নাগরিক।

আরও পড়ুন:

১৯৪৫ সালে আলজেরিয়ানরা যখন তাদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল, বিপরীতে ফরাসিরা যখন সেতিফ এবং গুয়েলমা শহরে গণহত্যা চালিয়ে ৪৫ হাজার আলজেরিয়ানকে হত্যা করেছিল, তখন হয়ত অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, আলজেরিয়ানদের স্বাধীনতা আন্দোলন এখানেই বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলন ওখানে শেষ হয়নি। মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কখনও নির্মূল করা যায় না। সে সময় আন্দোলন চাপা পড়ে গেলেও পরবর্তীতে আলজেরিয়া ঠিকই আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং শেষমেষ জীবন বাজি রেখে ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে।

আরও পড়ুন:

প্রায় প্রতিটা দেশেই একই ইতিহাস ভিন্ন ভিন্ন রূপে বা আঙ্গিকে দেখা দিয়েছে। লিবিয়ায় ওমর আল-মুখতার যখন ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তার অনুগামী বেদুইন যোদ্ধাদের হাতে রাইফেল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বিপরীতে সে সময়ের অন্যতম পরাশক্তি ইতালিয়ানদের কাছে ছিল ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান-সহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র। ওমর আল-মুখতার জানতেন, তার পক্ষে ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দখলদার বাহিনীর হাতে বিনাযুদ্ধে নিজের দেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তিনি রাজি ছিলেন না।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতারের বিদ্রোহ দমন করার জন্য ইতালিয়ানরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে স্থানান্তর করেছিল। সেই ক্যাম্পে বন্দী পূর্বাঞ্চলের জনগণের অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু ওমর আল-মুখতার যুদ্ধ বন্ধ করেননি। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তিনি বলেছিলেন, আমরা বিজয়ের কথা চিন্তা করে যুদ্ধ করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আর বিজয় আসবে আল্লাহ‌অনর কাছ থেকে।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতার কিন্তু জীবদ্দশায় লিবিয়ানদের মুক্তি দেখে যেতে পারেননি। তাকে ফাঁসি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ানরা লিবিয়ান বিদ্রোহ পুরোপুরি দমন করে ফেলেছিল। কিন্তু তাই বলে তার লড়াই অর্থহীন বা ব্যর্থ হয়ে যায়নি। তিনি যদি লড়াই না করতেন, প্রতিরোধ গড়ে না তুলতেন, তাহলে লিবিয়ার স্বাধীনতা আসতে হয়ত আরও অনেক বছর সময় লেগে যেত। তাদেরকে আরও অনেক প্রাণ দিতে হত। আরও অনেক বছর ইতালির দাসত্ব করতে হত।

আরও পড়ুন:

দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, নিজেদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য, তিলে তিলে মৃত্যু বরণকে অস্বীকার করার জন্য প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। হামাসের জন্মেরও বহু বছর আগে ১৯৭০ সালে, যখন ফিলিস্তিনিদের অবস্থা এখনকার তুলনায় অনেক ভাল ছিল, সে সময়ই ফিলিস্তিনি বিপ্লবী, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, পিএফএলপি সদস্য ঘাসসান কানাফানি তাদের এই অনন্ত সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘাসসান কানাফানি বলেছিলেন, যে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনিদেরকে বাস্তুচ্যুত করেছে, শরণার্থী শিবিরে নিক্ষেপ করেছে, দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, বিশ বছর ধরে হত্যা করেছে, এমনকি ফিলিস্তিন নামটা পর্যন্ত ব্যবহার করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র সমাধান। কারণ, তরবারির সাথে গর্দানের কখনও সংলাপ হয় না। পানির অভাবে গাছ শুকিয়ে মরে গেলেও নদীর কাছে গিয়ে পানি ভিক্ষা চায় না।

আরও পড়ুন:

সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটন যখন মন্তব্য করেছিলেন, এই মৃত্যু বা হত্যা বন্ধ করতে চাইলে যুদ্ধ বন্ধ করাই ফিলিস্তিনিদের জন্য ভাল হবে, কানাফানি উত্তর দিয়েছিলেন, “সেটা হয়ত আপনার কাছে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে সেরকম মনে হচ্ছে না। আমাদের কাছে আমাদের দেশকে স্বাধীন করা, সম্মান অর্জন করা, মর্যাদা অর্জন করা, ন্যূনতম মানবাধিকার অর্জন করা আমাদের নিজেদের জীবনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুন:

দূর থেকে আমাদের কাছে হয়ত মনে হতে পারে, এই অপারেশনের আগেই তো বরং ফিলিস্তিনিরা ভাল ছিল। কিন্তু তারা যে আগেও ভাল ছিল না, সেটা বোঝা যায় তাদের বক্তব্য থেকে। এত বড় গণহত্যার শিকার হওয়ার পরেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের জরিপ অনুযায়ী ৫৪ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে, হামাসের অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড পরিচালনার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

এই সমর্থনের পরিমাণ অবশ্য পশ্চিম তীরের চেয়ে গাজায় অনেক কম, যেহেতু সেখানে মানুষের দুর্দশার পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু সেই গাজাতেও ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ এই অপারেশনের পক্ষে ছিল। তখন পর্যন্ত গাজার ৫৭ শতাংশ এবং পশ্চিম তীরের ৭৩ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করত, হামাসের এই অপারেশনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

হামাসের এই অপারেশনকে অনেক বিশ্লেষক অনেকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, অনেক কিছুর সাথে তুলনা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার তুলনাটা করেছেন মার্কিন-ইহুদি ইতিহাসবিদ নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন। তিনি এটাকে তুলনা করেছেন দাস বিদ্রোহের সাথে, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের আন্দোলনের সাথে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসী বাহিনীর হাতে ওয়ারশ ঘেটোতে বন্দী ইহুদি বন্দীদের বিদ্রোহের সাথে।

আরও পড়ুন:

যুগে যুগে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত দাসদের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তখন তারা অত্যাচারী মনিবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। দাসরা জানত, মনিবদের শক্তির সামনে, অস্ত্রশস্ত্রের সামনে তারা অসহায়। তারা জানত, তাদের বিদ্রোহ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে তাদের উপর আগের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রার নির্যাতন নেমে আসবে। কিন্তু তারপরেও যখন তাদের সামনে অন্য সব পথ বন্ধ হয়ে যেত, যখন তাদের পক্ষে ন্যূনতম আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা বিদ্রোহ করে বসত। মুক্তি অথবা মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটাকে তারা বেছে নিত।

আরও পড়ুন:

দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি; কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মতো মুক্ত মানুষদের আছে?

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder