BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

তরবারির সাথে গর্দানের বন্ধুত্ব হয় না

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:৪০

মোজাম্মেল হোসেন ত্বোহা

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে আধুনিক বিশ্বের সর্বশেষ সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র। কলোনিয়ালিজম মূলত দুই প্রকার। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজম এবং সেটলার কলোনিয়ালিজম। ক্লাসিকাল কলোনিয়ালিজমে বিদেশীরা আসে, দেশ দখল করে, কয়েক দশক পর্যন্ত লুটপাট করে, এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে পালিয়ে যায়। এটা ঘটেছিল ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে ভারতবর্ষে, কিংবা ফরাসিদের ক্ষেত্রে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বিদেশীরা লুটপাট করে চলে যাওয়ার জন্য আসে না। তারা আসে দেশ দখল করে, স্থানীয়দেরকে জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করে সেখানেই চিরস্থায়ী হওয়ার জন্য। এটা আমেরিকানরা ঘটিয়েছিল মূলনিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের সাথে। একই ঘটনা অস্ট্রেলিয়ানরা ঘটিয়েছিল সেখানকার আদিবাসীদের সাথে, ফরাসিরা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল আলজেরিয়ানদের সাথে।

আরও পড়ুন:

ইসরায়েল হচ্ছে এরকমই একটা সেটলার কলোনিয়াল রাষ্ট্র, যেখানে ইউরোপ থেকে আগত ইহুদিরা স্থানীয় আরব মুসলমান এবং খ্রিস্টানদেরকে নিশ্চিহ্ন করে বা স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করে দেশটাকে পাকাপাকিভাবে দখল করে নিতে চায়।

আরও পড়ুন:

কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে টিকে থাকার শান্তিপূর্ণ কোনো উপায় নেই। সেটলার কলোনিয়ালিজমের ক্ষেত্রে তো আরও নেই। এখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম না করলে, রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে না গেলে নিজেদেরকেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে হয়। ফিলিস্তিনিরা এটা বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে হাড়ে হাড়ে বুঝেছে। এবং সেজন্যই তারা সবসময় সেই দলের পক্ষেই অবস্থান নেয়, যে দল রেজিস্ট্যান্সকে আঁকড়ে ধরে। সেই রেজিস্ট্যান্সের জন্য তাদেরকে মূল্য দিতে হলেও তারা সেটা মেনে নেয়। কারণ তারা জানে, রেজিস্ট্যান্স থামিয়ে দেওয়ার মূল্য আরও অনেক বেশি।

আরও পড়ুন:

প্রতিটা দেশেই স্থানীয় অধিবাসীদেরকে কলোনিয়ালিজমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। আলজেরিয়ায় ফরাসিদের ঔপনিবেশিক শাসন ১৩২ বছর স্থায়ী হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ আলজেরিয়ানকে জীবন দিতে হয়েছিল। শুধুমাত্র শেষ সাত বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধেই মারা গিয়েছিল ১৫ লক্ষ আলজেরিয়ান স্বাধীনতাকামী নাগরিক।

আরও পড়ুন:

১৯৪৫ সালে আলজেরিয়ানরা যখন তাদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিল, বিপরীতে ফরাসিরা যখন সেতিফ এবং গুয়েলমা শহরে গণহত্যা চালিয়ে ৪৫ হাজার আলজেরিয়ানকে হত্যা করেছিল, তখন হয়ত অনেকের কাছে মনে হয়েছিল, আলজেরিয়ানদের স্বাধীনতা আন্দোলন এখানেই বুঝি শেষ হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে আন্দোলন ওখানে শেষ হয়নি। মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা কখনও নির্মূল করা যায় না। সে সময় আন্দোলন চাপা পড়ে গেলেও পরবর্তীতে আলজেরিয়া ঠিকই আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং শেষমেষ জীবন বাজি রেখে ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছে।

আরও পড়ুন:

প্রায় প্রতিটা দেশেই একই ইতিহাস ভিন্ন ভিন্ন রূপে বা আঙ্গিকে দেখা দিয়েছে। লিবিয়ায় ওমর আল-মুখতার যখন ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, তখন তার অনুগামী বেদুইন যোদ্ধাদের হাতে রাইফেল ছাড়া আর কিছুই ছিল না। বিপরীতে সে সময়ের অন্যতম পরাশক্তি ইতালিয়ানদের কাছে ছিল ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান-সহ অত্যাধুনিক সব অস্ত্রশস্ত্র। ওমর আল-মুখতার জানতেন, তার পক্ষে ইতালিয়ানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। কিন্তু দখলদার বাহিনীর হাতে বিনাযুদ্ধে নিজের দেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে তিনি রাজি ছিলেন না।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতারের বিদ্রোহ দমন করার জন্য ইতালিয়ানরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে স্থানান্তর করেছিল। সেই ক্যাম্পে বন্দী পূর্বাঞ্চলের জনগণের অর্ধেকই মৃত্যুবরণ করেছিল। কিন্তু ওমর আল-মুখতার যুদ্ধ বন্ধ করেননি। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তিনি বলেছিলেন, আমরা বিজয়ের কথা চিন্তা করে যুদ্ধ করি না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। আর বিজয় আসবে আল্লাহ‌অনর কাছ থেকে।

আরও পড়ুন:

ওমর আল-মুখতার কিন্তু জীবদ্দশায় লিবিয়ানদের মুক্তি দেখে যেতে পারেননি। তাকে ফাঁসি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইতালিয়ানরা লিবিয়ান বিদ্রোহ পুরোপুরি দমন করে ফেলেছিল। কিন্তু তাই বলে তার লড়াই অর্থহীন বা ব্যর্থ হয়ে যায়নি। তিনি যদি লড়াই না করতেন, প্রতিরোধ গড়ে না তুলতেন, তাহলে লিবিয়ার স্বাধীনতা আসতে হয়ত আরও অনেক বছর সময় লেগে যেত। তাদেরকে আরও অনেক প্রাণ দিতে হত। আরও অনেক বছর ইতালির দাসত্ব করতে হত।

আরও পড়ুন:

দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, নিজেদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য, তিলে তিলে মৃত্যু বরণকে অস্বীকার করার জন্য প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। হামাসের জন্মেরও বহু বছর আগে ১৯৭০ সালে, যখন ফিলিস্তিনিদের অবস্থা এখনকার তুলনায় অনেক ভাল ছিল, সে সময়ই ফিলিস্তিনি বিপ্লবী, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, পিএফএলপি সদস্য ঘাসসান কানাফানি তাদের এই অনন্ত সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন।

আরও পড়ুন:

প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘাসসান কানাফানি বলেছিলেন, যে দখলদার বাহিনী ফিলিস্তিনিদেরকে বাস্তুচ্যুত করেছে, শরণার্থী শিবিরে নিক্ষেপ করেছে, দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, বিশ বছর ধরে হত্যা করেছে, এমনকি ফিলিস্তিন নামটা পর্যন্ত ব্যবহার করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়াই একমাত্র সমাধান। কারণ, তরবারির সাথে গর্দানের কখনও সংলাপ হয় না। পানির অভাবে গাছ শুকিয়ে মরে গেলেও নদীর কাছে গিয়ে পানি ভিক্ষা চায় না।

আরও পড়ুন:

সাংবাদিক রিচার্ড কার্লেটন যখন মন্তব্য করেছিলেন, এই মৃত্যু বা হত্যা বন্ধ করতে চাইলে যুদ্ধ বন্ধ করাই ফিলিস্তিনিদের জন্য ভাল হবে, কানাফানি উত্তর দিয়েছিলেন, “সেটা হয়ত আপনার কাছে মনে হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে সেরকম মনে হচ্ছে না। আমাদের কাছে আমাদের দেশকে স্বাধীন করা, সম্মান অর্জন করা, মর্যাদা অর্জন করা, ন্যূনতম মানবাধিকার অর্জন করা আমাদের নিজেদের জীবনের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।”

আরও পড়ুন:

দূর থেকে আমাদের কাছে হয়ত মনে হতে পারে, এই অপারেশনের আগেই তো বরং ফিলিস্তিনিরা ভাল ছিল। কিন্তু তারা যে আগেও ভাল ছিল না, সেটা বোঝা যায় তাদের বক্তব্য থেকে। এত বড় গণহত্যার শিকার হওয়ার পরেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের জরিপ অনুযায়ী ৫৪ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করে, হামাসের অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড পরিচালনার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

এই সমর্থনের পরিমাণ অবশ্য পশ্চিম তীরের চেয়ে গাজায় অনেক কম, যেহেতু সেখানে মানুষের দুর্দশার পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু সেই গাজাতেও ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষ এই অপারেশনের পক্ষে ছিল। তখন পর্যন্ত গাজার ৫৭ শতাংশ এবং পশ্চিম তীরের ৭৩ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করত, হামাসের এই অপারেশনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

আরও পড়ুন:

হামাসের এই অপারেশনকে অনেক বিশ্লেষক অনেকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, অনেক কিছুর সাথে তুলনা করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার তুলনাটা করেছেন মার্কিন-ইহুদি ইতিহাসবিদ নরম্যান ফিঙ্কেলস্টাইন। তিনি এটাকে তুলনা করেছেন দাস বিদ্রোহের সাথে, কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের আন্দোলনের সাথে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসী বাহিনীর হাতে ওয়ারশ ঘেটোতে বন্দী ইহুদি বন্দীদের বিদ্রোহের সাথে।

আরও পড়ুন:

যুগে যুগে বিভিন্ন সময় নির্যাতিত দাসদের পিঠ যখন দেওয়ালে ঠেকে গেছে, তখন তারা অত্যাচারী মনিবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। দাসরা জানত, মনিবদের শক্তির সামনে, অস্ত্রশস্ত্রের সামনে তারা অসহায়। তারা জানত, তাদের বিদ্রোহ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে তাদের উপর আগের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রার নির্যাতন নেমে আসবে। কিন্তু তারপরেও যখন তাদের সামনে অন্য সব পথ বন্ধ হয়ে যেত, যখন তাদের পক্ষে ন্যূনতম আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা বিদ্রোহ করে বসত। মুক্তি অথবা মৃত্যুর মধ্যে যেকোনো একটাকে তারা বেছে নিত।

আরও পড়ুন:

দাসদের বিদ্রোহের কৌশল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি, সেই বিদ্রোহের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারি; কিন্তু ন্যূনতম স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়, তাদের সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতার সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার কি আমাদের মতো মুক্ত মানুষদের আছে?

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder