BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়?

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ১১:১৬ | আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ১১:১৬
এ নিয়ে অনেক গল্প, অনেক লোককথা, অনেক মিথ ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। তবে সাধারণত তিনটি মুখ্য ব্যাপারে আলোচনা হয় সর্বত্র। অনেকে মনে করেন ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন পোপ প্রথম জুলিয়াস।

সৈয়দ রেজাউল করিম:ভালবাসার আবার দিন কী? ভালবাসা কি সময়-ক্ষণের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে? তাহলে ১৪ই ফেব্রুয়ারির এই নির্দিষ্ট দিনটি কেন ভালবাসা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে? কী কারণ আছে তার পিছনে?
এ নিয়ে অনেক গল্প, অনেক লোককথা, অনেক মিথ ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। তবে সাধারণত তিনটি মুখ্য ব্যাপারে আলোচনা হয় সর্বত্র। অনেকে মনে করেন ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে প্রথম ঘোষণা করেন পোপ প্রথম জুলিয়াস।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন তিনি হঠাৎ ঘোষণা করতে গেলেন এই বিশেষ দিনটি? কে ছিলেন সেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস, যার নামে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ঘোষণা করে ছিলেন তাঁর নাম? সে কথা জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কয়েক শতক।
সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন ক্রিশ্চিয়ান পাদরি এবং ধর্ম প্রচারক। তিনি ছিলেন একজন সদালাপী সম্ভ্রান্ত ঘরের মহিলা। শিশুদের প্রতি তার ভালবাসা ছিল অগাধ, অকৃত্রিম। শিশুরাও তাকে প্রাণের অধিক ভালবাসত। শুধু তাই নয়, সেবা ও চিকিৎসায় তার হাত-যশ ছিল খুব। এর জন্য খুব নাম-ডাক ছিল তাঁর।
সে সময় রোমের সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে না চিনলেও তার যশের কথা কানে পৌঁছেছিল। এরকম এক মহিলা তার দরবারে স্থান পেলে তাঁর মর্যাদা যে অনেক বেড়ে যাবে, একথা অবগত ছিলেন তিনি। তবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্সের এই খ্রিস্টধর্ম প্রচার তিনি ভাল চোখে দেখেননি। কারণ, রোমবাসীর মতো তিনিও দেব-দেবীতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে তাদের ধর্ম গ্রহণ করার জন্য আবেদন করলেন।
ক্রিশ্চিয়ান ধর্মের প্রতি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস এতটাই নিমজ্জিত ছিলেন, এতটাই অনুরক্ত ছিলেন যে, তিনি এক কথায় প্রত্যাখ্যান করলেন রাজার প্রস্তাব। সম্ভ্রমের সাথে ফিরিয়ে দিলেন তাঁর আবেদন, তাঁর অনুরোধ।
এতে খুব চটে গেলেন সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস। হিংসার বশবর্তী হয়ে তিনি তাকে ধরে আনলেন। রেখে দিলেন কারাগারে, যদি তার সুমতি হয়।
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের মনে ভরা ছিল গভীর স্নেহ ভালবাসা। ফুলের মতো ছিল তার সৌরভ। কিছুদিনের মধ্যেই তার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ছুটে আসত তাকে দেখতে। কিন্তু তারা তাকে দেখতে পেত না। বাইরে দেখা দেওয়ারও হুকুম ছিল না তাঁর। কারার অন্তরালে থাকতে হত তাঁকে। তাতে কিছু যেত আসত না শিশু-কিশোরদের। তারা তাদের ভালবাসার কথা জানিয়ে চিঠি লিখত। সেই চিঠি জানালা দিয়ে ফেলে দিত জেলের ভিতরে। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস তাদের সব চিঠিগুলো পড়তেন। তাদের প্রতি গভীর ভালবাসায় আপ্লুত হতেন। চিঠিতে পাঠিয়ে দিতেন তাঁর বার্তা।
কথিত আছে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের সঙ্গে জেলরের এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। উপলক্ষ ছিল তাঁর মেয়ে, যে ছিল জন্মান্ধ। মেয়েটি প্রায় প্রতিদিন যেত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের কাছে। তাঁর সাথে প্রাণ খুলে কথা বলত। তাঁর দেওয়া ওষুধ খেত। তাঁর আন্তরিক সেবা, শুশ্রুষা এবং ঐশ্বরিক ক্ষমতার বলে একদিন সুস্থ হয়ে উঠল মেয়েটি। তার অন্ধত্ব গেল ঘুচে। এই খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। তাই সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসের সান্নিধ্য পাবার আশায় তাঁকে এক পলক দেখার বাসনায় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা আসতে থাকল কারাগার প্রাঙ্গণে।
এ সংবাদ রাজা দ্বিতীয় ক্লাডিয়াসের কানে গেল। তিনি খুব ক্রুদ্ধ হলেন। সাথে সাথে তিনি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেন। দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। তাই তাঁর ভালবাসার কথা মনে রেখে ওই দিনটি পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস হিসেবে।
দ্বিতীয় কাহিনিতে জড়িয়ে আছে আর এক ‘ভ্যালেন্টাইন’ এর কথা। খ্রিস্টীয় ইতিহাসে যার সন্ধান পাওয়া যায়। এটাও রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের রাজত্ব কালের ঘটনা, যা ঘটেছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে।
রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস ছিলেন সাম্রাজ্যবাদী, রক্তলোলুপ, বিধ্বংসী রাজা। প্রজা বাৎসল্যে খুব অখ্যাতি ছিল তাঁর। একসময় রাজ্য জয় করতে গিয়ে প্রচুর সৈন্য ক্ষয় হয় তার সেনা বাহিনীতে। সেই শূন্যস্থান পূরণে সেনাবাহিনী থেকে আবেদন নিবেদন করা হয় ভর্তির জন্য। কিন্তু সৈন্যবাহিনীতে যোগ দিতে কেউ এগিয়ে এল না। বিশেষ করে যুবকদের মধ্যে ছিল তীব্র অনীহা। ফলে প্রবল সৈন্য সংকট দেখা দিল।
সম্রাট ক্লডিয়াস তাতে দমবার পাত্র নন। এই সমস্যা সমাধানে তিনি এক নয়া পন্থা বার করলেন। আরোপিত হল নিষেধাজ্ঞা। সৈন্যবাহিনীতে যোগ না দিয়ে বিয়ে করতে পারবে না কোন যুবক। দেশজুড়ে জারি হল সেই ফরমান।
সম্রাটের সেই ফরমানে উত্তাল হল দেশের যুব সম্প্রদায়। কিন্তু বিদ্রোহ করার মতো শক্তি ছিল না তাদের। সম্রাটের রোষে পড়লে মৃত্যু যে অনিবার্য, একথা বুঝতে পেরেছিল তারা। ফলে বিবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসময়। এর প্রথম প্রতিবাদ করেন এক ধর্ম যাজক। অত্যন্ত নীরব ও নিঃশব্দে তিনি বিবাহ করেন সেইন্ট মারিসাসকে। পরে বহু যুবক-যুবতীকে বিয়ে দিলেন তাঁর গীর্জায়। যজমানি করলেন তিনি নিজে। তাঁর নাম ছিল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।
এ সংবাদ গিয়ে পৌঁছল রাজা ক্লডিয়াসের কাছে। রাগে, হিংসায় চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে উঠল তাঁর। সাথে সাথে হুকুম করলেন, ধরে আনো ভ্যালেন্টাইনকে। তাঁর আদেশ শুনে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ল সৈন্যদল। অবশেষে ২৭০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যবাহিনীর হাতে ধরা পড়ল সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। সৈন্যরা তাকে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে হাজির করল সম্রাটের কাছে। সাথে সাথে সম্রাট তাকে হত্যার আদেশ দিলেন। তাঁর মৃত্যুর কথা স্মরণ রেখে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র তৃতীয় কাহিনীটির উৎসস্থল সেই রোম। কয়েক শতাব্দী আগে থেকেই রোমানদের মধ্যে চলে আসছিল দুটি প্রথা। একটি হল প্রেম ও বিবাহ বিষয়ক, অপরটি হল সন্তান বিষয়ক। এর জন্য তারা প্রতি বছর ১৪ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘উৎসব’ হিসেবে পালন করত।
১৫ ফেব্রুয়ারি রোমানরা পালন করত সন্তান বিষয়ক উৎসব। সেই উৎসবে তরুণ যুবক-যুবতীরা প্রায় অর্ধনগ্ন হয়ে ছোটাছুটি করত। যুবকদের হাতে থাকতে চাবুক। তারা সেই চাবুক দিয়ে তাদের নববিবাহিত বধূকে পেটাত। তাদের ধারণা ছিল এতে যুবতীদের সন্তান ধারণের পথ প্রশস্ত হবে। রোম শহরের দেবতা লুপার কাশও সন্তুষ্ট হবে। তিনি তাদের সমস্ত বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করবেন।
১৪ ফেব্রুয়ারি রোমানরা পালন করত প্রেম ও বিয়ে বিষয়ক উৎসব। তাদের মধ্যে একটা মিথ প্রচলিত ছিল যে, ১৪ ফেব্রুয়ারি পক্ষীরা তাদের সঙ্গী নির্বাচন করে। সেই মিথে বিশ্বাস করে যুবক-যুবতীরাও তাদের সঙ্গী নির্বাচনের দিন স্থির করে ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন শহর ও গ্রামের যুবকেরা তাদের প্রিয় যুবতীদের নামে পত্র লিখে একটা বাক্সে বা পাত্রে রেখে দিত। সেগুলো লটারির মতো ঘেঁটে দেওয়া হত। অতঃপর প্রত্যেক যুবক একটা করে পত্র তুলে নিত এবং সবার সামনে সেটা খোলা হত। সেই পত্রে যে যুবতীর নাম লেখা থাকত, তার প্রেমে এক বছর মগ্ন থাকত সেই যুবক। তাদের মধ্যে পত্র আদান-প্রদান হত।
১৭০০ সালের দিকে ইংরেজ মহিলারাও তাদের জন্য পুরুষকে পছন্দ করত একটু অন্যভাবে। তারা তাদের পরিচিত মানুষের নাম কাগজে লিখে কাদা মাখিয়ে জলে ছুড়ে দিত। কাদা ধুয়ে গেলে কাগজটা জলের উপর ভেসে উঠত। যার নাম প্রথমে ভেসে উঠত, তাকে বিবেচিত করা হত প্রকৃত প্রেমিক হিসেবে।
৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রচলিত দু’দিনের এই উৎসব বন্ধ হয়ে এক দিনের উৎসবে পরিণত হয়। রোমের এই উৎসব খুব একটা সুখকর ছিল না সমাজে। প্রচলিত সেই রীতিনীতি সমূলে উৎপাটন করার ক্ষমতা ছিল না খ্রিস্টানদের। তারা এই রীতি-নীতিকে নতুন আঙ্গিক দিয়ে ঘোষণা করল, ছোট-বড়, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যে কেউ তাদের ভালবাসার কথা লিখতে পারে, তবে সেই সব পত্র সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামে পাঠাতে হবে।
সেই অনুসারে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে। ধীরে ধীরে সর্বস্তরের মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ে। গ্রিটিংস কার্ড, ফুল, চকোলেট এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ভালবাসার মানুষকে পাঠিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এখন তো হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে এই কাজ সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder