BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

একলা পথিকের বাগান

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬

সুরাজ পাল

আরও পড়ুন:

জার্মানির থুরিনজিয়া। ঘন জঙ্গল। ছায়ায় ঢাকা, স্যাঁতস্যাঁতে গ্রাম। সেখানেই ১৭৮২ সালে জন্ম ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেলের। জন্মের মাত্র নয় মাসের মাথায় মা মারা গেলেন। ছোট্ট ফ্রেডরিখ জানল না মায়ের আদর কাকে বলে। বাবা জোহান জ্যাকব ফ্রয়েবেল ছিলেন গির্জার যাজক। ভীষণ রাশভারী, কড়া মেজাজের মানুষ। তাঁর কাছে ধর্ম মানে কঠোর অনুশাসন, আবেগের কোনো জায়গা নেই। অনাদরে, অবহেলায় বড় হতে লাগল ছেলেটি। সৎ-মা এলেন সংসারে। প্রথম প্রথম একটু স্নেহ জুটল, কিন্তু নিজের সন্তান আসতেই ফ্রেডরিখ হয়ে গেল ‘পর’। ঘরের কোণে, সিঁড়ির তলায় একা বসে থাকত সে। কেউ তার খোঁজ নিত না। তাকে বল হত ‘দুষ্টু’, ‘অপদার্থ’। বাড়িতে টেকা দায়। বাবার চোখরাঙানি। ফ্রেডরিখ পালাল জঙ্গলে। গাছগুলো বকে না। পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। ঝরনাটা কেমন কুলকুল করে কথা কয়। ছেলেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে গাছের পাতার দিকে। ফুলের পাপড়ির দিকে। কী অদ্ভুত সাজানো! তিনটে পাপড়ি, পাঁচটা পাপড়ি। কী সুন্দর জ্যামিতি! স্কুল তো আরেক জেলখানা। তোতাপাখির মতো বুলি আওড়াও। তাঁর মাথায় কিচ্ছুটি ঢোকে না। শিক্ষকরা বলেন, ‘গাধা। কিচ্ছু হবে না একে দিয়ে।’ সবাই যখন ‘বোকা’ বলছে, তখন প্রকৃতির পাঠশালায় সে তৈরি হচ্ছে। সে শিখছে, সব কিছুর মধ্যে একটা মিল আছে। একটা সুর আছে।

আরও পড়ুন:

কৈশোর পেরোল। কিন্তু কী করবেন জীবনে? কিছুই যে ভালো লাগে না। শুরুতে বনবিভাগের কাজ নিলেন। জঙ্গল মাপার কাজ। ভালোই লাগত। তাতে তো পেট চলে না। তারপর গেলেন খনিতে। পাথর দেখার কাজ। হাতে তুলে নিলেন স্ফটিক। অবাক হয়ে দেখলেন, বাইরেটা এবড়োখেবড়ো, অথচ ভিতরটা কী নিখুঁত! আলো পড়লে ঠিকরে বেরোয়। ভাবলেন, মানুষের মনটাও তো স্ফটিকের মতো। বাইরে যতই ধুলোবালি থাক, ভিতরে আলো লুকোনো আছে। সেই আলোটা বের করতে হবে। এরপর আর্কিটেকচার পড়লেন কিছুদিন। এভাবেই কাটছিল। ছন্নছাড়া জীবন। উদ্দেশ্যহীন।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ একদিন দেখা এক বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধু বললেন, ‘তুমি তো পড়াতে ভালোবাসো। চলো ফ্রাঙ্কফুর্ট। ওখানে একটা নতুন ধরনের স্কুল হয়েছে।‘ স্কুলের প্রধান গ্রুনার সাহেব। পেস্তালৎসির ছাত্র। সেখানে গিয়ে ফ্রেডরিখের চোখ ছানাবড়া। আরে! এখানে তো মারধোর নেই। বাচ্চারা হাসছে। ক্লাসঘরে ঢুকে পড়লেন তিনি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বুঝলেন, এটাই তো আমি চেয়েছিলাম! শিশুদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন নিজেকে আবিষ্কার করলেন। ছুটলেন পেস্তালৎসির কাছে। সুইজারল্যান্ডে। ইভারদঁ-এ গিয়ে দেখলেন এলাহি কাণ্ড। ভালোবাসা দিয়ে শেখানো হচ্ছে। কিন্তু ফ্রেডরিখের জ্যামিতিক মন খুতখুত করে উঠল। ভালোবাসা আছে, অথচ কোনো ‘পদ্ধতি’ নেই। সব কেমন যেন ছড়ানো-ছিটোনো। ভাবলেন, ভালোবাসার সঙ্গে বিজ্ঞানকে মেশাতে হবে। আবেগের সঙ্গে নিয়মকে মেশাতে হবে। তবেই তো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ এল। নেপোলিয়নের যুদ্ধ। ফ্রেডরিখও যোগ দিলেন। বন্দুকের নলে মন টেকে না। যুদ্ধশেষে ঘরে ফিরলেন। এবার আর একা নন। সঙ্গে কিছু স্বপ্ন। ইতিমধ্যেই দাদা মারা গেছেন। রেখে গেছেন বিধবা স্ত্রী ও তিন সন্তান। ফ্রেডরিখ ভাইপোদের দায়িত্ব নিলেন। তিনটে বাচ্চাকে মানুষ করতে গিয়েই তাঁর পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হল। দেখলেন, শিশুরা আসলে কী চায়? তারা কি কেবল জ্ঞান চায়? না। তারা চায় ‘কাজ করতে’। হাত-পা নাড়তে। তারা গড়তে চায়। ভাঙতে চায়। বড়রা ভাবে খেলা মানে সময় নষ্ট। অথচ, শিশুর কাছে খেলাটাই কাজ। ওটাই তার তপস্যা। একটা সাত বছরের বাচ্চার কাছে মাটির ঘর বানানো আর একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ব্রিজ বানানো দুটোই সমান সিরিয়াস কাজ।

আরও পড়ুন:

১৮৩৭ সাল। পাহাড়ের কোলের ব্ল্যাঙ্কেনবার্গ গ্রাম। ফ্রেডরিখ একটা প্রতিষ্ঠান খুললেন। কিন্তু নাম কী দেবেন? স্কুল? না, ওটা বড্ড ভারী শব্দ। ইনস্টিটিউট? সেটাও বড্ড যান্ত্রিক। পাহাড়ি পথ ধরে তিনি হাঁটছেন। নিচে সবুজে মোড়া উপত্যকা। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা বাগান। সেখানে ছোট ছোট চারাগাছ। মালী খুব যত্ন করে জল দিচ্ছে। আগাছা সরিয়ে দিচ্ছে। যাতে গাছটা নিজের মতো করে বাড়তে পারে। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ইউরেকা!’ পেয়ে গেছি নাম! কিন্ডারগার্টেন। চিলড্রেনস গার্ডেন। শিশুদের বাগান। শিশু হল চারাগাছ। স্কুল বাগান। আর শিক্ষক? শিক্ষক হলেন মালী। মালী যেমন গাছকে টেনে লম্বা করে না, শুধু পরিবেশটা দেয়, শিক্ষকও তাই করবেন। পৃথিবী অবাক হয়ে শুনল নামটা। স্কুল আবার বাগান হয় নাকি?

আরও পড়ুন:

স্কুল তো হল। কিন্তু বাচ্চারা করবেটা কী? বই নেই। শ্লেট নেই। ফ্রেডরিখ ঝুলি থেকে বের করলেন জাদু-খেলনা। নাম দিলেন ‘গিফট’ বা উপহার। জার্মান ভাষায় ‘গাবে’। প্রথম উপহার নরম উলের বল। রঙিন। কেন বল? কারণ বলের কোনো কোণা নেই। আঘাত লাগে না। বল চঞ্চল। ঠিক শিশুর মতো। গড়িয়ে চলে। বল দিয়েই শিশু শিখবে গতি। শিখবে রং। দ্বিতীয় উপহার কাঠের গোলক, ঘনক ও চোঙ। বাচ্চা খেলতে গিয়ে দেখল গোলকটা গড়িয়ে যায়। কিন্তু চৌকোনা ঘনকটা ধপ করে বসে থাকে। নড়ে না। খেলার ছলে শিশু শিখে গেল, জগতে দু’রকম জিনিস আছে। একদল চলে, একদল থামে। গতি আর স্থিতি। বই পড়ে এটা শেখাতে গেলে ছ’মাস লাগত। বল দিয়ে খেলতে গিয়ে ছ’মিনিটে শেখা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন:

শুধু দেখলে হবে না। করতেও হবে। ফ্রেডরিখ নিয়ে এলেন হাতের কাজ। নাম দিলেন ‘অকুপেশন’। কাগজ ভাঁজ করা। আজ যাকে আমরা ওরিগামি বলি। কাঠি দিয়ে নকশা বানানো। কাদামাটি দিয়ে পুতুল গড়া। বালির ওপর আঁকিবুঁকি। তখনকার দিনের পণ্ডিতরা নাক সিটকোলেন। ‘ছি ছি! ভদ্রলোকের বাচ্চারা কাদা ঘাঁটবে? কাগজ কাটবে?’ তিনি হাসলেন। বললেন, ‘শুনুন মশাই, আঙুলের ডগা যার তৈরি হল না, তার মগজ কোনোদিন তৈরি হবে না।’ সৃজনশীলতা তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। এই যে ভাঙা আর গড়া, এর মাধ্যমেই তো শিশু স্রষ্টা হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সকালবেলা। কিন্ডারগার্টেনে ফ্রেডরিখ সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে দাঁড়ালেন। মাটিতে দাগ কাটা বড় বৃত্ত। সবাই সবার হাত ধরল। কেন গোল হয়ে দাঁড়ানো? বেঞ্চে বসলে কেউ আগে বসে, কেউ পিছে। যে পিছে বসে, সে নিজেকে ছোট ভাবে। কিন্তু বৃত্তে? বৃত্তের কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই। সবাই সমান। সবাই সবার মুখ দেখতে পাচ্ছে। গলা ছেড়ে গান ধরলেন তিনি। ‘এসো খেলি, এসো গড়ি…’ গানের সঙ্গে নাচ। অভিনয়ের ভঙ্গিতে শরীরচর্চা। খরগোশ কেমন করে লাফাচ্ছে? পাখি কেমন করে উড়ছে? শিশুরা নকল করছে আর হাসছে। একঘেয়ে ক্লাসরুমের বদলে প্রাণচঞ্চল হাসিটুকুই তো চেয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

সেকালে মাস্টারমশাই মানেই হাতে বেত, চোখে চশমা, রাশভারী পুরুষ। ফ্রেডরিখ বললেন, ‘ও চলবে না।‘ শিশুর প্রথম শিক্ষক কে? মা। মায়ের চেয়ে ভালো কেউ শিশুকে বোঝে না। তাহলে স্কুলের শিক্ষক কেন পুরুষ হবে? ডাক দিলেন মেয়েদের। বললেন, ‘এসো, তোমরা ভার নাও বাগানের।‘ সমাজ তো রেগে আগুন! মেয়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবে? তাও আবার শিক্ষকতা? তিনি পাত্তা দিলেন না। মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। শেখালেন গান, খেলা, শিশু-মনস্তত্ত্ব। আজ যে আমরা নার্সারি স্কুলে বা প্রাইমারিতে এত দিদিমণি বা ম্যাম দেখি তার রাস্তাটা কিন্তু এই মানুষটাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি নারীকে দিলেন সম্মান, শিশুকে দিলেন মাতৃস্নেহ।

আরও পড়ুন:

বাগানে যখন ফুল ফুটছে, ঠিক তখনই নামল ঝড়। ১৮৫১ সাল। প্রুশিয়ার রাজা আর তাঁর মন্ত্রীরা ভয় পেলেন। ভয়টা কিসের? এই যে বাচ্চারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করছে। গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে সাম্যের গান গাইছে। এসব তো রাজতন্ত্রের জন্য বিপদ! এরা বড় হয়ে যদি প্রশ্ন করে? যদি মাথা নোয়াতে না চায়? রাজা হুকুম দিলেন ‘কিন্ডারগার্টেন নিষিদ্ধ।‘ অপবাদ দেওয়া হল, স্কুলগুলো নাকি সমাজতন্ত্র আর নাস্তিকতা ছড়াচ্ছে। এগুলো ধর্মের শত্রু। পুলিশ এল। তালা ঝোলাল বাগানের ফটকে। বইপত্র বাজেয়াপ্ত হল।

আরও পড়ুন:

খবরটা যখন এল, ফ্রেডরিখের বয়স তখন সত্তর ছুঁইছুঁই। শরীর ভেঙে পড়েছে। যে স্বপ্ন তিনি তিল তিল করে গড়েছিলেন, রাজার এক কলমের খোঁচায় তা চুরমার হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা দুমড়ে গেল তাঁর। বলেছিলেন, ‘ওরা আমার স্কুল বন্ধ করতে পারে। কিন্তু সত্যকে? তাকে তো আর তালাবন্ধ করে রাখা যায় না। আমি যে বীজ বুনে দিয়ে গেলাম, তা একদিন মহীরুহ হবেই।‘ ১৮৫২ সাল। গ্রীষ্মের এক দুপুরে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল চলে গেলেন। দেখে মনে হল সব শেষ। তাঁর বাগান তখন আগাছায় ভরা, ফটকে মরচে ধরা তালা।

আরও পড়ুন:

গল্প এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হল না। আগুন ছাইচাপা থাকে না। জার্মানিতে নিষিদ্ধ কিন্ডারগার্টেন। তাতে কী? ফ্রয়েবেলের ছাত্রীরা ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে। কেউ গেল আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে, কেউ ফ্রান্সে। সঙ্গে করে নিয়ে গেল সেই রঙিন বল, সেই কাগজ ভাঁজ করার খেলা, আর সেই গান। এদেরই একজন ব্যারনেস ফন মারেনহোলজ। অভিজাত মহিলা। তিনি পণ করলেন, গুরুর অপমান ঘুচিয়ে ছাড়বেন। তিনি দেশে দেশে ঘুরে প্রচার করলেন, ‘ওটা নাস্তিকতা নয়, ওটাই মুক্তির পথ।‘ ধীরে ধীরে মানুষের ভুল ভাঙল। জার্মানিও একদিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হল।

আরও পড়ুন:

আজ আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, টোকিও থেকে নিউইয়র্ক, কলকাতা থেকে কায়রো। ছোটদের স্কুল মানেই কিন্ডারগার্টেন বা ‘কেজি’। আজও বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকে। মাটির পুতুল গড়ে। গোল হয়ে হাতে হাত রেখে গান গায়। ব্লক দিয়ে বাড়ি বানায়। ওরা জানে না, এই আনন্দের খেলাটা কে আবিষ্কার করেছিল। জানার দরকারও নেই। কিন্তু আমরা জানি। আমরা জানি, থুরিনজিয়ার সেই একলা ছেলেটা, যে একদিন জঙ্গলে বন্ধু খুঁজেছিল, সে-ই আমাদের শিশুদের একলা হতে দেয়নি। প্রতিটি প্লে-স্কুলের রঙিন দেওয়াল, প্রতিটি খেলার সরঞ্জাম, সবকিছুর মধ্যে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল বেঁচে আছেন। তিনি আছেন সেই মালীর মতো, যে আড়াল থেকে দেখে আর হাসে। কারণ, বাগান মরেনি। ফুলগুলো রোজ নতুন করে ফোটে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder