BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

একলা পথিকের বাগান

প্রকাশিত: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬ | আপডেট: ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৪৬

সুরাজ পাল

আরও পড়ুন:

জার্মানির থুরিনজিয়া। ঘন জঙ্গল। ছায়ায় ঢাকা, স্যাঁতস্যাঁতে গ্রাম। সেখানেই ১৭৮২ সালে জন্ম ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেলের। জন্মের মাত্র নয় মাসের মাথায় মা মারা গেলেন। ছোট্ট ফ্রেডরিখ জানল না মায়ের আদর কাকে বলে। বাবা জোহান জ্যাকব ফ্রয়েবেল ছিলেন গির্জার যাজক। ভীষণ রাশভারী, কড়া মেজাজের মানুষ। তাঁর কাছে ধর্ম মানে কঠোর অনুশাসন, আবেগের কোনো জায়গা নেই। অনাদরে, অবহেলায় বড় হতে লাগল ছেলেটি। সৎ-মা এলেন সংসারে। প্রথম প্রথম একটু স্নেহ জুটল, কিন্তু নিজের সন্তান আসতেই ফ্রেডরিখ হয়ে গেল ‘পর’। ঘরের কোণে, সিঁড়ির তলায় একা বসে থাকত সে। কেউ তার খোঁজ নিত না। তাকে বল হত ‘দুষ্টু’, ‘অপদার্থ’। বাড়িতে টেকা দায়। বাবার চোখরাঙানি। ফ্রেডরিখ পালাল জঙ্গলে। গাছগুলো বকে না। পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নেয় না। ঝরনাটা কেমন কুলকুল করে কথা কয়। ছেলেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে গাছের পাতার দিকে। ফুলের পাপড়ির দিকে। কী অদ্ভুত সাজানো! তিনটে পাপড়ি, পাঁচটা পাপড়ি। কী সুন্দর জ্যামিতি! স্কুল তো আরেক জেলখানা। তোতাপাখির মতো বুলি আওড়াও। তাঁর মাথায় কিচ্ছুটি ঢোকে না। শিক্ষকরা বলেন, ‘গাধা। কিচ্ছু হবে না একে দিয়ে।’ সবাই যখন ‘বোকা’ বলছে, তখন প্রকৃতির পাঠশালায় সে তৈরি হচ্ছে। সে শিখছে, সব কিছুর মধ্যে একটা মিল আছে। একটা সুর আছে।

আরও পড়ুন:

কৈশোর পেরোল। কিন্তু কী করবেন জীবনে? কিছুই যে ভালো লাগে না। শুরুতে বনবিভাগের কাজ নিলেন। জঙ্গল মাপার কাজ। ভালোই লাগত। তাতে তো পেট চলে না। তারপর গেলেন খনিতে। পাথর দেখার কাজ। হাতে তুলে নিলেন স্ফটিক। অবাক হয়ে দেখলেন, বাইরেটা এবড়োখেবড়ো, অথচ ভিতরটা কী নিখুঁত! আলো পড়লে ঠিকরে বেরোয়। ভাবলেন, মানুষের মনটাও তো স্ফটিকের মতো। বাইরে যতই ধুলোবালি থাক, ভিতরে আলো লুকোনো আছে। সেই আলোটা বের করতে হবে। এরপর আর্কিটেকচার পড়লেন কিছুদিন। এভাবেই কাটছিল। ছন্নছাড়া জীবন। উদ্দেশ্যহীন।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ একদিন দেখা এক বন্ধুর সঙ্গে। বন্ধু বললেন, ‘তুমি তো পড়াতে ভালোবাসো। চলো ফ্রাঙ্কফুর্ট। ওখানে একটা নতুন ধরনের স্কুল হয়েছে।‘ স্কুলের প্রধান গ্রুনার সাহেব। পেস্তালৎসির ছাত্র। সেখানে গিয়ে ফ্রেডরিখের চোখ ছানাবড়া। আরে! এখানে তো মারধোর নেই। বাচ্চারা হাসছে। ক্লাসঘরে ঢুকে পড়লেন তিনি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই বুঝলেন, এটাই তো আমি চেয়েছিলাম! শিশুদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি যেন নিজেকে আবিষ্কার করলেন। ছুটলেন পেস্তালৎসির কাছে। সুইজারল্যান্ডে। ইভারদঁ-এ গিয়ে দেখলেন এলাহি কাণ্ড। ভালোবাসা দিয়ে শেখানো হচ্ছে। কিন্তু ফ্রেডরিখের জ্যামিতিক মন খুতখুত করে উঠল। ভালোবাসা আছে, অথচ কোনো ‘পদ্ধতি’ নেই। সব কেমন যেন ছড়ানো-ছিটোনো। ভাবলেন, ভালোবাসার সঙ্গে বিজ্ঞানকে মেশাতে হবে। আবেগের সঙ্গে নিয়মকে মেশাতে হবে। তবেই তো পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা।

আরও পড়ুন:

যুদ্ধ এল। নেপোলিয়নের যুদ্ধ। ফ্রেডরিখও যোগ দিলেন। বন্দুকের নলে মন টেকে না। যুদ্ধশেষে ঘরে ফিরলেন। এবার আর একা নন। সঙ্গে কিছু স্বপ্ন। ইতিমধ্যেই দাদা মারা গেছেন। রেখে গেছেন বিধবা স্ত্রী ও তিন সন্তান। ফ্রেডরিখ ভাইপোদের দায়িত্ব নিলেন। তিনটে বাচ্চাকে মানুষ করতে গিয়েই তাঁর পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হল। দেখলেন, শিশুরা আসলে কী চায়? তারা কি কেবল জ্ঞান চায়? না। তারা চায় ‘কাজ করতে’। হাত-পা নাড়তে। তারা গড়তে চায়। ভাঙতে চায়। বড়রা ভাবে খেলা মানে সময় নষ্ট। অথচ, শিশুর কাছে খেলাটাই কাজ। ওটাই তার তপস্যা। একটা সাত বছরের বাচ্চার কাছে মাটির ঘর বানানো আর একজন ইঞ্জিনিয়ারের কাছে ব্রিজ বানানো দুটোই সমান সিরিয়াস কাজ।

আরও পড়ুন:

১৮৩৭ সাল। পাহাড়ের কোলের ব্ল্যাঙ্কেনবার্গ গ্রাম। ফ্রেডরিখ একটা প্রতিষ্ঠান খুললেন। কিন্তু নাম কী দেবেন? স্কুল? না, ওটা বড্ড ভারী শব্দ। ইনস্টিটিউট? সেটাও বড্ড যান্ত্রিক। পাহাড়ি পথ ধরে তিনি হাঁটছেন। নিচে সবুজে মোড়া উপত্যকা। হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা বাগান। সেখানে ছোট ছোট চারাগাছ। মালী খুব যত্ন করে জল দিচ্ছে। আগাছা সরিয়ে দিচ্ছে। যাতে গাছটা নিজের মতো করে বাড়তে পারে। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ইউরেকা!’ পেয়ে গেছি নাম! কিন্ডারগার্টেন। চিলড্রেনস গার্ডেন। শিশুদের বাগান। শিশু হল চারাগাছ। স্কুল বাগান। আর শিক্ষক? শিক্ষক হলেন মালী। মালী যেমন গাছকে টেনে লম্বা করে না, শুধু পরিবেশটা দেয়, শিক্ষকও তাই করবেন। পৃথিবী অবাক হয়ে শুনল নামটা। স্কুল আবার বাগান হয় নাকি?

আরও পড়ুন:

স্কুল তো হল। কিন্তু বাচ্চারা করবেটা কী? বই নেই। শ্লেট নেই। ফ্রেডরিখ ঝুলি থেকে বের করলেন জাদু-খেলনা। নাম দিলেন ‘গিফট’ বা উপহার। জার্মান ভাষায় ‘গাবে’। প্রথম উপহার নরম উলের বল। রঙিন। কেন বল? কারণ বলের কোনো কোণা নেই। আঘাত লাগে না। বল চঞ্চল। ঠিক শিশুর মতো। গড়িয়ে চলে। বল দিয়েই শিশু শিখবে গতি। শিখবে রং। দ্বিতীয় উপহার কাঠের গোলক, ঘনক ও চোঙ। বাচ্চা খেলতে গিয়ে দেখল গোলকটা গড়িয়ে যায়। কিন্তু চৌকোনা ঘনকটা ধপ করে বসে থাকে। নড়ে না। খেলার ছলে শিশু শিখে গেল, জগতে দু’রকম জিনিস আছে। একদল চলে, একদল থামে। গতি আর স্থিতি। বই পড়ে এটা শেখাতে গেলে ছ’মাস লাগত। বল দিয়ে খেলতে গিয়ে ছ’মিনিটে শেখা হয়ে গেল।

আরও পড়ুন:

শুধু দেখলে হবে না। করতেও হবে। ফ্রেডরিখ নিয়ে এলেন হাতের কাজ। নাম দিলেন ‘অকুপেশন’। কাগজ ভাঁজ করা। আজ যাকে আমরা ওরিগামি বলি। কাঠি দিয়ে নকশা বানানো। কাদামাটি দিয়ে পুতুল গড়া। বালির ওপর আঁকিবুঁকি। তখনকার দিনের পণ্ডিতরা নাক সিটকোলেন। ‘ছি ছি! ভদ্রলোকের বাচ্চারা কাদা ঘাঁটবে? কাগজ কাটবে?’ তিনি হাসলেন। বললেন, ‘শুনুন মশাই, আঙুলের ডগা যার তৈরি হল না, তার মগজ কোনোদিন তৈরি হবে না।’ সৃজনশীলতা তো আর আকাশ থেকে পড়ে না। এই যে ভাঙা আর গড়া, এর মাধ্যমেই তো শিশু স্রষ্টা হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

সকালবেলা। কিন্ডারগার্টেনে ফ্রেডরিখ সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে দাঁড়ালেন। মাটিতে দাগ কাটা বড় বৃত্ত। সবাই সবার হাত ধরল। কেন গোল হয়ে দাঁড়ানো? বেঞ্চে বসলে কেউ আগে বসে, কেউ পিছে। যে পিছে বসে, সে নিজেকে ছোট ভাবে। কিন্তু বৃত্তে? বৃত্তের কোনো শুরুও নেই, শেষও নেই। সবাই সমান। সবাই সবার মুখ দেখতে পাচ্ছে। গলা ছেড়ে গান ধরলেন তিনি। ‘এসো খেলি, এসো গড়ি…’ গানের সঙ্গে নাচ। অভিনয়ের ভঙ্গিতে শরীরচর্চা। খরগোশ কেমন করে লাফাচ্ছে? পাখি কেমন করে উড়ছে? শিশুরা নকল করছে আর হাসছে। একঘেয়ে ক্লাসরুমের বদলে প্রাণচঞ্চল হাসিটুকুই তো চেয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

সেকালে মাস্টারমশাই মানেই হাতে বেত, চোখে চশমা, রাশভারী পুরুষ। ফ্রেডরিখ বললেন, ‘ও চলবে না।‘ শিশুর প্রথম শিক্ষক কে? মা। মায়ের চেয়ে ভালো কেউ শিশুকে বোঝে না। তাহলে স্কুলের শিক্ষক কেন পুরুষ হবে? ডাক দিলেন মেয়েদের। বললেন, ‘এসো, তোমরা ভার নাও বাগানের।‘ সমাজ তো রেগে আগুন! মেয়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবে? তাও আবার শিক্ষকতা? তিনি পাত্তা দিলেন না। মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করলেন। শেখালেন গান, খেলা, শিশু-মনস্তত্ত্ব। আজ যে আমরা নার্সারি স্কুলে বা প্রাইমারিতে এত দিদিমণি বা ম্যাম দেখি তার রাস্তাটা কিন্তু এই মানুষটাই তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি নারীকে দিলেন সম্মান, শিশুকে দিলেন মাতৃস্নেহ।

আরও পড়ুন:

বাগানে যখন ফুল ফুটছে, ঠিক তখনই নামল ঝড়। ১৮৫১ সাল। প্রুশিয়ার রাজা আর তাঁর মন্ত্রীরা ভয় পেলেন। ভয়টা কিসের? এই যে বাচ্চারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করছে। গোল হয়ে হাত ধরাধরি করে সাম্যের গান গাইছে। এসব তো রাজতন্ত্রের জন্য বিপদ! এরা বড় হয়ে যদি প্রশ্ন করে? যদি মাথা নোয়াতে না চায়? রাজা হুকুম দিলেন ‘কিন্ডারগার্টেন নিষিদ্ধ।‘ অপবাদ দেওয়া হল, স্কুলগুলো নাকি সমাজতন্ত্র আর নাস্তিকতা ছড়াচ্ছে। এগুলো ধর্মের শত্রু। পুলিশ এল। তালা ঝোলাল বাগানের ফটকে। বইপত্র বাজেয়াপ্ত হল।

আরও পড়ুন:

খবরটা যখন এল, ফ্রেডরিখের বয়স তখন সত্তর ছুঁইছুঁই। শরীর ভেঙে পড়েছে। যে স্বপ্ন তিনি তিল তিল করে গড়েছিলেন, রাজার এক কলমের খোঁচায় তা চুরমার হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা দুমড়ে গেল তাঁর। বলেছিলেন, ‘ওরা আমার স্কুল বন্ধ করতে পারে। কিন্তু সত্যকে? তাকে তো আর তালাবন্ধ করে রাখা যায় না। আমি যে বীজ বুনে দিয়ে গেলাম, তা একদিন মহীরুহ হবেই।‘ ১৮৫২ সাল। গ্রীষ্মের এক দুপুরে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল চলে গেলেন। দেখে মনে হল সব শেষ। তাঁর বাগান তখন আগাছায় ভরা, ফটকে মরচে ধরা তালা।

আরও পড়ুন:

গল্প এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হল না। আগুন ছাইচাপা থাকে না। জার্মানিতে নিষিদ্ধ কিন্ডারগার্টেন। তাতে কী? ফ্রয়েবেলের ছাত্রীরা ছড়িয়ে পড়ল সারা পৃথিবীতে। কেউ গেল আমেরিকায়, কেউ ইংল্যান্ডে, কেউ ফ্রান্সে। সঙ্গে করে নিয়ে গেল সেই রঙিন বল, সেই কাগজ ভাঁজ করার খেলা, আর সেই গান। এদেরই একজন ব্যারনেস ফন মারেনহোলজ। অভিজাত মহিলা। তিনি পণ করলেন, গুরুর অপমান ঘুচিয়ে ছাড়বেন। তিনি দেশে দেশে ঘুরে প্রচার করলেন, ‘ওটা নাস্তিকতা নয়, ওটাই মুক্তির পথ।‘ ধীরে ধীরে মানুষের ভুল ভাঙল। জার্মানিও একদিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হল।

আরও পড়ুন:

আজ আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান, টোকিও থেকে নিউইয়র্ক, কলকাতা থেকে কায়রো। ছোটদের স্কুল মানেই কিন্ডারগার্টেন বা ‘কেজি’। আজও বাচ্চারা স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকে। মাটির পুতুল গড়ে। গোল হয়ে হাতে হাত রেখে গান গায়। ব্লক দিয়ে বাড়ি বানায়। ওরা জানে না, এই আনন্দের খেলাটা কে আবিষ্কার করেছিল। জানার দরকারও নেই। কিন্তু আমরা জানি। আমরা জানি, থুরিনজিয়ার সেই একলা ছেলেটা, যে একদিন জঙ্গলে বন্ধু খুঁজেছিল, সে-ই আমাদের শিশুদের একলা হতে দেয়নি। প্রতিটি প্লে-স্কুলের রঙিন দেওয়াল, প্রতিটি খেলার সরঞ্জাম, সবকিছুর মধ্যে ফ্রেডরিখ ফ্রয়েবেল বেঁচে আছেন। তিনি আছেন সেই মালীর মতো, যে আড়াল থেকে দেখে আর হাসে। কারণ, বাগান মরেনি। ফুলগুলো রোজ নতুন করে ফোটে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder