BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

দেশে দেশে গণঅভ্যুত্থান: নেপথ্য কারণ কী?

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬:৩৭

ড. নূরুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ১ অক্টোবর:

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। স্বৈরাচারী সরকারের অকস্মাৎ পতন। বস্তুত কোন রাষ্ট্রে বিপ্লব হঠাৎ সংঘটিত হয় না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে না। মানুষ যখন দেখে, সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়া স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি সম্ভব নয়; তখন তারা জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নামে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে একথা একশো শতাংশ সত্য। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে আরব বিশ্বে এ ধরনের গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল, যাকে বলা হয় Arab Spring বা ‘আরব বসন্ত’। তবে সেই অভ্যুত্থান সফল হয়নি। কারণ, সেখানে স্বৈরাচারী শাসকদের পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা ও ইউরোপ নির্লজ্জভাবে তাদের পাপেটদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। তারা স্বৈরশাসকদের পক্ষাবলম্বন করে। কট্টর স্বৈরশাসকরা ভয়ানক সহিংসতা ও শক্তি প্রয়োগ করে ‘আরব বসন্ত’ দমন করে।

আরও পড়ুন:

এতকাল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে প্রাক্তন ঔপনিবেশিক শক্তি ও নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা দেশে দেশে পাপেট সরকার প্রতিষ্ঠা করত। তাদের কথা মতো না চললে সামরিক অভ্যুত্থান অথবা গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করত। এভাবে তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মুসলিম জাহানে দীর্ঘদিন ধরে নব্য সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার দোসররা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এখনো তাদের পাপেট ইসরাইলকে দিয়ে আরব জগতে ভয়ানক অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে।

আরও পড়ুন:

এদিকে, দেশে দেশে যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে চলেছে, তার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জম্মু কাশ্মীরের লাদাখে শুরু হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। তবে এদেশে এধরনের অভ্যুত্থান ও আন্দোলন সফল হবে না। কারণ, এই বহুমাত্রিক দেশে বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ভিন্ন ভিন্ন। কোন ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সকল ভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী এক সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে একক নেতৃত্বের অধীনে রাস্তায় নামবে — এ সম্ভাবনা খুবই কম। লাদাখবাসীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের একাত্ম হওয়ার কারণ নেই। তাছাড়া, লাদাখের বৌদ্ধরা আন্দোলন করছে। মুসলিম বা হিন্দু ধর্ম গোষ্ঠী এই আন্দোলনে নেই। এজন্য এই আন্দোলন সফল হবে না। ক্ষমতাসীন বর্ণ হিন্দু গোষ্ঠী এই খেলায় ওস্তাদ। ‘ভাগ কর, শাসন কর।’ এতদিন তারা কাশ্মীর ভাগের সময় মুসলিম ও বৌদ্ধ খেলা খেলেছিল। এখন শুধু মুদ্রার পিঠ পরিবর্তন করলেই হল।

আরও পড়ুন:

মনে আছে, ব্রিটিশরা তৎকালীন মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে এদেশের অমুসলিমদের কীভাবে ব্যবহার করেছে? ১৮৫৭ সালে প্রথম সর্বাত্মক স্বাধীনতা আন্দোলন বা মহাবিদ্রোহের সময় সুবিধাভোগী অমুসলিম বা হিন্দু জমিদার, জোতদার শ্রেণির ভূমিকা কেমন ছিল? দয়া করে ঐ সময়ের বাংলার পত্র-পত্রিকাগুলো একবার দেখে নেবেন। যে ফল্টলাইন ঔপনিবেশিক শাসকদের নির্ভুল হাতিয়ার ছিল। আজ ক্ষমতাসীন ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সেই হাতিয়ার অব্যর্থ কাজ করে চলেছে।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, একটি প্রাণবন্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনসমূহ। মানুষের চাওয়া-পাওয়া এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার বার্তা বহন করে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে অসংখ্য রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন আছে। এসব প্ল্যাটফর্ম সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে। বস্তুত যখন এসব প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর হয়ে যায়, তখন মানুষের ক্ষোভ বাঁধন-হারা হয়ে যায়। তখন উত্তাল আন্দোলন গড়ে উঠে। বিপ্লব সংঘটিত হয়।

আরও পড়ুন:

বর্তমান রাষ্ট্র শাসনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদ্বয় আধুনিক বহুমাত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেফটি ভাল্বের মতো কাজ করতে পারে। এগুলো নিছক পরিভাষা নয়। কার্যকর হাতিয়ার। এফেক্টিভ মেকানিজম। কিন্তু এই পরিভাষা যে আদর্শ ও মহানতা ধারণ করে, তা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে নেই। বস্তুত অধিকাংশ দেশে যথার্থ গণতন্ত্রই নেই। যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষ নয়। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের ভিত্তিমূল ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রী’। এগুলোর অস্তিত্ব কোথায়?

আরও পড়ুন:

মানুষ অতীতে বহু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতবাদ নিয়ে অনুশীলন করে হতাশ হয়ে গেছে। এখনো মানুষ মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছে। কখনো বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক পরিভাষা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মানুষ এখন জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ ইত্যাদি শব্দে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। এসব পরিভাষা নিয়ে তারা হাসাহাসি করছে। বস্তুত পরিভাষাগুলো এখন নিজস্ব স্পিরিট হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কিছু দুর্বৃত্ত ও দুষ্কৃতির মাধ্যমে। তাদের স্বৈরশাসনে নিষ্পেষিত ও অসন্তুষ্ট মানুষ প্রতিকারের বিকল্প পথ দেখতে না পেয়ে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের ঝুঁকি নেয়। মনে করে, প্রতিকারের একমাত্র পথ রাষ্ট্র বিপ্লব। যেখানে বহু জীবনহানি হয়। বহু সম্পদ ধ্বংস হয়। জীবনের ছন্দ পতন হয়। সর্বনাশ হয়।

আরও পড়ুন:

ভারত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সবথেকে বড় ও প্রভাবশালী দেশ। এখানেও গণঅভ্যুত্থানের প্রবল সম্ভাবনা আছে। গণতন্ত্র এখানেও পণবন্দি। কার্যত গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার বারোটা বেজে গেছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে চলেছে। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও উল্লেখিত দেশগুলোর মতো ভারত কিন্তু একমাত্রিক দেশ নয়। এখানে খুব সহজে সমগ্র দেশব্যাপী গণআন্দোলন সংঘটিত হবে না। রাষ্ট্র বিপ্লব অত সহজে হবে না। আর যদি দৈবাৎ হয়ে যায়, তাহলে এদেশ সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। সোভিয়েত যেমন তার বিপুল সামরিক শক্তি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে পারেনি, তেমনি এদেশও পারবে বলে মনে হয় না। কারণ, এদেশে প্রতিটি রাজ্য ও প্রতিটি রাজ্যের ভেতর একাধিক স্বতন্ত্র অঞ্চল নিজেদের আঞ্চলিক অস্মিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। ফলে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। যা পুনরায় সংগঠিত ও সুসংহত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন:

বস্তুত ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভিন্ন ধরনের। এদেশে হিন্দু ঐতিহ্য ও জাত-ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত। খুব শক্তিশালী। তথাকথিত উচ্চ বর্ণের সংখ্যালঘু হিন্দু গোষ্ঠীর আধিপত্য নিরঙ্কুশ। এদেশে একমাত্র তাদের অনুশাসন চলে। হাজার হাজার বছর ধরে। এমনকি মুসলিম ও খ্রিস্টান শাসনামলেও বর্ণ প্রথা অক্ষত ছিল। বর্ণ হিন্দুরা সমাজ শাসন করত। পৃথিবীর সকল দেশে এলিট শ্রেণি আছে। তাদের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত আছে। কিন্তু ভারতের এলিট শ্রেণির আধিপত্য ধর্মের মোড়কে সুরক্ষিত। ফলে, বিদেশি ও বিধর্মী শাসনকালে হোক অথবা প্রগতিশীল গণতন্ত্রে — এদেশে বর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের আধিপত্য ও প্রাধান্য সুরক্ষিত। এজন্য খুব সহজে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। আপাতত মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এদেশে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের উৎসকাল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে শুরু হয় সামাজিক সংগঠনের পথ চলা। শেষার্ধে শুরু হয় রাজনৈতিক দলের পথ চলা। বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৩ সালে। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫১ সালে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। এছাড়াও, এসময় অসংখ্য দল ও সংগঠন গড়ে ওঠে, যারা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। এসব দল ও সংগঠন দেশে গণ অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। তাদের সক্রিয়তার ফলেই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারত হিন্দু-প্রধান দেশ। ভারতে ডে ওয়ান থেকে মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে কোণঠাসা। সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিম সম্প্রদায় বিভেদ, বিভাজনের শিকার। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভয়ানক বৈষম্যের শিকার। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তারা প্রতিনিধিত্বহীন। কার্যত তারা স্বাধীন দেশে অবদমিত জনগোষ্ঠী। শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে তারা অন্যায় ও অবিচারের শিকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশক ধরে তাদের জীবন ও জীবিকাও অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ চলছে!

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের পুরোধা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫)। বর্ণ হিন্দু পরিচালিত ও প্রভাবিত জাতীয় কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখে। তাদের অবদান এদেশের কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই দল প্রথম থেকে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্ণ হিন্দু নেতৃবৃন্দ তাদের প্রাধান্য কখনো পরিত্যাগ করেনি। তারা ধর্মনিরপেক্ষ অথচ হিন্দু আধিপত্যের প্রবক্তা ছিলেন। এক সময় কংগ্রেসের হিন্দু সদস্যরা নরমপন্থী ও চরমপন্থী উপদলে বিভক্ত ছিলেন। আজকের বিজেপির পূর্বপুরুষ ছিলেন সেকালের কংগ্রেসের চরমপন্থীরা।

আরও পড়ুন:

১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা হয় জাতীয় কংগ্রেসের দুই দশক পরে। মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্দু আধিপত্য থেকে বাঁচার এক মুসলিম রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। তারাও প্রাথমিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অথচ মুসলিম পরিচালিত রাজনৈতিক দলের প্রবক্তা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তারা মুসলিম সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে মুসলিম লীগের দুই দশক পরে। আরএসএস আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো রাজনৈতিক দল ছিল না। আজও না। কিন্তু তারা সুপার রাজনৈতিক। তাদের একক লক্ষ্য হল, দেশে হিন্দু আধিপত্য ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং তাদের সহযোগিতা করে হিন্দু আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখা ছিল তাদের একক লক্ষ্য। স্বাধীনতার পরে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রগতিশীল কংগ্রেসের শাসন তাদের পছন্দ ছিল না। এজন্য তারা গান্ধী ও নেহরুর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। অভিযোগ, গান্ধীকে হত্যা করে তারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে! এজন্য সেসময় দেশে তাদের সব তৎপরতা নিষিদ্ধ করা হয়।

আরও পড়ুন:

স্মরণীয়, কংগ্রেসের সূচনালগ্ন থেকেই চরমপন্থী গোষ্ঠী বর্ণ হিন্দু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিল। তারা আরএসএস-এর তথাকথিত আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তারা আরএসএস-এর সঙ্গে একাত্ম ছিলেন। অভিযোগ, এখনো জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বিশাল সংখ্যক মানুষ সংঘ পরিবারের সঙ্গে একাত্ম। এজন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিজেপি ও কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

আরও পড়ুন:

স্বাধীন ভারতের সংবিধানে প্রথমে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ ছিল না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সকল আদর্শের উল্লেখ ছিল। পরে ১৯৭৬ সালে ৪২তম সংবিধান সংশোধনীতে সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ সংযোজন করা হয়। তা সত্ত্বেও, যেহেতু কংগ্রেসে সব সময় হিন্দু চরমপন্থী এলিমেন্টস খুব সক্রিয় ও শক্তিশালী, এজন্য এদেশে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। এখন তো ক্ষমতাসীন বিজেপি ধর্মনিরপেক্ষতার চরম বিরোধী। তা সত্ত্বেও, তাদের নেতারা প্রায়ই বলে, ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বলে ধর্মনিরপেক্ষ! ঠিক। পৃথিবীতে একমাত্র হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত। এজন্য পৃথিবীতে একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ভারত! এসব কূপমন্ডক নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই। বস্তুত কোন দেশ সফল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ কিনা, সেই সার্টিফিকেট দেবে সেদেশের সংখ্যালঘু ও দুর্বল শ্রেণির মানুষ। কারণ, তারাই শিকার হয় স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদের।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder