BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বাগরাম ঘাঁটি: কৌশলগত গ্রেট গেমের অংশ

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:২৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:২৬

সাইফুল খান

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। এই ঘাঁটির ইতিহাস, কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর পুনর্নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা আজও থেমে নেই। এই মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশে, রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সময় ১৯৭৯ সালে এই ঘাঁটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। সোভিয়েতরা এটিকে তাদের আফগান সামরিক অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর আমেরিকা আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে বাগরামকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রায় দুই দশক ধরে এটি হয়ে ওঠে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদরদপ্তর। সেখানে কয়েক হাজার সেনা অবস্থান করত।

আরও পড়ুন:

বাগরামের গুরুত্ব বোঝার জন্য এটিকে ‘স্ট্যাটাস অফ ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট’ (SOFA) বা দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি সামরিক ঘাঁটির দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়। বর্তমানে সারা বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। যেমন- দক্ষিণ কোরিয়ায় ওসান ও ইয়ংসান ঘাঁটি (উত্তর কোরিয়ার প্রতিরোধে), জাপানে ওকিনাওয়া ঘাঁটি (চীন ও উত্তর কোরিয়া পর্যবেক্ষণে), জার্মানির রামস্টেইন ঘাঁটি (ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সদরদপ্তর), কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি (মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি)। আফগানিস্তানের বাগরামও এই ধরণের ঘাঁটি, যা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অনন্য গুরুত্ব বহন করত।

আরও পড়ুন:

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর বাগরাম এয়ারবেস বা বায়ুসেনা ঘাঁটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে গত কয়েক বছরে ভূ-রাজনীতির পালাবদল এবং নতুন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ওয়াশিংটন আবারও এই ঘাঁটির দিকে নজর দিয়েছে। বাগরাম শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়; বরং আফগানিস্তান তথা সমগ্র মধ্যএশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু। আমেরিকা কেন এটিকে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে, তার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।

আরও পড়ুন:

প্রথমত, চীন ও রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো। আফগানিস্তান বর্তমানে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর রাশিয়া মধ্য এশিয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব বিস্তার করছে। বাগরাম ঘাঁটি যদি আবার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যায়, তবে এটি সরাসরি চীনের পরিকাঠামোগত ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের উপর চাপ তৈরি করবে এবং রাশিয়ার মধ্য-এশিয়া কৌশলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অর্থাৎ, আমেরিকার জন্য বাগরাম হবে একটি প্রতিরোধ ঘাঁটি, যা চীন-রাশিয়ার সমন্বিত প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয়ত, ইরানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির সুযোগ। ভৌগোলিকভাবে বাগরাম ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার আঞ্চলিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে এই ঘাঁটি কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষত সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে তার সম্পৃক্ততার কারণে। বাগরাম থেকে ইরান পর্যবেক্ষণ করা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগের সামরিক সুবিধাও যুক্তরাষ্ট্র হাতে পাবে।
তৃতীয়ত, সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে এখনও সক্রিয় রয়েছে আল-কায়েদা, আইএস খোরাসান ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক। ওয়াশিংটনের কাছে বাগরাম একটি পরীক্ষিত ঘাঁটি, যেখান থেকে অতীতে কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য গোয়েন্দা, ড্রোন হামলা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও বাগরামকে কথিত সন্ত্রাস মোকাবিলার লজিস্টিক হাব হিসেবে দেখতে চাইছে।
চতুর্থত, মধ্য এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে বাগরামের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আফগানিস্তান ভৌগোলিকভাবে এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশে প্রবেশ কৌশলগতভাবে সহজ। এগুলো রাশিয়ার ঐতিহ্যগত প্রভাবাধীন হলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে তার উপস্থিতি বাড়াতে চায়। বাগরাম ঘাঁটি আবার সক্রিয় হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্য এশিয়ার জ্বালানি সম্পদ, বাণিজ্য পথ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাগরাম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কেবল সামরিক বা সন্ত্রাসবিরোধী নয়, বরং এটি একটি সর্বাত্মক ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। চীন ও রাশিয়ার প্রতিরোধ, ইরানকে পর্যবেক্ষণ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার — সবকিছু মিলিয়ে বাগরামকে ওয়াশিংটন একটি ‘কৌশলগত মাস্টার কার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন:

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের দাবি এবং হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, বাগরাম ঘাঁটি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের অংশ এবং এটি ফেরত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
সম্প্রতি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা বাগরাম ফিরে পেতে চাই। কারণ, এটি চীনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে। চীন আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, এমন উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দেওয়া এ অঞ্চলের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত। আফগানিস্তানের ভবিষ্যত আফগান জনগণের হাতেই থাকা উচিত এবং এই অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।
চীন আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আগ্রহী এবং আফগান জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। চীনের মতে, বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের জন্য মার্কিন পদক্ষেপ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা চীনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
এছাড়া, চীন আফগানিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। গত মাসে চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই কাবুল সফরে গিয়ে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। চীন আফগানিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।
বাগরাম বিমানঘাঁটির ইতিহাস শুধু একটি সামরিক ঘাঁটির ইতিহাস নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক প্রতিচ্ছবি। সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা, তালেবান প্রত্যেকেই এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণকে তাদের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছে। আজ যখন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বাগরামে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তখন বিষয়টি শুধু আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে নয়, বরং চীন, রাশিয়া, ইরান এবং সমগ্র মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য ও সমীকরণকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই। বাগরাম তাই আজও ‘গ্রেট গেম’-এর অংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য লড়াই করছে।

(লেখক: ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder