BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

পশ্চিমারা কি মুখ রক্ষা করতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮

নতুন পয়গাম, বিশেষ প্রতিবেদন:

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হিসেবে রবিবার ইউরোপের ৪ দেশ এই স্বীকৃতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্স-সহ আরো কয়েবকটি দেশ স্বীকৃতি দেবে। ইসরাইল এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা করে বলেছে, এই স্বীকৃতি হাস্যকর। এটি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেন, ফিলিস্তিন নামে কোনো রাষ্ট্র হবে না। আমরা কখনোই এটা হতে দেব না। কারণ, ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হলে, তা হবে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ।
ইসরাইলি আগ্রাসনে চরম দুর্দশায় জীবন কাটছে ফিলিস্তিনিদের। এই স্বীকৃতি কি তাঁদের দুর্দশা লাঘব করবে বা অবসান ঘটাবে? আদৌ কোনো বাস্তবসম্মত পরিবর্তন কি আসবে? বিশ্লেষকেরা আশাবাদী হলেও সংশয়ে রয়েছেন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ দেশ ইসরাইল কারো তোয়াক্কা করে না। ইউনিসেফ থেকে আন্তর্জাতিক আদালত কেউ ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, আমেরিকা সেই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বা বয়কট করে। এদিকে ইসরাইল সরকার হুমকি দিয়েছে, তারা পুরো গাজা অঞ্চল দখল করে নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেবে। ট্রাম্পও সম্প্রতি একই কথা বলেছিলেন। পানামা, গ্রীনল্যান্ডের পাশাপাশি গাজা উপত্যকাকেও গায়ের জোরে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন।
মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫১টা দেশ এটা করেছে। এর খুব বেশি প্রভাব বা গুরুত্ব না থাকলেও, নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মহলে একটা পরোক্ষ চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ওইসব দেশগুলো শুধুমাত্র মৌখিক বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়ে বরং পাশাপাশি ইসরাইলকে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের মতো কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হবে না। সুতরাং বলাবাহুল্য, পশ্চিমারা কেবলমাত্র মুখ রক্ষার খাতিরে মাঝে মাঝে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত লোকদেখানো স্বীকৃতি। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নিজ নিজ দেশবাসীর চাপের মুখে এই পদক্ষেপ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবুও এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ফিলিস্তিন সরকার ওইসব দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে এবং রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করতে পারবে। এরই মধ্যে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, তারা হুসাম জোমলটকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি আরও কিছু স্বীকৃতি যোগ হয়েছে। কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাতেগোনা কিছু ইউরোপীয় ও বাল্টিক দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান-সহ কয়েকটি দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
অবশ্য বেশিরভাগ দেশের স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হতে পারেনি ফিলিস্তিন। মার্কিন সহায়তা ছাড়া এসব স্বীকৃতির বলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রসংঘের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না। নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যও হতে পারবে না। ফিলিস্তিন বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য নয়, তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মাত্র। পূর্ণ সদস্য হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হবে। কিন্তু সবকিছু হলেও শেষমেষ আমেরিকা ভেটো দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। মার্কিন ভেটোর কারণে বারে বারে প্রস্তাব পাস হলেও কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে চাপ জোরালো হচ্ছে। গতিশীল হচ্ছে ইসরাইলকে বর্জন বা বয়কটের প্রচারও। ফলে ইউরোভিশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো থেকে ইসরাইলকে বাদ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং দেশটির কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালত কয়েকমাস আসে পরোয়ানা জারি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নামে। তাদের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলেও কিছু পশ্চিমা দেশ মূলত গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক দলগুলোর সঙ্গে জড়িত ইসরাইলি লবি বা গোষ্ঠীগুলোর চাপ, অন্যদিকে জাতিগত গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জনগণের ক্রমবর্ধমান দাবি, দেশের ভেতরে এমন নানামুখী চাপের কারণেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে কয়েকটি দেশ। ইউরোপের উদার-বামপন্থী সরকারগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই স্বীকৃতি। আসলে কিছুই বদলায়নি। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে খুশি রাখতে এটি হল কম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁরা আসলে নিজেদের মুখ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল কার্যকর পদক্ষেপ না করলে তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবেন। শেষমেষ‌ ২১ সেপ্টেম্বর তিনি স্বীকৃতি দিলেন। এই পথেই হাঁটল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পরদিন পর্তুগাল।
এদিকে শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। এটি হলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটিরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। তথ্য বলছে, রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিলিস্তিন। এখন প্রশ্ন হলো, এ স্বীকৃতির অর্থ কী বা এটি কি বাস্তবে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য কোনো পরিবর্তন আসবে?
ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব আছে বাস্তবের মাটিতে। কিন্তু বিশ্বের দরবারে খাতায় কলমে কিছু নেই। বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনের সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী কিছুই নেই। অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় ফিলিস্তিন। রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক সদস্য দেশ।
১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণায় এই প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, ইহুদি বাদে এই ভূখণ্ডে অন্য সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাঁদের মৌলিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু করা হবে না। যদিও ইসরাইল বলে, বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এমন জটিলতার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধান আজো হয়নি। ৭৭ বছর আগে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও ফিলিস্তিনকে আদো স্বাধীন রাষ্ট্র করা হয়নি। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগে পশ্চিম তীর ও গাজার যে সীমানা ছিল, তা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। যার রাজধানী হওয়ার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল ব্রিটেনের। কারণ, তখন ফিলিস্তিন ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। তাই ব্রিটেনের এই স্বীকৃতির অবশ্যই তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এবার যদি ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও মজবুত হবে। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেওয়া দেশ।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder