উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১৫ মে: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হল। মোট পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ। এবারও মেয়েরা পাশের হারে এগিয়ে রয়েছে। জেলার ভিত্তিতে সর্বাধিক পাশের হার পূর্ব মেদিনীপুরে। ফলপ্রকাশের পর গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্য উদযাপন। এবারের পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬ (মোট ৫০০-এর মধ্যে)। অসাধারণ এই ফলাফলের মাধ্যমে সে রাজ্যের সেরা স্থান অর্জন করেছে। আদৃতের এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় স্থান যৌথভাবে অর্জন করেছে তিনজন: জিষ্ণু কুণ্ডু, রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়া, ঋতব্রত নাথ এবং ঐতিহ্য পাঁচাল; এরা উভয়েই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের পড়ুয়া। তাঁদের প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৫। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পাঁচজন, যাঁদের নম্বর ৪৯৪। এই তালিকায় রয়েছে দেবপ্রিয় মাঝি, তণ্ময় মণ্ডল, সৌম্য রায়, শুভায়ন মণ্ডল এবং প্রীতম বল্লভ। মেধা তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে মোট ৬৪ জন স্থান করে নিয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫৬ জন ছাত্র এবং ৮ জন ছাত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে সর্বাধিক ১৯ জন এই তালিকায় রয়েছে। পুরুলিয়া থেকে রয়েছে ১৭ জন। এ ছাড়াও হুগলি, কলকাতা, বীরভূম, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, দার্জিলিং-সহ একাধিক জেলার ছাত্র-ছাত্রীরা মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছে হুগলির শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী মেঘা মজুমদার। সে মোট ৪৯২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। মেঘার এই কৃতিত্ব রাজ্যের অসংখ্য ছাত্রীকে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।

নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন এবং পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ আবারও তাদের ধারাবাহিক সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। প্রথম দশের বহু স্থান এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা দখল করেছে। শিক্ষা মহলের মতে, নিয়মিত অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই দীর্ঘ পরিশ্রমের সুফল হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। কেউ ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চান, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ গবেষক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এই ফল তাঁদের স্বপ্নপূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাজ্য শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং স্কুলের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের নম্বর দেখতে ও মার্কশিট সংগ্রহ করতে পারবে। যারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তাদের জন্যও এই ফল শেষ কথা নয়। কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে আগামী দিনে নতুন সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকের ফল আবারও প্রমাণ করল, পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিকূলতার মধ্যেও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। আদৃত পাল, মেঘা মজুমদার এবং অন্যান্য কৃতীদের এই অর্জন আগামী প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।








