আর্থিক সংকটে রাষ্ট্রসংঘ বকেয়া চেয়ে সব দেশকে চিঠি
নতুন পয়গাম: সদস্য দেশগুলোর বকেয়া বার্ষিক চাঁদা ও বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে মারাত্মক আর্থিক ধসের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রসংঘ। এই সপ্তাহের শুরুতে সদস্য দেশগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্টোনিও গুটেরেস এই গুরুতর সংকটের কথা তুলে ধরেছেন।
চিঠিতে তিনি সদস্য দেশগুলোকে রাষ্ট্রসংঘের আর্থিক নিয়ম সংস্কারে সম্মত হতে অথবা সময়মতো ও পূর্ণাঙ্গভাবে চাঁদা পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। না হলে সংস্থার কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতর নিউ ইয়র্কে সাংবাদিক সম্মেলনে গুটেরেসের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি এখনই বিবেচনা করতে হবে। আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ চলছে। প্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
যদিও গুটেরেস কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থায়ন কমানোর কারণে এ সংকট আরো তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প সরকার রাষ্ট্রসংঘ সহ ৬৬টি সংস্থা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রসংঘের তথ্য মতে, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও অন্যান্য সূচকের ভিত্তিতে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত হয়। মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় আমেরিকা, আর ২০ শতাংশ দেয় চীন। তবে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রেকর্ড ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার চাঁদা বকেয়া ছিল।
চলতি মাসের শুরুতে রাষ্ট্রসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। তবু গুটেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এমন পরিস্থিতি চললে জুলাইয়ের মধ্যেই সংস্থার নগদ অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা পুরোপুরি পরিশোধ করেছে।








