BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

বঙ্গভঙ্গের ১২০ বছর: কারণ ও প্রতিবাদীদের ভূমিকা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫

ড. ফিরোজ উদ্দিন

আরও পড়ুন:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক ঘোষিত বঙ্গভঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনায় এক নতুন জাগরণের সূচনা করেছিল। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের Devided & Rule বা ‘বিভাজন করে শাসন’ নীতির প্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীকালে তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

ঊনিশ শতকের শেষভাগে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। তৎকালীন বাংলার অধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের একাংশ। জনসংখ্যা প্রায় আট কোটি, যা প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক অজুহাতের আড়ালে ছিল রাজনৈতিক কৌশল – বাংলার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করা।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলা বিভক্তির ঘোষণা দেন। বিভাজন অনুযায়ী, পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে এক নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী হয় ঢাকা। অপর অংশ পশ্চিমবঙ্গ থাকে কলকাতা কেন্দ্রিক। নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গে মুসলমানের সংখ্যা ছিল অধিক, আর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে এবং তাদের স্বার্থে সুকৌশলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছিল।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের মূল কারণসমূহ:

আরও পড়ুন:

Divide and Rule নীতি: ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল, বঙ্গদেশের শিক্ষিত হিন্দু ও মুসলমান সমাজ ক্রমেই জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। একত্রে থাকলে তারা ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে ঐক্য ভাঙা ছিল ব্রিটিশদের কৌশলগত পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা: কলকাতা তখন ভারতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং সংবাদপত্রগুলো ব্রিটিশ-বিরোধী জনমত গঠন করছিল। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক চেতনা ও প্রভাবকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:

মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়: ব্রিটিশরা মুসলমান সমাজকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, পূর্ববঙ্গ ও আসাম গঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকাকে রাজধানী করে তারা মুসলমান নেতৃত্বকে খুশি করতে চেয়েছিল, যাতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের গরিষ্ঠ অংশই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অর্থনৈতিক স্বার্থ:
কলকাতাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক শক্তিকে দুর্বল করে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের সম্পদে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রশাসনিক অজুহাত:
ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল, এত বড় প্রদেশ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল একটি মিথ্যা ও প্রহসনমূলক কারণ। মূল লক্ষ্য ছিল জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা:
বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পরপরই সমগ্র বাংলায় প্রবল প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয়। ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কৃষক – সব শ্রেণির মানুষ একযোগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:

আন্দোলনের প্রধান রূপগুলো ছিল:

আরও পড়ুন:

স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশের আহ্বান জানানো হয়।
বয়কট আন্দোলন: ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়।
জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন: বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক আন্দোলন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ আন্দোলনে গান, কবিতা ও সাহিত্য দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কারিগর ও নেতৃত্ব:

আরও পড়ুন:

লর্ড কার্জন: বঙ্গভঙ্গের মূল কারিগর ছিলেন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন। তিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং তার ‘বিভাজন নীতি’র মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ শুরু করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গান ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়।

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস’ স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সংগঠক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অরবিন্দ ঘোষ:
তিনি বিপ্লবী চিন্তাধারার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর লেখা ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে উগ্র জাতীয়তাবাদের সুর বয়ে আনে।

আবুল কাসেম ও মুসলিম নেতারা:
কতিপয় মুসলমান নেতা প্রথমদিকে বিভাজনকে সমর্থন করলেও বৃহত্তর মুসলিম নেতৃত্ব বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিলেন। তারা বুঝতে পারেন, ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল বিভেদ সৃষ্টি করা। ফলে মুসলমান সমাজ সর্বতোভাবে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল: বৃহৎ আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার করতে। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের ঘোষণায় বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কলকাতার পরিবর্তে দিল্লিকে দেশের নতুন রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রধান ফলাফল:

আরও পড়ুন:

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্বদেশি শিল্পের উত্থান: দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা গভীর হয়। প্রথমদিকে কিছু সংখ্যক মুসলিম নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ থাকলেও পরবর্তীতে উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালায়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নবজাগরণের সূচনা। ব্রিটিশদের বিভাজন নীতি সাময়িকভাবে সফল হলেও, সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজ বুঝতে পারে, ধর্মের চেয়ে জাতীয় ঐক্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কার্জনের কূটনীতির জবাব হিসেবে জন্ম নেয় এক দৃঢ়, দেশপ্রেমিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালি জাতি। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের এই ইতিহাস আমাদের শেখায় “ঐক্যই জাতির শক্তি, আর বিভেদ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে’।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder