BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

বঙ্গভঙ্গের ১২০ বছর: কারণ ও প্রতিবাদীদের ভূমিকা

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৫, বিকাল ৫:৪৫

ড. ফিরোজ উদ্দিন

আরও পড়ুন:

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন কর্তৃক ঘোষিত বঙ্গভঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনায় এক নতুন জাগরণের সূচনা করেছিল। বঙ্গভঙ্গ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের Devided & Rule বা ‘বিভাজন করে শাসন’ নীতির প্রকাশ। এই সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীকালে তা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

ঊনিশ শতকের শেষভাগে বাংলা ছিল ব্রিটিশ ভারতের সবচেয়ে বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। তৎকালীন বাংলার অধীন ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ, বিহার, উড়িষ্যা ও আসামের একাংশ। জনসংখ্যা প্রায় আট কোটি, যা প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা করা ব্রিটিশদের কাছে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনিক অজুহাতের আড়ালে ছিল রাজনৈতিক কৌশল – বাংলার হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করা।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা: ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন বাংলা বিভক্তির ঘোষণা দেন। বিভাজন অনুযায়ী, পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে এক নতুন প্রদেশ গঠিত হয়, যার রাজধানী হয় ঢাকা। অপর অংশ পশ্চিমবঙ্গ থাকে কলকাতা কেন্দ্রিক। নতুন প্রদেশ পূর্ববঙ্গে মুসলমানের সংখ্যা ছিল অধিক, আর পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুরা ছিল সংখ্যাগুরু। ফলে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, ব্রিটিশরা ধর্মের ভিত্তিতে এবং তাদের স্বার্থে সুকৌশলে বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করেছিল।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গের মূল কারণসমূহ:

আরও পড়ুন:

Divide and Rule নীতি: ব্রিটিশরা বুঝতে পেরেছিল, বঙ্গদেশের শিক্ষিত হিন্দু ও মুসলমান সমাজ ক্রমেই জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। একত্রে থাকলে তারা ব্রিটিশ বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে ঐক্য ভাঙা ছিল ব্রিটিশদের কৌশলগত পরিকল্পনা।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস করা: কলকাতা তখন ভারতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং সংবাদপত্রগুলো ব্রিটিশ-বিরোধী জনমত গঠন করছিল। বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক চেতনা ও প্রভাবকে ভেঙে দিতে চেয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।

আরও পড়ুন:

মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়: ব্রিটিশরা মুসলমান সমাজকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, পূর্ববঙ্গ ও আসাম গঠনের মাধ্যমে মুসলমানদের উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। ঢাকাকে রাজধানী করে তারা মুসলমান নেতৃত্বকে খুশি করতে চেয়েছিল, যাতে হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতা করা যায়। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ মুসলিম সম্প্রদায়ের গরিষ্ঠ অংশই বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অর্থনৈতিক স্বার্থ:
কলকাতাকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক শক্তিকে দুর্বল করে নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র তৈরি করার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের সম্পদে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করা ছিল অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রশাসনিক অজুহাত:
ব্রিটিশ সরকার দাবি করেছিল, এত বড় প্রদেশ কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল একটি মিথ্যা ও প্রহসনমূলক কারণ। মূল লক্ষ্য ছিল জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করা।

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সূচনা:
বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পরপরই সমগ্র বাংলায় প্রবল প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নেয়। ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছাত্রছাত্রী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, কৃষক – সব শ্রেণির মানুষ একযোগে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়।

আরও পড়ুন:

আন্দোলনের প্রধান রূপগুলো ছিল:

আরও পড়ুন:

স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশের আহ্বান জানানো হয়।
বয়কট আন্দোলন: ব্রিটিশ পণ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অনুষ্ঠান বর্জন করা হয়।
জাতীয় শিক্ষা আন্দোলন: বিদেশি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক আন্দোলন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ আন্দোলনে গান, কবিতা ও সাহিত্য দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের কারিগর ও নেতৃত্ব:

আরও পড়ুন:

লর্ড কার্জন: বঙ্গভঙ্গের মূল কারিগর ছিলেন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড কার্জন। তিনি ১৮৯৯ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত ভারতের ভাইসরয় ছিলেন এবং তার ‘বিভাজন নীতি’র মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চেষ্টা করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ‘রাখি বন্ধন উৎসব’ শুরু করেন এবং তাঁর বিখ্যাত গান ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেন, যা পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হয়।

সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস’ স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সংগঠক কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

অরবিন্দ ঘোষ:
তিনি বিপ্লবী চিন্তাধারার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁর লেখা ‘বন্দেমাতরম’ পত্রিকা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে উগ্র জাতীয়তাবাদের সুর বয়ে আনে।

আবুল কাসেম ও মুসলিম নেতারা:
কতিপয় মুসলমান নেতা প্রথমদিকে বিভাজনকে সমর্থন করলেও বৃহত্তর মুসলিম নেতৃত্ব বঙ্গভঙ্গের বিরোধী ছিলেন। তারা বুঝতে পারেন, ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ছিল বিভেদ সৃষ্টি করা। ফলে মুসলমান সমাজ সর্বতোভাবে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন।
বঙ্গভঙ্গের ফলাফল: বৃহৎ আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় বঙ্গভঙ্গ প্রত্যাহার করতে। ১৯১১ সালে রাজা পঞ্চম জর্জের ঘোষণায় বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কলকাতার পরিবর্তে দিল্লিকে দেশের নতুন রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:

বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রধান ফলাফল:

আরও পড়ুন:

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। স্বদেশি শিল্পের উত্থান: দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্যের বিকাশ ঘটে। সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা গভীর হয়। প্রথমদিকে কিছু সংখ্যক মুসলিম নেতৃত্বের মধ্যে বিভেদ থাকলেও পরবর্তীতে উভয় সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন চালায়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল না, এটি ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের নবজাগরণের সূচনা। ব্রিটিশদের বিভাজন নীতি সাময়িকভাবে সফল হলেও, সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি সমাজ বুঝতে পারে, ধর্মের চেয়ে জাতীয় ঐক্যই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। লর্ড কার্জনের কূটনীতির জবাব হিসেবে জন্ম নেয় এক দৃঢ়, দেশপ্রেমিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাঙালি জাতি। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের এই ইতিহাস আমাদের শেখায় “ঐক্যই জাতির শক্তি, আর বিভেদ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে’।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder