BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

সেই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯ | আপডেট: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯
পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ -- এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।

পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ — এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।
গ্রামের মাঠে-ময়দানে তখন শুধু খেলার উত্তেজনা ছিল না; ছিল নিবিড় সম্পর্ক, ছিল এক ধরনের সমবেত শক্তি, ছিল সামাজিক সংযোগের অদৃশ্য সুতো। কিন্তু এখন সেসব যেন স্মৃতির পাতায় লেপটে গেছে। গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায় শিশুরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু খেলছে না। সবার হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, কানে এয়ারফোন, নিষ্পলক দুটো চোখ আটকে গেছে স্ক্রিনে। মাঠ ফাঁকা, গাছের ছায়া নিঃসঙ্গ, আর খেলা যেন সময়ের পেছনে হারিয়ে গেছে।
গ্রামীণ খেলাধুলা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এটি শুধু একটি বাক্য নয়; বরং সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। সমাজের পরিবর্তন, প্রযুক্তির আগ্রাসন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি আর আধুনিক বিনোদনের বিস্তার — সব মিলেই যেন নীরব চাপে মুছে দিচ্ছে এসব খেলা। অথচ এগুলো শুধু বিনোদন ছিল না; বরং ছিল সংস্কৃতি, ছিল স্বাস্থ্যচর্চা, ছিল অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, ছিল পরিচয়ের অংশ। গ্রামীণ খেলাধুলা ধীরে ধীরে পেছনে সরে গেলে তা শুধু ঐতিহ্যের ক্ষতি নয়; প্রজন্মেরও ক্ষতি।
একদিন গ্রামের শিশুরা বিকালে মাটি ছুঁয়ে, মাথার ঘাম ঝরিয়ে খেলত। গোল্লাছুটে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সেই উত্তেজনা, কিংবা হাডুডুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের সেই বুদ্ধিমত্তা ছিল শরীরের সঙ্গে মস্তিষ্কেরও খেলা। গ্রামের খেলা দলবদ্ধভাবে শেখাত কাজ করতে, শেখাত নেতৃত্ব, শেখাত সাহস, শেখাত হার-জিতের মধ্য দিয়ে সহমর্মিতা। এখনকার শিশুদের অনেকেই হয়ত জিততে পারে, কিন্তু হারতে শেখে না। সবাই চায় প্রথম হতে। অভিধানে যেন দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি ক্রমবাচক সংখ্যা নেই। তারা খেলা শেখার সময়টা মোবাইল ব্যয় করছে, যেখানে রিস্টার্ট বাটন আছে, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।
ডিজিটাল যুগে বিনোদন বদলে গেছে। এখন শিশুরা বিকালে গিয়ে বন্ধু ডাকার বদলে মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন পায়, মাঠে ছুটে যাওয়ার বদলে অনলাইনে ‘জয়েন গেম’ ক্লিক করে। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল থেকে ফিরে অনেক শিশুই গেম খেলে; ক্রিকেট বা ফুটবল মাঠে নয়; বরং ফোনের পর্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের কাছে হাডুডুর শব্দ অর্থহীন, গোল্লাছুট অচেনা, দাড়িয়াবান্ধা বা কানামাছি যেন গল্পের বিষয়। আর এসব খেলা থেকে তৈরি হওয়া যে সামাজিক বন্ধন, মিলন ও সম্পর্ক, তা-ও যেন ক্রমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে মাঠ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। একসময় গ্রামের মাঝখানে ছিল বিশাল সব খোলা মাঠ। ধান কাটার মরশুমে বা চৈত্রের শেষ দিকে যখন গ্রাম একটু অবসর পেত, তখন সেই মাঠেই হত খেলা ও সামাজিক উৎসব। কিন্তু এখন কৃষিজমি দামি হয়ে গেছে, অনেক গ্রামে মাঠ বা পতিত জমি হাউজিং বা কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। জমির মূল্য যত বেড়েছে, মাঠ তত কমেছে। মাঠ কমে গেলে খেলা কমে, খেলা কমে গেলে মিলনমেলা বন্ধ হয়, মিলনমেলা বন্ধ হলে সামাজিক সম্পর্কও কমে যায়। এ এক অদ্ভুত চক্র, যা নীরবে চলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রভাব রেখে যাচ্ছে গভীরভাবে।
গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল পড়াশোনা ও কেরিয়ার গড়ার চাপ। এখন অভিভাবকরা চান শিশুরা যেন ভাল রেজাল্ট করে, কোচিংয়ে যায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হয়, কম্পিউটার শেখে। তাদের কাছে খেলা মানে অহেতুক সময় নষ্ট করা। আগে গ্রামের পরিবারগুলো লেখাপড়া এবং খেলার মধ্যে ভারসাম্য রাখত। স্কুল শেষে খেলতে যেত শিশুরা, তবু পড়াশোনায় পিছিয়ে যেত না। এখন যেন সময়ের গণনা বদলে গেছে, খেলা বাদ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাদ দিয়ে পড়াশোনা; সামাজিক বিনোদন বাদ দিয়ে ডিজিটাল বিনোদন।
অথচ গ্রামীণ খেলাধুলার পাঠ সমাজে অনেক বড় ভূমিকা রাখত। গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়া মানে স্মৃতিও হারানো। অনেকের শৈশবজুড়ে আছে বৃষ্টি শেষে মাঠে কাদা মাখা দৌড়, রোদে পুড়ে গোল্লাছুট খেলা, ঈদের সকালে দড়ি টানাটানির হাসি, নৌকা বাইচের চিৎকার কিংবা বিজয়ী দলকে লাউ বা কলা পুরস্কার দেওয়া। এসব স্মৃতি শুধু মজার নয়; মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও পরিচয়েরও অংশ। এখনকার শিশুরা সেই স্মৃতি পাবে কি? হয়ত তাদের স্মৃতি হবে ভার্চুয়াল, আর সেখানেই ক্ষতি, বাস্তব সম্পর্ক ভার্চুয়াল সম্পর্কের মতো সহজে গড়ে ওঠে না।
গ্রামীণ খেলাধুলা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনটি দিক জরুরি — মাঠ, সময় ও মানসিকতা। মাঠ ছাড়া খেলা হয় না। সময় ছাড়া অংশগ্রহণ হয় না। আর মানসিকতা ছাড়া উৎসাহ হয় না। অভিভাবকদেরও একটু ভাবতে হবে, শিশুর স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইলে এই খেলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, যুবকেন্দ্র, ক্লাব, সংস্কৃতি মন্ত্রক কিংবা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা থাকা উচিত। হয়ত একদিন গ্রামের শিশুরা আবার খেলতে শিখবে মাঠে, ভার্চুয়াল জগতে নয়। হয়ত আবার শিশুরা দৌড়াতে দৌড়াতে হারতে অভ্যস্ত হবে, পরাজয় মেনে নেবে, সম্পর্ক গড়তে শিখবে। সমাজে আবার ফিরবে সেই হারিয়ে যাওয়া মিলনমেলার শব্দ। সেইদিন সমাজ আবার সুষম হবে, সুসংহত হবে, স্বাস্থ্যকর হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder