BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

জীবন হোক আনন্দময়

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ১১:১৭ | আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ১১:১৭
জীবনে যদি আনন্দ না থাকে, তাহলে সে জীবন বৃথা। আনন্দবিহীন মানুষ হল জীবন্ত লাশ। ৬০ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিদের সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ বলা হয়। একজন প্রবীণ মানুষ পরিবারে ছাতার মতো। তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান পরিবার পরিচালনায় অনেক সাহায্য করে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান বিশ্বে ৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

জীবনে যদি আনন্দ না থাকে, তাহলে সে জীবন বৃথা। আনন্দবিহীন মানুষ হল জীবন্ত লাশ। ৬০ বছরের বেশি বয়সি ব্যক্তিদের সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ বলা হয়। একজন প্রবীণ মানুষ পরিবারে ছাতার মতো। তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান পরিবার পরিচালনায় অনেক সাহায্য করে। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমান বিশ্বে ৬৫ ঊর্ধ্ব মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আর নতুন প্রজন্ম কমছে, কারণ জন্মহার হ্রাস পাচ্ছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ১৪ শতাংশ এবং মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ৪-৭ শতাংশ মানুষ প্রবীণ। বর্তমান যুগে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়ছে বয়স্ক নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা।
২০৫০ সালে প্রবীণ মানুষের গড় হার ২০ শতাংশ হতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু তখন প্রবীণদের জীবনযাত্রার চাপ আরো বাড়বে। কারণ, কমবেশি সব দেশেরই অর্থনীতি ক্রমহ্রাসমান। এর সবথেকে বড় কারণ হল, দুর্নীতি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক পরিসেবা খাতগুলো ধুঁকছে। এমতাবস্থায় বয়স্ক মানুষদেরকে অনেকে বোঝা মনে করছে। বৃদ্ধ পিতা-মাতাদের প্রতি সন্তানদের আকর্ষণ, শ্রদ্ধা, ভালবাসা কমছে। তবে এক্ষেত্রে আদালতের কিছু রায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিচ্ছে। প্রবীণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিতে সন্তানদের বাধ্য করা হচ্ছে। কেউ এই দায়িত্ব পালন না করলে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার কথা বলছে আদালত।
কিন্তু এভাবে আইন, আদালত বা প্রশাসন দিয়ে বিষয়টা সামাল দেওয়া সম্ভবপর নয়। এটা হল নৈতিক শিক্ষার বিষয়। গলদটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়। এখনকার প্রথাগত বা পুঁথিগত শিক্ষা ব্যবস্থা কেরিয়ার ওরিয়েন্টেড। এই শিক্ষা মানুষকে যন্ত্রে পরিণত করছে। মায়া, মমতা, দয়া, স্নেহ, ভালবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা, মানবিকতা, নৈতিকতা ইত্যাদি হু হু করে কমছে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা না দেওয়া হলে পরিবার, সমাজ, দেশ কাঙ্খিত মানে কখনোই পৌঁছতে পারবে না। তাই দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার হার যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি কনসেপ্ট, বৃদ্ধাশ্রম, লিভ টুগেদার, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, পরকীয়া, সমকামিতা, বহুগামিতার মতো অভিশপ্ত সামাজিক ব্যাধিগুলো।

আরও পড়ুন:

বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা দিয়ে খুব বেশি কাজ হয় না। মাত্র ১-২ হাজার টাকায় এই মাগ্গিগন্ডার বাজারে কী আর হবে। আবার বয়স্ক মানুষদের যাতনা-বেদনার খবর অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক সংকীর্ণতার কারণে অপ্রকাশিত থেকে যায়। বয়স ৬০-৬৫ বছর হলে গড়পড়তা মানুষ কর্মক্ষমতা হারান। এই বয়সে তারা নানা রকম রোগে আক্রান্ত হন। তারা তো এতকাল সংসারের বোঝা টেনেছেন, ছেলেপুলে মানুষ করেছেন, তাদেরকে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম এসব ভুলে যাচ্ছে। বাবা-মায়েদের প্রতি এখনকার ছেলেদের সম্মান, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি কমে যাচ্ছে। অথচ তারা একবারও ভাবছে না যে, বাবা-মা না থাকলে তারা কোথা থেকে জন্ম নিত? কে তাদেরকে খাইয়ে-পরিয়ে, যত্ন-আদর করে মানুষ করত, কে তাদেরকে পড়াশোনা করাত? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দু-দিকটাই ভাবতে হবে।
প্রথমত কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানকে সুশিক্ষা দিতে পারেননি বা বিষয়টাকে সেভাবে গুরুত্ব দেননি। খাইয়েছেন, পরিয়েছেন, পড়িয়েছেন — জাগতিক প্রয়োজনীয় সবকিছুই অতি যত্ন সহকারে করেছেন। কিন্তু সন্তানকে প্রকৃত অর্থে বা সত্যিকার অর্থে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অবকাশ পাননি অথবা বিষয়টার প্রয়োজন অনুভব করেননি। আজ তারই পরিণামে মাশুল দিতে হচ্ছে ওইসব অভিভাবককে। আবার অন্যদিকে, সন্তানের দোষও অনেক। তারা তাদের জন্মদাতা বাবা-মায়েদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা, সম্মানবোধ রাখছে না। তারা কেবল শিক্ষিত হয়ে চাকরি বা জব করে স্ত্রী, পুত্র নিয়ে খোশ মেজাজেই আছে। বাবা-মায়ের প্রতি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য কী, তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, ইত্যাদি বিষয়ে একেবারেই উদাসীন।
সব ধর্মেই বাবা-মা, গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান প্রদর্শনের কথা বলা আছে, জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব কথা তাদের মনে রেখাপাত করেনি। কারণ, ধর্মকে আমরা আচার-অনুষ্ঠানসর্বস্ব করে রেখেছি। ধর্মীয় শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনের চর্চার মধ্যে রাখিনি। হিন্দুরা মন্দিরে যান, বিভিন্ন পুজো করেন। মুসলিমরা মসজিদে যান, নামায, রোযা করেন। কিন্তু ধর্মকে আমরা এই পরিসরেই গণ্ডিবন্ধ করে রেখেছি। ধর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে পারিনি। সুবিধাবাদীরা বলে, ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেলানো যাবে না, এটা কাম্য নয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? রাজনীতিবিদরা ধর্ম-বিমুখ থাকবেন, আর ধার্মিকরা রাজনীতি-বিমুখ থাকবেন, কেবল মুখ গুঁজে ধর্মচর্চা করে যাবেন। রাজনীতিকরা যত খুশি অনাচার, অবিচার, ব্যভিচার, অত্যাচার, কদাচার, পাপাচার করেই যাবে, আর ধর্মপ্রাণ মানুষরা কোনদিকে তাকাবে না, কেবলই ধর্মের নেশায় বুঁদ হয়ে ধ্যান, তপস্যা, আরাধনা, উপাসনা, ইবাদাত ইত্যাদি করেই যাবেন — এ কেমন ধর্ম?
ইবাদাত মানে কেবল নামায, রোযাই নয়। ইবাদাত মানে হল জীবনের সবক্ষেত্রে আল্লাহর আদেশ, নিষেধ মেনে চলা এবং সর্বোপরি সবক্ষেত্রে ইসলামের দিকনির্দেশনা মেনে চলা। জীবনবিধান আল কুরআনে নামায, রোযা ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক ইবাদাত নিয়ে বড়জোর শতাধিক বা কয়েকশো আয়াত আছে। কিন্তু বাকি ৬ হাজারেরও বেশি আয়াতে কী আছে, সেসব আমরা জানার চেষ্টা করি না। সব ধর্মেই ব্যবহারিক জীবন, পারিবারিক জীবনের জন্য মানবীয় নীতীমালা লিপিবদ্ধ বা বিধিবদ্ধ আছে। আমরা সেসবের ধার ধারি না। তাই আমাদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে ধর্মের বিধি-বিধানের তেমন কোন সম্পর্কই নেই।
ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করলে বয়স্ক মানুষদেরকে আমরা পরিবারের অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করতাম। তাদেরকে বোঝা ভাবতাম না। বোঝা ভাবছি, কারণ, আমরা তাদের গুরুত্ব, মর্যাদা, প্রয়োজনীয়তা এবং সর্বোপরি জন্মদাতা হিসেবে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই। ইসলামের নীতি হল, বাবা-মায়েদের সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণ করলে তারাই আমাদের জন্য জান্নাতের সিঁড়ি হতে পারেন, অন্যথায় তারাই আমাদের জন্য জাহন্নামের কারণ হবেন। তাই এ ব্যাপারে আমাদেরকে খুব সাবধান, সতর্ক হতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder