প্রথম বছরের তাঁতবস্ত্র মেলায় ২৩ লক্ষ টাকার বিক্রি, শিল্পীরা উচ্ছ্বসিত
নতুন পয়গাম, পুরুলিয়াঃ
পুজোর আবহে এবছরই প্রথমবার পুরুলিয়ায় সরকারি তাঁতবস্ত্র মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের এই মেলায় প্রায় ২৩ লক্ষ টাকার তাঁতের পোশাক বিক্রি হয়েছে। প্রথমবারের এই সাফল্যে তাঁতশিল্পী এবং বিভিন্ন সোসাইটির সদস্যরা উচ্ছ্বসিত, সঙ্গে আনন্দিত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।
পুরুলিয়া জেলা হস্ত তাঁত উন্নয়ন আধিকারিক গৌতমকুমার বসাক জানিয়েছেন, প্রথম বছরের হিসেবে মেলার ব্যবসা ভালোই হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে প্রচার সীমিত থাকলেও প্রতিদিনই মেলায় উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে মেলার সাড়া আরও বেশি হবে।
মেলা চলেছিল ১৪ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর, পুরুলিয়া শহরের এমএসএ ময়দানে। মোট ২২টি স্টলে তাঁতশিল্পী ও বিভিন্ন সোসাইটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। মেলায় বর্ধমানের জামদানি শাড়ি, নদীয়ার টাঙ্গাইল, পুরুলিয়ার সিল্ক, বাকুড়ার গামছা ও বিছানার চাদর, বীরভূমের কাঁথা স্টিচসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হয়েছিল। স্থানীয়রা পুজোর কেনাকাটার অংশ হিসেবে মেলায় ভিড় জমিয়েছিলেন।
প্রথম বছরের হিসেবে মোট বিক্রি হয়েছে ২২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, যা শিল্পীদের জন্য যথেষ্ট উৎসাহব্যঞ্জক। মেলায় অংশ নেওয়া শিল্পীরা মনে করছেন, যদি আগামীতে মেলা পুজোর অন্তত এক মাস আগে শুরু করা হয়, তাহলে বিক্রিও আরও বৃদ্ধি পাবে।
নদীয়ার ঘোলাপাড়া তন্তুবায় সমবায় সমিতির উত্তম হালদার জানান, ১০ দিনের মেলায় প্রায় ৪৫টি শাড়ি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রথম বছরের হিসেবে বিক্রি ভালোই হয়েছে। আগামীতেও অংশগ্রহণের ইচ্ছে রয়েছে। মেলা পুজোর এক মাস আগে হলে আরও ভালো বিক্রি হবে।”
বীরভূম থেকে অংশ নেওয়া শাহিন শেখ জানান, মেলায় তসরের শাড়ি, কাঁথা স্টিচ ও বিভিন্ন পোশাকের সম্ভার নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “মেলার শুরু থেকেই ভালো সাড়া পড়েছিল। প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিক্রি হয়েছে। আগামী বছরও মেলায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”
মেলার প্রথম সাফল্য তাঁতশিল্পীদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি পুরুলিয়ার হস্তশিল্প ও তাঁতসামগ্রীর জনপ্রিয়তাকে আরও দৃঢ় করেছে। জেলা প্রশাসনও ভবিষ্যতে মেলার আয়োজনে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যাতে স্থানীয় শিল্পীরা আরও বেশি লোকের কাছে তাদের কাজ তুলে ধরতে পারে।








