BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

ইএমআই-এর করাল গ্রাস

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১

আবীর হাসান মণ্ডল

আরও পড়ুন:

একবিংশ শতকে মানুষ এমন এক দৌড়ে শামিল হয়েছে, যেখানে থামার অবকাশ নেই। বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টেলিভিশন কিংবা মোবাইল স্ক্রিন – সবখানেই একটাই স্লোগান শোনা যায় ‘এখনই কিনুন, পরে শোধ করুন’। সহজলভ্য ইএমআই (Equated Monthly Installment) ও সুদের ফাঁদে পড়ে মানুষ ভাবছে, তারা যেন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছে। মোবাইল, গাড়ি, ফ্রিজ, এমনকি শখের জিনিসও মাসে মাসিক কিস্তিতে কেনা যাচ্ছে, এটাই আধুনিক জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, ইএমআই ও সুদ আসলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করছে, সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। ধরুন একজন মধ্যবিত্ত কর্মচারী একটি নতুন স্মার্টফোন কিনতে চান। নগদে কিনতে গেলে লাগবে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ইএমআই-এর সুবিধা নিয়ে মাসে মাত্র ২,৫০০ টাকা কিস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে ব্যাপারটা সহজ মনে হলেও, বাস্তবে যখন পুরো টাকা গোনা হয়, তখন দেখা যায় তাকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা গেল শুধুই সুদের কারণে। এভাবে একটি ছোট মোবাইল ফোনের জন্যই ক্রেতা ২০ শতাংশ বেশি মূল্য দিলেন। কিন্তু তিনি যখন মোবাইলের মালিকানা পাবেন, তখন সেই মোবাইলের মূল্য বাজারে থাকবে হয়ত ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ শুধু নিজের সখ মেটানোর জন্য তার ক্ষতি হল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বড় জিনিস যেমন- গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় লাখ থেকে কোটি টাকায়। মানুষ ভাবে, সে মালিক হয়েছে, অথচ প্রকৃত মালিকানা থাকে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির হাতে। যতদিন না সব কিস্তি শোধ হচ্ছে, ততদিন জিনিসটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।

আরও পড়ুন:

দিনের পর দিন এই প্রবণতা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, তা সরকারি তথ্যই প্রমাণ করে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এনএসও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের প্রায় ৪৮ শতাংশ শহুরে পরিবার কোন না কোন ঋণের বোঝা বইছে। রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতীয় পরিবারের গড় ঋণ-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ একজন মানুষ যে টাকা আয় করছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চলে যাচ্ছে ঋণ শোধে। এর মধ্যে ইএমআই ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (এনএসএসও)-এর অন্য এক সমীক্ষা বলছে, গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণের মধ্যে ডুবে আছে, আর শহরে এই হার ৪৭ শতাংশ। সুদ ও ইএমআই ব্যবস্থা সমাজে ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ধনী মানুষ যখন ঋণ নেয়, তখন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে, কম সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা, কর ছাড়। অন্যদিকে গরীব মানুষকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, একটু দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়। এতে ধনী মানুষ আরও সুযোগ সুবিধা পায়, আর গরীব মানুষ আরও ফেঁসে যায়। ২০১৯ সালে রিজার্ভ ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষেরা গড়ে ২২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য হার নেমে আসে ১০-১২ শতাংশে। ধরুন একটা মানুষের আয় ১০ হাজার টাকা। সংসারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তার ব্যয় হতে হবে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সুদ কিংবা ইএমআই ব্যবস্থা তাকে বাড়তি চাকচিক্য আর সহজলভ্যতার লোভ দেখিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করাতে বাধ্য করছে। সব সময় মাথায় ঋণের বোঝা চেপে থাকায় উদ্ভাবনী শক্তি কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় Debt trap বা ঋণের ফাঁদ। একবার কেউ এই ফাঁদে পড়লে বের হওয়া খুব কঠিন।
ইএমআই শোধ করতে করতে তাদের হাতে সঞ্চয় বা নতুন করে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে না, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা বা শিক্ষার খরচ মেটাতেও তারা হিমশিম খায়। মানসিক চাপ বাড়ে, দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়, সন্তানদের শিক্ষা ও বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে ঋণের চাপে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর গড়ে ৮ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেন, যার অন্যতম কারণ হল ঋণ ও সুদের বোঝা। এই ঋণভিত্তিক ভোগবাদ বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। মানুষ নগদের সীমার বাইরে গিয়ে জিনিস কিনছে, উৎপাদকরা সেই অনুযায়ী বাড়াচ্ছে উৎপাদন, ব্যাংক দিচ্ছে আরও বেশি ঋণ। এতে অর্থনীতির ভিত মজবুত না হয়ে বরং দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা ভারতেও তৈরি হতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ সংস্কৃতি অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ ছিল ঋণ ও সুদের ভারে সাধারণ মানুষের পিষ্ট হয়ে যাওয়া। মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চ সুদকে পাপ ঘোষণা করেছিল। ইসলামী সভ্যতায় দীর্ঘ সময় ধরে সুদ-মুক্ত অর্থনীতি চালু ছিল এবং সেটি তখনকার সমাজে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা এনেছিল।
মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, সুদ মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রমকে ধ্বংস করে দেয়। এটি অন্যায়ের এক প্রকার বৈধ রূপ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিঠিতে ঋণের দাসত্ব নিয়ে লিখেছিলেন, ঋণ মানুষকে বেঁধে রাখে, সে তার স্বাধীনতা হরণ করে। আম্বেদকরও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল অসমতা, আর ঋণ, আর সুদের বোঝা এই অসমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আজ যখন আমরা চারপাশে তাকাই, দেখি ঋণ ও ইএমআই-এর সংস্কৃতি যেন এক মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্ম চাকরি পাওয়ার আগেই ক্রেডিট কার্ডের বিলের নিচে চাপা পড়ছে। নতুন ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার কিস্তির টাকা শোধ করতে করতে সারাজীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি কেনার আনন্দ শুরু হয়, কিন্তু শোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই গাড়ির প্রকৃত মালিকানা থাকে না। বাজারে নতুন জিনিস এলে পুরনো জিনিসের দাম কমে যায়, আর তখন বোঝা যায় সুদের চক্রে কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে। অতএব, স্পষ্ট যে, ইএমআই ও সুদী ব্যবস্থা আসলে আধুনিক দাসত্বের অদৃশ্য শৃঙ্খল। মানুষ ভাবে সে স্বাধীন, অথচ বাস্তবে সে মাসে মাসে এক অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। ইতিহাস, সরকারি পরিসংখ্যান সবই একসাথে প্রমাণ করছে, সুদনির্ভর অর্থনীতি ব্যক্তি ও সমাজ দু’য়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন সময় এসেছে ঋণনির্ভর ভোগবাদ থেকে সরে এসে পরিশ্রম, সঞ্চয় ও সৎ আয়ের উপর ভিত্তি করে জীবনকে সাজানোর। ভারতীয় সমাজ যদি সত্যিই টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, তবে সুদ-মুক্ত বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমবায়ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা হতে পারে এর একটি টেকসই বিকল্প। ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder