BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ইএমআই-এর করাল গ্রাস

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১

আবীর হাসান মণ্ডল

আরও পড়ুন:

একবিংশ শতকে মানুষ এমন এক দৌড়ে শামিল হয়েছে, যেখানে থামার অবকাশ নেই। বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টেলিভিশন কিংবা মোবাইল স্ক্রিন – সবখানেই একটাই স্লোগান শোনা যায় ‘এখনই কিনুন, পরে শোধ করুন’। সহজলভ্য ইএমআই (Equated Monthly Installment) ও সুদের ফাঁদে পড়ে মানুষ ভাবছে, তারা যেন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছে। মোবাইল, গাড়ি, ফ্রিজ, এমনকি শখের জিনিসও মাসে মাসিক কিস্তিতে কেনা যাচ্ছে, এটাই আধুনিক জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, ইএমআই ও সুদ আসলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করছে, সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। ধরুন একজন মধ্যবিত্ত কর্মচারী একটি নতুন স্মার্টফোন কিনতে চান। নগদে কিনতে গেলে লাগবে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ইএমআই-এর সুবিধা নিয়ে মাসে মাত্র ২,৫০০ টাকা কিস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে ব্যাপারটা সহজ মনে হলেও, বাস্তবে যখন পুরো টাকা গোনা হয়, তখন দেখা যায় তাকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা গেল শুধুই সুদের কারণে। এভাবে একটি ছোট মোবাইল ফোনের জন্যই ক্রেতা ২০ শতাংশ বেশি মূল্য দিলেন। কিন্তু তিনি যখন মোবাইলের মালিকানা পাবেন, তখন সেই মোবাইলের মূল্য বাজারে থাকবে হয়ত ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ শুধু নিজের সখ মেটানোর জন্য তার ক্ষতি হল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বড় জিনিস যেমন- গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় লাখ থেকে কোটি টাকায়। মানুষ ভাবে, সে মালিক হয়েছে, অথচ প্রকৃত মালিকানা থাকে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির হাতে। যতদিন না সব কিস্তি শোধ হচ্ছে, ততদিন জিনিসটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।

আরও পড়ুন:

দিনের পর দিন এই প্রবণতা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, তা সরকারি তথ্যই প্রমাণ করে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এনএসও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের প্রায় ৪৮ শতাংশ শহুরে পরিবার কোন না কোন ঋণের বোঝা বইছে। রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতীয় পরিবারের গড় ঋণ-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ একজন মানুষ যে টাকা আয় করছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চলে যাচ্ছে ঋণ শোধে। এর মধ্যে ইএমআই ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (এনএসএসও)-এর অন্য এক সমীক্ষা বলছে, গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণের মধ্যে ডুবে আছে, আর শহরে এই হার ৪৭ শতাংশ। সুদ ও ইএমআই ব্যবস্থা সমাজে ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ধনী মানুষ যখন ঋণ নেয়, তখন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে, কম সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা, কর ছাড়। অন্যদিকে গরীব মানুষকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, একটু দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়। এতে ধনী মানুষ আরও সুযোগ সুবিধা পায়, আর গরীব মানুষ আরও ফেঁসে যায়। ২০১৯ সালে রিজার্ভ ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষেরা গড়ে ২২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য হার নেমে আসে ১০-১২ শতাংশে। ধরুন একটা মানুষের আয় ১০ হাজার টাকা। সংসারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তার ব্যয় হতে হবে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সুদ কিংবা ইএমআই ব্যবস্থা তাকে বাড়তি চাকচিক্য আর সহজলভ্যতার লোভ দেখিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করাতে বাধ্য করছে। সব সময় মাথায় ঋণের বোঝা চেপে থাকায় উদ্ভাবনী শক্তি কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় Debt trap বা ঋণের ফাঁদ। একবার কেউ এই ফাঁদে পড়লে বের হওয়া খুব কঠিন।
ইএমআই শোধ করতে করতে তাদের হাতে সঞ্চয় বা নতুন করে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে না, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা বা শিক্ষার খরচ মেটাতেও তারা হিমশিম খায়। মানসিক চাপ বাড়ে, দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়, সন্তানদের শিক্ষা ও বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে ঋণের চাপে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর গড়ে ৮ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেন, যার অন্যতম কারণ হল ঋণ ও সুদের বোঝা। এই ঋণভিত্তিক ভোগবাদ বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। মানুষ নগদের সীমার বাইরে গিয়ে জিনিস কিনছে, উৎপাদকরা সেই অনুযায়ী বাড়াচ্ছে উৎপাদন, ব্যাংক দিচ্ছে আরও বেশি ঋণ। এতে অর্থনীতির ভিত মজবুত না হয়ে বরং দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা ভারতেও তৈরি হতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ সংস্কৃতি অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ ছিল ঋণ ও সুদের ভারে সাধারণ মানুষের পিষ্ট হয়ে যাওয়া। মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চ সুদকে পাপ ঘোষণা করেছিল। ইসলামী সভ্যতায় দীর্ঘ সময় ধরে সুদ-মুক্ত অর্থনীতি চালু ছিল এবং সেটি তখনকার সমাজে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা এনেছিল।
মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, সুদ মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রমকে ধ্বংস করে দেয়। এটি অন্যায়ের এক প্রকার বৈধ রূপ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিঠিতে ঋণের দাসত্ব নিয়ে লিখেছিলেন, ঋণ মানুষকে বেঁধে রাখে, সে তার স্বাধীনতা হরণ করে। আম্বেদকরও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল অসমতা, আর ঋণ, আর সুদের বোঝা এই অসমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আজ যখন আমরা চারপাশে তাকাই, দেখি ঋণ ও ইএমআই-এর সংস্কৃতি যেন এক মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্ম চাকরি পাওয়ার আগেই ক্রেডিট কার্ডের বিলের নিচে চাপা পড়ছে। নতুন ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার কিস্তির টাকা শোধ করতে করতে সারাজীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি কেনার আনন্দ শুরু হয়, কিন্তু শোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই গাড়ির প্রকৃত মালিকানা থাকে না। বাজারে নতুন জিনিস এলে পুরনো জিনিসের দাম কমে যায়, আর তখন বোঝা যায় সুদের চক্রে কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে। অতএব, স্পষ্ট যে, ইএমআই ও সুদী ব্যবস্থা আসলে আধুনিক দাসত্বের অদৃশ্য শৃঙ্খল। মানুষ ভাবে সে স্বাধীন, অথচ বাস্তবে সে মাসে মাসে এক অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। ইতিহাস, সরকারি পরিসংখ্যান সবই একসাথে প্রমাণ করছে, সুদনির্ভর অর্থনীতি ব্যক্তি ও সমাজ দু’য়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন সময় এসেছে ঋণনির্ভর ভোগবাদ থেকে সরে এসে পরিশ্রম, সঞ্চয় ও সৎ আয়ের উপর ভিত্তি করে জীবনকে সাজানোর। ভারতীয় সমাজ যদি সত্যিই টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, তবে সুদ-মুক্ত বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমবায়ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা হতে পারে এর একটি টেকসই বিকল্প। ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder