BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

ইএমআই-এর করাল গ্রাস

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সকাল ৮:৫১

আবীর হাসান মণ্ডল

আরও পড়ুন:

একবিংশ শতকে মানুষ এমন এক দৌড়ে শামিল হয়েছে, যেখানে থামার অবকাশ নেই। বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড, টেলিভিশন কিংবা মোবাইল স্ক্রিন – সবখানেই একটাই স্লোগান শোনা যায় ‘এখনই কিনুন, পরে শোধ করুন’। সহজলভ্য ইএমআই (Equated Monthly Installment) ও সুদের ফাঁদে পড়ে মানুষ ভাবছে, তারা যেন স্বপ্ন পূরণের পথে এগোচ্ছে। মোবাইল, গাড়ি, ফ্রিজ, এমনকি শখের জিনিসও মাসে মাসিক কিস্তিতে কেনা যাচ্ছে, এটাই আধুনিক জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই বাহ্যিক চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা, ইএমআই ও সুদ আসলে ধীরে ধীরে ব্যক্তিকে আর্থিকভাবে নিঃস্ব করছে, সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়াচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে তুলছে। ধরুন একজন মধ্যবিত্ত কর্মচারী একটি নতুন স্মার্টফোন কিনতে চান। নগদে কিনতে গেলে লাগবে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ইএমআই-এর সুবিধা নিয়ে মাসে মাত্র ২,৫০০ টাকা কিস্তিতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমে ব্যাপারটা সহজ মনে হলেও, বাস্তবে যখন পুরো টাকা গোনা হয়, তখন দেখা যায় তাকে ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।
অর্থাৎ অতিরিক্ত ৬ হাজার টাকা গেল শুধুই সুদের কারণে। এভাবে একটি ছোট মোবাইল ফোনের জন্যই ক্রেতা ২০ শতাংশ বেশি মূল্য দিলেন। কিন্তু তিনি যখন মোবাইলের মালিকানা পাবেন, তখন সেই মোবাইলের মূল্য বাজারে থাকবে হয়ত ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ শুধু নিজের সখ মেটানোর জন্য তার ক্ষতি হল প্রায় ১৬ হাজার টাকা। বড় জিনিস যেমন- গাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় লাখ থেকে কোটি টাকায়। মানুষ ভাবে, সে মালিক হয়েছে, অথচ প্রকৃত মালিকানা থাকে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির হাতে। যতদিন না সব কিস্তি শোধ হচ্ছে, ততদিন জিনিসটির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে।

আরও পড়ুন:

দিনের পর দিন এই প্রবণতা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, তা সরকারি তথ্যই প্রমাণ করে। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এনএসও-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারতের প্রায় ৪৮ শতাংশ শহুরে পরিবার কোন না কোন ঋণের বোঝা বইছে। রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভারতীয় পরিবারের গড় ঋণ-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ একজন মানুষ যে টাকা আয় করছে, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চলে যাচ্ছে ঋণ শোধে। এর মধ্যে ইএমআই ও ক্রেডিট কার্ডের সুদ সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে আছে। ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অর্গানাইজেশন (এনএসএসও)-এর অন্য এক সমীক্ষা বলছে, গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রায় ৪২ শতাংশ ঋণের মধ্যে ডুবে আছে, আর শহরে এই হার ৪৭ শতাংশ। সুদ ও ইএমআই ব্যবস্থা সমাজে ধনী-গরীব বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:

ধনী মানুষ যখন ঋণ নেয়, তখন তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকে, কম সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা, কর ছাড়। অন্যদিকে গরীব মানুষকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, একটু দেরি হলে জরিমানা দিতে হয়। এতে ধনী মানুষ আরও সুযোগ সুবিধা পায়, আর গরীব মানুষ আরও ফেঁসে যায়। ২০১৯ সালে রিজার্ভ ব্যাংকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের মানুষেরা গড়ে ২২ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, যেখানে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য হার নেমে আসে ১০-১২ শতাংশে। ধরুন একটা মানুষের আয় ১০ হাজার টাকা। সংসারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হলে তার ব্যয় হতে হবে সর্বাধিক ১০ হাজার টাকা। কিন্তু সুদ কিংবা ইএমআই ব্যবস্থা তাকে বাড়তি চাকচিক্য আর সহজলভ্যতার লোভ দেখিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করাতে বাধ্য করছে। সব সময় মাথায় ঋণের বোঝা চেপে থাকায় উদ্ভাবনী শক্তি কমে যাচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় Debt trap বা ঋণের ফাঁদ। একবার কেউ এই ফাঁদে পড়লে বের হওয়া খুব কঠিন।
ইএমআই শোধ করতে করতে তাদের হাতে সঞ্চয় বা নতুন করে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে না, জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা বা শিক্ষার খরচ মেটাতেও তারা হিমশিম খায়। মানসিক চাপ বাড়ে, দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়, সন্তানদের শিক্ষা ও বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে ঋণের চাপে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর গড়ে ৮ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেন, যার অন্যতম কারণ হল ঋণ ও সুদের বোঝা। এই ঋণভিত্তিক ভোগবাদ বাজারে এক ধরনের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে। মানুষ নগদের সীমার বাইরে গিয়ে জিনিস কিনছে, উৎপাদকরা সেই অনুযায়ী বাড়াচ্ছে উৎপাদন, ব্যাংক দিচ্ছে আরও বেশি ঋণ। এতে অর্থনীতির ভিত মজবুত না হয়ে বরং দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার মতো পরিস্থিতির আশঙ্কা ভারতেও তৈরি হতে পারে, যদি নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ সংস্কৃতি অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন:

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ ছিল ঋণ ও সুদের ভারে সাধারণ মানুষের পিষ্ট হয়ে যাওয়া। মধ্যযুগে ইউরোপে চার্চ সুদকে পাপ ঘোষণা করেছিল। ইসলামী সভ্যতায় দীর্ঘ সময় ধরে সুদ-মুক্ত অর্থনীতি চালু ছিল এবং সেটি তখনকার সমাজে ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা এনেছিল।
মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, সুদ মানুষের ঘাম ঝরানো শ্রমকে ধ্বংস করে দেয়। এটি অন্যায়ের এক প্রকার বৈধ রূপ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক চিঠিতে ঋণের দাসত্ব নিয়ে লিখেছিলেন, ঋণ মানুষকে বেঁধে রাখে, সে তার স্বাধীনতা হরণ করে। আম্বেদকরও ঋণগ্রস্ত কৃষকদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হল অসমতা, আর ঋণ, আর সুদের বোঝা এই অসমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আজ যখন আমরা চারপাশে তাকাই, দেখি ঋণ ও ইএমআই-এর সংস্কৃতি যেন এক মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তরুণ প্রজন্ম চাকরি পাওয়ার আগেই ক্রেডিট কার্ডের বিলের নিচে চাপা পড়ছে। নতুন ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে অনেক পরিবার কিস্তির টাকা শোধ করতে করতে সারাজীবন কাটিয়ে দিচ্ছে। গাড়ি কেনার আনন্দ শুরু হয়, কিন্তু শোধ না হওয়া পর্যন্ত সেই গাড়ির প্রকৃত মালিকানা থাকে না। বাজারে নতুন জিনিস এলে পুরনো জিনিসের দাম কমে যায়, আর তখন বোঝা যায় সুদের চক্রে কতটা ক্ষতি হয়ে গেছে। অতএব, স্পষ্ট যে, ইএমআই ও সুদী ব্যবস্থা আসলে আধুনিক দাসত্বের অদৃশ্য শৃঙ্খল। মানুষ ভাবে সে স্বাধীন, অথচ বাস্তবে সে মাসে মাসে এক অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যাচ্ছে। ইতিহাস, সরকারি পরিসংখ্যান সবই একসাথে প্রমাণ করছে, সুদনির্ভর অর্থনীতি ব্যক্তি ও সমাজ দু’য়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতিকর। এখন সময় এসেছে ঋণনির্ভর ভোগবাদ থেকে সরে এসে পরিশ্রম, সঞ্চয় ও সৎ আয়ের উপর ভিত্তি করে জীবনকে সাজানোর। ভারতীয় সমাজ যদি সত্যিই টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়সঙ্গত অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়, তবে সুদ-মুক্ত বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সমবায়ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা হতে পারে এর একটি টেকসই বিকল্প। ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder