BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

তিলপি থেকে তিলোত্তমাজয়ী সা’আদুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৫, সকাল ১০:৫৬ | আপডেট: ২৫ আগস্ট ২০২৫, সকাল ১০:৫৬

নতুন পয়গাম, ২৪ আগস্ট: বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ও সংস্কৃতি-ইতিহাসের ছাত্র ড. শেখ সা’আদুল ইসলামের জন্ম ১৯৫১ সালের ১২ জানুয়ারি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের তিলপি গ্রামে। পিতা মরহুম মুনশি কাওসার আলি শেখ, মাতা মরহুমা আকলিমা বিবির কনিষ্ঠ সন্তান তিনি। তাঁর পিতা ছিলেন মেরিগঞ্জ গম্বুজওয়ালি মসজিদের ইমাম, চারণকবির মতো গজল বানাতে পারতেন ও সুবক্তা ছিলেন। এলাকায় ওস্তাদজি বা মুনশিজি নামে পরিচিত ছিলেন।
সুন্দরবন সংলগ্ন এই প্রান্তিক অঞ্চলেই সা’আদুল ইসলামের বেড়ে ওঠা। পরে বঙ্কিম সরদার কলেজ, ফকিরচাঁদ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ‘মুনিরুদ্দিন পদক’, কর্মজীবনে ‘সুন্দরবন আম্বেদকর সোসাইটি’ প্রদত্ত ‘চিন্তানায়ক শক্তিকুমার সরকার স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০১৯ সালে তাঁর ‘নজরুল সাহিত্যে দেশকাল’ গ্রন্থের জন্য ‘নতুন গতি’র তরফে ‘নজরুল পুরস্কার’-এ ভূষিত। ‘বাংলার রেনেসাঁ সাহিত্যিক সম্মান’ এবং চাতক ফাউন্ডেশনের ‘অবিভক্ত বাংলা রত্নসম্মান’ লাভ করেছেন।
আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল কলেজ, মাওলানা আজাদ কলেজ, চন্দননগর গভর্নমেন্ট কলেজ, টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজ-এ বাংলা বিভাগে রিডার হিসেবে অধ্যাপনার পর সবশেষে হুগলী মহসিন কলেজে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অবসর নেন। এককথায় ইসলামী সুফি ও উদার ভারতীয়তাবোধের ভাবনায় বেড়ে ওঠা এই প্রবীণ অধ্যাপক আজীবন সম্প্রীতি ও সংস্কৃতি-সমন্বয়ের পক্ষেই কলম চালিয়েছেন। প্রান্তিক সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাস এবং রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতার সূত্রে ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ তিনি।
‘বাংলার হিন্দু-মুসলমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মিশ্রণ’ তাঁর অন্যতম গবেষণাগ্রন্থ। ইতিহাস অনুসন্ধানে দ্বিতীয় শতাব্দীর গ্রিক নাবিক টলেমি-চিহ্নিত তিলোগ্রাম্মাম বন্দরের সন্ধানে প্রত্নবস্তু ও ক্ষেত্রসমীক্ষার আলোয় লেখা ‘তিলপি থেকে তিলোগ্রাম্মাম ছাড়িয়ে একটি গরিমার সন্ধানে’ এবং ‘তর্কে তক্কে — আনন্দ মঠ, দ্য স্যাটানিক ভার্সেস, বাবরনামা বাবরি – না বাবরি’ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। শেষটিতে ইতিহাসের বৃত্তে সাহিত্যের তর্ক এবং তথাকথিত বাবরি-র লোদী আমলের মসজিদ হিসেবে আসল পরিচয় উদঘাটন। এই বইতে আরও দুটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ – ‘বঙ্কিমচন্দ্র, আনন্দ মঠ ও উত্তরকালে প্রতিক্রিয়া’ এবং ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস ও বাক-স্বাধীনতার স্বৈরিণী-বৃত্তি’ অনুপুঙ্খ আলোচনায় সত্য উদঘাটনের পরিচয় বিধৃত। এছাড়া, ‘শতবর্ষে বিদ্রোহী: একটি কবিতার অক্ষয় পরমায়ু‘ এবং ‘জাতির বিবেক অন্নদাশঙ্কর’। ইসলাম বিষয়ে লেখা –’ইসলাম ও আধুনিক বিশ্ব’। দু’টি গল্পগ্রন্থ — ‘নিলয় না জানি’ ও গ্রামকে দিয়ে শহর ঘেরার অ্যালবাম – ‘গ্রাস গান অশ্রু’। চারটি কবিতার বই — ‘আবহে সন্তাপ তবু, তরণী ভাসাই’, অজ্ঞাবাদীর সঙ্গে দ্বৈরথে’, ‘সে আসবে বলে‘ এবং ‘ঋতুবদলের কালোয়াতি’।’
১৯৭০ থেকে দৈনিক পয়গাম, কাফেলা (অধুনা লুপ্ত), নতুন গতি, উদার আকাশ, দুনিয়া বাংলা, হক কথা, সহজিয়া, বাংলার রেনেসাঁ, ভাণ, দশদিশি, উত্তরবঙ্গ থেকে দু’টি পত্রিকা – নীরজকোরক ও প্রবাহ তিস্তা-তোর্ষা, আল আযকার (আসাম) প্রভৃতি বিভিন্ন সাময়িকপত্রে তাঁর কবিতা ও প্রবন্ধ বেরিয়ে থাকে। আবদুল জলিল তরফদার সম্পাদিত ‘দৈনিক পয়গাম’ সংবাদপত্রে ‘সবুজসাথী’ পাতায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা — ‘মজা নদী: জীবন দুর্ভর!’
তখন ডায়মন্ড হারবারে মসজিদ-মেসে থাকি। পাশের বিল্ডিংয়ে ফিজিক্সের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট কাজী হাসান সাহেব থাকতেন সপরিবারে। ডায়মন্ড হারবার হাই স্কুলের আরবি শিক্ষক মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ সাহেব জুম্মার নামায পড়াতেন। কলেজ থেকে ফিরে মাগরিব ও এশায় হাসান সাহেব স্নেহের সুরে আমাকে পড়াতে বলতেন।
আমি তো পাজামা-পাঞ্জাবি পরা ছেলে; ওদিকে কলেজে বাংলা বিভাগের প্রধান ড. শিবপ্রসাদ হালদার ও অধ্যাপক গোপাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের প্রিয় ছাত্র আমি আর সন্ধ্যাদি। সন্ধ্যা ঘোষ উস্তি থেকে আসতেন। ওর স্কুলের এক শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মাইতির সঙ্গে সন্ধ্যা দি-র বিয়ে হয়। বাড়ির লোক মানে না। ওরা সংসার পাতে শিরাকলের জসিমউদ্দিন সাহেবের পুত্র আশরাফ সাহেবের বাড়িতে। সেখানে আমার যাতায়াত হয় এবং আমি ওর ‘বিনিসুতোর ভাই’ হয়ে যাই। এখনও তাই, ভাই ও সন্ধ্যাদি।
কলেজের পরীক্ষায় কখনও সন্ধ্যাদি, কখনো আমি পালা করে ফাস্ট সেকেন্ড হতাম। সব সময় হয়ত পালায় মিলত না। ইউনিভার্সিটি পরীক্ষায় কলেজে আমি ফার্স্ট হলাম অনার্সের রেজাল্ট-এর (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে) ভিত্তিতে, আমি পেলাম মুনিরুদ্দিন পদক। এর মাঝখানে সবেমাত্র অনার্স পার্ট-টু পরীক্ষা দিয়েই আমানুল্লাহ ভাইয়ের ডাকে লালপুর সন্তোষনগর হাই মাদ্রাসায় যোগ দিলাম। আমানুল্লাহ ভাই আমার মসজিদ-মেসের বন্ধু। ও ছিল জুনিয়র হাই-এর স্টাফ। আপগ্রেডেশনের জন্য, হাই হওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক দেখাতে মিনিমাম অনার্স গ্রাজুয়েট অথবা এম.এ লাগবে। ওখানে টিচিং স্টাফে কেউ তা ছিলেন না। তাই আমাকে দেখিয়ে ওঁরা হাই স্যাংকশন করাবেন। ১৯৭২-৭৪, প্রায় তিন বছরে হাই ইন্সপেকশন আর হয় না; মোল্লা ও গাজীদের কোন্দলে ব্যাপারটা অনেক দূর গড়ায়।
ইতিমধ্যে ১৯৭৫ সালে কুলদিয়া হাই মাদ্রাসার শিক্ষক রূপে আমি যোগদান করি। ওরা খুঁজছিলেন ডেপুটেশন ভ্যাকান্সির শিক্ষক। আমি ৭৪ সালে যোগ দিই, ৭৫ সালে কুলদিযা হাই মাদ্রাসা স্যাংকশন পায় এবং আমি শিক্ষক পদে পুনর্বহাল হই। কুলদিয়া মাদ্রাসা আমাকে বি.এড করতে পাঠায় ডায়মন্ড হারবার বি.এড কলেজে। ইত্যবসরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড. নির্মলেন্দু ভৌমিকের অধীনে পি.এইচ.ডি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল – ‘বাংলার হিন্দু-মুসলমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মিশ্রণ’ বিষয়ে। ৭৮ সালে বি.এড পাশ করে বেরিয়ে আসি। ইতিমধ্যে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞাপন দেখে বাংলায় লেকচারার পদের জন্য অ্যাপ্লাই করি, যথাসময়ে ইন্টারভিউ হয়। ১৯৭৯ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর কোচবিহার এ.বি.এন শীল কলেজে লেকচারার পদে যোগদান করি।
লালপুর মাদ্রাসায় ওরা কো-এডুকেশন গ্রান্ট থেকে ৫০ টাকা করে দিতেন। কুলদিয়া হাই মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রাপ্তির পর পেতাম ১২০ টাকা। এটা গ্র্যান্ট-ইনি-এড থেকে। যদিও মাস্টার্স পাসের বেতন ৫৪০ টাকা। কিন্তু স্কুল তার স্কুল-শেয়ার দিতে পারত না। নিয়ম ছিল অর্ধেক দেবে স্কুল, আর অর্ধেক দেবে সরকার। তাই মাসিক ১২০ টাকাই সই।
কোচবিহারে জয়েন করতে গেলাম। প্রিন্সিপাল ছিলেন অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন গুহ। পুজোর ঠিক আগে আগে ছাত্র ভর্তি নিয়ে কলেজে অনেক অভিভাবকের আনাগোনা। আমি তো শেরওয়ানি টুপি। চিত্তবাবু বললেন – বলুন, আপনার কী সমস্যা? ছাত্র ভর্তি? আমি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার হাতে দিতেই তিনি আচমকা ডেকে উঠলেন – ‘মনোরঞ্জন বাবু, ডেকে উঠেই উনি কলিং বেল টিপলেন। ‘এই দেখুন ইসলাম সাহেব এসে গেছেন।’ কেউ তো কলকাতা থেকে সহজে ওদিকে যায় না ডি-জোনে। হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো উত্তেজনার বশে হয়ত কলিং বেল টিপতে ভুলে গেছিলেন, অমায়িক চিত্তবাবু।
পাশের দরজা ঠেলে ধুতি-পাঞ্জাবি কুন্ডু মহাশয় প্রিন্সিপালের চেম্বারে ঢুকলেন। চিত্তবাবু বললেন, ‘ইসলাম সাহেব কোনও চিঠিপত্র দেননি! সশরীরে হাজির। উনি বাংলায় জয়েন করতে এসেছেন। এখনই জয়েন করান।’ মনোরঞ্জন বাবু আমাকে তাঁর টেবিলে নিয়ে গিয়ে বসালেন। কোথায় উঠেছেন, কোথায় খাচ্ছেন — ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করলেন। কয়েকটা মেসের খবরও দিলেন। জয়েনিং লেটারের নিচের দিকে একটা জায়গায় স্ট্যাম্প দিলেন এবং তার উপরেই আমাকে সই করতে বললেন। আমি সই করলাম এবং মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ভোজবাজির মতো ১৯০ টাকা মাস মাইনের স্কুলশিক্ষক থেকে কলেজের লেকচারার হয়ে গেলাম। স্কেল ৭০০–১৬০০।
১৯৮৪-তে মাওলানা আজাদ কলেজে এলাম। বাবা মারা গেলেন ১৯৮২-তে। পিতৃ বিয়োগের পর ন্যূনতম (ডি জোন ন্যূনতম তিন বছর) মেয়াদ শেষে সরকার মানবিকতার খাতিরে আমাকে কলকাতায় মঞ্জুর করলেন। ওদিকে পিএইচডি থিসিস জমা দেবার সময় নিয়মমাফিক আরও দু-বছর পেলাম। কিন্তু ৮৬-তে জমা দেবার পরেও হিন্দু-মুসলিম উভয় সংস্কৃতির বিশেষজ্ঞ না পাওয়ায় ডিগ্রি পেতে ৬ বছর কেটে গেল (১৯৯২)। রিডার পদ দু-তিন বছর পিছিয়ে গেল।
মাওলানা আজাদ কলেজ থেকে চন্দননগর কলেজ হয়ে টাকি কলেজে যোগ দিই। ১৯৯৩-২০০১! ২০০০ সালে টাকি সরকারি কলেজের ‘সুবর্ণজয়ন্তী স্মারকগ্রন্থ’ সম্পাদনা করি। রাজ্যপাল শ্যামলকুমার সেন ও প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের গৌরব বৃদ্ধি করেন। ওখানেই ‘বাবরনামা’ বিষয়ে আমার লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙা হলে কলকাতায় দাঙ্গা পরিস্থিতি দেখা দেয়। চন্দননগর কলেজের প্রিন্সিপ্যাল নিতাই চরণ মুখোপাধ্যায় অনুরোধ করলেন, আপনিই কলেজের একমাত্র মুসলিম শিক্ষক, আমি চাই ‘কলেজে সম্প্রীতি বিষয়ে সেমিনারে’ আপনি কিছু বলুন।
২০০২ সালে তিলপি কামালিয়া হাই মাদ্রাসার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘প্ল্যাটিনাম জুবিলি স্মারকগ্রন্থ’ সম্পাদনা কালে গ্রামের ঐতিহ্য ও রূপরেখা নির্মাণের চেষ্টা করি। ‘বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তিলপি ও তার ঐতিহ্যের রূপরেখা।’ তিলপি একটি প্রাচীন নদীপথ ও বাণিজ্যনগরী – নানা প্রত্নবস্তুর আলোয় এটিই ছিল প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য। পরে প্রত্ন বিভাগ থেকে ধোসা ও তিলপিতে উৎখনন হয়। (২০০৫-০৬) তখন লিখি ‘তিলপি থেকে তিলোগ্রাম্মাম ছাড়িয়ে একটি গরিমার সন্ধানে।’ বইটি পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder