রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ
মজিবুর রহমান: (লেখক প্রধান শিক্ষক কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া ভ্রমণ তাঁর জীবনের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তিনি দেশ বিদেশের অনেক জায়গায় গিয়েছেন, কিন্তু সেগুলো তাঁকে সোভিয়েত রাশিয়ার মতো আলোড়িত করেনি। তাঁর নিজের কথায়, “…রাশিয়ার স্মৃতি আজও আমার সমস্ত মন অধিকার করে আছে। তার প্রধান কারণ, অন্যান্য যে-সব দেশে ঘুরেছি, তারা সমগ্ৰভাবে মনকে নাড়া দেয় না।” রাশিয়ায় না এলে তাঁর ‘এ জন্মের তীর্থদর্শন অত্যন্ত অসমাপ্ত থাকত’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। ‘রাশিয়ার চিঠি’র মতো তাঁর আর কোনো ভ্রমণকাহিনি এত আলোচিত হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটেছে; কিন্তু ‘রাশিয়ার চিঠি’তে শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কবিগুরুর যেসব পর্যবেক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে তাদের প্রাসঙ্গিকতা আজও বহাল রয়েছে। ১৯১৭ সালে অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে রাশিয়ায় বলশেভিক সরকার গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা। ১৯২২ সালে গড়ে ওঠে সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯২৫ সালে স্থাপিত হয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা ভক্স। সংস্থাটির মূল কাজ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে অন্যান্য দেশের সাথে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করা। ভারতের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ হিসেবে ভক্সের পক্ষ থেকে ১৯২৬ সালে কবিগুরুকে সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তাঁর যাওয়া সম্ভব হয়নি। ১৯২৮ সালে আবার আমন্ত্রণ আসে। সেবারও যাওয়া হয়নি। অবশেষে ১৯৩০ সালে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত রাশিয়া ভ্রমণ সুসম্পন্ন হয়। তিনি ১১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর মস্কোয় অবস্থান করেন। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমিয় চক্রবর্তী, আরিয়াম উইলিয়ামস, হ্যারি টিম্বার্স ও মার্গট আইনস্টাইন।
রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ১৪টি শিরোনামহীন ও একটি ‘উপসংহার’ শীর্ষক পত্র এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত তিনটি প্রবন্ধের সংকলন ‘রাশিয়ার চিঠি’ শিরোনামে ২৫শে বৈশাখ ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়। কবি যাঁদের উদ্দেশ্যে পত্রগুলো লিখেছিলেন তাঁরা হলেন রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নির্মলকুমারী মহলানবীশ, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ, আশা অধিকারী, সুরেন্দ্রনাথ কর, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, নন্দলাল বসু, কালীমোহন ঘোষ ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। পরবর্তীকালে কবির রাশিয়া ভ্রমণ সংক্রান্ত আরও কিছু পত্র ও কথোপকথন ‘রাশিয়ার চিঠি’তে সংযুক্ত করা হয়। ‘রাশিয়ার চিঠি’তে সাধারণ মানুষের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অকৃত্রিম ভালবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। সোভিয়েত রাশিয়ার বৈষম্যহীন সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ‘নীচের তলায় কাজ করতে বাধ্য’ মানুষরা ‘শিক্ষা স্বাস্থ্য সুখ সুবিধা’ পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন। ‘চিরকালই মানুষের সভ্যতায় এক দল অখ্যাত লোক থাকে’, যারা ‘সভ্যতার পিলসুজ’, তাদেরকে ‘তলিয়ে রেখে, অমানুষ করে রেখে, তবেই সভ্যতা সমুচ্চ থাকবে — এ কথা অনিবার্য বলে মেনে নিতে’ তাঁর মনে ধিক্কার আসত। রাশিয়ায় গিয়ে তাঁর চোখে ভাল লেগেছিল ‘ধনগরিমার ইতরতার সম্পূর্ণ তিরোভাব’। তিনি সেখানে এটা দেখে যেমন বিস্মিত, তেমনই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, “জনসাধারণের আত্মমর্যাদা এক মুহূর্তে অবারিত হয়েছে। চাষাভুষো সকলেই আজ অসম্মানের বোঝা ঝেড়ে ফেলে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছে।…মানুষে মানুষে ব্যবহার কী আশ্চর্য সহজ হয়ে গেছে।” রাশিয়ার ‘এনরমাস ডিফিকালটিজ’ অতিক্রমণের চেহারা স্বচক্ষে দেখে উচ্ছ্বসিত হন তিনি। রাশিয়ার মানুষদের অবস্থার সঙ্গে ভারতীয়দের অবস্থার তুলনা করে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, “না পেলুম শিক্ষা, না পেলুম স্বাস্থ্য, না পেলুম সম্পদ।”

‘রাশিয়ার চিঠি’তে বারংবার শিক্ষার প্রসঙ্গ এসেছে। শিক্ষার আলোক বিস্তারে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। রাশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থায় ‘অক্লান্ত উদ্যম, সাহস, বুদ্ধিশক্তি ও আত্মোৎসর্গ’ দেখে তিনি অভিভূত হন। মাত্র আট বছরের মধ্যে শিক্ষার জোরে দেশের সমস্ত লোকের মনের চেহারা বদলে যেতে দেখে তিনি বিস্মিত হন। অন্য সকল বিষয়ের থেকে শিক্ষার গুরুত্ব সর্বাধিক বলে তিনি মনে করতেন, “আমাদের সকল সমস্যার সবচেয়ে বড়ো রাস্তা হচ্ছে শিক্ষা।… শিক্ষার পরিমাণ শুধু সংখ্যায় নয়, তার সম্পূর্ণতায়, তার প্রবলতায়।” তিনি একটি পত্রে লেখেন, “আমার মত এই যে, ভারতবর্ষের বুকের উপর যত-কিছু দুঃখ আজ অভ্রভেদী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার একটিমাত্র ভিত্তি হচ্ছে অশিক্ষা। জাতিভেদ, ধর্মবিরোধ, কর্মজড়তা, আর্থিক দৌর্বল্য — সমস্তই আঁকড়ে আছে এই শিক্ষার অভাবকে।” তিনি মনে করতেন শিক্ষার শক্তি অসীম, “অশক্তকে শক্তি দেবার একটিমাত্র উপায় শিক্ষা — অন্ন স্বাস্থ্য শান্তি সমস্তই এরই ‘পরে নির্ভর করে।” তবে তিনি ‘বই মুখস্থ করার’ শিক্ষার পরিবর্তে ‘চিন্তা করার সাহস, কর্ম করার দক্ষতা’ তৈরির শিক্ষাকে পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন, “শিক্ষাকে জীবনযাত্রার সঙ্গে মিলিয়ে চালানো উচিত। তার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিলে ওটা ভাণ্ডারের সামগ্ৰী হয়, পাকযন্ত্রের খাদ্য হয় না।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘রাশিয়ার চিঠি’তে ‘আমাদের দেশ-জোড়া চাষীদের দুঃখের কথা’ উল্লেখ করেছেন। চাষীকে আত্মশক্তিতে দৃঢ় করে তুলতে হবে, এই ছিল তাঁর অভিপ্রায়। একজন জমিদার হয়েও তিনি মনে করতেন, “জমির স্বত্ব ন্যায়ত জমিদারের নয়, সে চাষীর।” তিনি একটি পত্রে লেখেন, “আমাদের জমিদারি যেন আমাদের প্রজাদেরই হয় — আমরা যেন ট্রাস্টির মতো থাকি।” তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল যে, “সমবায়নীতি অনুসারে চাষের ক্ষেত্র একত্র করে চাষ না করতে পারলে কৃষির উন্নতি হতেই পারে না। মান্ধাতা আমলের হাল লাঙল নিয়ে আল-বাঁধা টুকরো জমিতে ফসল ফলানো আর ফুটো কলসীতে জল আনা একই কথা।” রুশ চাষীদের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
‘রাশিয়ার চিঠি’তে ধর্মতন্ত্র নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। সোভিয়েট-বিপ্লবীরা ধর্মতন্ত্র ও জারতন্ত্র দুটোকেই ‘নির্মূল’ করে দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, “…যে ধর্ম মূঢ়তাকে বাহন ক’রে মানুষের চিত্তের স্বাধীনতা নষ্ট করে, কোনো রাজাও তার চেয়ে আমাদের বড়ো শত্রু হতে পারে না — সে রাজা বাইরে থেকে প্রজাদের স্বাধীনতাকে যতই নিগড়বদ্ধ করুক না। এ পর্যন্ত দেখা গেছে, যে রাজা প্রজাকে দাস ক’রে রাখতে চেয়েছে, সে রাজার সর্বপ্রধান সহায় সেই ধর্ম, যা মানুষকে অন্ধ ক’রে রাখে। সে ধর্ম বিষকন্যার মতো; আলিঙ্গন ক’রে সে মুগ্ধ করে, মুগ্ধ ক’রে সে মারে।” কবিগুরুর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপলব্ধি ছিল, “ধর্মমোহের চেয়ে নাস্তিকতা অনেক ভালো।” ললিতকলার প্রতি বলশেভিক নেতৃত্বের মনোভাবের প্রশংসা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রাশিয়ায় বিপ্লব তথা ‘উচ্ছৃঙ্খল উৎপাতের সময়’ আর্ট-সামগ্ৰীকে নষ্ট হতে দেওয়া হয়নি। যা-কিছু রক্ষাযোগ্য জিনিস সমস্ত উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘরে সংগ্ৰহ করা হয়েছে। মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য ললিতকলার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে কবিগুরু বলেন, ”শুধু পেটের ভাত পশুর পক্ষে যথেষ্ট, মানুষের পক্ষে নয়”। রুশ সরকার সর্বসাধারণের জন্য দেশভ্রমণের ব্যবস্থা করায় কবিগুরু সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বলশেভিক সরকার মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সীমা ঠিকমত ধরতে পারেনি বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনে হয়েছিল। রাশিয়ার নতুন শাসনব্যবস্থায় সমষ্টির খাতিরে ব্যষ্টির প্রতি পীড়ন করা হয়। কবিগুরু বলেছিলেন, “ব্যষ্টিবর্জিত সমষ্টির অবাস্তবতা কখনোই মানুষ চিরদিন সইবে না।” তবে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে পীড়ন করলেও শিক্ষার দ্বারা ব্যক্তির আত্মনিহিত শক্তিকে বাড়তে দেওয়া হয়েছিল। এখানেই পরিত্রাণের রাস্তা রয়েছে বলে তিনি মনে করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “মনকে এক দিকে স্বাধীন করে অন্য দিকে জুলুমের বশ করা সহজ নয়। ভয়ের প্রভাব কিছুদিন কাজ করবে, কিন্তু সেই ভীরুতাকে ধিক্কার দিয়ে শিক্ষিত মন একদিন আপন চিন্তা-স্বাতন্ত্র্যের অধিকার জোরের সঙ্গে দাবি করবেই।…যারা যথার্থই দৌরাত্ম্য করতে চায় তারা মানুষের মনকে মারে আগে…।” কবিগুরুর এই পর্যবেক্ষণ পরবর্তীকালে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘রাশিয়ার চিঠি’তে ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে অন্যান্য বিদেশি শাসনের পার্থক্যের প্রতি আলোকপাত করেছেন। তাঁর মতে, মুসলমান, গ্ৰীক, রোমক প্রমুখ শাসকদের শাসন বিস্তারের ভিতরকার মানসটি ছিল ‘রাজমহিমালাভ’। তাঁরা ‘প্রতাপ প্রসারিত’ করার মধ্য দিয়ে ‘বীরের সম্মান’ অর্জন করে ‘কীর্তি’ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্রনীতির প্রেরণাশক্তি ‘বীর্যাভিমান’ নয়, সে হচ্ছে ‘ধনের লোভ’। ব্রিটিশরা ভারতে এসেছিল বাণিজ্য করতে। মুনাফার অঙ্ক বৃদ্ধিই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই কাজে তারা নানা কুটিল পন্থা অবলম্বন করতে কুণ্ঠিত হয়নি। তারা বাণিজ্যের পথ সুগম করার জন্যে তাদের কারবারের গদিটার উপরে রাজতক্ত চড়িয়ে বসে। ভারতবর্ষ ইংরেজদের ‘লোভের সামগ্ৰী’-তে পরিণত হয়। তাদের অন্তবিহীন লোভের কারণে ভিতরে ভিতরে ভারত ফতুর হয়ে যায়। ধনলোভের নির্মমতা বোঝাতে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “যে মুরগি সোনার ডিম পাড়ে লোভ যে কেবল তার ডিমগুলোকেই ঝুড়িতে তোলে তা নয়, মুরগিটাকে সুদ্ধ জবাই করে।”
ডিক্টেটরশিপ বা রাষ্ট্র-ব্যাপারে নায়কতন্ত্র নিয়ে ‘রাশিয়ার চিঠি’তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “কোনো বিষয়েই নায়কিয়ানা আমি নিজে পছন্দ করিনে।…এই নায়কতা শাস্ত্রের মধ্যেই থাক, গুরুর মধ্যেই থাক, আর রাষ্ট্রনেতার মধ্যেই থাক, মনুষ্যত্বহানির পক্ষে এমন উপদ্রব কিছুই নেই।” তিনি রাশিয়ায় ডিক্টেটরশিপের নঞর্থক দিক হিসেবে জবরদস্তি এবং সদর্থক দিক হিসেবে শিক্ষাকে চিহ্নিত করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেয়েছিলেন পল্লির উন্নয়ন। রাশিয়ায় গ্ৰামের সঙ্গে শহরের বৈপরীত্য ঘুচিয়ে দেবার চেষ্টা দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন। আমাদের দেশের গ্ৰামগুলিও শহরের উচ্ছিষ্ট ও উদ্বৃত্ত-ভোজী না হয়ে মনুষ্যত্বের পূর্ণ সম্মান ও সম্পদ ভোগ করুক, তিনি এই কামনা করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সমবায় প্রণালীর দ্বারা গ্ৰাম আপন সর্বাঙ্গীণ শক্তিকে নিমজ্জনদশা থেকে উদ্ধার করতে পারবে। রবীন্দ্রনাথের এই ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক।
রাশিয়ার অভিজ্ঞতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনবোধকে প্রভাবিত করে। সত্তর বছর বয়সী কবি বলেন, “আমার পৃথিবীর মেয়াদ সংকীর্ণ হয়ে এসেছে; অতএব আমাকে সত্য হবার চেষ্টা করতে হবে, প্রিয় হবার নয়।” একটি চিঠিতে তিনি লেখেন, “ধনীর পোশাক আমাদের ছাড়তে হবে নইলে লজ্জা ঘুচবে না।” অন্য এক পত্রে লেখেন, “… জমিদারি-ব্যবসায়ে আমার লজ্জা বোধ হয়। আমার মন আজ উপরের তলার গদি ছেড়ে নীচে এসে বসেছে। দুঃখ এই যে, ছেলেবেলা থেকে পরোপজীবী হয়ে মানুষ হয়েছি।” ‘আড়ম্বর’ ও ‘অপব্যয়’ তাঁর মনকে বিমুখ করে। রাশিয়া সফরের পর জীবনের বাকি এক দশকেও ভক্স-সহ অন্যান্য সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক বজায় ছিল।








