BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

সেই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯ | আপডেট: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রাত ৮:০৯
পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ -- এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।

পায়ে পায়ে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি। কিন্তু পিছন ফিরে তাকালে মনে হয় যেন মরিচিকার পিছনে এতকাল ছুটেছি। গ্রাম ছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ ছেড়ে এতদূর এসেছি; কিন্তু একটুও এগোইনি আমরা, কেবলই নিজেদের ছায়া মাড়িয়ে চলেছি। সেই ছেলেবেলার নস্টালজিয়া এখন স্মৃতির সরণি বেয়ে ফিকে হয়। মাথা খুঁড়ে মরে গেলেও এখন আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বাল্যকালের হাসি, আনন্দ, কোলাহল, নির্ভেজাল আনন্দ। গ্রাম বাংলা একসময় ছিল খেলার মাঠ, মিলনমেলা, আর উৎসবের সমন্বয় মঞ্চ। দিনের আলো শেষ হত শিশুদের দৌড়-ঝাঁপের মধ্য দিয়ে, আর সন্ধ্যা নেমে আসত কিশোর-যুবকদের হাসিঠাট্টার শব্দ আর পাখ-পাখালির কুজনে। গোল্লাছুটের দৌড়, বউচির নিয়ম, কানামাছির ব্যস্ততা, হাডুডুর থাবা, দড়ি টানাটানির উত্তেজনা কিংবা নৌকা বাইচের পাগল করা ছন্দ — এসব ছিল গ্রামীণ খেলাধুলার প্রাণভোমরা।
গ্রামের মাঠে-ময়দানে তখন শুধু খেলার উত্তেজনা ছিল না; ছিল নিবিড় সম্পর্ক, ছিল এক ধরনের সমবেত শক্তি, ছিল সামাজিক সংযোগের অদৃশ্য সুতো। কিন্তু এখন সেসব যেন স্মৃতির পাতায় লেপটে গেছে। গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায় শিশুরা দল বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু খেলছে না। সবার হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, কানে এয়ারফোন, নিষ্পলক দুটো চোখ আটকে গেছে স্ক্রিনে। মাঠ ফাঁকা, গাছের ছায়া নিঃসঙ্গ, আর খেলা যেন সময়ের পেছনে হারিয়ে গেছে।
গ্রামীণ খেলাধুলা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এটি শুধু একটি বাক্য নয়; বরং সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। সমাজের পরিবর্তন, প্রযুক্তির আগ্রাসন, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গি আর আধুনিক বিনোদনের বিস্তার — সব মিলেই যেন নীরব চাপে মুছে দিচ্ছে এসব খেলা। অথচ এগুলো শুধু বিনোদন ছিল না; বরং ছিল সংস্কৃতি, ছিল স্বাস্থ্যচর্চা, ছিল অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, ছিল পরিচয়ের অংশ। গ্রামীণ খেলাধুলা ধীরে ধীরে পেছনে সরে গেলে তা শুধু ঐতিহ্যের ক্ষতি নয়; প্রজন্মেরও ক্ষতি।
একদিন গ্রামের শিশুরা বিকালে মাটি ছুঁয়ে, মাথার ঘাম ঝরিয়ে খেলত। গোল্লাছুটে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সেই উত্তেজনা, কিংবা হাডুডুতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণের সেই বুদ্ধিমত্তা ছিল শরীরের সঙ্গে মস্তিষ্কেরও খেলা। গ্রামের খেলা দলবদ্ধভাবে শেখাত কাজ করতে, শেখাত নেতৃত্ব, শেখাত সাহস, শেখাত হার-জিতের মধ্য দিয়ে সহমর্মিতা। এখনকার শিশুদের অনেকেই হয়ত জিততে পারে, কিন্তু হারতে শেখে না। সবাই চায় প্রথম হতে। অভিধানে যেন দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ইত্যাদি ক্রমবাচক সংখ্যা নেই। তারা খেলা শেখার সময়টা মোবাইল ব্যয় করছে, যেখানে রিস্টার্ট বাটন আছে, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।
ডিজিটাল যুগে বিনোদন বদলে গেছে। এখন শিশুরা বিকালে গিয়ে বন্ধু ডাকার বদলে মেসেঞ্জারে নোটিফিকেশন পায়, মাঠে ছুটে যাওয়ার বদলে অনলাইনে ‘জয়েন গেম’ ক্লিক করে। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল থেকে ফিরে অনেক শিশুই গেম খেলে; ক্রিকেট বা ফুটবল মাঠে নয়; বরং ফোনের পর্দায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাদের কাছে হাডুডুর শব্দ অর্থহীন, গোল্লাছুট অচেনা, দাড়িয়াবান্ধা বা কানামাছি যেন গল্পের বিষয়। আর এসব খেলা থেকে তৈরি হওয়া যে সামাজিক বন্ধন, মিলন ও সম্পর্ক, তা-ও যেন ক্রমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে মাঠ হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। একসময় গ্রামের মাঝখানে ছিল বিশাল সব খোলা মাঠ। ধান কাটার মরশুমে বা চৈত্রের শেষ দিকে যখন গ্রাম একটু অবসর পেত, তখন সেই মাঠেই হত খেলা ও সামাজিক উৎসব। কিন্তু এখন কৃষিজমি দামি হয়ে গেছে, অনেক গ্রামে মাঠ বা পতিত জমি হাউজিং বা কমার্সিয়াল কমপ্লেক্সে পরিণত হয়েছে। জমির মূল্য যত বেড়েছে, মাঠ তত কমেছে। মাঠ কমে গেলে খেলা কমে, খেলা কমে গেলে মিলনমেলা বন্ধ হয়, মিলনমেলা বন্ধ হলে সামাজিক সম্পর্কও কমে যায়। এ এক অদ্ভুত চক্র, যা নীরবে চলে যাচ্ছে, কিন্তু প্রভাব রেখে যাচ্ছে গভীরভাবে।
গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ হল পড়াশোনা ও কেরিয়ার গড়ার চাপ। এখন অভিভাবকরা চান শিশুরা যেন ভাল রেজাল্ট করে, কোচিংয়ে যায়, ইংরেজিতে পারদর্শী হয়, কম্পিউটার শেখে। তাদের কাছে খেলা মানে অহেতুক সময় নষ্ট করা। আগে গ্রামের পরিবারগুলো লেখাপড়া এবং খেলার মধ্যে ভারসাম্য রাখত। স্কুল শেষে খেলতে যেত শিশুরা, তবু পড়াশোনায় পিছিয়ে যেত না। এখন যেন সময়ের গণনা বদলে গেছে, খেলা বাদ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাদ দিয়ে পড়াশোনা; সামাজিক বিনোদন বাদ দিয়ে ডিজিটাল বিনোদন।
অথচ গ্রামীণ খেলাধুলার পাঠ সমাজে অনেক বড় ভূমিকা রাখত। গ্রামীণ খেলাধুলা হারিয়ে যাওয়া মানে স্মৃতিও হারানো। অনেকের শৈশবজুড়ে আছে বৃষ্টি শেষে মাঠে কাদা মাখা দৌড়, রোদে পুড়ে গোল্লাছুট খেলা, ঈদের সকালে দড়ি টানাটানির হাসি, নৌকা বাইচের চিৎকার কিংবা বিজয়ী দলকে লাউ বা কলা পুরস্কার দেওয়া। এসব স্মৃতি শুধু মজার নয়; মানুষের আবেগ, সম্পর্ক ও পরিচয়েরও অংশ। এখনকার শিশুরা সেই স্মৃতি পাবে কি? হয়ত তাদের স্মৃতি হবে ভার্চুয়াল, আর সেখানেই ক্ষতি, বাস্তব সম্পর্ক ভার্চুয়াল সম্পর্কের মতো সহজে গড়ে ওঠে না।
গ্রামীণ খেলাধুলা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনটি দিক জরুরি — মাঠ, সময় ও মানসিকতা। মাঠ ছাড়া খেলা হয় না। সময় ছাড়া অংশগ্রহণ হয় না। আর মানসিকতা ছাড়া উৎসাহ হয় না। অভিভাবকদেরও একটু ভাবতে হবে, শিশুর স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা পরীক্ষার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও চাইলে এই খেলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, যুবকেন্দ্র, ক্লাব, সংস্কৃতি মন্ত্রক কিংবা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ভূমিকা থাকা উচিত। হয়ত একদিন গ্রামের শিশুরা আবার খেলতে শিখবে মাঠে, ভার্চুয়াল জগতে নয়। হয়ত আবার শিশুরা দৌড়াতে দৌড়াতে হারতে অভ্যস্ত হবে, পরাজয় মেনে নেবে, সম্পর্ক গড়তে শিখবে। সমাজে আবার ফিরবে সেই হারিয়ে যাওয়া মিলনমেলার শব্দ। সেইদিন সমাজ আবার সুষম হবে, সুসংহত হবে, স্বাস্থ্যকর হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder