BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

গান্ধীর অহিংসার আলো ও গাজার অন্ধকার

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ১২:৫৮

মফিজুল তরফদার

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২ অক্টোবর: 

আরও পড়ুন:

গান্ধীজির জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে কেবল এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধা জানানো নয়, বরং এমন এক নৈতিক আদর্শকে সামনে আনা, যা আজও আমাদের অস্তিত্বের গভীরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়। গান্ধী ছিলেন সেই মানুষ, যিনি সত্যকে জীবনযাত্রার কেন্দ্রে স্থাপন করেছিলেন এবং অহিংসাকে করেছিলেন রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রধান অস্ত্র। তাঁর কাছে অহিংসা ছিল না দুর্বলতার পরাজিত পথ, বরং তা ছিল মানুষের অন্তরের মহাশক্তির জাগরণ। আজকের পৃথিবীতে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও গাজার রক্তাক্ত গণহত্যার প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গান্ধীর দর্শনকে নতুন করে অনুধাবন না করলে, আমরা হয়তো মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ হারিয়ে ফেলব।
গান্ধীজি বলেছিলেন, “অহিংসা দুর্বলদের অস্ত্র নয়, এটি শক্তিশালীদের সাহস।” তাঁর এই বাণী আজ গাজার ধ্বংসস্তূপের ওপর থেকে যেন আমাদের কাছে ফিরে আসে। রক্তে ভেসে যাওয়া রাস্তা, আতঙ্কে কাঁপতে থাকা শিশু, অসহায় মানুষের আর্তনাদ – সবই যেন প্রমাণ করে, সহিংসতার রাজনীতি মানবসভ্যতাকে কোথায় ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। গাজার দিকে তাকালে বোঝা যায়, বন্দুক আর বোমা হয়তো তাৎক্ষণিক প্রাধান্য এনে দিতে পারে, কিন্তু তারা কখনো ন্যায় ও স্থায়ী শান্তি গড়ে তুলতে পারে না। প্রতিটি বিস্ফোরণ আসলে আরও এক বিস্ফোরণের জন্ম দেয়, প্রতিটি প্রতিশোধ আরও গভীর প্রতিশোধের বীজ বুনে।
যদি গান্ধীজি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি গাজার শিশুদের হাত ধরে দাঁড়াতেন, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নিজের শরীরকে ঢাল করতেন, যেমন করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারতের রণাঙ্গনে। তিনি জানতেন, সত্যের শক্তি একদিন অবশ্যম্ভাবীভাবে মিথ্যার প্রাচীর ভেঙে ফেলবে। কিন্তু সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে সাহস দরকার, সেই সাহস আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আজ প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। আজকের পৃথিবীতে অনেকেই অহিংসার বার্তাকে “অবাস্তব” বা “অকার্যকর” মনে করে। অথচ আমরা ভুলে যাই, ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসই প্রমাণ করেছে যে অহিংসা যদি দুর্বলতার প্রতীক হতো, তবে তা দিয়ে কোনো সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো সম্ভব ছিল না।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ এই প্রমাণ দিচ্ছে যে শক্তির নামে চালানো সহিংসতা এক দীর্ঘস্থায়ী অন্ধকার তৈরি করে। ফিলিস্তিনের ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি, মাটিতে ছড়িয়ে থাকা শিশুর দেহ, আহত মানুষের আর্তনাদ – এসব কি শুধু রাজনৈতিক বিরোধের ফল? না, এগুলো আসলে সেই মানবিক বিবেকের পরাজয়ের সাক্ষ্য, যা গান্ধী বারবার বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “চোখের বদলে চোখ নিলে গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে,” আজ যেন সবচেয়ে করুণভাবে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। আমরা আসলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছি – সামরিক শক্তির অহংকারে, ক্ষমতার বিভাজনে, সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বে, এমনকি আমাদের নীরব সমর্থনের মধ্য দিয়েও।
কিন্তু আমরা ভুলে যাই, গান্ধীর অহিংসার পথ কখনো সহজ ছিল না। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি ছিল ভয়ঙ্কর, তাদের অস্ত্র ছিল সর্বশক্তিমান, কিন্তু গান্ধীর হাতে ছিল কেবল প্রার্থনা ও প্রতিবাদের শান্তিপূর্ণ শক্তি। তিনি লবণ সত্যাগ্রহের সময় দেখিয়ে দিয়েছিলেন, একটি সাধারণ পদক্ষেপও কিভাবে সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে, যদি সেই পদক্ষেপ সত্য ও ন্যায়ের শক্তিতে উজ্জীবিত হয়। আজ গাজায় কিংবা অন্য যে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডে সেই পাঠই সবচেয়ে প্রয়োজন – অস্ত্র দিয়ে নয়, মানুষকে জাগিয়ে তুলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।
প্রশ্ন জাগে – এই সময়ে মহাত্মা গান্ধীর দর্শন কি আদৌ কার্যকর? হ্যাঁ, কার্যকর, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে। সহিংসতা তৎক্ষণাৎ ভয় সৃষ্টি করে, আর অহিংসা সময় নিয়ে মানুষের আত্মাকে জাগিয়ে তোলে। গান্ধী জানতেন, অহিংসা কখনো সহজ পথ নয়; বরং তা সবচেয়ে কঠিন পথ। কিন্তু সেটিই একমাত্র পথ, যা শেষ পর্যন্ত টেকসই শান্তি এনে দিতে পারে। আজকের গাজায় যদি সত্যিকারের নেতৃত্ব থাকত, তবে তারা গান্ধীর শিক্ষা থেকে শিখত – ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে সত্য ও অহিংসার ওপর দাঁড়াতেই হবে। কারণ বোমা দিয়ে মাটি জেতা যায়, কিন্তু হৃদয় জেতা যায় না।
গান্ধীর দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নৈতিক সাহসের রাজনীতি। তিনি বুঝেছিলেন, ক্ষমতা কেবল সামরিক শক্তি থেকে আসে না; প্রকৃত শক্তি আসে মানুষের নৈতিক অবস্থান থেকে। গাজার বর্তমান সংকটেও আমরা দেখতে পাচ্ছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা শক্তি নিজেদের স্বার্থে নীরব থেকে গেছে। তাদের নীরবতা আসলে অন্যায়ের পাশে দাঁড়ানো। গান্ধীর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় – যে অন্যায়ের মুখে চুপ থাকে, সে-ও অন্যায়ের অংশীদার হয়ে যায়। তাই আজকের পৃথিবীতে প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, বরং সক্রিয় নৈতিক অবস্থান।
এই সময়ে গান্ধীজিকে স্মরণ করা মানে আমাদের নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা। আমরা কি সত্যিই তাঁর বার্তাকে জীবনে ধারণ করেছি, নাকি কেবল অনুষ্ঠান আর বক্তৃতার আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রেখেছি? গাজার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আমাদের দেখাচ্ছে যে পৃথিবী যদি অহিংসার পথে না হাঁটে, তবে আগুনের এই ছায়া একদিন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। শান্তির নামে যারা যুদ্ধ চালায়, তারা আসলে নিজেদের অস্তিত্বের ভিত্তিকে ধ্বংস করছে।
মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন তাই শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বরং বর্তমানের এক আহ্বান। আমাদের প্রত্যেককে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে – আমরা কি রক্তপাতের নীরব দর্শক হয়ে থাকব, নাকি সত্য ও অহিংসাকে জীবনের মূলমন্ত্র করে তুলব। যদি আমরা এই মুহূর্তে তাঁর শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণ করি, তবে হয়তো গাজার শিশুর কান্না থেকে নতুন আশার সঙ্গীত জন্ম নিতে পারে। আর যদি না করি, তবে ইতিহাস আমাদেরকে মনে রাখবে সেই অন্ধকার প্রজন্ম হিসেবে, যারা গান্ধীর আলোকে উপেক্ষা করে যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
গান্ধীর দর্শন তাই আজ শুধু একটি নৈতিক বার্তা নয়, বরং আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র শর্ত। গাজার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তাঁর অহিংসার আলোই আমাদের শেখায় – মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে না পারলে, সভ্যতা কেবল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে। এবং সেই ধ্বংসস্তূপে একদিন সবাই সমানভাবে সমাহিত হবে – বিজয়ী-পরাজিত, শক্তিধর-দুর্বল সকলেই। তাই গান্ধীর জন্মদিন কেবল উৎসব নয়, মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা। এখনই যদি সত্য ও অহিংসার আলোকে ধারণ না করি, তবে পৃথিবীর মানচিত্রে আরও বহু গাজা সৃষ্টি হবে, আর সভ্যতার নামান্তর হয়ে দাঁড়াবে কেবল ধ্বংস।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder