প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে উজ্জ্বল সাফল্য কাঞ্চননগরের গর্বিত শিক্ষার্থীদের
নতুন পয়গাম, কলকাতা: শতবর্ষ প্রাচীন কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাই স্কুলের ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল যেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের নিয়েই স্কুলটি এ বছর গড়ে তুলল সাফল্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। মোট ৩৪ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রথম বিভাগে এবং ১৩ জন দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর্থিক অনটন আর নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও এই ফলাফল এক অভাবনীয় অধ্যায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত সকল ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর বাবা দিনমজুর, রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, বালিঘাটের শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, বিড়ি শ্রমিক বা সাধারণ শ্রমিক। প্রতিটি পরিবারই কোনো না কোনোভাবে দিন আনে দিন খায়। তবুও মায়ের স্নেহ আর বাবার ত্যাগের বিনিময়ে তাঁদের সন্তানরা আজ তুলে ধরেছে নিজেদের যোগ্যতা।
এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে ফুচকাওয়ালার মেয়ে রিমঝিম কর্মকারের সাফল্য। সে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৪৬ নম্বর পেয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। রিমঝিমের স্বপ্ন বড়। সে বড় হয়ে রেলের পাইলট হতে চায়, দ্রুতগামী ট্রেন চালাতে চায়। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সে।
শুধু রিমঝিম নয়, কাঠমিস্ত্রির ছেলে তুফান ধারা ও চাষীর ছেলে প্রীতম ওম— দুজনেই যুগ্মভাবে ৯০ শতাংশের বেশি অর্থাৎ ৪৫৪ নম্বর পেয়ে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। তাঁদের লক্ষ্যও ভিন্ন। তারা ভবিষ্যতে নতুন শিক্ষানীতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই এগ্রিকালচার ফার্ম ও কার্পেন্টারি শিল্প গড়তে চান, যাতে অনেকে কাজ পায়।
তিনজনেই জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মা-বাবা ও সমাজের জন্য বিশেষ কিছু করে যেতে চান। গরিব ছাত্র-ছাত্রীরা যেন শুধু আদর্শ মানুষই না হয়, পাশাপাশি জীবন ও জীবিকার দিশাও পায়—সেটাই তাঁদের লক্ষ্য। উদ্ভাবনী শক্তি, দক্ষতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হয়ে সমাজ ও দেশ গঠনের কাজে লাগতে চান তাঁরা।
নিজেদের এই সাফল্যের মূলে তাঁরা দেখছেন মা-বাবার স্নেহ, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ। আর বিদ্যালয়ের আনন্দদায়ক পরিবেশ আর শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহযোগী কর্মীদের একান্ত সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না বলেও মনে করেন তাঁরা। শেষে তাঁরা জানান, আজকের সাফল্য তাঁদের শিখিয়েছে—আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তাঁরা।








