ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলতা, ১৬ মে: ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ফলতায় বিধানসভার উপনির্বাচনের প্রচারে এসে তিনি এই ঘোষণা করেন। আগামী বৃহস্পতিবার এখানে পুনরায় ভোট। সেই কারণে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। এদিনের জনসভায় উত্তাল মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুষ্পা কোথায় গেল, ডাকাতটা কোথায়? দেখা যাচ্ছে? যত অভিযোগ করেছে নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। গুণ্ডামি করতে দেব না, বাইক বাহিনীকে দেব না, সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেব না।” তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “কোথায় পুষ্পা? কোথায় আপনি নটোরিয়াস ক্রিমিন্যাল জাহাঙ্গীর? আমার উপর ছেড়ে দিন। আমি ওর দায়িত্ব নিয়ে নিলাম।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯ তারিখ তিনি পুরো ফলতা ঘুরবেন। একুশে যাঁরা মার খেয়েছিলেন এমন কর্মীদের বাড়িতে যাবেন। সেখানে গিয়ে বড়দের প্রণাম করবেন, ছোটদের কোলাকুলি করবেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংকল্পপত্রে যা বলা হয়েছে সব হবে। “ফলতার ফলাফলে সরকার বদল হবে না। কিন্তু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন তিনি। ধর্ম পালন নিয়ে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না, ধর্ম পালনে আর হাইকোর্টে যেতে হবে না। আপনারা মুক্ত। কী অত্যাচার করেনি। দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীর দিন পরিবর্তন করেন।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রার্থীকে প্রকাশ্যে মেরেছিল বারুইপুরের আইসি, তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছিল আইসি অমিত হাতি, সেও সাসপেন্ড।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তিনি এখানকার পুলিশ অফিসারদের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দিতে বলেছেন। “ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা কারা ডায়মন্ড হারবারে অত্যাচার করেছেন, সাংবাদিক বন্ধু নাগরিকদের, বিজেপি কর্মীদের, অন্য দলের নেতা কর্মীদের — কার নির্দেশে করেছেন, আমি শুভেন্দু অধিকারী সব বের করব।” তিনি দাবি করেন, বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তার চ্যাট যখন তদন্তকারীরা সামনে আনবেন, সেদিন আগের সরকারের কু-কীর্তি সব বেরিয়ে আসবে। জনগণনার কাজ আটকে রাখার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “এবার অনুপ্রবেশকারীদের টাটা বাই বাই করা হবে।” তিলোত্তমার ঘটনায় যাঁরা অত্যাচার করে প্রমাণ লোপাট করেছেন, ঘুষ দিতে গিয়েছেন — তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি দাবি করেন, মাননীয় ভাইপো বাবুর লিপ্স অ্যান্ড বাইন্সের ২৪টা সম্পত্তি আছে কলকাতায়। আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস। তিনি বলেন, “আজ ডায়মন্ড হারবারে পান্নালাল হালদার আমাকে স্বাগত জানাতে গেছে। এরা কেউ নন, আসল হল গৌতম, শামিম, জাহাঙ্গীর, সেলিম।”
শোভনদেবকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি শোভনদেবকে বলেছি, মাননীয় যদি রাজনৈতিক ব্যক্তি বাড়ি ছাড়া হয়, পৌঁছে দেবে বিজেপি। কিন্তু শর্ত আছে। ২০২১ সালে ৫৭ জন বিজেপিকে খুন করা হয়েছিল। কাউন্টিং হলে মানস সাহাকে খুন করা হয়েছিল। সেখানে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা যদি বাড়িছাড়া হয়, চুলের মুঠি ধরে জেলে ঢোকাবো।” তিনি দাবি করেন, ১ লক্ষ ১০ হাজার কর্মী বাড়িছাড়া। এদিন উপস্থিত বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।








