BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

গ্রামীণ শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াল সত্য

প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪ | আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ৯:৩৪

আবীর লাল

আরও পড়ুন:

পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার আলো আজ গ্রামীণ অঞ্চলে ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক ভয়ঙ্কর বাস্তব সামনে এনেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে গত এক দশকে সাত হাজারেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষা দপ্তরের পরিকল্পনা অনুসারে প্রায় আট হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ করার তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আরও বিস্ময়কর তথ্য হল, তিন হাজারেরও বেশি সরকারি বিদ্যালয়ে একজনও পড়ুয়াব বা শিক্ষার্থী নেই। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এক বছরে ৪০৯টি বিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৯৫ হাজারেরও বেশি। এই অধোগতির ধারা চলতে থাকলে গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থা অচিরেই ভেঙে পড়বে, আর সমাজের এক বৃহৎ অংশ চিরকালীন অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পেছনে নানা জটিল কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে মূল কারণ হল দীর্ঘকাল শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকা। রাজ্যের বহু বিদ্যালয়ে প্রায় অধিকাংশ বিষয়েই বিপুল শূন্যপদ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, গণিত শিক্ষক প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৩,১৩২ জন কম, পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষকের ঘাটতি প্রায় ১,৭৯৫ জন। বহু বিদ্যালয়ে একজনও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কার্যত পাঠ্যক্রম শেষ করতেই পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকেরাও ধীরে ধীরে আস্থা হারাচ্ছেন সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর। পরিকাঠামোর দুরবস্থা সমস্যাকে আরও প্রকট করছে। বহু গ্রামীণ বিদ্যালয়ে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, শৌচালয় নেই বা ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা টয়লেট নেই। পানীয় জলের অভাব এক ভয়াবহ সমস্যা। অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। পাঠাগার বা বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি অধিকাংশ জায়গায় অচল, আবার কোথাও ল্যাব থাকলেও ব্যবহার করার মতো সরঞ্জাম নেই। সরকারি পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল পরিকাঠামো প্রায় অনুপস্থিত, ফলে অনলাইন বা হাইব্রিড শিক্ষা চালানো গ্রামীণ এলাকায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি বহু জায়গায় মিড-ডে মিলের জন্য উপযুক্ত রান্নাঘর পর্যন্ত নেই। শিক্ষার জন্য ন্যূনতম যে পরিবেশ প্রয়োজন, তা না থাকায় বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের কাছে দিন দিন দুরূহ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যার স্থানান্তর। কাজের খোঁজে বহু পরিবার গ্রাম থেকে শহরে চলে যাচ্ছে। গ্রামে যেসব শিশু রয়ে যাচ্ছে, তাদের অভিভাবকেরাও চায় সন্তানকে ভাল ইংরেজি মাধ্যম বা কর্পোরেট স্কুলে ভর্তি করাতে। বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রসার এবং শহরমুখী প্রবণতা গ্রামীণ সরকারি বিদ্যালয়কে আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে। শিক্ষা দপ্তর এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে যুক্তি দিচ্ছে যে, যেখানে ছাত্র সংখ্যা ৩০-এর নিচে, সেখানে বিদ্যালয় চালিয়ে যাওয়া অর্থবহ নয়। কিন্তু এই যুক্তি শিক্ষার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ, দূরবর্তী এলাকায় একটি স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে কচিকাঁচা শিশুরা ৫-৭ কিলোমিটার হেঁটে অন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ফলত তারা মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। সরকারি পরিভাষায় যাকে বলা হচ্ছে স্কুল-ছুট।
বিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ার অন্যতম পরিণতি হল শিক্ষার প্রতি অনীহা। যখন কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, পাঠদান নেই, পরিকাঠামোর ভগ্নদশা, তখন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মনে প্রশ্ন জাগে, বিদ্যালয়ে গিয়ে লাভ কী? এই প্রশ্নই এক সময় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। শিক্ষার্থীরাই ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ে যাওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে স্কুলছুট বাড়তে থাকছে। একবার পড়াশোনার শৃঙ্খল ভেঙে গেলে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো কঠিন।
শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় গ্রামীণ শিশুদের অনেকেই খুব অল্প বয়সে শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। কাজের খোঁজে তারা ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, কেউ ইটভাটায়, কেউ চা বাগানে বা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। শিশু-শ্রমের এই প্রবণতা শিক্ষার আলো নিভিয়ে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকায় শিশুদের সিংহভাগ বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শ্রমের বাজারে লেগে পড়ছে। ফলে গোটা সমাজ ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি বা মানবসম্পদ হারাচ্ছে।
শিক্ষা সংকটের প্রভাব সমাজে নানা স্তরে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাহীনতা মানেই সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি। যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে, তারা তাদের সন্তানকে বেসরকারি কর্পোরেট স্কুলে পাঠাচ্ছে, ফলে তারা সুযোগ পাচ্ছে উন্নত উচ্চশিক্ষার, শহুরে চাকরির। অন্যদিকে গরিব গ্রামীণ পরিবারগুলো সরকারি বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভরশীল, আর যখন সেই বিদ্যালয়ও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কার্যত নিষ্ক্রিয়, তখন তাদের সন্তানরা অশিক্ষার দুষ্টচক্রে আটকে যাচ্ছে। ফলে ধনী গরিবের ফারাক আরও বাড়ছে। শিক্ষা হয়ে উঠছে পণ্য। মোদ্দা কথা, ফেল কড়ি মাখো তেল।
মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও কম নয়। বিদ্যালয় শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়ে তোলে। কিন্তু বিদ্যালয় যখন অচল, তখন শিশুদের মধ্যে আত্মমর্যাদাহীনতা তৈরি হয়। তারা ভাবতে শুরু করে, শিক্ষা একপ্রকার বিলাসিতা বা আমাদের জন্য শিক্ষা নয়। এই ধারণা তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি হতাশা তৈরি করে, যা সমাজের অগ্রগতির পথে এক বড় বাধা।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সংকট মারাত্মক। একটি সমাজে যখন যথেষ্ট শিক্ষিত মানুষ নেই, তখন সেই সমাজে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয় না, দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না, আর্থিক উন্নয়নের চাকা থেমে যায়। রাজ্যের বহু গ্রামীণ অঞ্চল ইতিমধ্যেই কর্মসংস্থানের অভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তার সঙ্গে শিক্ষার সংকট যোগ হওয়ায় বিপদ দ্বিগুণ বাড়ছে।
তাহলে সমাধান কী? সমস্যার মূলে গিয়ে দেখতে হবে। প্রথমত: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবিলম্বে স্বচ্ছ, দ্রুত, স্বাভাবিক ও নিয়মিত করতে হবে। বছরের পর বছর শিক্ষক নিয়োগ আটকে থাকা মানে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক থাকা আবশ্যক। দ্বিতীয়ত: বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত করা অপরিহার্য। পানীয় জল, শৌচালয়, বিদ্যুৎ, পাঠাগার, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট — এসব ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত: যেখানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কম, সেখানে ক্লাস্টার ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। অর্থাৎ কাছাকাছি একাধিক বিদ্যালয়কে মার্জ বা সংযুক্ত করে শিক্ষক ও সুযোগ ভাগ করা। এর সঙ্গে থাকতে হবে বিনামূল্যে পরিবহন ব্যবস্থা, যাতে দূরের শিশু বিদ্যালয়ে আসতে পারে। প্রান্তিক অঞ্চলে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করে শিক্ষা সুরক্ষা জরুরি। জঙ্গলমহল, সীমান্ত বা ছিটমহলের মতো এলাকায় সরকারি সহায়তা ও বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণমান বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পাঠ্যক্রম সাজানো জরুরি। মনিটরিং ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে হবে। UDISE, DISE বা NCERT-এর PARAKH রিপোর্টে যে সমস্যাগুলি ধরা পড়ছে, সেগুলিকে দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা ও ব্লক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিদ্যালয়গুলির বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।
শিক্ষাকে শুধু সরকারি দপ্তরের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজকেও অংশীদার করতে হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, এনজিও, সামাজিক সংগঠন, এমনকি বিদ্যালয় সংস্কা ও মানোন্নয়নে কর্পোরেট CSR অর্থও ব্যবহার করা যেতে পারে। স্কুল শিক্ষা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার — এই বার্তা প্রতিটি পরিবারে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder