BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

বাগরাম ঘাঁটি: কৌশলগত গ্রেট গেমের অংশ

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:২৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:২৬

সাইফুল খান

আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। এই ঘাঁটির ইতিহাস, কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর পুনর্নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা আজও থেমে নেই। এই মার্কিন ঘাঁটির অবস্থান আফগানিস্তানের পারওয়ান প্রদেশে, রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে। সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের সময় ১৯৭৯ সালে এই ঘাঁটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। সোভিয়েতরা এটিকে তাদের আফগান সামরিক অভিযানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ৯/১১ হামলার পর আমেরিকা আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে বাগরামকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। প্রায় দুই দশক ধরে এটি হয়ে ওঠে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদরদপ্তর। সেখানে কয়েক হাজার সেনা অবস্থান করত।

আরও পড়ুন:

বাগরামের গুরুত্ব বোঝার জন্য এটিকে ‘স্ট্যাটাস অফ ফোর্সেস এগ্রিমেন্ট’ (SOFA) বা দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি সামরিক ঘাঁটির দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়। বর্তমানে সারা বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। যেমন- দক্ষিণ কোরিয়ায় ওসান ও ইয়ংসান ঘাঁটি (উত্তর কোরিয়ার প্রতিরোধে), জাপানে ওকিনাওয়া ঘাঁটি (চীন ও উত্তর কোরিয়া পর্যবেক্ষণে), জার্মানির রামস্টেইন ঘাঁটি (ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সদরদপ্তর), কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি (মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি)। আফগানিস্তানের বাগরামও এই ধরণের ঘাঁটি, যা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অনন্য গুরুত্ব বহন করত।

আরও পড়ুন:

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর বাগরাম এয়ারবেস বা বায়ুসেনা ঘাঁটি তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে গত কয়েক বছরে ভূ-রাজনীতির পালাবদল এবং নতুন আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে ওয়াশিংটন আবারও এই ঘাঁটির দিকে নজর দিয়েছে। বাগরাম শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়; বরং আফগানিস্তান তথা সমগ্র মধ্যএশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দু। আমেরিকা কেন এটিকে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে, তার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে।

আরও পড়ুন:

প্রথমত, চীন ও রাশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা ঠেকানো। আফগানিস্তান বর্তমানে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, আর রাশিয়া মধ্য এশিয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব বিস্তার করছে। বাগরাম ঘাঁটি যদি আবার যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে যায়, তবে এটি সরাসরি চীনের পরিকাঠামোগত ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের উপর চাপ তৈরি করবে এবং রাশিয়ার মধ্য-এশিয়া কৌশলকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অর্থাৎ, আমেরিকার জন্য বাগরাম হবে একটি প্রতিরোধ ঘাঁটি, যা চীন-রাশিয়ার সমন্বিত প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয়ত, ইরানকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ বা নজরদারির সুযোগ। ভৌগোলিকভাবে বাগরাম ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার আঞ্চলিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে এই ঘাঁটি কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন, বিশেষত সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে তার সম্পৃক্ততার কারণে। বাগরাম থেকে ইরান পর্যবেক্ষণ করা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রয়োজনে চাপ প্রয়োগের সামরিক সুবিধাও যুক্তরাষ্ট্র হাতে পাবে।
তৃতীয়ত, সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে এখনও সক্রিয় রয়েছে আল-কায়েদা, আইএস খোরাসান ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক। ওয়াশিংটনের কাছে বাগরাম একটি পরীক্ষিত ঘাঁটি, যেখান থেকে অতীতে কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য গোয়েন্দা, ড্রোন হামলা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও বাগরামকে কথিত সন্ত্রাস মোকাবিলার লজিস্টিক হাব হিসেবে দেখতে চাইছে।
চতুর্থত, মধ্য এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে বাগরামের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আফগানিস্তান ভৌগোলিকভাবে এমন জায়গায় অবস্থিত, যেখান থেকে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশে প্রবেশ কৌশলগতভাবে সহজ। এগুলো রাশিয়ার ঐতিহ্যগত প্রভাবাধীন হলেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে তার উপস্থিতি বাড়াতে চায়। বাগরাম ঘাঁটি আবার সক্রিয় হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্য এশিয়ার জ্বালানি সম্পদ, বাণিজ্য পথ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাগরাম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কেবল সামরিক বা সন্ত্রাসবিরোধী নয়, বরং এটি একটি সর্বাত্মক ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। চীন ও রাশিয়ার প্রতিরোধ, ইরানকে পর্যবেক্ষণ, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং মধ্য এশিয়ায় প্রবেশাধিকার — সবকিছু মিলিয়ে বাগরামকে ওয়াশিংটন একটি ‘কৌশলগত মাস্টার কার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন:

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের দাবি এবং হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, বাগরাম ঘাঁটি আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের অংশ এবং এটি ফেরত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
সম্প্রতি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আমরা বাগরাম ফিরে পেতে চাই। কারণ, এটি চীনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার স্থান থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে। চীন আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেছেন, এমন উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দেওয়া এ অঞ্চলের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীত। আফগানিস্তানের ভবিষ্যত আফগান জনগণের হাতেই থাকা উচিত এবং এই অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।
চীন আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আগ্রহী এবং আফগান জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। চীনের মতে, বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরুদ্ধারের জন্য মার্কিন পদক্ষেপ আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, যা চীনের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
এছাড়া, চীন আফগানিস্তানের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী। গত মাসে চীনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই কাবুল সফরে গিয়ে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। চীন আফগানিস্তানের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে আগ্রহী।
বাগরাম বিমানঘাঁটির ইতিহাস শুধু একটি সামরিক ঘাঁটির ইতিহাস নয়; বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক প্রতিচ্ছবি। সোভিয়েত ইউনিয়ন, আমেরিকা, তালেবান প্রত্যেকেই এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণকে তাদের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে রেখেছে। আজ যখন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বাগরামে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তখন বিষয়টি শুধু আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে নয়, বরং চীন, রাশিয়া, ইরান এবং সমগ্র মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য ও সমীকরণকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই। বাগরাম তাই আজও ‘গ্রেট গেম’-এর অংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য লড়াই করছে।

(লেখক: ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder