BREAKING:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক

বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৬, দুপুর ২:৫৭ | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, দুপুর ২:৫৮

রফিক আনোয়ার: ভারত পৃথিবীর অন্যতম বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে অসংখ্য ভাষা, ধর্ম, জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রা পাশাপাশি সহাবস্থান করে। উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে দক্ষিণের উপকূল, পশ্চিমের মরুভূমি থেকে পূর্বের নদীমাতৃক ভূখণ্ড — প্রত্যেক অঞ্চলের মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর সামাজিক অভিজ্ঞতা আলাদা। এই বিপুল বৈচিত্র্য ভারতকে শুধু একটি রাষ্ট্র নয়; বরং বহুস্তরীয় এক সভ্যতায় পরিণত করেছে। তাই বলা হয়, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ডাইভার্সিটি বা বৈচিত্র্য। কিন্তু এই বক্তব্য সম্পূর্ণ সত্য হতে পারে তখনই, যখন সমাজ ইনক্লুসিভনেস বা অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। কারণ, বৈচিত্র্য নিজে নিজে শক্তিতে পরিণত হয় না; তাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান, সমান সুযোগ আর সহাবস্থানের সংস্কৃতি। ভারতের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, এই ভূখণ্ড সবসময় নানা সংস্কৃতির মিলনস্থল ছিল। প্রাচীন যুগ থেকে বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে এসেছে, বসতি গড়েছে আর নিজেদের সংস্কৃতির প্রভাব রেখে গেছে। আর্য, দ্রাবিড়, মুঘল, পারস্য, ইউরোপীয় — সবাই কোনো না কোনোভাবে ভারতীয় সমাজকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু ভারতের বিশেষত্ব হল, এটি শুধু বাইরের প্রভাব গ্রহণ করেনি; বরং বিভিন্ন উপাদানকে একত্র করে নতুন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ তৈরি করেছে। এই গ্রহণ ক্ষমতাই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার মূল ভিত্তি। ভারতের ভাষাগত বৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার গুরুত্ব বোঝার একটি বড় উদাহরণ। দেশে শত শত ভাষা ও উপভাষা রয়েছে। বাংলা, তামিল, হিন্দি, মারাঠি, মালয়ালম, পাঞ্জাবি, অসমীয়া — প্রতিটি ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বরং একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সাহিত্য, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের অংশ। যদি কোনো একটি ভাষাকে অন্য সব ভাষার উপরে জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সমাজে অসন্তোষ ও বিভাজন তৈরি হতে পারে। কিন্তু যখন বিভিন্ন ভাষাকে সম্মান দেওয়া হয়, তখন মানুষ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে নিজেদের নিরাপদ ও মর্যাদাবান মনে করে। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা মানে শুধু সহ্য করা নয়; বরং ভিন্ন পরিচয়কে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা।

আরও পড়ুন:

ধর্মীয় বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। ভারতে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন-সহ নানা ধর্মের মানুষ বাস করে। এই বৈচিত্র্য ভারতীয় সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। সংগীত, স্থাপত্য, সাহিত্য, উৎসব — সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রভাব দেখা যায়। আবার, ইতিহাস এটাও দেখিয়েছে যে, ধর্মীয় বৈচিত্র্য তখনই শক্তি হয়ে ওঠে, যখন সমাজে সহনশীলতা থাকে। যদি মানুষ অন্য ধর্মকে শত্রু হিসেবে দেখতে শুরু করে, তাহলে বৈচিত্র শক্তির বদলে সংঘাতের উৎসে পরিণত হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা ঘৃণার রাজনীতি সেই বাস্তবতারই উদাহরণ। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা ছাড়া ডাইভার্সিটি বা বৈচিত্র দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক স্থিতি দিতে পারে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামাজিক ন্যায়বিচার। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে ‘কাস্ট’ বা বর্ণভিত্তিক বৈষম্য সমাজকে বিভক্ত করেছে। বহু মানুষ জন্মগত পরিচয়ের কারণে শিক্ষা, কাজ ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতা দেখায় শুধু বৈচিত্র্য থাকা যথেষ্ট নয়; সমাজের প্রত্যেক মানুষকে সমান সুযোগ দেওয়াও জরুরি। যদি কোনো সম্প্রদায় নিজেকে প্রান্তিক ও অবহেলিত মনে করে, তাহলে জাতীয় ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বৈচিত্রকে শক্তিতে পরিণত করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার ভিত্তিতে সামাজিক সমতা সুনিশ্চিত করতে হবে। ভারতের গণতন্ত্রও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার উপর নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন:

স্বাধীনতার পর অনেকেই মনে করেছিলেন, এত বৈচিত্র্যময় একটি দেশ দীর্ঘদিন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে কিনা। কিন্তু ভারত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিচয়কে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন রাজ্যের ভাষাগত স্বীকৃতি, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের উত্থান, সংবিধানে সংখ্যালঘু অধিকারের স্বীকৃতি –এসবই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা। এর ফলে মানুষ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখেও বৃহত্তর ভারতীয় পরিচয়ের অংশ হতে পেরেছে। তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা বজায় রাখা সহজ কাজ নয়। রাজনৈতিক স্বার্থে অনেক সময় বিভাজন ও মেরুকরণের রাজনীতি করা হয়। মানুষকে ধর্ম, ভাষা বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা করে দেখানো হয়। সমাজ মাধ্যমেও ঘৃণা-বিদ্বেষ ও ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এসব পরিস্থিতি সমাজে অবিশ্বাস তৈরি করে এবং বৈচিত্রকে দুর্বল করে দেয়। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা রক্ষা করতে হলে শুধু আইন নয়; সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধও জরুরি। শিক্ষা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যদি মানুষ ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্ম সম্পর্কে সম্মানজনক ধারণা পায়, তাহলে তারা ভিন্নতাকে ভয় না পেয়ে গ্রহণ করতে শিখবে। একইভাবে সাহিত্য, সিনেমা, সংগীত এবং শিল্পও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। কারণ, সংস্কৃতি মানুষকে অন্যের অভিজ্ঞতা বুঝতে শেখায়।

আরও পড়ুন:

ভারতের শহরগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতার বাস্তব উদাহরণ। মুম্বই, দিল্লি, কলকাতা বা বেঙ্গালুরুর মতো শহরে বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ একসাথে কাজ করে, বাস করে আর সম্পর্ক গড়ে তোলে। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার বা খেলাধুলার মাধ্যমে মানুষ একে অপরের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়। এই দৈনন্দিন সহাবস্থান সমাজকে আরও বহুত্ববাদী করে তোলে। অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা এখানে কোনো তাত্ত্বিক ধারণা নয়; বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনের অংশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা গুরুত্বপূর্ণ। যদি উন্নয়ন শুধু কিছু অঞ্চল বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বৈষম্য বাড়বে, আর সামাজিক অসন্তোষ দেখা দেবে। কিন্তু যখন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিক সুযোগ পায়, তখন বৈচিত্র এক সম্মিলিত শক্তিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক শক্তি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে বহুমুখী করেছে। এই বহুমাত্রিক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা ছাড়া সম্ভব নয়। বিশ্বায়নের যুগে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। আজকের পৃথিবীতে বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক পরিবেশে কাজ করার ক্ষমতা একটি বড় দক্ষতা। ভারতীয় সমাজের বৈচিত্র মানুষকে সেই অভিজ্ঞতা দেয়। কিন্তু যদি সমাজের ভেতরেই বিভাজন বাড়তে থাকে, তাহলে সেই সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতের ভারত গঠনে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা একটি অপরিহার্য শর্ত। সবশেষে বলা যায়, বৈচিত্র ভারতের অন্যতম বড় সম্পদ। এটি দেশের সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, অর্থনীতি আর গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু বৈচিত্র তখনই প্রকৃত শক্তিতে পরিণত হয়, যখন সমাজ অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা বজায় রাখতে পারে। অর্থাৎ মানুষকে তার ধর্ম, ভাষা, জাতি বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে ছোট বা হেয় না করে সমান মর্যাদা দিতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা আর ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই বৈচিত্র্য শক্তিতে রূপান্তরিত পারে। তাই ভারতের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে এই প্রশ্নের উপর — দেশ কি তার বৈচিত্র্যকে ভয় পাবে, নাকি তাকে গ্রহণ করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলবে? যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা বজায় থাকে, তাহলে বৈচিত্র শুধু ভারতের শক্তিই হবে না; বরং বিশ্বে সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder