বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের
নতুন পয়গাম, এস রোজলিন, সন্দেশখালি: নির্বাচনের পরেই সন্দেশখালির প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করলেন সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। বসিরহাটের সুন্দরবনের সন্দেশখালি বিধানসভার বহু দ্বীপাঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অভিযোগকে সামনে এনে এবার সরাসরি কৃষি দপ্তরের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তিনি। সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের কৃষি আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন বিধায়ক। এলাকার কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া, কৃষি বীজ ও আর্থিক সহায়তা বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ নিয়েই মূলত এই বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তীতে তৃণমূলের আমলেও তারা কৃষি সংক্রান্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। বিশেষ করে সুন্দরবনের দুর্গম দ্বীপ এলাকায় কৃষকদের কাছে সরকারি কৃষি প্রকল্পের সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছাত না। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি কিংবা আর্থিক সহায়তা মাঝপথেই আটকে যেত বলে অভিযোগ। এলাকার বহু কৃষকের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু লোকই সরকারি সুযোগ পেতেন, অথচ প্রকৃত চাষিরা বঞ্চিত থাকতেন।
এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতেই উদ্যোগী হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সন্দেশখালির কৃষকরা অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।” তিনি দাবি করেন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ও সরকারি পরিষেবা যাতে সঠিকভাবে পৌঁছে যায়, তার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে। বিধায়কের বক্তব্য, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষিকাজই বহু মানুষের জীবিকার একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে চাষের কাজে বারবার সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। তাই কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সরকারি প্রকল্পের আওতায় আনা, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, কৃষি যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিনের বৈঠককে ঘিরে এলাকার কৃষকদের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন পর কোনও জনপ্রতিনিধি সরাসরি কৃষি দপ্তরে গিয়ে তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করায় খুশি স্থানীয় কৃষকরা। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক স্তরে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটতে পারে।








