BREAKING:
৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪ ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বিগুণ, কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জায়গা জমি নিয়ে মারপিঠের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ জয়নগরে অস্ত্র দেখিয়ে কয়লা কারবারিদের তোলাবাজি, জামুড়িয়ায় গ্রেফতার ২, চাঞ্চল্য শিল্পাঞ্চলে রাস্তা জুড়ে নামাজ পড়া বন্ধ করতে রাজাবাজারে পুলিশি অভিযান প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে উজ্জ্বল সাফল্য কাঞ্চননগরের গর্বিত শিক্ষার্থীদের ডুয়ার্সে হাতির হামলায় যুবক নিহত, মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ বন অফিস ঘেরাও তৃণমূল কাউন্সিলরদের দূর্নীতির প্রতিবাদে চন্দননগর পুর নিগমে বিক্ষোভ ডেপুটেশান দশ রাউন্ড কার্তুজ ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ চন্দননগরে দুই দুষ্কৃতি গ্রেফতার যুবকের গঙ্গায় ঝাঁপ, পাশের ঘাটে ভেসে উঠল দেহ, চুঁচুড়ায় চাঞ্চল্য চেন্নাইয়ের দুর্গ ভেঙে জয়ের হাসি লখনৌ শিবিরে গ্রামের কৃষকের ছেলের উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে স্থানাধিকার মন্দির মসজিদ গীর্জা সহ সকল ধর্মীয়স্থানে লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জনজাতি গরিমা উৎসব ২০২৬ নৈহাটিতে সাহিত্য আড্ডার আসর, ২০২৬ ডুয়ার্সে বেআইনি বালি পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, আটক ৩ ট্র্যাক্টর ও চালক.! মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ভয়েস পাবলিক স্কুলে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশি হানা ধূপগুড়িতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুরো নিগমের ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল

৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, দুপুর ৩:২৯ | আপডেট: ২৬ মে ২০২৬, দুপুর ৩:৩০

রফিকুল হাসান: ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু দিন রয়েছে, যেগুলো কেবল পঞ্জিকার পাতা বা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই দিনগুলো মানুষের আত্মশুদ্ধি, বিনয়, অহংকার মুক্তি, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের এক অনন্য ও সর্বজনীন শিক্ষা বহন করে। ইসলামের ইতিহাসে তেমনই এক সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহিমান্বিত দিন হল ‘আরাফা দিবস’। প্রতি বছর ইসলামী হিজরি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস অর্থাৎ জিলহজ মাসের ৯ তারিখে এই পবিত্র দিনটি পালিত হয়। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান রোকন বা অংশ হল আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। আর এই কারণেই নবী করীম (সা.) পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন, ‘আল-হাজ্জু আরাফাহ্’ অর্থাৎ আরাফার ময়দানে অবস্থান করাই হল হজ। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত প্রায় ১২ কিমি বিস্তৃত এক বিশাল প্রান্তর, যা ‘ময়দানে আরাফাত’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। প্রতি বছর জিলহজ মাসের এই নির্দিষ্ট দিনে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে, ভিন্ন ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ মুসলমান এই পবিত্র ময়দানে এসে সমবেত হন। সবার পরনে থাকে একই রকম সেলাইবিহীন সাদা ইহরামের পোশাক। সেই বিশাল জনসমুদ্রে যখন ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা, শাসক-শোষিত, কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে এসে দাঁড়ায়, তখন জাগতিক সব বৈষম্য ও কৃত্রিম দেয়াল মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই দৃশ্য যেন গোটা মানবজাতির ঐক্য, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব এবং পরকালের মহা-হাশরের ময়দানের এক অপূর্ব ও হৃদয়স্পর্শী প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুন:

‘আরাফা’ শব্দের অর্থ হল পরিচয় হওয়া, জানা বা গভীর কোনো সত্য উপলব্ধি করা। এই নামকরণের পিছনে ইসলামী ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বর্ণনা রয়েছে। তফসীরবিদ ও ঐতিহাসিকদের মতে, আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা বিবি হাওয়া (আ.) আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার কারণে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পতিত হয়েছিলেন। দীর্ঘকাল ধরে কান্নাকাটি ও বিচ্ছেদের যাতনা সহ্য করার পর, অবশেষে জিলহজ মাসের ৯ তারিখে এই বিশাল প্রান্তরে এসে তাঁদের পুনর্মিলন হয়েছিল। তাঁরা একে অপরকে চিনতে পেরেছিলেন এবং আল্লাহর দরবারে তাওবাহ করেছিলেন। একে অপরকে চেনার বা পরিচিত হওয়ার এই ঐতিহাসিক সূত্র ধরেই স্থানটির নাম হয়েছে ‘আরাফাত’। অন্য এক বর্ণনা মতে, হযরত জিবরাইল (আ.) যখন হযরত ইব্রাহিম (আ.)-কে হজের সমস্ত নিয়ম-কানুন হাতে-কলমে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন এই ময়দানে এসে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আ-রাফতা?’ অর্থাৎ ‘তুমি কি সব বুঝতে পেরেছ?’ ইব্রাহিম (আ.) উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আরাফতু’ (হ্যাঁ, আমি বুঝতে পেরেছি)। এই কারণে একে আরাফাত বলা হয়। মানবেতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল এই আরাফার ময়দানেই। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজে (প্রথম ও শেষ হজ) এই আরাফার ময়দানে অবস্থিত ‘জাবালে রহমত’ বা রহমতের পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ও কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন। ১০ হিজরির সেই ভাষণে তিনি কেবল মুসলমানদের জন্যই নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির মুক্তির সনদ হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। তিনি মানবতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, নারীর অধিকার, দাসের অধিকার, জান-মালের নিরাপত্তা, সুদ প্রথার বিলোপ এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এমন এক কঠোর ও অকাট্য বার্তা দিয়েছিলেন, যা আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে অন্ধকার পৃথিবীকে আলোর পথ দেখিয়েছিল এবং আজও বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে আছে।

আরও পড়ুন:

তিনি সেদিন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, “কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের, কিংবা কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের বা কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো প্রাধান্য নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি মর্যাদাবান, যে বেশি পরহেজগার ও চরিত্রবান।” আরাফার দিনের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এতটাই অপরিসীম যে, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই দিনের প্রশংসা করেছেন। এই দিনেই দ্বীন বা ইসলাম পূর্ণতা লাভ করেছিল। সূরা আল-মায়েদাহর তিন নম্বর আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম।” ইসলামী ইতিহাস ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই মহান ঐতিহাসিক আয়াতটি বিদায় হজের দিন আরাফার ময়দানেই নাযিল হয়েছিল। এটি প্রমাণ করে, এই দিনটি মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরম উপহার এবং ইসলামের পূর্ণতার মহাস্মারক। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা আরাফাত থেকে ফেরার পরের করণীয় সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর যখন তোমরা আরাফাত থেকে ফিরে আসবে, তখন মাশআরে হারামের (মুজদালিফার) নিকট আল্লাহকে স্মরণ করো এবং তাঁকে তেমনভাবে স্মরণ করো, যেমনটি তিনি তোমাদের শিখিয়েছেন।” (সূরা আল-বাকারা: ১৯৮)।

আরও পড়ুন:

এই নির্দেশটি আরাফার ময়দানের অবস্থান এবং তার পরবর্তী ইবাদতের গুরুত্বকে আরও বেশি স্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে। প্রকৃতপক্ষে, আরাফার দিন হল চোখের পানি ফেলার দিন, একান্ত মোনাজাত, তাওবাহ ও আত্মবিশ্লেষণের দিন। এই দিনে হাজিগণ দ্বিপ্রহরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাত তুলে আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করেন, নিজেদের জীবনের জানা-অজানা সমস্ত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। মানুষ তার অতীত জীবনের ভুল-ত্রুটি ও অহংকার ধুয়ে-মুছে ফেলে এক নিষ্পাপ শিশুর মতো পবিত্র হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার দীপ্ত অঙ্গীকার করে। প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন,“আরাফার দিনের চেয়ে আর কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ তাআলা এত বিপুল সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন।” এই দিনে শয়তান সবচেয়ে বেশি লজ্জিত, অপমানিত ও বিতাড়িত বোধ করে। কারণ, সে মানুষের দীর্ঘদিনের জমানো পাপের পাহাড়কে আল্লাহর ক্ষমার সাগরে নিমেষেই বিলীন হয়ে যেতে দেখে। যেসব মুসলিম নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মক্কায় গিয়ে হজের এই মহাসম্মেলনে অংশ নিতে পারেন না, দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য এই দিনের বরকত থেকে বঞ্চিত করেননি। বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত সাধারণ মুসলমানদের জন্য আরাফার দিনে রোযা রাখার বিশেষ বিধান ও ফজিলত রয়েছে। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার দিনের রোযার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এই রোযা তার পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা বা ক্ষমা হিসেবে গণ্য হবে।” এই একটি মাত্র রোযা ঘরে বসেই একজন মুমিনকে ধৈর্য, আত্মসংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য সুযোগ করে দেয়।

আরও পড়ুন:

বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক পৃথিবীতে মানুষ বাহ্যিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের নৈতিকতা, আত্মিক শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। হিংসা, অহংকার, জাতিগত বিদ্বেষ-বৈষম্য, লোভ এবং চরম স্বার্থপরতা আজ পুরো বিশ্বসমাজকে এক গভীর অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে আরাফার শিক্ষা আমাদের চেতনাকে নাড়া দেয়। এটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর সব ক্ষমতা, ধন-সম্পদ ও অহংকার ক্ষণস্থায়ী। আল্লাহর দরবারে মানুষের গায়ের রঙ বা ব্যাংক ব্যালেন্সের কোনো মূল্য নেই, সেখানে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিষয় হল অন্তরের পবিত্রতা ও তাকওয়া। আরাফা কেবল চব্বিশ ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, এটি মানুষের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগ্রত করার এক জীবন্ত ও চিরন্তন পাঠশালা। এটি মানুষকে বিনয়ী হতে শেখায়, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে শেখায়, অন্যায়ের পথ ছেড়ে ন্যায়ের পথে ফেরার সৎ সাহস জোগায়। আজ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটা স্তরে মানুষ যদি আরাফার এই মহান ও সাম্যবাদী শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে পারে, তবে এই পৃথিবী থেকে সমস্ত যুদ্ধ, হানাহানি ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে এবং মানবসভ্যতা এক শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সুন্দর আগামীর দিকে এগিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder