BREAKING:
৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪ ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বিগুণ, কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জায়গা জমি নিয়ে মারপিঠের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ জয়নগরে অস্ত্র দেখিয়ে কয়লা কারবারিদের তোলাবাজি, জামুড়িয়ায় গ্রেফতার ২, চাঞ্চল্য শিল্পাঞ্চলে রাস্তা জুড়ে নামাজ পড়া বন্ধ করতে রাজাবাজারে পুলিশি অভিযান প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে উজ্জ্বল সাফল্য কাঞ্চননগরের গর্বিত শিক্ষার্থীদের ডুয়ার্সে হাতির হামলায় যুবক নিহত, মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ বন অফিস ঘেরাও তৃণমূল কাউন্সিলরদের দূর্নীতির প্রতিবাদে চন্দননগর পুর নিগমে বিক্ষোভ ডেপুটেশান দশ রাউন্ড কার্তুজ ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ চন্দননগরে দুই দুষ্কৃতি গ্রেফতার যুবকের গঙ্গায় ঝাঁপ, পাশের ঘাটে ভেসে উঠল দেহ, চুঁচুড়ায় চাঞ্চল্য চেন্নাইয়ের দুর্গ ভেঙে জয়ের হাসি লখনৌ শিবিরে গ্রামের কৃষকের ছেলের উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে স্থানাধিকার মন্দির মসজিদ গীর্জা সহ সকল ধর্মীয়স্থানে লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জনজাতি গরিমা উৎসব ২০২৬ নৈহাটিতে সাহিত্য আড্ডার আসর, ২০২৬ ডুয়ার্সে বেআইনি বালি পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, আটক ৩ ট্র্যাক্টর ও চালক.! মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ভয়েস পাবলিক স্কুলে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশি হানা ধূপগুড়িতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুরো নিগমের ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল

ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, দুপুর ৩:১৩ | আপডেট: ২৫ মে ২০২৬, দুপুর ৩:১৩

রফিক আনোয়ার: ভারতে ইসলামকে অনেক সময় ‘মোল্লাতন্ত্রের’ সঙ্গে এক করে দেখা হয়। কিন্তু ইসলাম একটি ধর্মীয়-নৈতিক আদর্শ, আর ‘মোল্লাতন্ত্র’ হল ধর্মীয় কর্তৃত্বকেন্দ্রিক সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো। এই দুটিকে এক করে দেখলে ইতিহাসের জটিলতা বোঝা যায় না। ভারতীয় মুসলিম সমাজে ধর্মীয় নেতৃত্ব কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠল, আর কেন অনেক সমালোচক মনে করেন, এতে ইসলামের মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক আদর্শ সংকুচিত হয়েছে — তা বুঝতে হলে ইতিহাসের কয়েকটি স্তর বিশ্লেষণ করতে হয়। প্রথম দিকের ইসলামী সভ্যতা ছিল জ্ঞানচর্চা ও বিতর্কের এক বিশাল ক্ষেত্র। বাগদাদ, কর্ডোভা কিংবা সমরকন্দে দর্শন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সাহিত্য সমান গুরুত্ব পেত। মুসলিম পণ্ডিতেরা শুধু ধর্মতত্ত্ব নয়; মানবজ্ঞানকে সামগ্রিকভাবে দেখতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক শাসক ও ধর্মীয় আলেমদের মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হয়। শাসকরা ধর্মীয় বৈধতা চাইত, আর আলেমরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতেন। ফলে ধর্মীয় ব্যাখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে এক বিশেষ শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে।

আরও পড়ুন:

এই প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘ইজতিহাদ’ থেকে ‘তাকলিদ’-এ ঝুঁকে পড়া। ইজতিহাদ মানে হল নতুন পরিস্থিতিতে স্বাধীন চিন্তা ও ব্যাখ্যা, আর তাকলিদ মানে পুরনো ব্যাখ্যাকে অনুসরণ করা। বহু অঞ্চলে ধীরে ধীরে এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয় যে, আগের ইমাম ও ফকিহদের ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত। এর ফলে সৃজনশীল চিন্তা ও নতুন সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রবণতা দুর্বল হতে থাকে। ভারতে ইসলামের আগমনও একরৈখিক ছিল না। ইসলাম শুধু বিজেতাদের মাধ্যমে আসেনি; সুফি সাধক, ব্যবসায়ী ও লোকজ সংস্কৃতির মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। সুফিরা স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংলাপ তৈরি করেন। তাঁদের ইসলাম ছিল তুলনামূলক মানবিক, আধ্যাত্মিক ও অভিযোজনক্ষম। দরগাহ, কাওয়ালি, আঞ্চলিক সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে ভারতীয় ইসলামের এক বহুত্ববাদী রূপ গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুন:

কিন্তু মুঘল যুগে দ্বৈত প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে আকবরের মতো শাসক ধর্মীয় সহনশীলতা ও বহুধর্মীয় আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেন। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে আরও রক্ষণশীল ও শরিয়তকেন্দ্রিক ধারা শক্তিশালী হয়। এই দ্বন্দ্ব আসলে ‘সাংস্কৃতিক ইসলাম’ ও ‘রাষ্ট্রীয় ইসলাম’-এর দ্বন্দ্ব ছিল। এখান থেকেই ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে থাকে। ঔপনিবেশিক যুগ এই প্রক্রিয়াকে আরও গাঢ় করে। ব্রিটিশ শাসনের ফলে মুসলিম অভিজাতদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। ফার্সি ভাষা হারায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। মুসলিম মধ্যবিত্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। আর সমাজে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে মুসলিম সমাজের একাংশ মনে করতে শুরু করে, তাদের পরিচয় রক্ষার প্রধান উপায় হল ধর্মীয় শৃঙ্খলা আঁকড়ে ধরা। এই পটভূমিতে দারুল উলুম দেওবন্দের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা ছিল ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। কিন্তু একই সঙ্গে ধর্মীয় কর্তৃত্বকে কেন্দ্রীভূত করাও চলতে থাকে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের দেশভাগ ভারতীয় মুসলিম সমাজে গভীর মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে। যারা ভারতে থেকে যায়, তাদের মধ্যে সংখ্যালঘু নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় নেতৃত্বকে ‘সমাজের রক্ষক’ হিসেবে দেখা শুরু হয়। ফলে সংস্কার বা আত্মসমালোচনার জায়গা সংকুচিত হতে থাকে। ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার তাগিদে অনেক সময় রক্ষণশীলতাকে জরুরি বলে মনে করা হয়। স্বাধীন ভারতে মুসলিম সমাজের বাস্তব সমস্যা — শিক্ষা, অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতা, স্বাস্থ্য বা কর্মসংস্থান — অনেক ক্ষেত্রেই পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির আড়ালে পড়ে যায়। রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতৃত্ব উভয়েই কখনও কখনও আবেগী পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়। এর ফলে ধর্মের নৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন দুর্বল হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন:

পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রক্ষণশীল ইসলামী ধারা ও অর্থায়নের প্রভাবও ভারতীয় মুসলিম সমাজে পরিবর্তন আনে। স্থানীয় সুফি ও লোকজ সংস্কৃতির জায়গায় আরবিকরণ, কঠোর আচরণবিধি ও বাহ্যিক পরিচয়ের ওপর জোর বাড়তে থাকে। ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এই প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করে। জটিল ধর্মতাত্ত্বিক বা নৈতিক আলোচনার বদলে ‘হারাম-হালাল’, পরিচয়ভিত্তিক উত্তেজনা ও আবেগী বক্তৃতা বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এই ইতিহাস একমুখী নয়। ভারতীয় মুসলিম সমাজের ভেতরেই সবসময় সংস্কারবাদী, যুক্তিবাদী, সুফি, নারীবাদী ও মানবিক ধারার উপস্থিতি ছিল এবং এখনও আছে। বহু মুসলিম চিন্তাবিদ আজও ইসলামের মূল আদর্শ — ন্যায়, জ্ঞান, মানবিকতা ও আত্মসমালোচনা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। তাই ‘ইসলাম মোল্লাতন্ত্র হয়ে গেছে’ বলা ইতিহাসকে অতি সরলীকরণ হবে। বরং বলা যায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধর্মীয় কর্তৃত্বের এমন কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা অনেক সময় ইসলামের বহুমাত্রিক ও মানবিক আদর্শকে সংকুচিত করেছে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder