BREAKING:
৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪ ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বিগুণ, কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডায়মন্ড হারবারের প্রশাসনিক বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জায়গা জমি নিয়ে মারপিঠের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ জয়নগরে অস্ত্র দেখিয়ে কয়লা কারবারিদের তোলাবাজি, জামুড়িয়ায় গ্রেফতার ২, চাঞ্চল্য শিল্পাঞ্চলে রাস্তা জুড়ে নামাজ পড়া বন্ধ করতে রাজাবাজারে পুলিশি অভিযান প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে উজ্জ্বল সাফল্য কাঞ্চননগরের গর্বিত শিক্ষার্থীদের ডুয়ার্সে হাতির হামলায় যুবক নিহত, মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ বন অফিস ঘেরাও তৃণমূল কাউন্সিলরদের দূর্নীতির প্রতিবাদে চন্দননগর পুর নিগমে বিক্ষোভ ডেপুটেশান দশ রাউন্ড কার্তুজ ও তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ চন্দননগরে দুই দুষ্কৃতি গ্রেফতার যুবকের গঙ্গায় ঝাঁপ, পাশের ঘাটে ভেসে উঠল দেহ, চুঁচুড়ায় চাঞ্চল্য চেন্নাইয়ের দুর্গ ভেঙে জয়ের হাসি লখনৌ শিবিরে গ্রামের কৃষকের ছেলের উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডে স্থানাধিকার মন্দির মসজিদ গীর্জা সহ সকল ধর্মীয়স্থানে লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশিকা জারি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জনজাতি গরিমা উৎসব ২০২৬ নৈহাটিতে সাহিত্য আড্ডার আসর, ২০২৬ ডুয়ার্সে বেআইনি বালি পাচারের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, আটক ৩ ট্র্যাক্টর ও চালক.! মাধ্যমিকের পর উচ্চমাধ্যমিকেও সাফল্যের পুনরাবৃত্তি ভয়েস পাবলিক স্কুলে বিষ্ণুপুরের বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশি হানা ধূপগুড়িতে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু পদত্যাগ করলেন চন্দননগর পুরো নিগমের ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল

বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয়

প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, রাত ৯:১২ | আপডেট: ২০ মে ২০২৬, সকাল ৮:৩৩

আবু হায়াত বিশ্বাস: মার্চ মাস। সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব তখন সবে শুরু হয়েছে। দিল্লির সংবিধান সদনে দলীয় অফিসে বসে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রভাবশালী নেতা সাংবাদিকদের সামনে বুক ঠুকে দাবি করেছিলেন, বাংলায় তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। ২০০-র বেশি আসন নিশ্চিত। বিজেপিকে রুখতে কারও প্রয়োজন নেই। ‘একাই যথেষ্ট মমতাদি’ — এই ভাষাতেই তিনি বিরোধীদের কার্যত উপহাস করেছিলেন। কংগ্রেসকে তুচ্ছ করে, সিপিএমকে রাজনৈতিকভাবে মৃত ঘোষণা করে তিনি এমন এক আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছিলেন, যেন নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিকতা, ফল আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছে। সেই সময় অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু আজ পরিষ্কার, সেটি আত্মবিশ্বাস ছিল না, ছিল সীমাহীন ঔদ্ধত্য।

আরও পড়ুন:

গত ৪ মে বাংলার মানুষ সেই ঔদ্ধত্যের জবাব দিয়েছে। তৃণমূল শুধু ক্ষমতা হারায়নি, ভেঙে পড়েছে তাদের ‘অজেয়’ ভাবমূর্তিও। দীর্ঘ ১৫ বছর শাসনের পর বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্রে কোনও দলই চিরস্থায়ী নয়। মানুষ যখন চুপ থাকে, তখন ক্ষমতাসীনরা প্রায়ই ভুল করে মনে করে নেয়, জনগণ সব মেনে নিচ্ছে। কিন্তু ভোটবাক্সে জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হলে সবচেয়ে শক্তিশালী বলয়ও ভেঙে পড়ে। বাংলার নির্বাচন সেই বাস্তবতারই নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তৃণমূল এই পরাজয় মেনে নিতেও পারেনি। ভোট চলাকালীন যাদের মুখে কোনও অভিযোগ ছিল না, ফল বেরোতে এখন তারাই বলতে শুরু করল ‘ভোট লুঠ হয়েছে’। অথচ গোটা নির্বাচন পর্বে বড় কোনও হিংসা, বুথ দখল বা ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ কার্যত সামনে আসেনি। বরং বহু বছর পর সাধারণ মানুষ অবাধে ভোট দিতে পেরেছে বলেই প্রকৃত জনমত প্রকাশ্যে এসেছে। এতদিন গ্রাম থেকে শহর — সর্বত্র শাসকদলের প্রভাব, ভয় এবং সংগঠিত দাদাগিরির অভিযোগ ছিল। মানুষ মনে করত, ভোট দেওয়া মানেই যেন এক অদৃশ্য চাপের মুখোমুখি হওয়া। এবার নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে সেই ভয় অনেকটাই কেটেছিল। মানুষ নিজের মতো ভোট দিয়েছে। আর সেই স্বাধীন ভোটই তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

মমতা ব্যানার্জি নিজেও রাজনৈতিক পরাজয়ের পর ন্যূনতম আত্মসমালোচনার পথে হাঁটেননি। বরং জনরায়ের মধ্যেও অজুহাত খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। এই মানসিকতা আসলে ক্ষমতার অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে অনেক সময় শাসকদল বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, সরকার মানেই দল, আর দল মানেই সরকার। সেই কারণেই বিরোধী কণ্ঠস্বরকে উপহাস করা হয়েছে, সমালোচনাকে ষড়যন্ত্র বলা হয়েছে, আর সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর ছিল দুর্নীতি। গত কয়েক বছরে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে রাজ্যের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন কেলেঙ্কারি, কয়লা পাচার, গরুপাচার, বালি মাফিয়া — অভিযোগের তালিকা এত দীর্ঘ যে, সাধারণ মানুষের মনে একটা ধারণা স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল, দুর্নীতিই যেন প্রশাসনের স্বাভাবিক সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল চাকরি দুর্নীতি নিয়ে। হাজার হাজার যোগ্য চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর আন্দোলন করেছেন। রাস্তায় বসে থেকেছেন। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। অথচ সরকার তাদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার বদলে প্রায়শই উদাসীন থেকেছে। শিক্ষিত যুবকদের মনে এই ক্ষোভ গভীরভাবে জমেছিল। তার প্রতিফলন এবার ভোটে স্পষ্ট হয়েছে।

আরও পড়ুন:

তৃণমূল সরকার উন্নয়নের বদলে অনুদানের রাজনীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল। লক্ষ্মীর ভান্ডার, যুবসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজসাথী, শ্মশানসাথী, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, শ্রমশ্রী ইত্যাদি বিভিন্ন অনুদান — এগুলি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারে না। বাংলার যুবসমাজ চাকরি চেয়েছিল, শিল্প চেয়েছিল, স্থায়ী কর্মসংস্থান চেয়েছিল। কিন্তু গত এক দশকে রাজ্যে বড় শিল্প আসেনি বললেই চলে। সিঙ্গুরের পর শিল্পায়নে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আর পূরণ হয়নি। ফলে একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে, অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ ভিনরাজ্যে কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। এই হতাশা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। তৃণমূলের আর এক বড় ব্যর্থতা ছিল, প্রশাসনের দলীয়করণ। পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা সর্বত্র ‘সিন্ডিকেট রাজ’, কাটমানি, তোলাবাজির অভিযোগ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠেছিল। অনেকেই মনে করতেন, সরকারি সুবিধা পেতেও দলীয় আনুগত্য জরুরি। সাধারণ মানুষ যখন প্রশাসনের উপর আস্থা হারাতে শুরু করে, তখন সরকারের ভিত দুর্বল হতে বাধ্য। তৃণমূল সেই সংকেত বুঝতেই পারেনি। দেওয়াল লিখন পড়তে পারেনি।

আরও পড়ুন:

এই নির্বাচনে বাংলার সামাজিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন ঘটেছে। এতদিন যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে তৃণমূল নিজের স্থায়ী সম্পদ বলে ধরে নিয়েছিল, সেখানে এবার ফাটল দেখা গিয়েছে। মুসলিম ভোট বিভিন্ন এলাকায় বিভক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের বড় অংশ একজোট হয়েছে বিজেপির পক্ষে। বাংলার রাজনীতিতে এমন মেরুকরণ আগে এত তীব্রভাবে দেখা যায়নি। এর জন্য অনেকাংশে দায়ী তৃণমূলের রাজনীতি। একদিকে সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগ, অন্যদিকে আবার জগন্নাথ মন্দির বা মহাকাল মন্দিরের মতো প্রতীকী হিন্দুত্ব — এই দ্বৈত রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং বিজেপিকে ‘হিন্দু স্বার্থের রক্ষক’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর একসময় তৃণমূলকে সতর্ক করেছিলেন — ধর্ম নয়, উন্নয়নকে সামনে রাখতে। কিন্তু সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেই তৃণমূল ধর্মীয় প্রতীকের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফল হয়েছে উল্টো। বিজেপি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে ‘হিন্দু বিরোধী’ এবং ‘মুসলিম তোষণকারী’ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি থেকে আর বেরোতে পারেনি তৃণমূল।

আরও পড়ুন:

এবারের ভোটে আর একটি বড় ফ্যাক্টর ছিল, ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর প্রত্যাশা। কেন্দ্রের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের রাজনীতি করতে গিয়ে বাংলার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে — এই ধারণা মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছিল। বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে সংঘাত, কেন্দ্র বিরোধিতাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, এবং প্রতিটি বিষয়ে সংঘর্ষের রাজনীতি একাংশ মানুষের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছিল। বিজেপি সেই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল, ভোটে হারের পর তৃণমূলের ভিতর থেকেই ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। এতদিন যারা বিজেপিকে আক্রমণ করতেন, তাঁরাই এখন গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার পথ খুঁজছেন। যারা এতদিন মমতা ব্যানার্জির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, তারাই আজ বলছেন, ‘দল দুর্নীতির আখড়া হয়ে গিয়েছিল’। প্রশ্ন হচ্ছে, এতদিন তাঁরা চুপ ছিলেন কেন? ক্ষমতার সুবিধা নেওয়ার সময় কি দুর্নীতি চোখে পড়েনি? আসলে ক্ষমতা চলে গেলে অনেকের বিবেক জেগে ওঠে।

আরও পড়ুন:

এই নির্বাচন আরও একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলির সীমাবদ্ধতা এখন স্পষ্ট। তৃণমূল, আপ, বিজেডি, এনসিপি, শিবসেনা একের পর এক আঞ্চলিক শক্তি দুর্বল হয়েছে। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকেই কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে মেনে নিতে হচ্ছে। অথচ গত কয়েক বছরে মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর দল কংগ্রেসকে দুর্বল করতে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বকে খাটো করতে কোনও সুযোগ ছাড়েনি। বিরোধী জোটের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা, গুরুত্বহীন প্রতিনিধি পাঠানো, ব্ল্যাকমেলের রাজনীতি সবই করেছে। আজ ক্ষমতা হারিয়ে আবার সেই কংগ্রেসের দিকেই তাকাতে হচ্ছে। আসলে রাজনৈতিক ক্ষমতা অনেক সময় বাস্তববোধ কেড়ে নেয়। তৃণমূলও সেই ভুল করেছে। তারা ভেবেছিল, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, খয়রাতির রাজনীতি, সংগঠনের দাপট, আর ভয় দেখিয়ে চিরকাল ক্ষমতায় থাকা যায়। কিন্তু গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে মানুষ। বাংলার মানুষ এবার সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। এই নির্বাচন তাই শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক দম্ভ, দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে মানুষের ঐতিহাসিক রায়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder