সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
নতুন পয়গাম, অসিম আক্রাম, সাগরদিঘী: সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্র এখন যেন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক রণক্ষেত্র। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস, অন্যদিকে মহাজোটের শরিক এসডিপিআই-এর প্রার্থী মশিউর রহমান। দুই প্রার্থীর মধ্যে এই লড়াই বেশ জমে উঠেছে। বুধবার এসডিপিআই প্রার্থী মশিউর রহমান বখারা ১ অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তাদের সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা শোনেন, সঙ্গে নিজের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন। এসডিপিআই নেতৃত্বের দাবি, ইতিমধ্যেই মশিউর রহমানের প্রচারে অসাধারণ সাড়া মিলছে। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, এবং ক্রমেই ভোটারদের আস্থা অর্জন করছেন।
অন্যদিকে বুধবার দুপুরে তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাসের নেতৃত্বে আয়োজিত হয় এক বিশাল বাইক র্যালি ও মিছিল, যা কার্যত শক্তি প্রদর্শনে রূপ নেয়। র্যালিটি কাবিলপুর অঞ্চল থেকে শুরু হয়। হুড খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনসংযোগ করেন বাইরন বিশ্বাস। 
রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাগরদিঘী। মাত্র কয়েকদিন আগেই তিনি সাগরদিঘি তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদ ছেড়ে মশিউর রহমান এসডিপিআই-এ যোগ দেন। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল এবং ক্ষমতার টানাপড়েনের কারণেই কি এই পদত্যাগ ও দলবদল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাগরদিঘীতে তৃণমূলের ভিতরেই রয়েছে একাধিক শিবির। সেই ফাটল ব্যবহার করেই এসডিপিআই এখন নিজের ঘাঁটি শক্ত করতে চাইছে। অবশ্য তৃণমূল নেতৃত্ব এ ঘটনাকে হালকাভাবে নেয়নি। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মশিউর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুই প্রার্থী জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূলের পক্ষে বাইরন বিশ্বাস উন্নয়নের পাঁচালী ও সরকারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরছেন। অন্যদিকে মশিউর রহমান দাবি করছেন, স্থানীয় মানুষ প্রকৃত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত, প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কেন্দ্রে লড়াই এতটাই জমে উঠেছে যে শেষ মুহূর্তের কোনো উলটপালট ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। প্রচারের শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখাচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে বাজিমাত করবেন, তা নির্ধারণ করবেন সাগরদিঘীর সাধারণ মানুষই। আগামী কয়েকদিনের প্রচারণা আর জনসভার মেজাজই অনেকখানি ইঙ্গিত দেবে কার দিকে ঝুঁকছে ভোটের পালা।








