নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি, ১৪ মে: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানতে চেয়েছে, যখন সিবিআই ডিরেক্টর নির্বাচন কমিটিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সদস্য হিসেবে থাকতে পারেন, তখন নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কেন কোনও স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সদস্য রাখা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, তাই এর নিয়োগ প্রক্রিয়াও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হওয়া প্রয়োজন।
শুনানির সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে সিবিআইয়ের গুরুত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, যদি প্রধান বিচারপতি সিবিআই ডিরেক্টর বাছাইয়ে অংশ নিতে পারেন, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন তিনি বা অন্য কোনও স্বাধীন সদস্য কমিটিতে থাকবেন না? তিনি স্পষ্ট করে জানান, আদালত বাধ্যতামূলকভাবে প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিচ্ছে না, তবে একটি নিরপেক্ষ প্রতিনিধির উপস্থিতি গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কি না, সেটাই বিচার্য।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য গঠিত কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন সদস্য। সুপ্রিম কোর্টের মতে, এই ব্যবস্থায় কার্যত নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বেশি থেকে যেতে পারে। কারণ, মতভেদ হলে সিদ্ধান্ত ২-১ ভোটে নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্য সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের বিরোধিতা করবেন এমন সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। ফলে বিরোধী দলের মতামত অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান, বাস্তবে সব ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি নাও ঘটতে পারে এবং আগাম অনুমান করা ঠিক নয়। তবে আদালত মন্তব্য করে, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদের থাকলেও সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণের চূড়ান্ত দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপরই ন্যস্ত। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি আদালত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সেই বিতর্ককে আরও নতুন মাত্রা দিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এল।








