একশ কোটি টাকারও বেশি আয়কর ফাঁকি দেশের ২০ জায়গায় তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত টাকা-সোনা
কলকাতা: একশো কোটি টাকারও বেশি আয়কর ফাঁকি মামলায় মুম্বইয়ের নাসিক-সহ কলকাতা, শিলিগুড়ি ইত্যাদি ২০টা জায়গায় সোমবার একযোগে তল্লাশি চালাল আয়কর দপ্তর। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর নাম করে লেনদেনের ভুয়ো নথি জমা দেওয়া হয় আয়কর রিটার্নের সময়। আয়কর না দেওয়া অর্থ হাওলার মাধ্যমে ক্রিপ্টো কারেন্সি কারবারে খাটানো হয়েছে। এমনকি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা সিএসআর-এর টাকা নিয়ম ভেঙে নগদে এনজিও-কে দেওয়া হয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে এদিনের তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ, সোনার অলংকার সহ বিভিন্ন সামগ্রী। বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গাঁটছড়া আছে বলে দাবি করে আসছিল এখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এহেন প্রতিষ্ঠানগুলির জমা দেওয়া রিটার্ন নিয়ে সন্দেহ হয় আয়কর দপ্তরের। আয়কর কর্তারা বিগত পাঁচ বছরে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির জমা দেওয়া রির্টানের কপি বিশ্লেষণ শুরু করেন। তাতে দেখা যায় তারা অ্যাডমিশন ফি, এক্সাম ফি, স্টাডি মেটিরিয়াল, ল্যাব চার্জ-সহ বিভিন্ন খাতে টাকা নিয়েছে। এমনকি পড়ুয়াদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলি।
অনুসন্ধানে নেমে দেখা যায়, গোটা প্রক্রিয়াটি চলেছে দেশে বসেই। বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করে যে টাকা তোলা হয়েছে, সেগুলি তাদের অ্যাকাউন্টে যায়নি। তাদের নামে দেশে ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এমনকি কোনও ছাত্র-ছাত্রীকে তারা বিদেশে পড়তেও পাঠায়নি। দেশ থেকেই সমস্ত সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, বিভিন্ন ভুয়ো খরচ দেখানো হয়েছে কর্পোরেট এক্সপেন্সেসের নাম করে। তার ভিত্তিতে দেশের ২০টি জায়গায় সোমবার সকাল থেকেই একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামে আয়কর দপ্তর।
কলকাতার চেতলা, পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড, নিউটাউন-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা বিভিন্ন নথি ঘেঁটে আয়কর কর্তারা বিপুল আর্থিক লেনদেনের খোঁজ পেয়েছেন। ভুয়ো লেনদেন দেখানোর জন্য একাধিক কাগুজে কোম্পানিতে টাকা ঘোরানো হয়েছে। সেই টাকা আবার ঘুরপথে চলে এসেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে। এই বিপুল নগদ টাকা হাওলার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। যার একটা অংশ ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করা রয়েছে। সেই সঙ্গে সিএসআরের নামে বিভিন্ন এনজিওতে নগদ যাওয়ার খোঁজ পেয়েছেন আয়কর কর্তারা। সব মিলিয়ে জানা যায়, এভাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।








