BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ | আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সকাল ১০:০১
১৯৪৬-৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এও স্থির হয়ে যায় যে, স্বাধীন ভারতে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হবে। এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন। নির্বাচনে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার থাকে। কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণ থাকা নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও যথেষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা থাকা দরকার।

মজিবুর রহমান:১৯৪৬-৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এও স্থির হয়ে যায় যে, স্বাধীন ভারতে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত হবে। এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন। নির্বাচনে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার থাকে। কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণ থাকা নির্বাচন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্দিষ্ট ও যথেষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা থাকা দরকার। এরূপ ভাবনা থেকেই সংবিধান প্রণয়নের কাজে নিযুক্ত গণপরিষদ সংবিধানের পঞ্চদশ অংশে ৩২৪–৩২৯ ধারার মধ্যে নির্বাচন সম্পর্কে আলোকপাত করে। নির্বাচন কমিশন গঠন ও তার কার্যাবলী উল্লেখ করা হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ অংশের পরিপূরক হিসেবে ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন রচিত হয়।
সংবিধানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়। তবে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছে করলে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারও নিয়োগ করতে পারেন। ১৯৮৯ সালে নবম লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র একদিন আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অধীনে প্রথম বারের মতো আরও দু’জন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি ওই দু’জন নির্বাচন কমিশনারকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে নির্বাচন কমিশন পুনরায় তিন সদস্যবিশিষ্ট হয়। কমিশনারদের কার্যকালের মেয়াদ ৬ বছর। তবে বয়স ৬৫ বছর হলে আর ওই পদে থাকা যায় না। অন্যান্য কমিশনারদের সহজেই বরখাস্ত করার নিয়ম থাকলেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করার জন্য সংসদে অভিশংসন প্রস্তাব (ইম্পিচমেন্ট মোশন) পাস করতে হয়।
নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করার জন্য নির্বাচনের ঠিক পূর্বে আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করা যায়। যেমন- প্রথম সাধারণ নির্বাচনে দু’জন এবং অষ্টম লোকসভা নির্বাচনে ছ’জন আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের কার্যকালের মেয়াদ ৬ মাস। নির্বাচনের তিন মাস পূর্বে তাঁদের নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে প্রতি রাজ্যে একজন করে পূর্ণ সময়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার (সিইও) রয়েছেন। তিনি নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থার মধ্যে যোগসূত্র রক্ষা করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতি জেলায় একজন করে জেলা নির্বাচন আধিকারিক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই পদে কোনো পৃথক ব্যক্তি নিযুক্ত হন না। জেলাশাসকরাই সাধারণত এই দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে ডিএম, এসডিও, বিডিও-রা ভোটের সময় বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। মহকুমা শাসকদের ‘ভোটার তালিকাভুক্তি আধিকারিক’ (ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও) এবং ব্লক পর্যায়ের কর্মীদের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) হওয়ার কথা। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকরা বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও হিসেবে কাজ করেন। এছাড়াও প্রতিটি নির্বাচনের সময় কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী ভোট গ্ৰহণ ও গণনার জন্য নিযুক্ত হন।
সংবিধানের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল পার্লামেন্ট, রাজ্য-আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যাবলীর তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করা। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ। সংবিধান প্রবর্তনের সময় ভোটদাতার ন্যূনতম বয়স ছিল ২১ বছর। ১৯৮৮ সালে ৬১তম সংবিধান সংশোধনে ১৮ বছর করা হয়। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বীকৃতিদান ও স্বীকৃতি প্রত্যাহার, প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ এবং বিজয়ী প্রার্থীদের শংসাপত্র প্রদান করে।
নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা প্রথমে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের হাতে অর্পণ করা হয়। কিন্তু ১৯৬৬ সালে ১৯তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
নির্বাচনে ‘অসাধু আচরণ’ তথা উৎকোচ প্রদান, ভোটারদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটপত্র অপসারণ প্রভৃতি কাজের জন্য নির্বাচন কমিশন যে কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার ৬ বছরের জন্য কেড়ে নিতে পারে। অসাধু আচরণ করার জন্য শিবসেনার প্রয়াত শীর্ষনেতা বালা সাহেব ঠাকরে একবার তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। কোনো আদালত কর্তৃক নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ বা দুর্নীতিমূলক আচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই আইনের প্রয়োগ ঘটেছিল লালু প্রসাদের ক্ষেত্রে।
ভোট প্রদানের মাধ্যমে একজন নাগরিক তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ছাড়া সংসদীয় শাসনব্যবস্থা সাফল্য লাভ করতে পারে না। এজন্য মাঝেমধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন হয়। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি.এন শেষনের আমলে (১৯৯০-৯৬) একাধিক উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন হতে দেখা যায়। যেমন, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন থেকে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য আদর্শ আচরণবিধি (মডেল কোড অব কন্ডাক্ট) কার্যকর হয়। প্রচারের জন্য প্রার্থীদের ব্যয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়। প্রচারণায় সাম্প্রদায়িক ও বর্ণভিত্তিক মন্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়। ভোট প্রচারের সময় মন্ত্রিসভা তথা আইনসভার সদস্যদের সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। ১৯৯৩ সালে সকল ভোটারের জন্য সচিত্র পরিচয়পত্র বা এপিক চালু হয়। এখন ভোটার লিস্টেও ভোটারের ফটো থাকে। বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়া হয়। ১৯৯৯ সাল থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট গ্ৰহণ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে ভোটগ্ৰহণ কেন্দ্রে গিয়েও একজন ভোটারের কোনও প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ইভিএম-এ ‘নোটা’ সংযুক্ত করা হয়। ভিভিপ্যাট থেকে ভোটার দেখে নিতে পারেন, তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দিলেন, তিনিই সেই ভোট পেলেন কিনা। আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটপর্ব শেষ হবার অব্যবহিত পরে ভোটগ্ৰহণ কেন্দ্রেই গণনা হত, এখন তা দিনকয়েক পর বিডিও অফিসের তত্ত্বাবধানে করা হয়। ২০১১ সাল থেকে ২৫ জানুয়ারি ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপন করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন নিয়মিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা রিভিশন করে। বর্তমানে এই ত্রৈমাসিক প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের নাম সংযোজন এবং মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বিয়োজন করা হয়। এই একই কাজ বৃহৎ আকারে ‘নিবিড় সংশোধন’ বা ইনটেনসিভ রিভিশন (আই.আর) নাম দিয়ে ১৯৫২ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ৮ বার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শেষ বারের মতো হয় ২০০২ সালে। পূর্বতন ‘আই.আর’ ২০২৫ সালে বিহার থেকে ‘এসআইআর’ বা ‘স্যার’ হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ‘স্যার’-এর উদ্দেশ্য একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির থেকেও বেশি কিছু বলে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যেকোন মূল্যে এরাজ্যে বিরাট সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলে মনে হচ্ছে। প্রথমত, ‘স্যার’-এর জন্য নথিপত্রের যে তালিকা নির্ধারণ করা হয়, তা এ রাজ্যের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সকল সরকারি-বেসরকারি কাজে বহুল ব্যবহৃত আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড ‘স্যার’-এ ব্রাত্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধার কার্ডকে মান্যতা দিলেও তার সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রশ্ন জুড়ে দেওয়ায় বিভ্রান্তি ও বিতর্কের অবসান ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে গণ্য করা হয়। ২০০২ সালের পূর্বের অথবা ২০০২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ের ভোটার তালিকাগুলোর একটিও গ্ৰহণযোগ্য হয়নি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবেই অযৌক্তিক। তবুও বিএলও-দের অক্লান্ত পরিশ্রম ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে দেখা যায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম বাদ পড়া ছাড়া বাকি সবকিছু মোটামুটিভাবে ঠিক আছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল, মতুয়াদের সমস্যার সমাধান-সহ খসড়া তালিকা সংশোধন করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা। কিন্তু তা না করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে ইললজিক্যাল অ্যাকটিভিটি শুরু করা হয়েছে। প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের নাম সন্দেহের তালিকায় উঠেছে। বেশকিছু বুথে ৫০ শতাংশের বেশি ভোটারকে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’-র অযৌক্তিকতার কারণে অশীতিপর-নবতিপর নাগরিক, রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জাতীয়-আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং সাংসদ-বিধায়কদের শুনানিতে ডাক পড়ছে। হিয়ারিং-এর নামে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ ‘ডি-ভোটার’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। নির্বাচন কমিশন কার্যত ‘নির্যাতন কমিশন’ হয়ে উঠেছে। কমিশনের নিত্যনতুন ফরমান কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে তথা অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেক বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। অনেক জায়গায় বিএলও-রা গণইস্তফা দিয়েছেন। অনেক সাধারণ মানুষ এসআইআর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অথবা আত্মহত্যা করে বসছেন। শুনানি কেন্দ্রগুলোতে মানুষ তিতিবিরক্ত হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে এরাজ্যে এমন লঙ্কাকাণ্ড এর আগে কখনও ঘটেনি। ঘোষিত উদ্দেশ্যের আড়ালে কমিশনের অন্য অভিসন্ধি রয়েছে বলেই এমনটি ঘটছে। তাছাড়া এখন যেহেতু ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ব্যবস্থা রয়েছে, সেহেতু আড়ম্বরপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে প্রচুর ক্ষমতা। কিন্তু সেই ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে। কমিশন ‘লক্ষ্মণ রেখা’ মেনে কাজ না করলে সমস্যা সৃষ্টি হবেই। কমিশনকে বাস্তবসম্মত নিয়মাবলি ও নির্দেশাবলী জারি করতে হবে এবং সেই সঙ্গে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সেই কাজে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder