BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০
ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই মামলা নানা পর্যায় পেরিয়ে অবশেষে শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত একটি চূড়ান্ত রায় মিলবে। অথচ সেই রায় এখনও অধরা। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ কী? কোথায় আইনি জটিলতা? পক্ষে ও বিপক্ষে কোন যুক্তিগুলি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে? এবং এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আজ এই আলোচনা।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীর বেতনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে ন্যূনতম সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার এই ভাতার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট হারে ডিএ পাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বৈষম্য থেকেই মামলার সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক জটিল সাংবিধানিক ও আর্থিক বিতর্কে।
এই মামলার প্রধান আইনি প্রশ্নটি খুব সরল দেখালেও তার অন্তর্গত স্তরগুলি অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের যুক্তি হল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো ও দায়বদ্ধতা কেন্দ্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতএব কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য হারের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অপরদিকে কর্মচারী পক্ষের যুক্তি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতার জন্য আলাদা হয় না, বাজারের আগুনে পুড়তে হয় সবাইকেই। একই দেশে বসবাস করে একই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহ্য করে যদি এক শ্রেণি পূর্ণ ডিএ পায়, তবে অন্য শ্রেণিকে বঞ্চিত করার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালতকে দাঁড় করাতে হয়েছে নিজেকে। কারণ, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের মামলা নয়; বরং এর প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রভাব রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল। আদালতের একটিমাত্র নির্দেশে রাজ্য সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় নিতে হতে পারে — এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিচারব্যবস্থার ইতিহাস বলছে, যে সব মামলার রায়ের সঙ্গে বৃহৎ আর্থিক দায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে আদালত স্বাভাবিকভাবেই অধিক সতর্ক হয়। তড়িঘড়ি রায় দেওয়ার বদলে প্রতিটি যুক্তি, প্রতিটি নজির, প্রতিটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই মামলার নজিরমূলক চরিত্র। ডিএ সংক্রান্ত এই রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। যদি আদালত কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য ডিএ-র সামঞ্জস্য বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে, তবে বহু রাজ্য একই দাবির মুখে পড়বে। ফলে এটি কার্যত একটি জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। বিচারপতিরা ভালভাবেই জানেন, এই রায়ের প্রতিটি বাক্য ভবিষ্যতে অসংখ্য মামলায় উদ্ধৃত হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বাস্তবে এই সময়টাই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য পর্যায়। একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ হলে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও নোট থাকে। কখনও কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও সংখ্যালঘু মতের খসড়া তৈরি হয়। এই মতপার্থক্য মেটাতে সময় লাগে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিশদে পর্যালোচনা করে দেখতে হয়, কোন নজির এখানে প্রযোজ্য, কোনটি নয়।
এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম আইনি জটিলতা রয়েছে। ডিএ কি মৌলিক অধিকার, নাকি এটি সম্পূর্ণরূপে নীতিগত সিদ্ধান্ত? যদি আদালত একে নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়, তবে সরকারের বিবেচনাধিকার অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার যদি আদালত মনে করে, ডিএ বঞ্চনা জীবনযাত্রার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই দুই ব্যাখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদালতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।
রায় বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বাস্তবতাও রয়েছে। আদালতের উপর মামলার চাপ, বিচারপতির স্বল্পতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার একসঙ্গে শুনানি — সব মিলিয়ে বিচারব্যবস্থার সময়সূচি অত্যন্ত ঘন। তবে এই যুক্তি যতই বাস্তব হোক, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের কাছে তা সান্ত্বনা দিতে পারে না। তাঁদের কাছে প্রতিটি মাস মানে আরও কিছু আর্থিক ক্ষতি, আরও কিছু অনিশ্চয়তা।
এই দীর্ঘসূত্রিতা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যখন একটি মামলা শুনানি শেষ হওয়ার পরেও মাসের পর মাস রায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জন্মায়, কোথাও কি অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? যদিও এই ধারণার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবু গণতন্ত্রে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
সমাধানের পথ একাধিক। প্রথমত, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংরক্ষিত রায় দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী কোনও সমাধান খোঁজা যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কিছুটা স্বস্তি মেলে। তৃতীয়ত, ডিএ নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী সূত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
ডিএ মামলার রায় কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের ঘোষণা। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দেবে, মূল্যবৃদ্ধির যুগে শ্রমের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রায়ের প্রতীক্ষা শুধু আদালতের করিডোরে নয়, প্রতিটি কর্মচারীর রান্নাঘরে, প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যত দেরিই হোক, প্রত্যাশা একটাই — রায় হবে যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কারণ, বিচার দেরিতে হলেও তা যেন অস্বীকারে পরিণত না হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder