BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

অসীম সরকারের মিথ্যাচার বনাম প্রকৃত তথ্য

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২২ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:২৮
নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম 'হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস'। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।

এম আমিনুল আম্বিয়া

আরও পড়ুন:

নদীয়া জেলার হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম কুমার সরকার পবিত্র জীবনবিধান কুরআন সম্পর্কে যে কুরুচিকর এবং জঘন্য মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে দেশ-বিদেশ জেনে গেছে। তাঁর ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে যতটুকু শুনেছি, তাতে তিনি বলেছেন, পৃথিবীতে আসল কুরআন নাকি আর কোথাও নেই! কারণ, আসল কুরআন বদরের যুদ্ধের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়! এরপর তিনি দাবি করেন, পি.কে হিট্টির ইতিহাসে লেখা আছে, ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! যদিও পি.কে হিট্টির কোন বইতে একথা লেখা আছে, সে বইটির নাম তিনি বলেননি। শুধু তাই নয়, পি.কে হিট্টির নামটাও সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেননি! যারা ইসলামের ইতিহাস পড়েছেন, তারা জানেন পি.কে হিট্টির লেখা একটি বিখ্যাত বই আছে, যার নাম ‘হিস্ট্রি অফ দ্য অ্যারাবস’। অসীমবাবু সম্ভবত এই বইটি দেখেননি, কারো মুখে শুনে হয়ত সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য বইটির লেখকের নাম উল্লেখ করেছেন।
এরপর তিনি বলেছেন, কুরআনে লেখা আছে, হে মুসলমানেরা! কাফেরদের (অমুসলমান) যেখানেই পাবে হত্যা করবে, বন্দী করবে এবং নির্মমভাবে অত্যাচার করবে! এরপর তিনি দাবি করেন, ওনার কাছে যে কুরআন আছে, সেটি তাজ কোম্পানির কুরআন। গো-মাংস ভক্ষণ না করলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। মোটামুটি অসীম সরকারের বক্তব্য এমনটাই শোনা গেছে।
এবার আসুন, তাঁর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে একটু আলোচনা করি। কুরআন সংকলনের ইতিহাস যারা জানেন, তারা অবগত আছেন, কুরআন কোন বই বা পুস্তক আকারে অবতীর্ণ হয়নি, প্রয়োজন অনুসারে জিবরীল ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে ঐশীবাণী আকারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। নবী (সা.)-এর সাহাবা বা সাথীরা সেই কথাগুলিকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করতেন। কেউ চামড়ায় লিখে রাখতেন, কেউ পাথরে খোদাই করে রাখতেন, কেউ মুখস্ত করে নিতেন।
বদর যুদ্ধের সময়ে পাণ্ডুলিপি বা কপি আকারে পৃথিবীতে কোথাও কুরআন ছিল না। তখনও সম্পূর্ণ কুরআন নাযিল হয়নি। দ্বিতীয় হিজরীতে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু কুরআন তারপরও আট বছর ধরে পর্যায়ক্রমে নাযিল হয়েছে। নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় সমগ্র কুরআন একত্রিত করে কপি আকারে সংরক্ষিত হয়নি। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে প্রথম সমস্ত লেখাকে সংগ্রহ করে কপি আকারে তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে চতুর্থ খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর সময় প্রথম কপিকে সামনে রেখে আরো অনেকগুলো কপি তৈরি করা হয়। অতএব বোঝা গেল বদরের যুদ্ধে কুরআনের কপি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট।
যে কপির কোন অস্তিত্বই যখন ছিল না, সেটা পুড়ে যাওয়ার প্রশ্ন বতুলতা মাত্র। এরপর তিনি পি.কে হিট্টির নামে দাবি করেছেন, তার ইতিহাসে নাকি লেখা আছে ২৭ জন শয়তান মিলে এই কুরআন লিখেছে! ইসলামের ইতিহাস এবং আরবের ইতিহাস চর্চাকারী প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তি পি.কে হিট্টির অর্থাৎ ফিলিপ.কে. হিট্টির লেখা বই History of the Arabs পড়েছেন। ওই বই পড়ে আজও পর্যন্ত অসীম সরকারের মতো এমন দাবি কেউ কস্মিনকালেও করেননি। বইটি ইন্টারনেটে সার্চ করলে যে কোন ব্যক্তি নিজেও পড়ে দেখতে পারেন, সেখানে এমন কোন কথা লেখা নেই। যে ব্যক্তি পি.কে হিট্টির নামটা পর্যন্ত ঠিকঠাক উচ্চারণ করতে পারেন না, তার লেখা বইয়ের নামটাও জানেন না, তিনি এমন একটা কাল্পনিক দাবি করেছেন, যে দাবির পক্ষে ইসলামের কোন শত্রুর বই থেকেও কোনো উদ্ধৃতি তিনি দিতে পারবেন না। ইসলামের শত্রু সালমান রুশদি স্যাটানিক ভার্সেস লিখে এমন এক ধোঁয়াশা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল; কিন্তু তিনিও সমগ্র কুরআন সম্পর্কে এমন কথা বলতে পারেননি। স্যাটানিক ভার্সেসেও এমন কথা লেখা নেই।
এরপর অসীমবাবু দাবি করেছেন, তাঁর কাছে যে তাজ কোম্পানির কুরআন আছে, গরু না খেলে সেই কুরআন সংগ্রহ করা যায় না। তাহলে তার বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি, তিনি গরু খেয়েই ওই কুরআন সংগ্রহ করেছেন! তিনি নিজেকে গো-মাংস ভক্ষণকারী হিসেবে প্রমাণ দিলেন। তার কথা শুনে যে গো-মাতার ভক্তরা তাকে নিয়ে লাফাচ্ছে, তাদের তো এটা ভাবা দরকার ছিল, যে ব্যক্তি গো-মাতাকে ভক্ষণ করে, সেই ব্যক্তির কথা বিশ্বাস করা যায় কিনা? যাহোক, এবারে আমি কুরআন সম্পর্কে তাঁর যে মূল অভিযোগ, সে বিষয়ে আলোকপাত করব।
তিনি একটি পোস্টে কুরআনের একটি পাতার ছবি দিয়ে তার বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, কুরআনে লেখা আছে, কাফেরদের যেখানে পাবে, সেখানেই হত্যা করো, বন্দী করো ইত্যাদি। তার ভক্তেরা এতে খুবই খুশি হলেও তিনি যে আসলে বড় মূর্খ, সেটা তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন। কারণ, তিনি কুরআনের যে আয়াতের অনুবাদের ছবি দিয়েছেন, সেটি কুরআনের সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াত। অথচ তিনি যদি সত্যিকার পড়াশোনা জানতেন, তাহলে নিশ্চয়ই পাঁচ নম্বর আয়াতের আগে-পরে ৪ এবং ৬ নম্বর আয়াত তাঁর চোখে পড়ত। তাহলে তিনি বুঝতে পারতেন কুরআন অমুসলিমদের হত্যা করতে বলছে না; বরং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার জোরালো নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:


কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াত নিয়ে ইসলাম বিরোধীদের প্রোপাগান্ডা যুগ যুগ ধরে ধরে জারি রয়েছে এবং আজও চলেছে, কিন্তু সত্যের অনুসারীরা সঠিকটা জানতে পারার পরে অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই সত্য প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন, এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। যেমন কানপুরের অধিবাসী স্বামী লক্ষ্মী শংকরাচার্য। তাঁর পিতা-মাতা দু’জনেই নামজাদা অধ্যাপক ছিলেন, তিনি নিজেও শিক্ষিত, প্রথম জীবনে প্রচণ্ড ইসলাম-বিরোধী ছিলেন। কুরআনের সূরা তাওবা-র ৫ নম্বর আয়াতকে অবলম্বন করে তিনি ইসলাম-বিরোধী বই লিখে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িতও করেছিলেন। তাঁর সেই বই হিন্দুত্ববাদীরা ব্যাপক আকারে প্রচার করেছিল। কিন্তু এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা জানার পরে তিনি নতুন বই লিখেছিলেন, যে বইটার নাম ইসলাম সন্ত্রাসবাদী ধর্ম নয় বরং একটি আদর্শ (ইসলাম আতঙ্ক নেহি, আদর্শ হ্যায়)। এই বইটি ভারতবর্ষ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে বহু ভাষায় অনুবাদ ও প্রচার হয়েছে। আগ্রহী পাঠকেরা গুগল থেকেও পড়তে পারেন। সূরা তাওবা-র তিনটি আয়াতের অনুবাদ পড়লে বুঝতে পারবেন, কাদেরকে কোন প্রেক্ষিতে হত্যা করতে বলা হয়েছে, এবং এর মধ্যে মানবিকতার কেমন নজির স্থাপন করা হয়েছে।
মনে রাখতে হবে, কুরআনের কোন আয়াত বা সূরা প্রেক্ষাপট ছাড়া অবতীর্ণ হয়নি, প্রতিটি সূরা বা আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার নেপথ্যে প্রেক্ষাপট রয়েছে। তেমনি সূরা তওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হওয়ারও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট রয়েছে, সেটি আগে জানা দরকার। মক্কার মুশরিকদের সঙ্গে মুসলিমদের এক ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, ইসলামের ইতিহাসে যেটাকে ‘হুদাইবিয়ার সন্ধি’ বলা হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না, কোন পক্ষের সহযোগী পক্ষকেও কেউ আক্রমণ করবে না। কিন্তু দেখা গেল, এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার কিছুকাল পর থেকেই মক্কার মুশরিকরা চুক্তির শর্তগুলি লংঘন করতে শুরু করল, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল, মুসলিমদেরকে হত্যা করতে লাগল। এই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র প্রথম কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হল। প্রথম আয়াতেই ঘোষণা দেওয়া হল, যারা চুক্তিভঙ্গ করেছে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। কিন্তু এও বলা হল যে, যারা চুক্তিতে অটল আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা হবে। যারা চুক্তি না মেনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তাদেরকে চুক্তি অনুযায়ী শান্তির পথে ফিরে আসার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হবে। এই চার মাস সময় পাওয়ার পরেও যদি তারা শান্তির পথে ফিরে না আসে, ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখে, হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গকারীদেরকে যেখানে পাবে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিনিময়ে সেখানেই তাদেরকে বন্দী ও হত্যা করবে।
এরপর ৬ নম্বর আয়াতে মানবিকতার চূড়ান্ত নজির স্থাপন করে বলা হল, এই সমস্ত ষড়যন্ত্রীরা এত বড় অপরাধ করার পরেও যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাহলে তাকে আশ্রয় দাও। শুধু আশ্রয় নয়; এরপরে তাদের প্রতি আরো দরদ দেখিয়ে বলা হল, যারা আশ্রয় চায়, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মানবিকতার নজির আর কোথাও পাওয়া যাবে কি? আধুনিক পৃথিবীতে প্রমাণিত অপরাধীদেরকে যুদ্ধ অপরাধের কারণে কখনোই ক্ষমা করা হয় না, আশ্রয় চাইলেও তাদেরকে হত্যা করা হয়। অথচ ইসলামের উদারতার শিক্ষা এটাই যে, যুদ্ধাপরাধীরাও যদি আশ্রয় চায়, তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। অথচ এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে দুই আয়াতের মাঝখানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইসলাম সম্পর্কে যেভাবে এত বড় মিথ্যাচার করা হল, তা কল্পনাও করা যায় না!
কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপরে, তিনি কুরআনের নির্দেশ সবথেকে বেশি বুঝেছিলেন এবং সেই নির্দেশ তিনি কার্যকর করে দেখিয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসের পাঠক মাত্রই জানেন, কাফেরদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ভঙ্গ হওয়ার পরে নবীজি যখন মক্কা বিজয় করলেন, সে সময় তিনি মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। কাউকে হত্যা করতে বলেননি। অমুসলিমদের হত্যা করা যদি কুরআনের বিধান হয়, তাহলে মক্কা বিজয়ের পরে একজন অমুসলিমও সেখানে বেঁচে থাকার কথা নয়। আসলে কুরআন বিশেষ প্রেক্ষাপটে বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র যারা যুদ্ধ অপরাধী ছিল, সেই ষড়যন্ত্রকারীদেরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।
কুরআন তো মানব হত্যাকে সবথেকে বড় অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে। সূরা মায়েদা-র ৩২ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, ”একজন মানুষকে যে ব্যক্তি হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকেই হত্যা করল!” এই আয়াতে মানুষের জীবনের কতটা মূল্য কুরআন দিয়েছে, সেটা ভেবে অবাক হতে হয়। সেই কুরআন কখনো নির্বিচারে মানুষ হত্যার কথা বলতে পারে না। সেই কুরআনের সবথেকে বড় অনুসারী নবীজি (সা.) সারা জীবন সেটা প্রমাণ করে গেছেন। কুরআনের সূরা মুমতাহিনা-র ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না, তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে হবে। কোন অমুসলিমের উপরে ইসলাম জবরদস্তি করাকে হারাম করে দিয়েছে, সূরা বাকারা-র ২৫৬ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
মনে রাখতে হবে, সূরা তাওবা সাধারণ পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া কোন সূরা নয়, বরং এটি একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অবতীর্ণ হওয়া সূরা, যে সূরার মধ্যে সন্ধি বা চুক্তি ভঙ্গকারী, ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের সম্পর্কে কেমন নীতি গ্রহণ করা হবে, সেটাই বর্ণনা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সূরা তাওবা-র পাঁচ নম্বর আয়াতে শুধুমাত্র সেই সমস্ত মুশরিকদেরকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যারা শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করেছিল, যারা নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করছিল, এবং যারা শান্তির পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল। আন্তর্জাতিক কোন আইনে এই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের হত্যা করা কখনোই অবৈধ হতে পারে না। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, সেটা বর্তমানেও বিভিন্ন দেশে প্রত্যক্ষ করছি। যুদ্ধাপরাধীদেরকে অনেক ক্ষেত্রে বিচারের নামে প্রহসন চালিয়ে কিংবা বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে! অথচ কুরআন যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে কত মানবিক আচরণ করতে বলেছে! যে, তারা যদি আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাহলে তাদের আশ্রয় দিয়ে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এই মানবিক কথাগুলো অসীম সরকার দেখতে পেল না! তার মনে কুরআনের প্রতি কতখানি বিদ্বেষ রয়েছে, সেটা বোঝা যায় তার কথায়। যখন সে বলে, এই কুরআনের ওপরে সে প্রস্রাব করতে চায়! এবং কুরআনকে সে পুড়িয়ে দিতে চায়! আসলে অসীম সরকার মতুয়াদের সমর্থন হারিয়ে ইসলামবিরোধী হিন্দুদের সমর্থন লাভের আশায় কুরআনের বিরুদ্ধে এখন প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে।
কুরআনের বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত আজকের নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই ইসলাম বিরোধীরা এটা করে চলেছে। কিন্তু সেই চক্রান্তের ফল অনেক ক্ষেত্রে উল্টো হয়েছে। চক্রান্তকারীরা নিজেদের চক্রান্তের কাছে পরাজিত হয়ে শেষে ইসলাম গ্রহণ করেছে। এমনই একজন ছিলেন কানাডার ডঃ গ্যারি মিলার। তিনি কুরআনের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার জন্য কুরআন অধ্যয়ন শুরু করেছিলেন। শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, কুরআনের মধ্যে ভুল খুঁজে না পেয়ে শেষে আমি ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য হলাম। অসীম সরকার যদি কুরআনের আলো নাও পায়, তবু তার এই বিতর্কের ফলে বহু মানুষ কুরআনের আলো লাভ করবে আশা করা যায়। এর ফলে অনেকেই কুরআন পড়ার চেষ্টা করবে, কুরআনের বক্তব্য জানবে এবং বুঝবে। আখেরে কুরআনের প্রচার আরো বাড়বে এবং মানুষ প্রকৃত সত্য জানতে পেরে কুরআন-মুখী হবে বলে আমি আশাবাদী।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder