BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

তসলিমা থেকে তিলোত্তমা সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:২৫

মনিরুল ইসলাম তপন

আরও পড়ুন:

তিলোত্তমা মজুমদার নামে এক লেখিকার সাম্প্রতিক চরম মুসলিম বিদ্বেষী কিছু মন্তব্যে পরিবেশ উত্তপ্ত। বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের শিকড় অনেক পুরনো। মুসলমান সমাজকে সন্দেহের চোখে দেখা, অ-বাঙালি বানানো, অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া, কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশে পাঠানোর নিদান — এই সাম্প্রদায়িক খেলা বহুদিন আগে সাহিত্যেও ঢুকে পড়েছিল। বেশ কিছু বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন সেই ছককে নাস্তিকতার নামে বাজারজাত করেন। আজ তিলোত্তমা সেই একই ছককে বিজেপির ভাষার সাথে মিলিয়ে বাংলার পরিবেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছেন।
তিলোত্তমার বক্তব্য কোনো সাহিত্যিকের ভাষা নয়, বুদ্ধিজীবীর কথা নয়, কোনো সুস্থ মানুষের ভাষা নয়, এ ভাষা হিমন্ত বিশ্বশর্মাদের মতো কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের ভাষা। অসমে যেমন মুসলমানদের রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী, অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ইত্যাদি বলা হয়; তিলোত্তমার কথাও একই সুরে বাঁধা। এ ভাষা কোনো রুচিশীল লেখিকার ভাষা নয়, এটা সরাসরি গোবলয়ের হিন্দুত্ববাদী ন্যারেটিভের বাংলা সংস্করণ।
মুসলমানকে ‘অপর’করার এই ন্যারেটিভ আজকের নয়। এ রোগ অনেক পুরোনো। ঊনিশ শতকের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাবে বাংলা সাহিত্যের কিছু অংশে মুসলিম চরিত্রকে দীর্ঘদিন খল হিসেবে দেখানো হয়েছে। গবেষকরা লিখেছেন, ব্রিটিশরা “হিন্দু সোনার যুগ বনাম মুসলিম অন্ধকার যুগ”এই ভ্রান্ত ইতিহাস আমাদের মগজে চাপিয়ে দিয়েছিল, যার প্রভাব বঙ্কিমচন্দ্রের রচনাতেও পড়েছিল। “আনন্দমঠ”, “রাজসিংহ” বা “দেবী চৌধুরাণী”-র মুসলিম শাসকরা তাই প্রায়শই বর্বর, বিদেশি, দখলদার হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। বিষাক্ত ইতিহাস আর কলঙ্কিত সাহিত্য চর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিলোত্তমার মুখের ভাষায় আজ সেই পুরনো ছকই প্রতীয়মান। হুবহু সেই সন্দেহ, সেই ঘৃণা, মুসলিমকে সেই ভিনদেশী বলে তুচ্ছ করার ভয়ংকর প্রবণতা।
বাংলার মুসলমানরা এই মাটির অন্তর্গত রক্তধারা। বাংলা সংস্কৃতির মূল সুর তাঁদের কণ্ঠে বেজেছে। লালন, আব্বাসউদ্দিন, বাউল-ফকির, হাসন রাজা — এই বাংলার আত্মাকে গড়েছেন। বাংলা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্তও ছিল মুসলমান বাঙালির রক্ত। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে যে জীবনগুলি উৎসর্গ হয়েছে, সেখানেও বাঙালি মুসলমানদের নাম।
শতাব্দীর সেরা বাঙালিদের তালিকায় শীর্ষে থাকা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন মুসলমান বাঙালি। যাদের কণ্ঠ, যাদের সিদ্ধান্ত, যাদের সাহস না থাকলে আজ বাঙালি জাতি দাঁড়াতই না। মুসলমানরাই তো বাঙালিয়ানার সবচেয়ে উজ্জ্বল স্তম্ভ। হিন্দুত্ববাদীর চশমা পরিহিতা তিলোত্তমারা এসব বুঝেও না বোঝার ভান করেন। সাম্প্রদায়িকতার চশমা পরে ছদ্মবেশি সেকুলার তিলোত্তমাদের মুসলিমাতঙ্ক। মুসলিমদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখতেই ওঁরা ভালবাসেন। এদের সবথেকে বড় সীমাবদ্ধতা হল, সত্যিটা দেখেন না বা দেখতে চান না। ওঁরা মুসলমানদের শুধু দোষ দেখাতেই ব্যস্ত। কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে ধর্মীয় সন্ত্রাসের সবথেকে ভয়ঙ্কর উদাহরণগুলো মুসলমানদের নয়, বরং অমুসলিম রাষ্ট্র এবং সমাজের।
তিলোত্তমার সাম্প্রতিক মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য কেবল একজন লেখিকার ‘ব্যক্তিগত মতামত’-এর প্রতিক্রিয়া নয়। এটি সেই বিদ্বেষেরই নতুন সংস্করণ, যেটি বহু বছর আগে তসলিমা নাসরিনের কলমে ফুটে উঠেছিল। তীব্র মুসলিম বিদ্বেষী তসলিমা একসময় নাস্তিকতার ছদ্মবেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে কলম ধরে যে ঘৃণার বীজ বপন করেছিলেন, তিলোত্তমা সেই বীজকেই বিজেপির জল, হাওয়া আর রাজনৈতিক সার মিশিয়ে পুষ্ট করছেন। নারী নির্যাতন, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস — এসব সব ধর্মেই আছে; কিন্তু তসলিমা, তিলোত্তমাদের নজর শুধু মুসলিমদের দিকেই।
তিলোত্তমা তাঁর যথার্থ পূর্বসূরীর পথেই হাঁটছেন। তাঁর মুখে শোনা গেল সরাসরি বিজেপির ভোট রাজনীতির প্রতিধ্বনি। তাঁর ভাষা কট্টর বিজেপি নেতাদের কপি—পেস্ট। “মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী”— এ ধারণা আসলে হিন্দুত্ববাদী প্রচারের প্রতিধ্বনি। ইতিহাস পরিক্রমায় দেখা যায়, ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগসূত্র নেই, আবার সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম হয় না। রাজনীতির কারবারীদের একাংশ ভোটের স্বার্থে সন্ত্রাস করে বিশেষ জাত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি বা গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেয়। অতীত বলছে, সবথেকে ভয়াবহ সন্ত্রাস ঘটেছে অমুসলিমদের হাতেই। বিশেষ করে খ্রিস্টান ও ইহুদীদের দ্বারা।
মায়ানমারে বৌদ্ধ সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ। শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ উগ্রবাদীরাও একই পথ অনুসরণ করেছে। তিব্বতে বৌদ্ধ মঠে সন্ন্যাসিনীদের উপর রোমহর্ষক যৌন নির্যাতনের খবর বহুবার এসেছে। ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ইসরাইল বা যায়নবাদীরা যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালাচ্ছে, সেসব কি সন্ত্রাস নয়? ৯/১১ এর পর মিথ্যা অভিযোগ ও অজুহাতে ডজন খানেক মুসলিম দেশের ওপর কথিত সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যেভাবে কবরস্থান ও এতিম, বিধবার দেশে পরিণত করেছে পশ্চিমা ন্যাটো জোট, তা কি সন্ত্রাস নয়? খ্রিস্টান ইউরোপে ক্রুসেডের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় খ্রিস্টান মিশনারীরা আদিবাসীদের জোর করে ধর্মান্তর করেছে, উপাসনালয় ভেঙেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “কু ক্লুক্স ক্ল্যান”নামে সাদা চামড়ার চরমপন্থী খ্রিস্টান সংগঠন শতাব্দীর পর শতাব্দী কৃষ্ণাঙ্গদের হত্যা করেছে, মুসলমান ও ইহুদিদের উপর নারকীয় প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ ও ইউরোপীয় সৈন্যরা নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে।
যায়নবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল সাড়ে সাত দশক ধরে ফিলিস্তিনে প্রতিদিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে। নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল ধ্বংস, গাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, সাংবাদিক হত্যা — এসব বিশ্বজুড়ে মানুষ চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তিলোত্তমাদের চোখে এসব সন্ত্রাস ধরা পড়ে না। গুজরাত দাঙ্গা, দিল্লি দাঙ্গা, মুজফফরনগর, খারগোন, হরিয়ানা, মণিপুর — সর্বত্র সংখ্যালঘু ও দলিতদের উপর হামলা হয়েছে, নারীরা গণধর্ষিত হয়েছে, ঘর বাড়ি জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও তিলোত্তমারা চুপ থাকেন। তাঁদের ঘৃণা কেবল মুসলমানদের প্রতিই।
কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা গোরক্ষার নামে অসংখ্য দলিত ও মুসলমানকে প্রকাশ্য রাস্তায় পিটিয়ে হত্যা করেছে, লাভ জিহাদের নামে মুসলিম যুবকদের নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারছে, জয়শ্রী রাম স্লোগান না দেওয়ায় প্রহার, দাড়ি কেটে নেওয়া, মসজিদের সামনে গিয়ে হনুমান চাল্লিশা, নামাযের সময় তারস্বরে মাইক বাজানো, আপত্তি করলে ইমাম মুয়াজ্জিন সহ সবার ওপর হামলা, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকান, মসজিদ বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে – এসব কি সন্ত্রাস নয়?
আজ যেসব মিডিয়া গোষ্ঠী তিলোত্তমাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তারাও এই সাম্প্রদায়িক খেলায় অংশীদার। তিলোত্তমার বক্তব্যে বাংলাদেশি মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা উগরে পড়েছে। তিলোত্তমা যে ভাষায় কথা বলছেন, সেই বাংলা ভাষার জন্য সর্বপ্রথম ওপারের মুসলমানরাই শহীদ হয়েছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মুসলমান বাঙালিদের আত্মত্যাগেই আজকের বাংলার মর্যাদা দাঁড়িয়ে আছে।
তিলোত্তমাদের উদ্দেশ্য বিজেপির মন জয় করা, হয়ত আসন্ন নির্বাচনে টিকিট নেওয়া। এই স্বপ্নে তাঁরা মুসলমানদের অপমান করে নিজের অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান।
তসলিমা নাসরিন স্বদেশ থেকে বিতাড়িত, আজও তাঁকে বাংলাদেশ গ্রহণ করেনি। একটা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা পাওয়া গেলেও মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা পাওয়া যায় না। তিলোত্তমাদেরও শেষ পরিণতি হবে ইতিহাসের কলঙ্কিত পৃষ্ঠায়। তিলোত্তমা ওপার বাংলার মুসলমানদের সঙ্গে নিজেদের কোন মিল খুঁজে পান না। অথচ ওপারের মুসলমানেরা শুধু বাংলায় কথা বলেন না, বাংলা সংস্কৃতির প্রাণভোমরা তাঁরা। আজ যারা মুসলমানকে সন্দেহের চোখে দেখেন, শুধু অনুপ্রবেশী, সন্ত্রাসী ভাবতে ভালবাসেন, তাঁরা নিশ্চিতভাবে ঘৃণার রাজনীতির এজেন্ডা চালাচ্ছেন।
তসলিমাও সেই নীতিতে ভর করে একসময় প্রচারের আলোয় এসেছিলেন। নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আপাতত বিজেপি সরকারের স্নেহচ্ছায়ায় এদেশে বহাল তবিয়তে বসবাস করছেন। তিলোত্তমাও হয়ত অদূর ভবিষ্যতে বড় কোন সরকারি দাক্ষিণ্য পেয়ে যাবেন। তসলিমা থেকে তিলোত্তমা – মুসলিম বিদ্বেষের সেই ট্র্যাডিশন যেন একই সুতোয় গাঁথা।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder