ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্বিগুণ, কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলতা, ১৭ মে: বিধানসভা নির্বাচনের পর ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ইভিএম বিকৃতির অভিযোগের জেরে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে কোনো অনিয়ম বা অশান্তির অভিযোগ যাতে না ওঠে, সেই লক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২১ মে, বৃহস্পতিবার এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের পুনর্নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বুথে চারজন (হাফ সেকশন) কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হলেও এ বার প্রতি বুথে থাকছেন আটজন (এক সেকশন) জওয়ান। মোট ২৮৫টি বুথে সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্রে ইভিএমে আতর ও সেলোটেপ আটকে রাখাসহ একগুচ্ছ অভিযোগ ওঠে। কমিশনের তৎকালীন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের স্ক্রুটিনিতে অন্তত ৬০টি বুথে ইভিএম বিকৃতির তথ্য উঠে আসে। শুধু তাই নয়, বহু বুথে ওয়েবক্যামের ফুটেজও বিকৃত করা হয়েছিল। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর পরেই সমস্ত বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
নিরাপত্তার চাদর আরও মজবুত করতে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) রাখা হচ্ছে, যাতে সামান্য অশান্তি হলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া প্রতিটি বুথের ভিতরে দুটি ও বাইরে একটি করে ওয়েবক্যাম বসানো হচ্ছে। বুথের আশপাশের এলাকাতেও ওয়েবক্যামের মাধ্যমে নজরদারি চলবে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিস থেকে। ভোটের দিন ড্রোন ওড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ওয়েবকাস্টিংয়ের ট্রায়াল রান শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রে নির্বাচন তত্ত্বাবধানে থাকছেন তিনজন পর্যবেক্ষক। পুনর্নির্বাচনের আগেই রাজ্য পুলিশ বড় ধরনের পদক্ষেপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খান সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফলতায় কতটা শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীনভাবে এই পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন হয়।








