BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, সকাল ১০:৫০

স্বপন সেন ও দেবব্রত মন্ডল

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম, ২২ অক্টোবর ২০২৫ 

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এর নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই! মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নাম। এখানেই রয়েছে সিপিএম-এর রাজ্য কার্যালয়। কিন্তু কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন সাহেব? স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন বহু মানুষের অবদান রয়েছে, যারা এই আন্দোলনের নেপথ্যে থেকেও অনবদ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা যদি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এভাবে সহযোগিতা না করতেন তবে ভারতবর্ষ স্বাধীন হতে হয়ত আরো অনেক বছর পিছিয়ে যেত। সেইসব নেপথ্যচারী বাঙলার মানুষদের নিয়ে আমার নিবেদন।

আরও পড়ুন:

১৯১০ সালের এক অমাবস্যার রাত। বুড়িগঙ্গা পেরিয়ে ঢাকার ওপারে জিঞ্জিরা গঞ্জের ঘাটে নিঃশব্দে এসে ভিড়লো দুটি ছিপ নৌকা। জনা দশেক যুবক নেমে এলো, তারপর কিছুক্ষণ হেঁটে পৌঁছাল শুভাড্যা গ্রামে এক ধনী মহাজনের বাড়ির সামনে। এদের মধ্যে দু’জনকে চেনেন আপনারা। একজনকে দেখেছেন সারপেন্টাইন লেনে ইন্সপেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জীকে গুলি করে হত্যা করতে। আর অন্যজনকে ডালহৌসি পাড়ায় রডা কোম্পানির পিস্তল বোঝাই গরুর গাড়ির পাশে হাঁটতে… শ্রীষচন্দ্র পাল ও হরিদাস দত্ত।

আরও পড়ুন:

চারদিকে তাকিয়ে পাঁচিল টপকে ভেতরে নেমে গেলেন শ্রীষবাবু। আর একটু পরেই খুলে দিলেন সদর দরজা। দলপতির নির্দেশে এবার বাকিরা বন্দুক উঁচিয়ে বাড়ির সবাইকে বাধ্য করল সোনা-দানা, টাকা-পয়সা সবকিছু তাদের হাতে তুলে দিতে। বিনা প্রতিরোধে সবাই গায়ের গয়না খুলে দিলেও কোলে শিশুপুত্র নিয়ে উপস্থিত এক তরুণী বধূ কিছুতেই তার অলঙ্কার দিতে রাজি নয়। ধমক-ধামকেও কাজ হল না, এদিকে দলপতির কড়া হুঁশিয়ারি মহিলাদের গায়ে হাত দেয়া যাবে না। হঠাৎ হরিদাস দত্ত কোল থেকে বাচ্চাটিকে ছিনিয়ে নিয়ে বললেন, এবার গয়না না খুলে দিলে কেটে ফেলা হবে একে!

আরও পড়ুন:

নির্বিকার তরুণী শুধু জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে রইল দলপতির দিকে। শরীরের কোথাও স্পর্শ না করে অলঙ্কার কীভাবে কেড়ে নেয়া যায়, সে বিদ্যা তাদের জানা ছিল না। বাধ্য হয়ে সর্দার ইশারা করলেন বাচ্চাটি ফিরিয়ে দিতে। নিজের গর্ভজাত শিশু সন্তানকে কোলে ফিরে পেয়ে মেয়েটি বলে উঠল, আমি জানি আপনারা কে। বাপের বাড়ি এসে নিরাপদে থাকার জন্য রাত কাটাতে এসেছি এই বাড়িতে। গয়না খুলে দিতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই, কিন্তু সেজন্য আমার বিধবা মা’কে শ্বশুরবাড়ি থেকে আজীবন গঞ্জনা শুনতে হবে। তারা ধরেই নেবে যে, এটা আমার অভাবী মায়ের একটা সাজানো গল্প। দোহাই, আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন। একথা শুনে দলপতি মেয়েটির মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন, তারপর দলবল নিয়ে নিমেষে মিলিয়ে গেলেন অন্ধকারে।

আরও পড়ুন:

দেশের স্বাধীনতার জন্য স্বদেশী এই ডাকাত দলের দলপতিকে চেনেন? আমজনতার কাছে অপরিচিত সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহমেদ। ১৮৮৪ সালে জন্ম ঢাকার আশক জমাদার লেনে। প্রতিবেশী ও সহপাঠী ছিলেন বিভি’র প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষ। ১৯০৬ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। তবে হঠাৎ বাবার মৃত্যু হওয়ায় আর্থিক কারণে এফ.এ পরীক্ষা দিতে পারেননি। পড়াশোনা বন্ধ করে ঢাকা কালেক্টরেটে চাকরি নেন। অবসর সময়ে বাড়িতে কিছু ছাত্র পড়াতেন, আর সেই থেকে এলাকার মানুষের কাছে ‘মাষ্টার সাহেব’ নামে পরিচিত হন।

আরও পড়ুন:

কুস্তি লড়ায় তাঁর ছিল অসম্ভব আগ্রহ। তাই নিজের বাড়িতেই খুলেছিলেন কুস্তির আখড়া। সেখানে লাঠি, তরোয়াল, বল্লম ও ছুরি খেলাও শেখানো হত। আদতে এই আখড়াই ছিল বিপ্লবী দলের রিক্রুটিং সেন্টার এবং সেই কাজটি করতেন মাস্টার সাহেব স্বয়ং। ১৯০৫ সালে হেমচন্দ্র মুষ্টিমেয় যে কয়েকজনকে নিয়ে ‘মুক্তিসংঘ’ স্থাপন করেছিলেন, ইনি ছিলেন তার অন্যতম। দুরদর্শী মানুষটি বুঝেছিলেন, পুলিশের হাত থেকে দলকে বাঁচাতে একজনকে অন্তত আড়াল নিতে হবে বা আত্মগোপন করে থাকতে হবে। ফলে কুস্তিপ্রিয় ও পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া মানুষটি ছিলেন বরাবরই সন্দেহের ঊর্ধ্বে।

আরও পড়ুন:

এই সুযোগে তিনি অস্ত্রশস্ত্র, পুস্তিকা ও পলাতক বিপ্লবীদের শেল্টারের ব্যবস্থা করতেন। ১৯১৫ থেকে ১৯২০ এই পাঁচ বছর অধিকাংশ বিপ্লবী কারান্তরালে গেলেও যোগাযোগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখতে পেরেছিলেন দলের ভরকেন্দ্রটিকে। তাঁরই অনুপ্রেরণায় ঢাকা ও মানিকগঞ্জের অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের যুবক নেপথ্য থেকে এগিয়ে এসেছিলেন বিপ্লবী কর্মকান্ডে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আইনজীবী নইমুদ্দিন আহমেদ, যার বাবা ছিলেন আসাম সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। দলগঠন এবং আর্থিক সাহায্য ছাড়াও ইনি বাড়িতে অস্ত্রশস্ত্র লুকিয়ে রাখতেন। আরেকজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন ঢাকা কলেজের আব্দুল জব্বার। দুঃখের বিষয়, অকালে মারা যান তিনি। হেমচন্দ্র শেষ বয়সে তার স্মৃতিচারণে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেন, “জব্বারের মতো ছেলে আরো ক’টা জন্মালে স্বাধীনতা যুদ্ধ আরো অনায়াস, সাবলীল ও সহজ সুন্দর হত। সব ভেদাভেদ ভুলে হিন্দু-মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের মুক্তি সংগ্রামে আত্মদান করতে পারত। বিধাতা অকালে জব্বারকে নিজের কাছে ডেকে নিয়ে তা হতে দিলেন না।”

আরও পড়ুন:

১৯৩০ সালে বিভি’র কর্মকাণ্ড চূড়ান্ত পরিণতি নেওয়ার আগেই দুরারোগ্য গ্যালপিং থাইসিস রোগে হঠাৎ চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। দেখে যেতে পারলেন না সেই বছরেরই আগস্ট মাসে মিটফোর্ড মেডিক্যাল কলেজে তাঁর আখড়ার এক ছাত্রের অসামান্য বাহাদুরি। তাঁর কীর্তির কথা শুনে সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র বলেছিলেন, ধন্যি ছেলে, বুঝিয়ে দিল প্রয়োজন হলে আমরাও জবাব দিতে জানি !

আরও পড়ুন:

আলিমুদ্দিন সাহেবের কথা আজ আর কারও মনে নেই। মধ্য কলকাতার এন্টালি অঞ্চলে তাঁর নামাঙ্কিত একটি রাস্তা শুধু বহন করছে আজন্ম বিপ্লবী, নাম-যশ ও প্রচার বিমুখ সেই মানুষটিকে। প্রণাম ! ‌

আরও পড়ুন:

(২)

আরও পড়ুন:

এখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিট মধ্য কলকাতার এক ঘিঞ্জি এলাকার ব্যস্ত রাস্তা। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে পশ্চিমবঙ্গ চিনেছে অন্যভাবে। ৩১-নং আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই রয়েছে রাজ্য সিপিএমের সদর দপ্তর। যেখানে বসে দীর্ঘ চৌত্রিশ বছর রাজ্য-রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছেন বামফ্রন্ট নেতৃবর্গ। কিন্তু আদতে কে ছিলেন এই আলিমুদ্দিন? কার নামাঙ্কিত এই রাস্তা? সে প্রশ্নের উত্তর পেতে পিছিয়ে যেতে হবে ঊনিশ শতকে।
ঢাকার জমাদার লেন। একটা সরু অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গলি। দিনের বেলায় কতটুকু সময় সে রোদের মুখ দেখে, তা বোঝা দায়। এখানেই ১৮৮৪ সালের এক বর্ষণমুখর দিনে জন্ম নিলেন স্বাধীনতা যুগের এক অগ্নিপুরুষ, সৈয়দ আলিমুদ্দিন আহম্মদ। বাবা আমিরুদ্দিনের ছিল সামান্য এক দর্জির দোকান। সংসার-সীমান্তে যুদ্ধরত বাবাই ছিলেন আলিমুদ্দিনের অনুপ্রেরণা। তখন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছিল মানুষের জীবন যাপন। স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন তখন পুরোদমে জ্বলছে। বাতাসে বারুদের গন্ধ তখনও টাটকা। স্বাভাবিক ভাবেই পাল্টে যাওয়া সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছিল সমাজ, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির মানচিত্র। কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হল জাতীয় কংগ্রেস। শুরু হল বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল দেশীয় রাজনীতি। পরিবর্তিত সময়ও নিজের মতো করে গড়েপিটে নিয়েছিল যুবক আলিমদ্দিনকে। যদিও তার বহু পূর্বেই সময় তার দাগ রেখে গেছে আলিমুদ্দিনের ব্যক্তিগত জীবনে। ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্খিত বিপর্যয়। মারা গেছেন আলিমুদ্দিনের বাবা। গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য আলিমুদ্দিনকে নিতে হয়েছে প্রাইভেট টিউটরের জীবিকা।
জীবনের এই সমস্ত ভাঙা-গড়ার খেলাকে পাথেয় করেই পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিলেন তরুণ-তুর্কি আলিমুদ্দিন। ঘটনাচক্রে হেমচন্দ্র ঘোষ ছিলেন আলিমুদ্দিনের বন্ধু। এই বন্ধুই স্বাধীনতার বীজমন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন আলিমুদ্দিনকে।
সাল ১৯০৫। ইতিহাসের পাতা বলছে সময়টা উত্তাল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন তখন পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজ সরকারের দমননীতির গ্রাফ প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী। এমন সময় বিপ্লবী হেমচন্দ্র প্রতিষ্ঠা করলেন এক গুপ্তসমিতি। যার অন্যতম সভ্য ছিলেন আলিমুদ্দিন ওরফে মাস্টার সাহেব। তাঁর নেতৃত্বে যুবকদের শারীরিক কসরতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হল বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমেই চলত বিভিন্ন বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড, এমনকি স্বদেশি ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ করার প্রাথমিক পাঠও দেওয়া হত এই প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমেই। না এখানেই থেমে থাকেননি মাস্টার সাহেব আলিমুদ্দিন। একের পর এক বিপ্লবীকে প্রয়োজনীয় শেল্টার দিয়েছেন। সাহায্য করেছেন অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে। বিপ্লবের কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য করার জন্য আলিমুদ্দিন গঠন করেছেন স্বদেশি ডাকাতদল। সেই যুগে পুঁজিপতিদের ত্রাস হয়ে উঠেছিল তারা, আলিমুদ্দিনের হাতে গড়া এই ডাকাতদল আদতে ছিল রবিনহুড। কুবেরদের অর্থ-সম্পদ লুট করে গরিব মানুষদেরকে অকাতরে বিলিয়ে দিতেন। ব্রিটিশের দমন নীতির ফলে হেমচন্দ্র-সহ একাধিক স্বদেশী নেতা যখন জেলে, তখনও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রায় একাই অক্সিজেন জুগিয়েছেন আলিমুদ্দিন। নিজে ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম। সেই সূত্রেই সাম্প্রয়িকতাকে কোনোদিন প্রশ্রয় দেননি। ছদ্মবেশে একের পর এক বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। এমনকি পুলিশি ধরপাকড়ের কারণে আত্মগোপন করেও চালিয়ে গেছেন ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপ। কিন্তু ব্রিটিশ পুলিশ কোনোদিন তার টিকিও স্পর্শ করতে পারেনি।
সাল ১৯২০। যক্ষ্মা রোগে বেশ কিছুদিন ভোগার পর চলে গেলেন মাস্টার সাহেব। পরবর্তীকালে তার নামানুসারে মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণ করা হল ‘আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।’ তাঁর ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক বর্ণময় অধ্যায়। এমন কতশত বিপ্লবী আমাদের চোখের আড়ালে কাজ করে গেছেন। ইতিহাস তাদের মনে রাখেন

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder