BREAKING:
জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’

জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার 

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৪:০৩ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৪:০৩

রাজু পারাল: জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়ে মহানায়ক উত্তমকুমারকে নতুন করে স্মরণ করার প্রয়োজন কেন — এ প্রশ্নের উত্তর তাঁর অভিনয়ের আকর্ষণ। আজকের সিনেমাপ্রেমীরা, বিশেষ করে তরুণ দর্শকবৃন্দ, এখনও তাঁর অভিনয়ে খুঁজে পান বাঙালির ঘরের ছেলেকে। মুখে মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে তুলে সুদর্শন পুরুষটি কখনও রোমান্টিক অভিনয়ে, কখনও পরিবারিক কাহিনিতে, কখনও-বা হাসির সিনেমায় তাঁর সাবলীল অভিনয় দক্ষতা আজও মুগ্ধ করে সকলকে। সময় বদলেছে, প্রেক্ষাপট বদলেছে, কিন্তু মানুষের আশা ভরসা, প্রেম-ভালবাসার অনুভূতি বদলায়নি। তাই পুরনো দিনের সাদা-কালো পর্দায় মহানায়কের অভিনীত সিনেমা আজও ছোট-বড় সকলে দেখেন চোখ টান টান করে। বাংলা সিনেমার একশো বছরের ইতিহাসে অসংখ্য নায়ক এসেছেন; কিন্তু মহানায়ক একজনই। মানুষের উজাড় করা ভালবাসা যেমন পেয়েছিলেন, তেমনই নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে নিঃশেষে নিঙড়ে দিয়েছিলেন সেই অকুণ্ঠ ভালবাসার ঋণ শোধ করতে। আজও উত্তমকুমার নামের ম্যাজিকে আপ্লুত মানুষ, মহানায়কের বিকল্প খুঁজে পায় না। কতখানি অপমান, লাঞ্ছনা আর উপেক্ষার কাঁটা বিছানো পথ মাড়িয়ে তিনি সাফল্যের চূড়ায় উঠেছিলেন, সে ইতিহাস বিস্ময়ের। দর্শক-ভক্তদের কাছে শুধু একজন অভিনেতা হিসেবেই নন; মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন বহু ঊর্ধ্বে। সিনেমার সর্বস্তরের কর্মী-সহ অসংখ্য বাইরের মানুষকেও তিনি সাহায্য করে গেছেন অকাতরে, সেটা অনেকেই জানেন না। অন্তত, তখন তিনি কাউকে জানতে দিতেন না। কত টেকনিসিয়ান, স্টুডিওর কত দুস্থকর্মীকে তিনি সাহায্য করেছেন, তার ইয়ত্তা নেই। একসময় ‘শিল্পী সংসদ’ গড়ে তুলেছিলেন মহানায়ক। নিজের নির্মিত তহবিল থেকে দুস্থ ও কলাকুশলীদের প্রতি মাসে সাহায্য করতেন। দুস্থ শিল্পীদের নিয়ে মহানায়কের অনেক কাজের স্বপ্ন ছিল। ওল্ড এজ হোম নির্মাণ, কুটির শিল্প স্থাপন ইত্যাদি ছিল তাঁর মন জুড়ে। আসলে যে জগতে কাজ করতেন, সেই জগতের কীভাবে ভালো হয়, তার জন্য সব সময় ভাবতেন। অর্থ ও খ্যাতির সুউচ্চ পিরামিডে দাঁড়িয়েও মনুষত্ব ও মানবিকতা বোধকে মান্যতা দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হননি মহানায়ক উত্তমকুমার। সেই সঙ্গে একজন বড় শিল্পী হয়ে ওঠার জন্য তাঁর ত্যাগ স্বীকারের তো কোনও তুলনাই ছিল না।

আরও পড়ুন:

উত্তমকুমারের পিতৃদত্ত নাম অরুণ কুমার। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহিরীটোলায় মামার বাড়িতে চপলা দেবী এবং সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র অরুণের (উত্তম কুমার) জন্ম হয়। পরে তাঁরা ভবানীপুরের গিরিশ মুখার্জী রোডে বসবাস শুরু করেন। অল্প বয়সে চক্রবেড়িয়া হাইস্কুল এবং পরে সাউথ সুবার্বন মেন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন অরুণ কুমার। তারপর গোয়েঙ্কা কলেজ অফ কমার্স থেকে স্নাতক হন। জন্মসূত্রেই অভিনয় এবং গানের প্রতি ছিল অরুণের অগাধ ভালবাসা। ছোট থেকেই শিল্প-সাহিত্য-গান-নাটক চর্চার পরিবেশ ছিল তাঁদের পরিবারে। উল্লেখ্য, তাঁদের পরিবারেই ‘সুহৃদ সমাজ’ নামে এক অপেশাদার নাট্যগোষ্ঠী ছিল। তিনি সংগীত শিক্ষার পাঠ নিয়েছিলেন সংগীত শিক্ষক নিদানবন্ধু বন্দোপাধ্যায়ের কাছে। পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাবে লাঠি খেলা, নিয়মিত ফুটবল খেলা এবং ভবানীপুর সুইমিং ক্লাবে সাঁতার শেখা — সবই করেছেন ঐকান্তিক আগ্রহ এবং উৎসাহে। তবে মনে মনে স্বপ্ন দেখতেন, ভাল অভিনেতা হয়ে ওঠার। কিন্তু বাড়ির বড় ছেলে হিসেবে বৃহৎ পরিবারের দায়িত্ব এসে চাপে অরুণের কাঁধে। নায়ক হবার স্বপ্ন বোধহয় চিরতরে হারিয়েই গেল। পরিবারের মুখ চেয়ে পোর্ট ট্রাস্টের সামান্য কেরানির চাকরিতে যোগ দিলেন বটে; কিন্তু অভিনয়ের ঝোঁক তাঁর মাথা থেকে গেল না। সময়-সুযোগ পেলেই ছুট দিতেন প্রখ্যাত নাট্যকার শিশির ভাদুড়ির অভিনয় দেখতে। দশটা পাঁচটা’র অফিস করেও নায়ক হবার স্বপ্নকে বুকের মধ্যে পুষে রাখলেন সযত্নে। পরবর্তীতে মহানায়ক নিজেই বলেছিলেন — “কেরানি তো ছিলামই একদিন, গানও গাইতাম। গান ভালো লাগত, কিন্তু চাকরি আমার ধাতে সইত না। চাইতাম স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জন করতে। এবং মনে হত তা করবার একমাত্র রাস্তা সিনেমায় অভিনয়। আমার আকাঙ্খা খুব বেশি ছিল না। ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় এবং স্বাধীনভাবে কিছু উপার্জন। তখন কি জানতাম, আকাশ আর কত উঁচু, মানুষের আকাঙ্খা তাকেও ছাড়িয়ে যায়?”

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালে এক বন্ধুর সহযোগিতায় ‘মায়াডোর’ নামে একটি হিন্দি সিনেমায় ছোট চরিত্রে অভিনয় করার প্রথম সুযোগ পেলেন অরুণ। কিন্তু দুঃখের কথা, সে ছবি মুক্তি শেষপর্যন্ত পায়নি। পরের বছর পরিচালক নীতীন বসুর ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতে অভিনয় করলেন। ছবিটি ফ্লপ হল। ১৯৪৯ সালে ‘কামনা’ ছবিতে তিনি প্রথম নায়কের ভূমিকায় অবর্তীণ হলেন। প্রকৃত নাম অরুণ কুমারের পরিবর্তে ‘উত্তম কুমার’ নামে অভিনয় করলেন। নায়ক হিসেবে পথচলার শুরু এখান থেকেই। অবশ্য ইতিমধ্যেই অগ্রজ শিল্পী পাহাড়ি সান্যালের পরামর্শে উত্তমকুমার নামে ‘সহযাত্রী’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সেই সময় বেশ কয়েকটি ছবিতে তিনি অভিনয় করলেও দুর্ভাগ্যবশত তাঁর অভিনীত কোনও সিনেমাই বাণিজ্যিক সফলতা পায়নি। সে কারণে তিনি তীব্র বিদ্রুপের শিকার হন এবং ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত হন ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ নামে। মানসিক চাপে সিনেমা জগৎ থেকে নিজেকে যখন সরিয়ে নেবার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই পরিচালক নির্মল দে’র সিনেমা ‘বসু পরিবার’-এ অভিনয় করার ডাক পান উত্তমকুমার। সবাইকে চমকে দিয়ে ছবিটি হিট করল। প্রত্যেক দর্শকের মুখে মুখে ফিরতে লাগল উত্তমকুমারের নাম। সে সময়ের পত্র পত্রিকাগুলি উত্তমকুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠেছিল। ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিটি উত্তমকুমারকে চলচ্চিত্র জগতে দিল স্থায়ী আসন। এই ছবিতে উত্তমের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন নবাগত নায়িকা সুচিত্রা সেন। সিনেমাটি এতটাই সাফল্য পেয়েছিল যে, পরবর্তী কুড়ি বছরে শুধুমাত্র নায়িকা হিসেবে তিরিশটি সিনেমায় সুচিত্রা সেনের বিপরীতে নায়কের ভূমিকায় ছিলেন উত্তমকুমার। হারানো সুর, অগ্নিপরীক্ষা, সবার উপরে, সাগরিকা, পথে হল দেরি, শিল্পী, সপ্তপদী, বিপাশা, চাওয়া পাওয়া-সহ বিভিন্ন ছবিতে অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন উত্তম-সুচিত্রা জুটি। সাত দশক পেরিয়ে আজও দর্শকদের স্মৃতি উত্তম-সুচিত্রার নষ্টালজিয়ায় ভেসে ওঠে।

আরও পড়ুন:

উত্তম-সুচিত্রা জুটির পরে নায়িকা সুপ্রিয়া চৌধুরীর কথা অবশ্যই বলতে হয়। বাংলা সিনেমায় নায়ক-নায়িকা হিসেবে উত্তম-সুপ্রিয়া জুটিও সেকালে বেশ সাফল্য লাভ করেছিল। লাল পাথর, কাল তুমি আলেয়া, জীবন মৃত্যু, বন পলাশীর পদাবলী, সন্ন্যাসী রাজা, চিরদিনের-সহ বিভিন্ন সিনেমায় উত্তম-সুপ্রিয়া জুটিও বাংলা সিনেমা জগতে বাণিজ্যিক সফলতা পেয়েছিল। সুচিত্রা সেন ও সুপ্রিয়া চৌধুরী ছাড়াও উত্তমকুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন  সন্ধ্যারানী, কাবেরি বসু, অঞ্জনা ভৌমিক, অরুন্ধতী দেবী, আরতি ভট্টাচার্য, মালা সিনহা, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, তনুজা, সুমিত্রা দেবী, মিঠু মুখার্জী, সুমিত্রা মুখার্জী, মৌসুমী চ্যাটার্জী, লিলি চক্রবর্তী, অনুভা গুপ্ত প্রমুখ। দীর্ঘ ৩৩ বছরের অভিনয় জীবনে প্রায় ২০০টি ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। বাংলা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন একশো বছরের দূরত্বে একাই। তার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল নিরলস অধ্যবসায়। উত্তমকুমার কখনো ধৈর্য্য হারাননি। হতাশার সমুদ্রে বসেও হাল ছাড়েননি কখনো তিনি। তাই সিনেমা জগতে তিনি চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছিলেন। ১৯৮০ সালে সলিল দত্তের ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ সিনেমার শুটিং করতে করতেই উত্তমকুমার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শত চেষ্টা করেও মহানায়ক’কে বাঁচানো যায়নি। তাঁর শেষ যাত্রার সাক্ষী ছিলেন অগণিত কলকাতাবাসী। সিনেমাপ্রেমী অনুরাগীদের কাছে উত্তমকুমারের প্রয়াণযাত্রা ছিল এক পরম আত্মীয়ের বিদায় যাত্রা। তাঁর প্রয়াণের পর ময়রা স্ট্রিটের নামকরণ হয়েছে ‘উত্তমকুমার সরণী’। টালিগঞ্জে নিত্য স্টুডিওতে যাওয়া আসার পথে চারমাথার মাঝখানে শোভা পাচ্ছে উত্তমকুমারের আট ফুট লম্বা ব্রোঞ্চের মূর্তি। পাশাপাশি টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের নামকরণ হয়েছে ‘মহানায়ক উত্তমকুমার’।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder