BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস অয়দিপাউস ও নেতানিয়াহু

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৩৫ | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৩৫

মুদাসসির নিয়াজ

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনের জাতীয় কবি মাহমুদ দারবিশ লিখেছিলেন, ”পিপাসায় শুকিয়ে গেলেও গাছেরা নদীর কাছে মাথা নোয়ায় না!” সত্যিই তাই। দীর্ঘ সাড়ে সাত দশকেরও বেশি ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞে শাহাদাতের সুনামি বয়ে গেলেও ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের কাছে মাথানত করেনি। খুন-পসিনা দিয়ে, নিজেদের জীবন বাজি রেখে রক্ত দিয়ে তারা স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা এঁকে চলেছে।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ইসরাইলি অবরোধে ‘বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগার’-এ পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি, খাদ্য, ওষুধের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন অসহায় ফিলিস্তিনিরা রোযা রাখে, নদীর পানি পান করে।
ইসরাইল চায় গোরস্থানের শান্তি। আর সেই শান্তির জন্যই তারা যুদ্ধ চায়। তাই ফিলিস্তিনিদেরকে পুরোপুরি নিকেশ করে মদ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র থেকে উধাও করে দিয়ে সমগ্র ভূখণ্ড কব্জা করে বানাতে চায় গ্রেটার ইসরাইল। আর ফিলিস্তিনিরা যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে শান্তি চায়। তাই তারা জমি, ভিটে, পুত্র-কন্যা, বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী সবাইকে ও সর্বস্ব হারিয়েও শান্তি চায়, স্বাধীনতা চায়। তবু তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারটুকু ছিনিয়ে নিয়েছে ইসরাইল। ৮০ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ড হারিয়ে তারা বাকি অংশটুকুতেই স্বাধীন দেশ চায়। তবু তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা দেওয়া হয়।
২৯ নভেম্বর ছিল ৩৯তম আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রসংঘ এই দিনটি ঘোষণা করে। এর ১০ বছর পর ১৯৮৭ সালের ২৯ নভেম্বর মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানাতে প্রস্তাব পাস হয় এবং বিভিন্ন দেশে এই দিনটি পালিত হয়। যদিও তার সাড়ে তিন দশক পর আজও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ সাড়ে সাত দশক আগে ফিলিস্তিনের বুকের ওপর ইসরাইলকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিমাদের সেই আনুকূল্য, বদান্যতা ও সহযোগিতায় টানা প্রায় ২৫ মাস ধরে আশ্রয়দাতা ফিলিস্তিনের ওপর পাশবিক ও বর্বরোচিত একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোড়া অবৈধ দেশ ইসরাইল। ২০২৩ এর ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অসম যুদ্ধ শুরুর পর দু-দুটো সংহতি দিবস চলে গেল, কিন্তু গণহত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করেনি ইসরাইল। গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ মিশরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। কিন্তু তারপর গত দিনে ৫০০-রও বেশি বার গাজায় হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পাশাপাশি এখন তারা নতুন করে ওয়েস্টব্যাঙ্কেও হামলা শুরু করেছে। ইহুদীরা এতবড় বেইমান ও নিমকহারাম, যারা তাদেরকে ইউরোপীয়দের থাবা থেকে রক্ষা করতে আঁচল পেতে দিয়েছিল, কোলে তুলে নিয়েছিল, সেই ফিলিস্তিনিদেরকেই গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে নরখাদক ইসরাইল।

আরও পড়ুন:


১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দু-টুকরো করে দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ইহুদিদের জন্য ইসরাইল এবং অন্যটি ফিলিস্তিনিদের জন্য। মূলত ব্রিটেন ও আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় পাস হয়েছিল সেই কুখ্যাত প্রস্তাব। সমর্থন দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং চীনও। সেই প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে ৪২ শতাংশ এবং ইসরাইলকে ৫২ শতাংশ ভূখণ্ড দেওয়া হয়। বিতর্কিত জেরুসালেম নগরীকে (৬ শতাংশ ভূখণ্ড) রাষ্ট্রসংঘের অধীনে রাখা হয়। পরজীবী জর্ডনকে এর তত্ত্বাবধায়ক করা হয়। এই হল রাষ্ট্রসংঘের ইনসাফ! যদিও বিগত সাড়ে সাত দশক ধরে অধিগ্রহণ ও আগ্রাসন চালিয়ে ৮০ শতাংশেরও বেশি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে নিয়েছে ইসরাইল।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল নামক জারজ রাষ্ট্র গঠনের নীলনকশা ১০৭ বছর আগেই সেরে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তদানীন্তন ব্রিটিশ বিদেশমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ ঘোষণা করেন, এটাই ছিল মধ্যপ্রাচ্যে বিষবৃক্ষের বীজ বপন। যায়নবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জেলকে চিঠি লিখে বেলফোর সেই ঘোষণাপত্রের কথা জানান। সেই অনুসারেই রাষ্ট্রসংঘে ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বর প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। যাতে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে ৩৩, ফিলিস্তিনের পক্ষে ১৩ দেশ ভোট দেয় এবং ১০টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এর ৬ মাস পর ১৯৪৮ সালের ১৪ মে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব মোতাবেক ইসরাইল রাষ্ট্র গঠিত হয়। ঠিক তার ১০ মিনিটের মধ্যেই ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় আমেরিকা।
ফিলিস্তিনের মূল শহর বা নগর হল কয়েক হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী জেরুজালেম। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মূলে রয়েছে এই জেরুজালেম। মূলত আমেরিকা ও ব্রিটেনের মদদে বাহুবলে পুরো এলাকাটি দখল করে নিয়েছে ইসরাইল। পৃথিবীর ইতিহাসে ফিলিস্তিন একমাত্র দেশ, যারা মানবিকতা ও উদারতা দেখাতে গিয়ে নিজেদের দেশকে হারিয়ে ‘নেই রাজ্যের বাসিন্দা’ হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক কাঠামো এবং ইতিহাস-ভূগোল আমূল বদলে যায়। অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে যায়নিজম বা কট্টর ইহুদীবাদের ধারণা জন্ম নেয় ইউরোপের মাটি থেকে। ইউরোপ ও রাশিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইহুদীদের জন্য একটা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ্য।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্য বা তুর্কি খিলাফতের অধীন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক হেরে গেলে কয়েকশো বছরের উসমানীয় শাসনের অবসান হয়। ফিলিস্তিন চলে যায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের দখলে। দুই ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিধর রাষ্ট্র ভাগাভাগি করে ৩০ বছর শাসন করে ফিলিস্তিনকে। ১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণার পর দলে দলে ইহুদীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে লোটাকম্বল গুছিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। প্রথমে ফিলিস্তিনিরা তাদেরকে স্বাগত জানায়। তারা বুঝতে পারেনি এই মানবিকতা ও আতিথেয়তাই একদিন কাল হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসা ইহুদিরাই একদিন মূলনিবাসী ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের চোদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করবে। এমনকি নিজেদের ভূখণ্ড থেকেই চিরতরে ফিলিস্তিনিদেরকে উৎখাত বা বিতাড়িত করে নিজভূমে পরবাসী করা হবে – এই অদূরদর্শিতাই ছিল ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক ভুল।

আরও পড়ুন:

১৮৯৭ সালে ইহুদি পণ্ডিত থিওডোর হারজেল ‘ওয়াল্ড যায়োনিষ্ট অর্গানাইজেশন’ গড়ে তোলেন। যায়নবাদীদের স্বপ্ন ছিল, ইউরোপের কোথাও ইহুদীদের জন্য একটা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গড়ে তোলা। কিন্তু সেসময় ইউরোপে অ্যান্টি সেমিটিজম বা ইহুদী বিদ্বেষ এত প্রবল ছিল যে, সে সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনাশ হয়। ফলে যায়নবাদীরা ইউরোপের মানচিত্র ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে থাকে। সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চশমা পরিয়ে পশ্চিমারা তাদেরকে এই স্বপ্ন দেখায় এবং স্বপ্ন পূরণের আশ্বাস দেয়। শেষ পর্যন্ত হলও তাই। ফিলিস্তিনের অঙ্গ হানি করে ইসরাইল নামক ইহুদি-রাষ্ট্র গড়ে তোলায় সর্বাত্মক পৃষ্টপোষকতা দিল বিশ্ব মোড়লরা। এ যেন ফিলিস্তিনের হার্টে ইসরাইলি পেসমেকার বসানো। আর মধ্যপ্রাচ্যের আসলে ইউরোপীয়রা ইহুদীদের বিশ্বাস করত না, তাই ইউরোপের বুকে ইহুদী রাষ্ট্র তারা চায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের পাঠিয়ে দিয়ে আপদ বিদায় করে ইউরোপীয়রা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। একইসঙ্গে হিটলারের জেনোসাইড এর প্রায়শ্চিত্য করতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য দেশ গড়ে দেয় পশ্চিমারা।

আরও পড়ুন:

দেশে দেশে ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উদযাপন২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজোয়ারি করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী বলে ঘোষণা করেন। জেরুজালেম যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি। তার দু-সপ্তাহ পর ২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘে পাল্টা প্রস্তাব পাস হয় এবং ট্রাম্পের সেই ঘোষণা বাতিল হয়ে যায়। এই প্রস্তাব পাস করানোর জন্য শতাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কূটনৈতিক দৌত্য চালান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। রাষ্ট্রসঙ্ঘের জেনারেল এসেম্বলিতে বিপুল সংখ্যাধিক্যে পাস হয় সেই প্রস্তাব।

আরও পড়ুন:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশবাদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে আমেরিকা এতই শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে যে, রাষ্ট্রসংঘে প্রস্তাব পাস হলেও এখনও জেরুসালেম ইসরাইলের রাজধানী হয়েই রয়ে গেছে। এবার ট্রাম্প পুনরায় জিতে মসনদে ফিরতে চলেছেন। ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তিনি হোয়াইট হাউসের চাবিকাঠি হাতে পাবেন। তারপর ফিলিস্তিনের ভাগ্যে কী হবে, তা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন:

মক্কা-মদীনার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ইসলামী ঐতিহ্যবাহী ইবাদাতগাহ তথা মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা তথা বিশ্বনবী (সা.) এর মিরাজের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস এই জেরুজালেম নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। অতএব বলাবাহুল্য যে, ট্রাম্প ৭ বছর আগে নেতানিয়াহুকে জেরুজালেম উপহার দেওয়ায় মুসলিম উম্মাহ মুণ্ডু-বিহীন ধড়ে পরিণত হয়েছে। তবুও ৫৭টা মুসলিম দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। ওআইসি, আরব লিগ বারে বারে লোক দেখানো বৈঠক করছে এবং অশ্ব ডিম্ব প্রসব করছে।

আরও পড়ুন:

এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পিটিশনে সই করল হাজারো ইসরায়েলি

জেরুজালেম ছিল শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ট্রাম্পের যায়নবাদী মাস্টারস্ট্রোক। এটাই হল মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সূর্যাস্ত। ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় সই হওয়া অসলো চুক্তি ছিল সুপার ফ্লপ। ওই চুক্তিতে ইসরাইলও সই করেছিল। যাতে উল্লেখ ছিল ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে ইসরাইল। গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি কতৃপক্ষের স্বশাসন চলবে। কিন্তু ২০০৬ সালের নির্বাচনে গাজায় হামাস জয়ী হলে ইসরাইল তা সহ্য করতে পারেনি। সেই থেকেই টানা ১৭ বছর ধরে গাজাকে তিনদিক থেকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। ৩২০ বর্গকিমি. এলাকা বিশিষ্ট গাজায় প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষ গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

গত ১৪ মাসের যুদ্ধে নারী ও শিশু-সহ প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে ইসরাইল। তবুও পশ্চিমারা তাদের ঔরসজাত লাওয়ারিশ সন্তান ইসরাইলকে গণহত্যা চালিয়ে যেতে অবাধ লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে। কেউ জানে না, আর কত ফিলিস্তিনি শহীদ হলে নেতানিয়াহুর রক্ত-পিপাসা মিটবে? তারপর অয়দিপাউসের মতো মৃত নগরীর রাজা হবেন তিনি!

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder