স্বামী মরলেও সতীন জব্দে খুশি, মাচাদোর নোবেল জয়ে ডগমগ ট্রাম্প
লটারি লাগলো না। অনেক তদবির করেও শেষমেষ শিকে ছিঁড়ল না। টাইমিংয়ের গণ্ডগোলে কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেল ইয়ে-টা। একটুস খানির জন্য ফসকে গেল। ধুত্তেরিকা, এক পৌষে তো আর শীত পালায় না। চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়। নো চিন্তা, ডু ফূর্তি। আসছে বছর আবার হবে। ঠিক ধরেছেন, বলছি বাহুবলী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কারের কথা। কলার তুলে, বুক ফুলিয়ে তিনি দাবি করছিলেন, ৭টা যুদ্ধ নাকি থামিয়েছেন। ক্ষমতায় এসেছেন বড়জোর ৮ মাস হবে। এর মধ্যে সাতে সপ্তবাণ কোথায় ছুড়লেন? বাতপতাকাও নির্বিকার। আমরা না হয় তৃতীয় বিশ্বের প্রান্তিক নাগরিক। আমাদের শক্তিশালী টাওয়ার নেই। স্যাটেলাইট অত তেজালো নয়। অকপটে স্বীকার করি, আমাদের ইসরো ওদের নাসার ধারেকাছেও যায় না। কিন্তু তাই বলে আমরা কিন্তু নেহাত ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। অংক তো কিছুতেই মিলছে না স্যার। আপনি ভাবছিলেন, মেলাবেন তিনি মেলাবেন। কিন্তু গোঁজামিলে উত্তর মেলে না। দুয়ে দুয়ে চার না বুঝলে কার বাপের সাধ্যি আপনাকে বোঝাবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা করছিলেন, এবার নির্ঘাত তিনি শান্তিতে নোবেল পাবেন। ওবামা কোন যুদ্ধ না থামিয়ে, থুড়ি, তার থেকেও বলা ভাল কিছুই না করে ফোকটাই নোবেল পকেটে পুরে নিলেন। আর লাটসাহেব ট্রাম্প নোবেলের জন্য কত কসরত করছেন, তবু মাধুরীর মতো অধরাই রয়ে গেল কেন? এই লক্ষ ডলারের কথা কে কাকে শুধাবে? গতবার তিনি পিয়ংইয়ংয়ের জং ছাড়ানোর ব্রত নিয়ে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের সঙ্গে দু-দফা বৈঠক করেছিলেন। একবার সিঙ্গাপুরে, আরেকবার ভিয়েতনামে। বলেছিলেন, বিশ্ববাসীকে ঘুম পাড়ানি আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, এবার সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাও। উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র-মুক্ত করার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলেছি।
কিন্তু পরে গোপন সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প নতজানু হয়েও কিম জংয়ের জং ছাড়াতে পারেননি। ট্রাম্পের কথায় চিঁড়ে ভেজেনি। ট্রাম্প বাবাজী হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন, কিম ইজ কিং। কারণ, তার জোড়া বুদ্ধিদাতা হলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাজনীতিতে নবাগত ট্রাম্প তো এদের কাছে কাল কা যোগী। বর্তমান বিশ্বে সবথেকে দীর্ঘমেয়াদি শাসক হয়েও পুতিন এখনও নোবেল পাননি। তবে পুতিন অবশ্য নোবেলের জন্য স্বপ্নও দেখেননি বা কারো কাছে আবদার কিংবা বায়না করেননি। কারো হাতে-পায়ে ধরে বলেননি যে, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার নোবেল পুরস্কার চাই। ট্রাম্প কিন্তু নোবেলের জন্য অনেক সাধ এবং সাধনা করেছিলেন।
কিন্তু তিনি এমনই বুদ্ধু যে, একটাও যুদ্ধ না থামিয়েও দিব্যি বলছেন, ৭টা যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। গোয়েবলসীয় ফর্মূলায় এমন ডাহা মিথ্যে কথা বলে তিনি কীভাবে নোবেল পাবেন – এটা তার ঘিলু-বিজ্ঞানে ঢোকেনি। গাজায় টানা দু-বছর ধরে মৃত্যুমিছিল চলছে। লেবানন, সিরিয়াতে এখনও কার্যত যুদ্ধ চলছে। এসব দেশে বহুমুখী যুদ্ধে নিত্যদিন পশু-পাখির মতো মরছে নিরপরাধ মানুষ। ইউক্রেন বনাম রাশিয়া যুদ্ধও তুঙ্গে। অথচ ট্রাম্প বলছেন তিনি ৭টা যুদ্ধ থামিয়েছেন। এ তো পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যকেও লজ্জায় ফেলে দেবে দেখছি।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এসব যুদ্ধ থামাতে তার বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা দেখা যায়নি। কারণ, যুদ্ধ বন্ধ হলে পশ্চিমা অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলো তো ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস থেকে কান ধরে নামিয়ে দেবে। অগত্যা মার্কিন মুলুকে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, তাকে অন্তত ছদ্মবেশি যুদ্ধবাজ সাজতে হবে। বেসুরে হলেও গান-লবির জয়-গান গাইতেই হবে। গান-লবিকে সন্তুষ্ট করতেই হবে। এই তোষণ নীতি থেকে মুখ ফেরালে প্রেসিডেন্টের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে স্ট্রং গান-লবি। তাই শান্তি চাইলেও বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? কার এত স্পর্ধা আছে?
মার্কিন মুলুকে রয়েছে মহাশক্তিশালী দাবাং গ্রুপ। যার পোশাকি নাম ‘আইপ্যাক’। আদতে এটা ইহুদি-মার্কিন লবি। হোয়াইট হাউস থেকে ওভাল অফিস – সর্বত্র এদের প্রতাপ ও দাপট। হোয়াইট হাউসের পাসওয়ার্ড একমাত্র এরাই জানে। কীভাবে নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্ট হতে হবে, সে ফুসমন্তর এই লবির মুখস্ত। তাই ট্রাম্প যতই রথী-মহারথী হন না কেন, এদের কাছে তার টিকি বন্ধক রাখা আছে। বেশি বেগরবাঁই করলে হড়কে দেবে। ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে গেলে কেনেডির মতো ফটো হয়ে দেওয়ালে লটকে যেতে হবে।

যাহোক, এবারের মতো ট্রাম্প নোবেল পেলন না। পেলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ট্রাম্পের দুধের স্বাদ যেন ঘোলে মিটল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে টেক্কা দিয়ে নোবেল পকেটায় নমঃ করলেও ট্রাম্প এতে খুশি। শুধু খুশি নয়; বরং খুশিতে ডগমগ। কারণ, মাচাদো তার প্রাপ্ত এই পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন। দ্বিতীয়ত, মাচাদো হলেন আমেরিকা এবং ইসরাইলপন্থী।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলো বরাবরই মূল আমেরিকার ঘোরতর বিরোধী। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবার কট্টর মার্কিন ও ট্রাম্প বিরোধী। তাই শত্রুর শত্রু বন্ধু ফর্মূলায় মাচাদো হলেন ট্রাম্পের মিত্র। ট্রাম্প আবার সুন্দরী মহিলাদের ভক্ত। সে অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ। যাহোক, মাদুরোর চ্যাটা গোটাতে ট্রাম্পের ভরসা এখন মাচাদো। তাই নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা করতে অর্থাৎ মাদুরোর মাদুর কেড়ে নিতে মরিয়া ট্রাম্প সম্প্রতি সেদেশে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। ট্রাম্প এটা শুধু স্বীকারই করেননি; বরং সদর্পে সগর্বে দাবি করে এর কৃতিত্বও নিয়েছেন। যাক, ট্রাম্প নিজে নোবেল না পেলেও দুঃখ নেই, মাচাদো পেয়েছেন মানে মাদুরোর গুসসা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে নিশ্চিত। এটাই ট্রাম্পের পরম প্রাপ্তি। স্বামী মরলেও ক্ষতি নেই, সতীনকে তো জব্দ হয়েছে।








