BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

সংবিধান প্রদত্ত সমস্ত মৌলিক অধিকার হরণ করেছে ফ্যাসিস্ট শাসকশ্রেণি

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৮ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ২:৩৮

ড. শামসুল আলম

আরও পড়ুন:

বাবাসাহেব আম্বেদকর এবং সংবিধান-সভা ভারতীয় জনগণকে যে সাত দফা মৌলিক অধিকার দিয়েছিল, সে সবকে চুরমার করেছে ফ্যাসিস্ট মোদী সরকার বিগত ১১ বছর যাবত। মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধান প্রদত্ত রক্ষাকবচ:
সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের প্রায় শুরুতে (১৩ ধারা) বলে দেওয়া হয়েছে যে (১) সংবিধান রচনার আগে যেসব আইন-কানুন রয়েছে, তা বাতিল হবে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের কারণে। (২) সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, যদি প্রজাতান্ত্রিক ভারতে যেসব আইন রচিত হচ্ছে বা হবে, তাকে অবশ্যই মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাযুজ্য রাখতে হবে এবং যদি তা না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন বাতিল বলে গণ্য হবে। গোলকনাথ বনাম ভারত রাষ্ট্র (১৯৬৭) মামলায় সর্বপ্রথম সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টত এই ঐতিহাসিক রায় দেয় যে, সম্পত্তির অধিকার-সহ কোনও মৌলিক অধিকারকে ৩৬৮ ধারায় (সংবিধান সংশোধনী ধারা) রাষ্ট্র বা রাজ্য কর্তৃক হরণ করা যাবে না। এই রায়ে রেগে গিয়ে তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকার ২৪তম সংশোধনী এনে ঘোষণা করল, সংসদ মৌলিক অধিকার-সহ যে কোনও ধারাকে সংশোধন করবে, যেখানে কোন সংবিধান সংশোধনীকে বাতিল করার এক্তিয়ার শীর্ষ আদালতের নেই। এরপর সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৩ সালে এযাবৎকালের সবথেকে যুগান্তকারী রায় দিলেন কেশবানন্দ ভারতী বনাম কেরালা মামলায়, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট সংসদের এক্তিয়ারের কথা বলে রায় দেন, সংসদ কোনও অবস্থাতেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের প্রস্তাবনার গণতন্ত্র (নাগরিকের মৌলিক অধিকার যুক্ত), প্রজাতন্ত্র, ন্যায়বিচার, ব্যক্তির মৌলিক স্বাধীনতা, সাম্য, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা (বিচার পর্যালোচনা) প্রভৃতি হল মৌলিক কাঠামো, যাকে পার্লামেন্ট পরিবর্তন করতে পারবে না। প্রকারান্তরে ২৪তম সংবিধান সংশোধনের (যেখানে সরকার পার্লামেন্টকে সার্বভৌম বলেছিল) অবস্থান বাধাপ্রাপ্ত হল কেশবানন্দ মামলায়। এরপর শীর্ষ আদালত মিনার্ভা মামলায় (১৯৮০) রায় দেন, বিচার বিভাগের পর্যালোচনা ক্ষমতা হল নিরঙ্কুশ। এই কারণে ইন্দিরা গান্ধীর ৪২তম সংশোধনী পদক্ষেপকে শীর্ষ আদালত কর্তৃক অসাংবিধানিক বলা হয় ঠিক সেই বিপজ্জনক জায়গায়, যেখানে ৩৬৮ ধারার সঙ্গে যোগ করা হয়েছিল, সংসদই সার্বভৌম, যার এক্তিয়ারে সুপ্রিম কোর্ট থাকবে না। এর প্রেক্ষিতে আদালত আবারও বলেন, পার্লামেন্টের ক্ষমতা সীমাবদ্ধতা এবং বিচারব্যবস্থার পর্যালোচনা — এই দুটিও হল মৌলিক কাঠামো। এই রায়ের পর ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোনও কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানায়নি। সম্প্রতি উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখঢাক না করে মন্তব্য করেন, সুপ্রিম কোর্ট সার্বভৌম নয়; বরং পার্লামেন্ট সার্বভৌম। অর্থাৎ নাৎসীবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে তিনি নকল করলেন। বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review)-কে তিনি বাড়াবাড়ি বলতেও কসুর করেননি। এর ১৮০ ডিগ্রি বিপরীতে তখনকার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না সোজাসুজি জানিয়ে দেন, পার্লামেন্ট বা সুপ্রিম কোর্ট নয়; বরং সার্বভৌম হল সংবিধান, যার ব্যাখ্যা করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব হল সংবিধানের অভিভাবক স্বয়ং সর্বোচ্চ আদালতের।

আরও পড়ুন:

Parts of Indian Constitution
চ্যালেঞ্জের সূত্রপাত অবশ্য হয়েছিল অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে, যেখানে ওই সরকার নাগরিকতার নতুন আইন (NRC, NPR) চালু করে বৃহৎ জনগোষ্ঠী-সহ সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী এবং সর্বোপরি শ্রমজীবী জনতার নাগরিকত্ব হরণ করা হয়েছে উদ্ভট কতগুলো শর্ত চাপিয়ে, যা ব্যাপক জনগণ পূরণ করতে পারবে না। যথা- পূর্বপুরুষের জমির রেকর্ড, জন্ম সার্টিফিকেট, বাসস্থান সার্টিফিকেট প্রভৃতি। ২০১৪ সাল থেকে মোদি সরকার সমস্ত বৈধ নাগরিকের জীবনের অধিকারকে (২১ ধারা) হরণ করতে এগিয়ে আসে, যার নিকৃষ্টতম সংস্করণ হল ২০১৯ সালের CAA নামক ফ্যাসিস্ট আইন। যেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাদ রেখে অন্য ছয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বৈধতা নিশ্চিত করার কথা বলা হল। যার প্রতিধ্বনি শোনা যায় ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে নরেন্দ্র মোদি সংখ্যালঘু সমস্ত মানুষকে অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দেওয়ার মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুন:

Stifling Dissent: The Criminalization of Peaceful Expression in India | HRW

মৌলিক অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত:

আরও পড়ুন:

শুধু রাজবন্দী কয়েক হাজার সারা দেশে, যাদের অপরাধ হল তারা মোদি জামানার বিভিন্ন নীতির সমালোচক। ১৯ ধারার বাক স্বাধীনতাকে নৃশংসভাবে হরণ করল। একনায়কতন্ত্রী জামানায় দু-তিনটি মাত্র দৃষ্টান্ত তুলে ধরলে দেখা যাবে, ২০১৮ সালের গোড়ায় মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলায় ভীমা কোরেগাঁওতে ১৬ জন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীকে অনির্দিষ্টকাল আটক রাখা হল কালাকানুন ইউএপিএ-তে। ২০২০-তে দিল্লি দাঙ্গায় দাঙ্গাবাজরা অবাধে বিচরণ করলেও কোপ এসে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ছাত্রদের ওপর, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর যাবত ইউএপিএ-এর ছোবলে আটকে আছেন ওমর খালিদ, সার্জিল ইমাম-সহ জনা দশেক মেধাবি পড়ুয়া।
এরও আগে হাথরাসের গণধর্ষণ ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার খবর করতে গেলে সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে ইউএপিএ-তে আটক রাখা হয় সাড়ে তিন বছর। পহেলগাঁও জঙ্গী হামলার ক’দিন বাদে কালাকানুনে আটক করা হল অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান প্রধান ড. আলি মাহবুদাবাদকে। বলা বাহুল্য, এই নিরাপরাধ প্রথিতযশা অধ্যাপকের অপরাধ ছিল, তিনি দাবি করেছিলেন রাষ্ট্র ও সরকার যেন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেয়।

আরও পড়ুন:

Waqf bill: India Lok Sabha passes controversial bill on Muslim properties
২০২২ সালে মোদী জামানা আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে সেগুলি আদানি, আম্বানি-সহ কর্পোরেট টাইকুনদের হাতে তুলে দিয়েছে অবাধে দেশের খনিজ সম্পদ লুট করার লক্ষ্যে। একইভাবে ২০২৪ সালে মোদিরাজ সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওয়াকফ রক্ষণাবেক্ষণের (২৬ ধারা) অধিকারকে কেড়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আদানি-আম্বানি এবং বিদেশি বহুজাতিক সংস্থাকে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত মামলা মুলতুবি রাখা অবস্থাতেও মোদি সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যার নির্দেশিকা হল- রেজিস্ট্রেশেন না করার অজুহাতে প্রায় ১ লাখ ওয়াকফ এস্টেট এবং লাখ লাখ বিধায় বিস্তৃত মসজিদ-দরগাহ-ঈদগাহ-এতিম খানা-দাতব্য স্কুল-মাদ্রাসাকে আত্মসাৎ করে দেশী-বিদেশী কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া। এটা শুধু সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অবমাননাই নয়, এটা একদিকে যুক্তিসংগত শ্রেণিবিভাগ না করা এবং অপরদিকে ১৪,১৯,২১ ধারার মধ্যেকার ন্যায়বিচার হরণ করা। সুপ্রিম কোর্ট যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন মানেকা গান্ধী বনাম ভারত সরকার মামলায়, যেখানে আদালত স্পষ্ট বলেছে, ন্যায়বিচারের বিরোধী কোনও সংসদীয় আইন পাশ হলে তা বাতিল হবে। আদালত উক্ত তিনটি ধারাকে ‘সোনালি ত্রিভূজ’ আখ্যা দিয়েছেন। যার আলোকে পরবর্তীকালে শীর্ষ আদালত জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ, পরিবেশ প্রভৃতি অধিকারকে ২১ ধারার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশিকা দিয়ে রাখলেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট রাজ সোনালি ত্রিভূজকে ছাই-গাদায় নিক্ষেপ করেছে।

আরও পড়ুন:

All you need to know about citizenship trio : NRC, NPR & CAA - iPleaders

এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হল, কৃষকরা ঐতিহাসিক লড়াই করে যে তিনটি দানবীয় কৃষি আইনকে প্রত্যাহার করতে কেন্দ্র সরকারকে বাধ্য করেছিল, সেই আইন পিছন দরজা দিয়ে আনা হয়েছে, যা কৃষি বিপণনকে আদানি-আম্বানিদের ফাটকা পুঁজির স্বর্গরাজ্য করে তুলবে। এই লক্ষ্যে কেন্দ্র কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক-মূল্য (MSP) ধার্য করছেন, যা স্বনামধন্য ভারতীয় কৃষিবিজ্ঞানী ড. স্বামীনাথন কমিশনের পুরোপুরি খেলাপ। পাশাপাশি মোদি জামানায় গত ৮ বছরে ঋণশোধ করতে না পেরে এক লক্ষাধিক কৃষক আত্মহত্যা করেছে। এটা ২১ ধারার জীবনের অধিকারকে উপহাসে পরিণত করেছে। তাইতো দেখা যাচ্ছে, মোদি জামানায় প্রায় ১৪ কোটি কৃষক কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়েছেন বা কৃষিকাজ থেকে সরে গিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। ৩৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছেন। সব মিলিয়ে কৃষি উৎপাদন গভীর সংকটে পড়বেই, যার পরিণামে প্রায় তিন কোটি খেতমজুর এবং ৩৫ কোটি গরীব মানুষ জীবনের অধিকার (২২ ধারা), পেশার অধিকার (১৯ ধারা) বিলুপ্তির পথে ধাবিত হবে। এই কারণেই ভারত ক্ষুধার সূচকে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান প্রভৃতি ছোট ছোট প্রতিবেশী দেশের থেকেও পিছনে চলে গিয়েছে। কোটি কোটি মানুষের অপুষ্টির হাহাকার জীবন জীবিকার গভীর সংকটের ইঙ্গিতবাহী। প্রসঙ্গত, জীবনের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক শুধু ডিক্টেটর মোদির লাগামছাড়া লকডাউনের কারণে। এছাড়া ২৯ কোটি অসংগঠিত শ্রমিক, যারা জিডিপি-র ৪৫ শতাংশের উৎপাদক, অথচ তারা সমস্ত সামাজিক বীমা থেকে বঞ্চিত। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই বঞ্চনা জীবন ও কাজের মৌলিক অধিকারকে কেড়ে নেবার সূচক এবং সংবিধানের চতুর্থ অধ্যায়ের ৩৯ ধারাকে চূড়ান্ত অবজ্ঞা করছে। অথচ এই অধ্যায়ে বর্ণিত সমস্ত ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি তৈরিতে মরিয়া এই সরকার। যার লক্ষ্য হল, এক দেশ-এক ধর্ম, এক ভাষা-এক নেতা এবং একদল ভিত্তিক মনুবাদী মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র গঠন করা।
(ঋণ: সোশ্যাল জাস্টিস ও পূর্বাঞ্চল)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder