জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস
নতুন পয়গাম, জঙ্গিপুর: মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এখন সাহিত্য ও সংস্কৃতির নতুন উর্বর ভূমিতে পরিণত হচ্ছে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হল ২১ জুন। ঔরঙ্গাবাদ ডিএনসি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হয়ে গেল ‘জঙ্গিপুর ষষ্ঠ শিল্প-সাহিত্য উৎসব ২০২৬’। দিনভর সাহিত্য আলোচনা, গুণীজন সংবর্ধনা, কবিতা পাঠ, সঙ্গীত ও নৃত্যের মেলবন্ধনে উৎসব প্রাঙ্গণ যেন এক টুকরো সাংস্কৃতিক তীর্থে পরিণত হয়েছিল। এই জমকালো চাঁদের হাটে সব আলো কেড়ে নিল সাড়ে নয় বছরের বিস্ময়-বালক, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আনান বিশ্বাস।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনদের সম্মাননা প্রদান। সেই মঞ্চেই নিজের অসাধারণ মেধা, সৃজনশীলতা এবং শিল্পমনস্কতার স্বীকৃতি হিসেবে আনান বিশ্বাসের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হাতে নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে খুদে শিল্পী আনান বিশ্বাস যখন মাইক হাতে বক্তব্য রাখা শুরু করে, তখন গোটা অডিটোরিয়ামে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। বয়সের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের সাবলীল, পরিপক্ব এবং গভীর জীবনবোধসম্পন্ন বক্তব্য এবং ইতালিয়ান কবি জিওভানি পাসকোলির লেখা “ইললামপো” কবিতা ইতালিয়ান ভাষায় আবৃত্তি করলে উপস্থিত দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। বক্তব্য শেষ হতে পুরো অডিটোরিয়াম ফেটে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও বজ্রনির্ঘোষ করতালিতে। উপস্থিত গুণীজন ও দর্শকেরা আন্তরিকভাবে এই খুদে প্রতিভাকে কুর্নিশ জানান।

উপস্থিত প্রধান অতিথি তথা সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী, উদ্বোধক ও জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি গবেষক-প্রাবন্ধিক ড. সুখেন্দু দে সহ উপস্থিত সকল গুণীজন আনানের এই অসামান্য কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করেন, আনান কেবল একজন পুরস্কার প্রাপক নয়; বরং সে এই প্রজন্মের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। আয়োজক ‘জঙ্গিপুর সাহিত্য সমন্বয় ট্রাস্ট’-এর এই অনবদ্য উদ্যোগ ও আনানের মতো সুপ্ত প্রতিভার এই জয়জয়কার প্রমাণ করে দিল যে, মেধা ও সংস্কৃতির আলো কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা বয়সের ফ্রেমে বেঁধে রাখা যায় না।








