নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র্যালি
নতুন পয়গাম, বানারহাট: নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় জলপাইগুড়ি পুলিশের বানারহাট থানার উদ্যোগে শনিবার বানারহাটে মাদকবিরোধী সচেতনতা র্যালি ও সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদক ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। বানারহাট থানা থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি বানারহাট বাজারের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে এলআরপি মোড় পর্যন্ত যায়। র্যালিতে বানারহাট থানার পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সমাজসেবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন।
র্যালি চলাকালীন বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের হাতে মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব, তা থেকে মুক্ত থাকার উপায় এবং মানসিক চাপ বা মনোসামাজিক সমস্যার ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার জন্য ‘মানস’ হেল্পলাইন সম্পর্কিত তথ্যসম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। পুলিশ মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছুক এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার জন্য এই হেল্পলাইন ব্যবহার করার আহ্বান জানায়।
এলআরপি মোড়ে অনুষ্ঠিত সচেতনতামূলক সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাই এর মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
এই কর্মসূচি বানারহাট থানার আইসি সূরজ থাপা-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চামার্চি আউটপোস্টের ওসি, বিন্নাগুড়ি আউটপোস্টের ওসি, ট্রাফিক ওসি-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সমাজসেবী পুনিতা ওরাঁও, সন্তোষ প্রসাদ, গোমা রাই, জয়রাজ বিশ্বকর্মা এবং তুলসীরাম সাহু-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাজসেবী পুনিতা ওরাঁও বানারহাট থানার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি বলেন, “এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে শুধু পুলিশের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও গ্রামে গ্রামে গিয়ে সচেতনতা ছড়াতে হবে। প্রতিটি পরিবার যদি মাদকমুক্ত হয়, তবে সমাজ মাদকমুক্ত হবে, আর সমাজ মাদকমুক্ত হলে দেশও মাদকমুক্ত হতে পারবে। তাই এই অভিযানে সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে স্কুল, গ্রাম এবং বাজার এলাকায় আরও বিস্তৃতভাবে চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নয়, বরং সমগ্র সমাজের যৌথ দায়িত্ব। সকলের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।








