টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: টানা দু’দিনের ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ধূপগুড়ি শহর ও ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। শহরের একাধিক ওয়ার্ডে বাড়িঘরে জল ঢুকে পড়েছে, রাস্তাঘাট ও বাজার এলাকা হাঁটুসমান জলে ডুবে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে জলঢাকা নদীর বাঁধে ফাটল এবং নদীভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রাত জেগে নদীপাড়ে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
ধূপগুড়ি শহরের ১, ৩, ১০, ১২, ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে জল জমে কার্যত জনজীবন বিপর্যস্ত। জলনিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং একের পর এক জলাভূমি ভরাট হওয়ার ফলেই সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। সোমবার একাধিক ওয়ার্ডে দেখা যায়, বাড়ির ভেতর দিয়ে জলের স্রোত বইছে, আসবাবপত্র জলের নিচে, আর খাটের ওপর অসহায়ভাবে শুয়ে রয়েছেন এক অসুস্থ বৃদ্ধা। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৌমিতা চন্দ বলেন, “প্রতি বছর একই ছবি দেখতে হচ্ছে। ঘরের ভিতরে জল ঢুকে সবকিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি।”
জল জমে থাকার কারণে বিভিন্ন বাড়িতে সাপ, পোকামাকড় ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ধূপগুড়ির মহকুমা শাসককে ফোনে বিষয়টি জানানো হলেও তাঁকে জলমগ্ন এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁদের দাবি, অভিভাবকহীন অবস্থায় চলছে ধূপগুড়ি পৌরসভা। পেশায় শিক্ষিকা রুমা সাহা বলেন, “বাড়ির বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।ঘরের ভেতরে এক হাঁটু জল, মহকুমা শাসক কে ফোন করেছিলাম সমস্যার কথা জানিয়ে। তিনি বলেছিলেন আসবেন কিন্তু তিনিও আসেন নি কোন পৌরসভার কর্মীও আসেনি । দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
পরিবেশপ্রেমী ভজন সাহা বলেন, “অপরিকল্পিত নগরায়ণ,অবৈধভাবে শহরের জলাভূমি ভরাট এবং সঠিক নিকাশি ব্যবস্থার অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। শুধুমাত্র অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতেই হবে।”
অন্যদিকে, ধূপগুড়ি ব্লকের বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পাটকিদহ এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে। রান্নাঘর, শোবার ঘর-সহ প্রায় গোটা বাড়িই জলমগ্ন। নোংরা জল ও শৌচালয়ের জল একাকার হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। কোমরসমান জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার রান্নাও করতে পারছেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত জলনিকাশি ব্যবস্থার জন্যই প্রতি বছর এই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এদিকে বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জাকৈকোনা এলাকায় জলঢাকা নদীর মাটির বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদীর তীরে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন প্রায় আড়াইশো পরিবারের মানুষ। নদীর জলস্তর আরও বাড়লে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাই রাত জেগে নদীপাড়ে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য শঙ্কর দাস বলেন, “বাঁধে ফাটল এবং নদীভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত মেরামতির কাজ শুরু না হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। আমরা চাই অবিলম্বে বাঁধ সংস্কার, নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ী জলনিকাশি ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
টানা বৃষ্টির জেরে একদিকে শহরে জলমগ্ন অবস্থা, অন্যদিকে নদীভাঙন ও বাঁধে ফাটল এই দুই সংকটে চরম উদ্বেগে ধূপগুড়ির মানুষ। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবিই এখন সর্বত্র।








