BREAKING:
থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা

থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ৩:৫৫ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ৩:৫৬

উমর ফারুক: “থাইকা খ্যস্তা গেনু…” এই বাক্যটি শুনেই আমি আঁতকে উঠলাম। মাস ছয়েক আগে একবার গিয়েছি বড়-মা সাক্ষাৎ করতে। আমার আওয়াজ পেয়েই বলল- কে, ফারুক? আমি বললাম, হ্যাঁ, বড়-মা। তোমাকে দেখতে এসেছি। একথা শুনে সে অত্যন্ত মায়াবী স্বরে বলল, এতদিন পর! তোর কথা অনেক মনে পড়ে। এভাবে বলতে বলতে অনেক পুরনো কথাও বলল। এমনকি সে তার বাল্যকালের স্মৃতিকথাও আমাকে শুনিয়েছিল। দাদুদের অনেক পুরনো শেকড় তাদের বংশের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। দাদুর মৃত্যু প্রসঙ্গ আস্তে আস্তে বড়-মা একবার আক্ষেপের সুরে বললেন… “থাইকা খ্যস্তা গেনু…” এই বাক্যটি শুনে আমি চমকে উঠলাম। কেন তোমার মৃত্যুর ভয় করে না। বলল, আমার বয়সের কেউ আর বেঁচে নেই। যারা মারা যাচ্ছে, তারা আমার মেয়ের বয়সী। আসলে মানুষ মৃত্যুকে তখনই ভয় করে, যখন দুনিয়ায় বেঁচে থাকার তার নানান ধরনের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। মানুষ মৃত্যুকে তখনো ভয় করে, যখন দুনিয়ার মোহ তাকে আষ্টেপিষ্টে ধরে মাকড়সার জালের মতো সে জড়িয়ে পড়ে দুনিয়াবী কাজ-কামে। পরকালের চিন্তা-ভাবনা যখন সে ভুলে যায়। মৃত্যুর পরে যে আরেকটা জীবন আছে, সেই জীবনের কথা যখন স্মরণ করতে ভুলে যায়, তখনই মানুষ মৃত্যুকে ভয় করে; কিন্তু যখন তার পরকাল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে নিজের মধ্যে কনফিডেন্স তৈরি হয়ে যায়, তখন তার কাছে মনে হয়, এটা একটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি সংবাদ।

আরও পড়ুন:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র জীবনবিধান আল কুরআনে বলেছেন, প্রত্যেক ব্যক্তিকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, কেউ এর থেকে রেহাই পাবে না, অতীতে কেউ পায়নি। পাঠের সম্পদের অধিকারী। কারণ, মুসা নবীর জামানায় নিজেকে দুনিয়ার বাদশাহ বলে ঘোষণা করেছিল। সে বলেছিল, তার কখনো মৃত্যু হবে না, তার সম্পদ কখনো ধ্বংস হবে না, সে সারা জীবনের জন্য এই সম্পদ নিয়ে বেঁচে থাকবে। অতঃপর মুসা নবীর ঈশ্বর তত্ত্বে স্বীকার করল না। ফলে আল্লাহ তাকে এমন শাস্তি দিল তার সম্পদ এবং সে কেয়ামত পর্যন্ত ভূগর্ভে প্রবেশ করবে। শেষ পর্যন্ত তাকেও মরতে হয়েছে। মানবজাতির পিতা নবী ইব্রাহিম (আ.) এর জামানায় আরেকটি ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। নমরুদ নামক এক অত্যাচারী শাসক ছিল, যে নিজেকে ঈশ্বরের পরপর স্থান দাবি করেছিল। তার মতে, কখনো সে ঈশ্বরকে স্বীকার করবে না, সে মরবে না, তার সমস্ত সম্পত্তি আজীবন পর্যন্ত টিকে থাকবে; কিন্তু তাকে এমন এক করুণ মৃত্যু দিল, যেটা সারা পৃথিবীর জন্য ইতিহাস হয়ে থাকল। সামান্য একটি মশার কারণে তার মৃত্যু হয়েছিল। এমন করে বহু ঘটনা উল্লেখ আছে কুরআনে, যারা নিজেকে মৃত্যুর দূত বলে দাবি করলেও তাদের কিন্তু  শেষ পর্যন্ত মরতে হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করার পরে পরেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত’ অর্থাৎ প্রত্যেক জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তিনি একথা বলেননি যে, মানুষকে তিনি বলেছেন, জীব বলতে আমরা বুঝি, যাদের জন্ম আছে। সুতরাং মৃত্যুবরণ করতে হবে, এটাই শেষ কথা, এটাই চূড়ান্ত।

আরও পড়ুন:

যখন কেয়ামত সংঘটিত হবে, পৃথিবী যখন ভেঙে খানখান হয়ে যাবে, আকাশ চুরমার হয়ে যাবে, পাহাড়-পর্বত নদী-নালা সাগর-মহাসাগর শুকিয়ে যাবে, সারা পৃথিবী যখন একটা ময়দানে পরিণত হবে, সেই সময় যখন একটা মানুষ বা জীব প্রজাতি বেঁচে থাকবে না, তখনও যারা প্রত্যেকটা মানুষের জান কবজ করে, সেই আজরাইল ফেরেস্তা, তাকেও মরতে হবে। তার মৃত্যুটা কীভাবে হবে, এ কথাও হাদিস পাকে উল্লেখ করা আছে। আজরাইল ফেরেশতা যখন নিজের জান কবজ করবে, তখন সে বিকট চিৎকার করবে, আর সেই চিৎকারে আকাশ ফেটে যাবে, সে নিজেই নিজেকে হত্যা করবে, আর সেই হত্যার দৃশ্য তখন আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দেখবেন। মৃত্যুর জন্য এতটা কঠিন এবং করুণ শাস্তির বিধান আল্লাহ দিয়েছেন প্রত্যেকটা মানুষকে শুধরানোর জন্য। শুধু আমরা মানুষই বোকা। মানুষ দুনিয়াবী সম্পদের লোভে ঠুনকো লোভ-লালসায় নিজেকে এতটাই ডুবিয়ে রেখেছে যে, পরকালের কথা স্মরণ করতেই ভুলে যায়।

আরও পড়ুন:

বর্তমানে দেখা যায়, প্রবীণ মানুষগুলো ক্রমে ক্রমে দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে, আর রেখে যাচ্ছে নবীন প্রজন্ম, যারা লোভ-লালসায় নিজেকে অন্ধ করে রাখছে। আমরা শোকাহত, মর্মাহত এই ধরনের প্রবীণ মানুষগুলো, যারা ছাতার মতো নবীন প্রজন্মকে নিরাপত্তার বলয়ে ঢেকে রাখত, একে একে তারা সবাই দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছে। নবীন প্রজন্ম ধীরে ধীরে ধূসর গোধূলির অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। পৃথিবীকে জন্ম দিচ্ছে নরকের আঁতুড়ঘর। ২০২১ থেকে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ অত্যন্ত শোকস্তব্ধ ছিল আমার জীবনে। কারণ, এই সময় কালের মধ্যে আমরা এমন এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রবীন মানুষদেরকে হারিয়েছি, যারা শুধু আমাদের গ্রামকেই নয়; আমাদের যুব সমাজকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে কম করে হলেও ১০০ জন বয়স্ক ব্যক্তিকে হারিয়েছি। এরপর থেকে গ্রামের মোড়ল-সরদার সমস্ত কিছু একটা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে, যারা সমাজকে আরো অন্ধকারের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এরকম সমাজ আমরা কখনোই চাই না, যেখানে থাকবে হিংসার রাজনীতি। ন্যায় এবং সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা হারিয়ে গিয়েছে নোংরা রাজনীতির আখড়ায়। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে ২০২১ সালের আগের দৃশ্য এটা প্রমাণ করে যে, বর্তমান প্রজন্ম ধীরে ধীরে হকের পথ থেকে বিমুখ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন:

ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা, যেখানে বয়স্কদের কথা তরুণ সমাজ শুনছে না। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস আলাদা করলে দেখা যায়, সর্বপ্রথম বয়স্কদের নিয়েই গড়ে উঠেছিল সভা। এই সভা নেতৃত্ব সমাজের ধীরে ধীরে গড়ে উঠল রাজা-মন্ত্রীপরিষদ অতঃপর দেশ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। গৌতম বুদ্ধ যে অঞ্চলে জন্মেছিলেন, সেটি ছিল বজ্জি রাজ্য। এটি উপজাতি সম্প্রদায়ের অঞ্চল নামে পরিচিত। খ্রিষ্ট্রীয় ষোড়শ শতকে যে ১৬টি মহাজনপদ গড়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল বজ্জি। তবে অন্যান্য ১৪টি মহাজনপদ ছিল রাজতান্ত্রিক; আর বজ্জি ও মল্ল ছিল একমাত্র গণতান্ত্রিক রাজ্য। কিন্তু রাজতান্ত্রিক রাজ্যগুলি গণ রাজ্য বা গণতান্ত্রিক রাজ্যগুলোকে বারবার আক্রমণ করত। গৌতম বুদ্ধ নিজের জাতি ও দেশকে রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বারোটি উপদেশ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হল, বয়স্কদের কথা মেনে চলা। তাহলে এখান থেকেও পরিষ্কার যে, ভারতীয় উপমহাদেশে শাসনব্যবস্থা মূলত গড়ে উঠেছিল বয়স্কদের নিয়েই। সেই নিরিখে বর্তমান সমাজকে যদি তুলনা করতে যায় তাহলে দেখতে পাব, এই সমাজ কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন:

তাহলে কি এটা চিন্তার বিষয় নয় যে, বয়স্করা হারিয়ে যাওয়ায় সমাজ কত মূল্যবান রত্ন হারাচ্ছে? আমরা বয়স্কদের অবদান কীভাবে ভুলতে পারব? গ্রাম থেকে যদি শুরু করা যায়, তাহলে এই প্রবীণদের কথাই প্রথম মাথায় আসবে, যাদেরকে আমরা হারিয়ে দিচ্ছি ধীরে ধীরে, তাদেরকে কিন্তু আমরা কেউ আর স্মরণ করি না, তাদের পথ ও মত কখনোই আমরা মেনে চলতে চাই না। কাজেই ধীরে ধীরে সমাজ অপসংস্কৃতির বেড়াজালে আটকে পড়েছে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ, আর এই যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হল বৃদ্ধ প্রবীণদের কথা শোনা, তাদের পথ ও মতের অনুসারী হওয়া।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder