BREAKING:
খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকজয়ী অ্যাথলিট তাহুরা খাতুনকে মানবতা-র সংবর্ধনা নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী) জঙ্গিপুর সাহিত্য উৎসবে ‘সুভদ্রা দেবী স্মৃতি পুরস্কার’ পেল বিস্ময়-বালক আনান বিশ্বাস অর্গানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশ-বান্ধব, রয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও     নোনা জলের প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বমানের শিক্ষার আঙিনায় সাগরদ্বীপ   বাগুইআটি কৃষ্টি সংসদের মাসিক সাহিত্য সভায় প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রমেণ আচার্যের প্রয়াণ দিবস স্মরণ বানারহাটে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করলেন বিধায়ক পুনা ভেংরা গয়েরকাটা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ..! বজ্রাঘাতে হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা, চাঞ্চল্য নাগরাকাটার ম্যাচপাড়ায় নোনাই নদীর অস্থায়ী ডাইভার্সন সেতুতে ভাঙন, দুর্ভোগ নেশামুক্ত ভারত মিশনের আওতায় বানারহাটে পুলিশের সচেতনতা র‍্যালি অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় লাল সতর্কতা, নদী সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার ২১ দফা দাবিতে ধূপগুড়ি এসডিও অফিসে ডেপুটেশন যুব কংগ্রেসের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ধূপগুড়ি, বাড়িতে জল শঙ্খমালার উদ্যোগে সোনামুখিতে ‘সুরের রবি – দ্রোহের নজরুল’ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ধুলিয়ানে অনুষ্ঠিত হল মুর্শিদাবাদ জেলা কবিতা কার্নিভাল, আয়োজনে ‘কবিতা কার্নিভাল’ ও ‘স্বপ্নের ভেলা’ সাহিত্য পত্রিকা বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট-এর সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা বড়জোড়া বিধানসভার বিধায়ক বিল্লেশ্বর সিংহ নিজে মাটি কেটে ১০০ দিনের কাজের সূচনা করলেন রক্তদানের মধ্যদিয়ে বিজয় উৎসব পালন করলো বিজেপি ধূপগুড়ি মহকুমা ডেকোরেশন লাইট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন বারুইপুরে বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্টের সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা সুরাবর্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের পিছনে ভাবনা সীমান্তের ঊর্ধ্বে মানব-মর্যাদা: জাতীয়তাবাদ ও বিশ্বব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনে কোন দল সবথেকে বেশি লাভবান হতে পারে? ডিজিটাল অবসেশন, পর্নোগ্রাফি ও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে কলকাতায় এসআইও-র গোলটেবিল বৈঠক আবাস যোজনার টাকা ও কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, উত্তেজনা কুলতলিতে থাইকা খ্যস্তা গেনু: মৃত্যু, স্মৃতি ও সময়ের গল্প সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে পটাশপুরে “বাঙালির মাংস-ভাত উৎসব” রাজনীতির অঙ্গনে ‘ডিম থেরাপি’; গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যই শেষ কথা? জহর সরকার, নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা বার্নি স্যান্ডার্স হওয়ার চেষ্টা করতে পারতেন প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস কুলতলিতে বোমাবাজির ঘটনায় আটক ২ ২০২৫ সালের সাইন্যাপস্ পত্রিকা সম্মাননা পেলেন কবি বোধিসত্ত্ব মুখোপাধ্যায় স্বচ্ছ ভারত অভিযানে নজির বানারহাট থানার পুলিশের সরকারি উদ্যোগে প্রাকৃতিক কৃষি কর্মশালা জয়নগরে মারামারির ঘটনায় জয়নগরে গ্রেফতার এক যুবক ফুটপাত ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কড়া পদক্ষেপ আলিপুরদুয়ারে নকল মদের কারখানায় পুলিশের হানা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি জাতীয় কংগ্রেসে ফিরতে চান… ইসলাম ও শিশু-শ্রম: এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাঙালি পরিচয়ের ইতিহাস: ভাষা, ধর্ম ও জাতিসত্তার সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বৈচিত্র্য ভারতের শক্তি হতে পারে, যদি সহাবস্থান বজায় রাখতে পারে শ্রমিক কর্মচারীর বেতন: ইসলামের দৃষ্টিতে এক অবিচ্ছেদ্য হক বিশ্ব সাইকেল দিবস পালনে স্কুল পড়ুয়ারা নানাই নদীর সেতু ভেঙে পড়াই জঙ্গল পথেই যাতায়াত বন্দীদশা কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে গেল ৯১ জন মৎস্যজীবি তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কৃষি সরঞ্জাম উদ্ধার এবার থেকে সরাসরি রেলপথে গঙ্গাসাগর? অবশেষে দিল্লির জন্তর মন্তর এ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে উচ্ছেদ বই-ভব পাবলিশার্সের আয়োজনে বহু গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে জয়নগর থেকে সুন্দরবন, বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতায় ব্যাপক উদ্যোগ ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলার মাস্টারমাইন্ড শওকত মোল্লার খোঁজে এনআইএ গধেয়ারকুঠি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভূতের আতঙ্কে চাঞ্চল্য! বিশ্ব পরিবেশ দিবসের রাতেই, গয়েরকাটায় রাতারাতি উধাও সেগুন গাছ ডোমকলে তৃণমূল নেতা বাসীর মোল্লা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার টানা ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন মাল ব্লক, ভোগান্তিতে রাজার চা বাগানের কেশর লাইনের বাসিন্দারা কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার বহরমপুরে আরএসপির মিছিল ও বিক্ষোভ বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতির অনাস্থা আনলো জাতীয় কংগ্রেস ঘাস কাটতে গিয়ে চিতাবাঘের হামলায় জখম অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ২৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে সার্টিফিকেট প্রদান কুলতলিতে পঞ্চায়েত সমিতি সভাপতির আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র উদ্ধার নরেন্দ্রপুরের গড়িয়ায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার ২ কুলতলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য সুন্দরবনে তিন দিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত, দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি এপিডিআরের বারুইপুর পৌরসভার সামনে জলকষ্ট ও নিকাশি সমস্যা নিয়ে বিজেপির বিক্ষোভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা

স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল হাশিম এক বিস্মৃত জননেতার জীবন-সংগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮

পাশারুল আলম
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনেক নেতার নাম সোনার অক্ষরে লেখা আছে, কিন্তু কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের অবদান প্রায়শই ছায়ায় থেকে যায়। আবুল হাশিম এমনই একজন অসাধারণ রাজনৈতিক চিন্তক ও সংগ্রামী, যিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম রাজনীতিকে প্রগতিশীল দিকনির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণমানুষের অধিকারের জন্য নিরলস লড়াই করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অটল অবস্থান, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের স্বপ্নের এক অসাধারণ উদাহরণ। আজকের বিভাজনমুখী রাজনীতির যুগে আবুল হাশিমের চিন্তাধারা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের মুক্তি আসবে শুধুমাত্র সহাবস্থান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের জন্ম ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বর্ধমান জেলার কাশিয়াড়া গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের একজন প্রখ্যাত সমাজসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও আবুল হাশিমের মনে শৈশব থেকেই মানবতাবাদ, সমতা ও ন্যায়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায়। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন, তারপর বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে স্নাতক হন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের এক প্রখর চিন্তাবিদ হিসেবে গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ:

আরও পড়ুন:

পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে ১৯৩৬ সালে আবুল হাশিম বাংলা আইনসভায় বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং দ্রুত উন্নতি করেন। ১৯৩৮ সালে এলাহাবাদে এবং ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শক্তিশালী হয়। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে লীগ একটি গণভিত্তিক দলে পরিণত হয়, যেখানে তিনি মিলিয়নেরও বেশি সদস্য সংগ্রহ করেন। তাঁর রাজনীতি ছিল সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে — তিনি মুসলমান সমাজকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র না করে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে লীগের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম | কালবেলা

দেশভাগের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের শুরুতে যখন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আগুন জ্বলছিল, তখন আবুল হাশিম ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ বা অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। শরৎচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে তিনি একটি অ-সাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও স্বতন্ত্র বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মতে, বাংলার শক্তি নিহিত রয়েছে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানে। তিনি ‘বাঙ্গালিস্তান’ ধারণা প্রচার করেন, যা একটি জাতীয়তাবাদী বাংলা রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সংশয়, মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনমনীয়তা এবং ব্রিটিশ কূটনীতির কারণে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। দেশভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:

দেশ ভাগোত্তর জীবন; নতুন সংগ্রাম:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আবুল হাশিম প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে যান এবং ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক চরিত্র, পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক দমন তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি হতাশ হয়ে ১৯৫২ সালে তিনি ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ গঠন করেন, যা ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামী সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট — শ্রেণিহীন সমাজ, শোষণমুক্তি এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর জোর দিতেন।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম

চিন্তক ও লেখক আবুল হাশিম:
আবুল হাশিম শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন গভীর দার্শনিক ও লেখক ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে এবং ১৯৫০-এর দশকে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। তবু তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। ১৯৬০ সালে তিনি ইসলামিক অ্যাকাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন। তাঁর রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘The creed of Islam’, ‘In retrospect’, ‘Let us go to war’ এবং ‘As I see It’ — এই রচনাগুলিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, শ্রেণিভিত্তিক শোষণের নিন্দা, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং মানবমুক্তির দাবি উঠে এসেছে। তাঁর চিন্তাধারা ছিল ডি-কোলোনিয়ালিজম বা ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন:

ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ; ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র করার বিরোধী; মুসলিম লীগের নেতা, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার সমালোচক; পাকিস্তানের সমর্থক, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের কড়া বিরোধী। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সম্প্রীতি। তাঁর আদর্শ ছিল সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতা।

আরও পড়ুন:

শেষ জীবন ও প্রয়াণ:

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ সংগ্রাম, দাঙ্গার বিভীষিকা এবং রাষ্ট্রীয় চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু শেষদিকে জনজীবন থেকে সরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি প্রয়াত হন। জীবদ্দশায় তিনি যথাযথ স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু তাঁর ত্যাগ আজও অনুপ্রেরণা।
পরিশেষে বলা যায়, আজকের বাংলাদেশ ও ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবুল হাশিমকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলা, যেখানে বিভাজন নয়, সহাবস্থানই মূলমন্ত্র। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব ক্ষমতার জন্য নয়, জনস্বার্থের জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে এক বৈষম্যহীন আদর্শ ও সুসংহত সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা নিতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder