BREAKING:
জোড়াসাঁকোয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহোৎসবে কলম শিল্পী গ্র্যান্ড ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ খোশবাগ বাসস্ট্যান্ডের কাছে পথ দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন দন্ত চিকিৎসক বসিরহাট দরবার শরিফে হুমায়ুন কবীর, পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা লাল বালির চড়া দাম, গ্রামবাসীদের ভরসা পাথরের গুড়ো   রমজানে অসহায়দের পাশে আল হোসাইনী হেল্প ফাউন্ডেশন সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য, লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা হুগলি জেলায় এসআইআর এর প্রথম পর্যায়ের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেন জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি  বন্যপ্রাণীর উপদ্রব রুখতে তৎপর বনদপ্তর উত্তাপহীন ডার্বিতে মহামেডানকে ৫ গোলে উড়িয়ে দিল মোহনবাগান মরণবাঁচন ম্যাচে আজ সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিততেই হবে ভারতকে রাজনগরে চাঞ্চল্য: গাংমুড়ি গ্রামে বাড়ির ভিতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার মোবাইল গেম খেলতে খেলতেই নিভে গেল ২১ বছরের তরতাজা প্রাণ  মুর্শিদাবাদের মুকুটে নতুন দুই পালক, বিশ্ববিদ্যালয় ও কাটরা মসজিদের তোরণ প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম! রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিশটি আসনে লড়বে পুকুর খনন করার সময় প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হল পান্ডুয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। রানে ফিরলেন অভিষেক, জয়ে ফিরলো ভারত; বেঁচে রইলো সেমির স্বপ্ন এসআইআর  ইস্যুতে আতঙ্ক নয়, আইনি পথে আপিলের আহ্বান মিল্লি ঐক্য মঞ্চের কালিয়াচক আবাসিক মিশনে বিজ্ঞান বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা সম্পন্ন, উৎসাহ চোখে পড়ার মতো পরীক্ষার দিন আচমকা মৃত্যু অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের, শোকস্তব্ধ সোনারপুর নাবালিকাকে বিবাহের অভিযোগে জয়নগরে গ্রেপ্তার যুবক জয়নগরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, আহত তিন শ্রমিক নেতা মহম্মদ ওয়েস এর নেতৃত্বে বড়জোড়ায় বিরাট মিছিল কুলতলির বিধায়কের উপস্থিতিতে ঢালাই রাস্তার কাজের সূচনা হলো নলগোড়ায় ঘুটিয়ারীশরিফে পুলিশের তৎপরতায় ৫৪ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে উদ্যোগ সুন্দরবনে বাঘের হামলায় ফের মৃত্যু, সরকারি ক্ষতিপূরণের দাবি এসআইও নিয়ে মিথ্যা মন্তব্যের প্রতিবাদে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন জামাআতে ইসলামী হিন্দের ইফতার সামগ্রী বিতরণ বই হোক সই, বইয়ের জন্য করিমপুরে পথে হাঁটল শত শত মানুষ রমজান মাসে ৩০০ দুস্থ পরিবারের পাশে সমাজসেবী হাফেজ নজরুল ইসলাম অবশেষে ধুলিয়ান গঙ্গা স্টেশনে বাংলা স্থান পেল  মুর্শিদাবাদে দুই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস ২৮ ফেব্রুয়ারি ভাঙড়ে ২৮ টি তাজা বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার দুই জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি বালিভর্তি ট্রাক চলাচল ঘিরে উত্তেজনা, সোনামুখীতে গ্রামবাসীর রাতভর বিক্ষোভ বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান ভোটের আগে বিরোধী শিবিরে বড় ভাঙন কুলতলীতে কালিয়াচকের বাহাদুরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড চুঁচুড়ায় সোমবার সাতসকালে পথ দুর্ঘটনা, জখম যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক নিহত সেনা জওয়ানের মরদেহ পৌঁছাল শেখপাড়ার বাড়িতে ব্লক প্রাণিসম্পদ বিকাশ দিবস পালিত জয়নগরে অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে ক্ষুদ্র ব্যবসা চাপে: মত বড়জোড়া চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ফের পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা উত্তরলক্ষীপুরের গর্ব: প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হতে চলেছেন ডা: মোবারাক হোসেন পুনরাবৃত্তি চায় ভারত, দক্ষিন আফ্রিকা চায় প্রত্যাবর্তন; সুপার এইটে আজ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই টানা দুই ম্যাচে জয় ইস্টবেঙ্গলের, দুই ম্যাচেই জোড়া গোল ইউসুফের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ আজ শুরু সুপার এইটের লড়াই, প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি পাক বনাম নিউজিল্যান্ড আজ ইস্টবেঙ্গলের সামনে স্পোর্টিং দিল্লি, ভরসার নাম ইউসুফ আজ্জেরি প্রত্যাশিত হার, ঘরের মাঠে মহামেডান বধ এফসি গোয়ার ১৫ বছরেও শেষ হয়নি বক্সীপুর ব্রিজ নির্মাণ কাজ, জনস্বার্থ মামলা গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে করিমপুর এলাকাবাসীকে বহরমপুর যেতে আর পেরুতে হবেনা বিপদ সংকুল রাস্তা এসআইআর এর চাপ, শ্রীরামপুরে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও’র ছেলেধরা সন্দেহে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় বলাগড়ে ২৫ জন দোষীকে সাজা শোনালো চুঁচুড়ার ফার্স্ট ট্রাক কোর্ট বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে জি-প্লটের আদিবাসী শিশুরা  জল্পনার অবসান, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বাম যুব নেতা প্রতীক উর রহমান কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন-এনজিওর যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা শিবির ঘোড়ামারা দ্বীপ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের, গঠিত হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শেষ সময় ঘনাতেই যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম জমায় দীর্ঘ হচ্ছে লাইন পখন্না রামকৃষ্ণ আশ্রমে শ্রীরামকৃষ্ণের ১৯১তম জন্মতিথি উদ্‌যাপন বড়জোড়া কলেজে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু: সংগঠন, সংগ্রাম ও সেবার রাজনীতি সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা ঘুঁটিয়ারীশরিফে পুলিশের সাফল্য: ২৪ চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার হুগলি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের উদ্যোগে খাদ্য সুরক্ষা মেলা’য় সুষম খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ  উলুবেড়িয়ায় ১৫ টিয়া উদ্ধার, আন্তরাজ্য পাখি পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার সরকারি জমি দখল ও নয়নজুলি ভরাটের অভিযোগে চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে কাবিলপুর হাই স্কুলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস ঘটা করে উদযাপন পবিত্র রমজান মাস শুরুর ঠিক আগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ জয়নগরে ২০২৬ নির্বাচন ঘিরে ফারাক্কায় জোর চর্চায় রেহেনা ইয়াসমিন  পিতা-মাতার স্মৃতিতে আট দিনব্যাপী ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন পুলিশকর্মী ছেলের উদ্যোগে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের মৃত্যু মিছিল থামছেই না, সরকারি ক্ষতিপূরনের দাবি মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন দুবে ঝড়ে উড়ে গেল নেদারল্যান্ডস, বোলিংয়ে নায়ক বরুণ হঠাতই ব্যাটিং বিপর্যয়, রঞ্জি থেকে বিদায় বাংলার ফারহানের দুরন্ত সেঞ্চুরি, সুপার এইটে পাকিস্তানও ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে আজ নামিবিয়ার মুখোমুখি পাকিস্তান সামির ৮ উইকেটেও, ব্যাটিং বিপর্যয়ে হারের মুখে বাংলা চুঁচুড়ায় প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেওয়াল লিখনে জোর তৃণমূল, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির কুলতলিতে আয়ুষ মেলা: বিকল্প চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ রানীনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভা ও জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে উপচে পড়া ভিড়  কৃষকদের সমস্যা সমাধানে চালু ‘ভারত বিস্তার’ এআই টুল গোবর্ধনডাঙ্গায় তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের কর্মী সভা কাবিলপুরে মানব সেবা ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু মালদা জেলায় হাই মাদ্রাসা, আলিম ও ফাজিল পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন পা দিয়ে লিখেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা মানকুন্ডুতে সারা বাংলা একদিনের দাবা প্রতিযোগিতা মেরা যুব ভারতের উদ্যোগে মগরাহাটে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অপসংস্কৃতির স্রোতের বিপরীতে নাট্যচর্চার বার্তা – বাগনানে তিনদিনের নাট্য উৎসবে নজর কাড়ল বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব দ্বীপাঞ্চলবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ: আমতায় নির্মীয়মাণ কংক্রিটের সেতুতে বাড়ছে আশার আলো মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কলকাতায় স্কুল ম্যানেজমেন্ট কর্মশালা জীবনে কিছু জায়গা থেকে চুপচাপ সরে আসতে হয় ১৪ই ফেব্রুয়ারি: ভালবাসার দিন হিসেবে কেন পালিত হয়? সুদ, মাদক ও জুয়ার অদৃশ্য জোট: সমাজ ধ্বংসের নীরব চক্রান্ত আদ্রায় ‘বিনা পয়সার বাজারে’ উপচে পড়া ভিড়, হাসি ফিরল অসংখ্য মুখে মেডিকেল ভর্তিতে কাট অফ বিতর্কে তোলপাড় দেশ হবু ডাক্তারদের মান, মেধা ও রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন কেরালার আদালতে নতুন অধ্যায় রচিত দৃষ্টিহীন তরুণী বিচারক গড়লেন নজির

স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল হাশিম এক বিস্মৃত জননেতার জীবন-সংগ্রাম

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ১১:৫৮

পাশারুল আলম
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অনেক নেতার নাম সোনার অক্ষরে লেখা আছে, কিন্তু কিছু মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যাঁদের অবদান প্রায়শই ছায়ায় থেকে যায়। আবুল হাশিম এমনই একজন অসাধারণ রাজনৈতিক চিন্তক ও সংগ্রামী, যিনি অবিভক্ত বাংলার মুসলিম রাজনীতিকে প্রগতিশীল দিকনির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণমানুষের অধিকারের জন্য নিরলস লড়াই করেছিলেন। তাঁর জীবন ছিল সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অটল অবস্থান, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের স্বপ্নের এক অসাধারণ উদাহরণ। আজকের বিভাজনমুখী রাজনীতির যুগে আবুল হাশিমের চিন্তাধারা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সত্যিকারের মুক্তি আসবে শুধুমাত্র সহাবস্থান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন:

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের জন্ম ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বর্ধমান জেলার কাশিয়াড়া গ্রামে। তাঁর পিতা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের একজন প্রখ্যাত সমাজসেবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও আবুল হাশিমের মনে শৈশব থেকেই মানবতাবাদ, সমতা ও ন্যায়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায়। তিনি বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুল থেকে ১৯২২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন, তারপর বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে ১৯২৮ সালে স্নাতক হন। ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। ছাত্রজীবনে তিনি সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক তত্ত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন, যা তাঁকে ভবিষ্যতের এক প্রখর চিন্তাবিদ হিসেবে গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ:

আরও পড়ুন:

পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসরণ করে ১৯৩৬ সালে আবুল হাশিম বাংলা আইনসভায় বর্ধমান থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং দ্রুত উন্নতি করেন। ১৯৩৮ সালে এলাহাবাদে এবং ১৯৪০ সালে লাহোরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি শক্তিশালী হয়। ১৯৪৩ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলা প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে লীগ একটি গণভিত্তিক দলে পরিণত হয়, যেখানে তিনি মিলিয়নেরও বেশি সদস্য সংগ্রহ করেন। তাঁর রাজনীতি ছিল সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে — তিনি মুসলমান সমাজকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র না করে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে লীগের সাফল্যে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম | কালবেলা

দেশভাগের প্রাক্কালে ঐতিহাসিক ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের শুরুতে যখন উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের আগুন জ্বলছিল, তখন আবুল হাশিম ‘ইউনাইটেড বেঙ্গল’ বা অবিভক্ত স্বাধীন বাংলার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। শরৎচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মিলে তিনি একটি অ-সাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও স্বতন্ত্র বাংলা রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর মতে, বাংলার শক্তি নিহিত রয়েছে হিন্দু-মুসলমানের সহাবস্থানে। তিনি ‘বাঙ্গালিস্তান’ ধারণা প্রচার করেন, যা একটি জাতীয়তাবাদী বাংলা রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিল। কিন্তু কংগ্রেসের সংশয়, মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনমনীয়তা এবং ব্রিটিশ কূটনীতির কারণে এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। দেশভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:

দেশ ভাগোত্তর জীবন; নতুন সংগ্রাম:

আরও পড়ুন:

১৯৪৭-এর দেশভাগের পর আবুল হাশিম প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) চলে যান এবং ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের একনায়কতান্ত্রিক চরিত্র, পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং সাংস্কৃতিক দমন তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করে। তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি হতাশ হয়ে ১৯৫২ সালে তিনি ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ গঠন করেন, যা ইসলামী রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত হয় এবং ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর রাজনীতি ছিল ইসলামী সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট — শ্রেণিহীন সমাজ, শোষণমুক্তি এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের উপর জোর দিতেন।

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিম

চিন্তক ও লেখক আবুল হাশিম:
আবুল হাশিম শুধু রাজনীতিবিদ নন, একজন গভীর দার্শনিক ও লেখক ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করে এবং ১৯৫০-এর দশকে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যান। তবু তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যকলাপ অব্যাহত থাকে। ১৯৬০ সালে তিনি ইসলামিক অ্যাকাডেমির প্রথম পরিচালক নিযুক্ত হন। তাঁর রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘The creed of Islam’, ‘In retrospect’, ‘Let us go to war’ এবং ‘As I see It’ — এই রচনাগুলিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা, শ্রেণিভিত্তিক শোষণের নিন্দা, সমাজতান্ত্রিক চেতনা এবং মানবমুক্তির দাবি উঠে এসেছে। তাঁর চিন্তাধারা ছিল ডি-কোলোনিয়ালিজম বা ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন:

ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ:

আরও পড়ুন:

আবুল হাশিমের ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ; ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র করার বিরোধী; মুসলিম লীগের নেতা, কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার সমালোচক; পাকিস্তানের সমর্থক, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের কড়া বিরোধী। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সম্প্রীতি। তাঁর আদর্শ ছিল সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতা।

আরও পড়ুন:

শেষ জীবন ও প্রয়াণ:

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ সংগ্রাম, দাঙ্গার বিভীষিকা এবং রাষ্ট্রীয় চাপ তাঁর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। অন্ধত্ব সত্ত্বেও তিনি সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু শেষদিকে জনজীবন থেকে সরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর তিনি প্রয়াত হন। জীবদ্দশায় তিনি যথাযথ স্বীকৃতি পাননি, কিন্তু তাঁর ত্যাগ আজও অনুপ্রেরণা।
পরিশেষে বলা যায়, আজকের বাংলাদেশ ও ভারতের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবুল হাশিমকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি ঐক্যবদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক বাংলা, যেখানে বিভাজন নয়, সহাবস্থানই মূলমন্ত্র। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব ক্ষমতার জন্য নয়, জনস্বার্থের জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারা অনুসরণ করে এক বৈষম্যহীন আদর্শ ও সুসংহত সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা নিতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder