BREAKING:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোভিয়েত রাশিয়া ভ্রমণ শপথ নিলেন আরো ৩৫ মন্ত্রী, রাজ্য ক্যাবিনেট বেড়ে হল ৪১ চাইলেই কি হকার উচ্ছেদ করা যায়? হুগলীর হরিপালে আট দলীয় নকআউট জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল, উইনার্স হরিপাল, রানার্স নবীন সংঘ ইমামের সর্বোচ্চ বেতনে নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্মানিত আঁকাড়িয়া মসজিদ কমিটি গণতন্ত্রের মঞ্চে সাধারণ মানুষের নীরব কান্না সংবাদমাধ্যম কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি পক্ষপাতদুষ্ট? ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার সোনারপুরের তৃণমূল কাউন্সিলর সরকারি ত্রাণ মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেফতার জয়নগরের তৃনমূল নেতা ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে জালালপুরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ধূপগুড়িতে প্রস্তাবিত ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঘিরে উত্তেজনা, আবর্জনা বোঝাই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ স্কুলে ঢুকে পড়ল শাবক সহ হাতির দল, চা বাগানের আতঙ্কে গ্রামবাসীরা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কুনাল ঘোষ সহ অনেকেই বানারহাটে বিশ্ব ঋতুস্রাব পরিচ্ছন্নতা দিবস পালন ককরোচ জনতা পার্টি কোন রাজনৈতিক দল নয়, সর্বজনীন সামাজিক প্রতিবাদের প্রতীক দিলীপ ঘোষ উবাচ চালতাবেড়িয়া ঈদগাহ ময়দানে লক্ষাধিক মানুষ পড়লেন ঈদের নামাজ আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে প্রধানের স্বামীকে আটকে রেখে বিক্ষোভ রায়দীঘিতে নদীর চর ভরাট করে বেআইনি ক্যাফে তৈরির অভিযোগ তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলের বিরুদ্ধে তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল, গ্রেফতার যুবক বাঁশদ্রোণীতে এক নাবালক স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা বঞ্চিত কৃষকদের পাশে সনৎ সর্দার, মানবিক উদ্যোগ সন্দেশখালির বিজেপি বিধায়কের ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফা দিবস: আরাফার ইতিহাস ও গুরুত্ব ‘বিদ্রোহী’ নজরুল, ভাগ হয়ে গেছেন বিলকুল বর্ধমান সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়-এর সামনে নজরুল জন্ম দিবস পালিত বিশ্ব সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের অবদান বন্দে মাতরম বিতর্ক: সাংস্কৃতিক আধিপত্য, বহুত্ববাদ ও জাতীয়তাবাদের জটিলতা ভারতীয় মুসলিম রাজনীতির প্রেক্ষাপট: ইতিহাস, সংকট ও রূপান্তর ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে অসহায়দের পাশে ‘মানবতা’ কৃতজ্ঞতাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি ভাতা গ্রহণ কি ইসলামে বৈধ? নজরুলের জন্মদিন: আর কতকাল সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে বাঙালি? ভারতীয় মুসলিম সমাজে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান; এক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ ‘মোল্লাতন্ত্র’ শব্দের সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা কুরবানির রাজনীতি: যখন গরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, আর আদর্শ হারিয়ে যায় বিদ্রোহী কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী: নজরুল সাহিত্যে মৌলিকতা ও ধর্মীয় সাম্যতা কাজী নজরুল ইসলাম: শৃঙ্খলভাঙা মানবাত্মার ঘোষণা ডোমকলে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল খতিয়ে দেখতে আকস্মিক পরিদর্শনে সিপিআইএম বিধায়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাথে সাক্ষাৎ মাদ্রাসা টিচার্স এসোসিয়েশনের বেহাল অবস্থা জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালের হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মগরাহাট স্টেশনে বিক্ষোভ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন ঈদুল আজহার দিনে পরীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের আহ্বান এসআইও’ র আল্লাহপ্রদত্ত ইলম (জ্ঞান) মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি আইনস্টাইন ও গ্যোডেল জুটি: গণিতের সংজ্ঞা বদলে গেল রাতারাতি হজ ২০২৬: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের ইতিহাস ও মর্যাদা ঋতু পরিবর্তন: আল্লাহর এক মহান নিয়ামত আমি ইলম (জ্ঞান) বলছি কুলতলীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অগ্নিসংযোগ সুন্দরবনের তুলো চাষ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের কৃষি বিশেষজ্ঞরা চাকবেড়িয়ায় বুদ্ধিজীবী সেমিনার: প্রান্তিক ও সংখ্যালঘুদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের স্থায়ী প্রশান্তি আকাশের রঙ কি নীল-ই থাকবে, নাকি বদলে যাবে? ফলতার পুনর্নির্বাচনে বেপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থায় অবশেষে ৬২ বছরের অভিযুক্ত গ্রেফতার জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারী মৌলে বাঘের আক্রমণে যখম সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় উচ্চ মাধ্যমিক তো হল, এবার কোন পথে এগোবেন? একমেরু বিশ্বের অধ্যায় শেষ; শুরু বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা বিশ্বজয়ী মেধা ও সংকীর্ণ রাজনীতি: ‘সোনার বাংলা’-র আড়ালে কি হারিয়ে যাচ্ছে ‘সোনার ভারত’-এর স্বপ্ন? ইসরাইল-বান্ধব না হতে আরব আমিরাতকে সতর্ক করল ইরান ১৯ মে: ভাষা-সংস্কৃতি নিয়েও গণসংগ্রাম সম্ভব গোরু বিতর্ক: বহুত্ববাদী বাস্তবতাকে মানলেই সংঘাত কমবে সিএবি পরিচালিত জেলা ইন্টার স্কুল ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ধূপগুড়ি হাই স্কুল দিনরাত মানুষের সেবায় বনকর্মীরা, ক্ষুধা মেটাতে মুড়ি-চানা খেয়েই কর্তব্য পালন বিন্নাগুড়ির বনকর্মীদের.!” “ঈদকে সামনে রেখে বানারহাট থানায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, উপস্থিত ইমাম ও ইসলামিক সম্প্রদায়ের মানুষজন..! বিজয়গঞ্জ বাজারে মহিলা সংগঠনের প্রতিবাদ মিছিল সরকারি ও বেসরকারি বাসে ছাত্র কনসেশনের দাবিতে মালদায় স্মারকলিপি হুগলিতে পেট্রোলের দর ১১০ টাকা ডিজেল ৯৬ টাকা, সমস্যায় ক্রেতারা হুগলি জেলায় আটদিনব্যাপী জনজাতীয় গরিমা উৎসবের সূচনা সেনা কর্মীর বাড়িতে চুরি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার গহনা ও নগদ চুরির অভিযোগ চুঁচুড়ায় হোমিয়োপ্যাথিক ওষুধ নাক্স ভোমিকা এবার হতে পারে দুরন্ত জৈব কীটনাশক এলিয়েনদের গোপন তথ্য কি ট্রাম্পের হাতে আছে? জল্পনা ইসরাইলী কারাগারে ফিলিস্তিনী নারীদের নগ্ন তল্লাশি, নীরব গণহত্যা বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: অহংকারের পতন, ঔদ্ধত্যের পরাজয় প্যারেন্টিং পয়গাম: বাচ্চা খুব বেশি খেলে বা খেতে না চাইলে করণীয় গোলমরিচের কারণেই পরাধীন হয়েছিল ভারত! বৃষ্টির জলে ভেজার উপকারিতা অনেক সবথেকে ধনী ভারতীয় চিকিৎসক কেরলের শামশির ভায়ালিল নিট-ইউজি বাতিল: মেধার নিলামে যখন নটে গাছটি মুড়োল ফের চীন সফরে ট্রাম্প, নেপথ্যে কোন উদ্দেশ্য? উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম দশে ৬৪ জন, পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সেরা আদৃত পাল, মেয়েদের মধ্যে প্রথম হুগলীর মেঘা মজুমদার কুরবানী: মনের পশুকে বিসর্জন দেওয়ার উৎসব নির্বাচন কমিশনার বাছাই কমিটিতে প্রধান বিচারপতি না থাকায় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের, গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বুলডোজার অভিযান: তপসিয়ায় মিল্লী ইত্তেহাদ পরিষদের প্রতিনিধি দল ফলতা পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা জাহাঙ্গির খান, কটাক্ষ বিজেপি, আইএসএফের স্বরশ্রুতি কালচারাল একাডেমির রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন অনুমোদন রাজ্যে অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি, কড়া মন্তব্য মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে আগুন ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে বনদপ্তরের পাতা খাঁচায় বন্দি চিতা বাঘ! চম্পাহাটি এলাকায় বড়সড়ো গ্যাসের কালোবাজারি ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসামান্য কৃতিত্বের জন্যই “বিদ্যাসাগর” উপাধি নবনির্বাচিত চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগকে সংবর্ধনা দিল হুগলি অ্যাসোসিয়েশন অফ কমার্স বঙ্গীয় সাহিত্যিক অনুসন্ধান ট্রাস্ট -এর মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সভা ও কৃতি সংবর্ধনা রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কৃষ্ণনগরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সরজিৎ আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তি গ্রেফতার গাংনাপুর পুলিশের হাতে গড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে কাটারির কোপ, ধৃত এক তৃণমূল কর্মী জয়নগরে জুয়ার ঠেক চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার ৪

প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যার ৬২ বছর। আজো রহস্য উদঘাটন হল না, এও এক রহস্য!!

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:০০ | আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ১২:০০

বিশেষ প্রতিবেদন

আরও পড়ুন:

আজ থেকে ৬২ বছর আগে নভেম্বরের এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল। একপশলা বৃষ্টির পর আকাশ ঝকঝক করছে। আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে সাজসাজ রব। শহরের বাসিন্দারা সকাল থেকে সেজেগুজে সড়কের পাশে জড়ো হচ্ছেন। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির রোড-শো শুরু হবে। সঙ্গে ফার্স্ট লেডি জ্যাকুলিন কেনেডিও থাকবেন। এই দম্পতি তখন দেশে ও দেশের বাইরে তুমুল জনপ্রিয়। সবাই নিজের চোখে তাঁদের দেখতে উদ্গ্রীব।
দিনটি ছিল ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর শুক্রবার। আগের দিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি স্ত্রীকে নিয়ে টেক্সাসের হিউস্টনে এসেছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি ছিল তাঁদের রাজনৈতিক সফর। যদিও তখনো কেনেডি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেননি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের পরই তিনি নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে কেনেডি দম্পতিকে স্বাগত জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সেখান থেকে মোটর শোভাযাত্রা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মুখোমুখি ছিল আমেরিকা। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পরের বছরই ‘কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট’ তৈরি হয়। যে সংকট সামলে বিশ্বকে পরমাণু যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। কিন্তু পরের বছরই আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। আড়াই বছরের একটু বেশি তিনি দেশ শাসন করেন। এত অল্প সময়েও তিনি যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, তা খুব কম মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাগ্যে জুটেছে।
একটি কালো রঙের ছাদখোলা লিমুজিনে চড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। পাশে বসা গোলাপি রঙের পোশাকে স্ত্রী জ্যাকুলিন কেনেডি। গাড়িতে তাঁদের সামনের সিটে বসে ছিলেন টেক্সাসের গভর্নর জন কনালি ও তাঁর স্ত্রী নেলি। সড়কের দু-পাশে হাজার হাজার মানুষ কেনেডি দম্পতিকে দেখে হাত নাড়ছিলেন, খুশিতে চিৎকার করছিলেন। প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিও হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দিচ্ছিলেন। শহরের বিভিন্ন পথ পেরিয়ে শোভাযাত্রা ডিলি প্লাজার দিকে এগোচ্ছিল। ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর সাড়ে ১২টা ছুঁই ছুঁই।
ডিলি প্লাজার মেইন স্ট্রিট থেকে কনভয় ঘুরে টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ…মাথা কাত করে স্ত্রীর গায়ে ঢলে পড়েন প্রেসিডেন্ট কেনেডি। পরে প্রেসিডেন্টের ঘাড়ে ও মাথায় গুলির ক্ষতচিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। গভর্নর কনালির পিঠেও গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত প্রেসিডেন্টকে নিয়ে গাড়িটি দ্রুতবেগে কাছের পার্কল্যান্ড মেমোরিয়াল হাসপাতালে ছুটে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের তখন আর কিছু করার ছিল না। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আধা ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান গভর্নর কনালি। আততায়ীর গুলিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি নিহত হয়েছেন — এ খবরে শুধু আমেরিকাই নয়; সারা বিশ্বের জন্য শোকের ছায়া নেমে আসে।

আরও পড়ুন:

হত্যাকারী লি হার্ভি অসওয়াল্ড:

আরও পড়ুন:

একটি উঁচু ভবন থেকে প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল আততায়ী। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়। গ্রেপ্তার হয় ঘাতক ২৪ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা লি হার্ভি অসওয়াল্ড। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে অসওয়াল্ডের বক্তব্য কেউ জানার সুযোগ পায়নি। কারণ, গ্রেপ্তার হওয়ার দুই দিন পরই এক নৈশক্লাবের মালিক জ্যাক রুবি ডালাসের পুলিশ সদর দপ্তরে ঢুকে সেখানকার বেসমেন্টে একেবারে সামনে থেকে গুলি করে অসওয়াল্ডকে হত্যা করেন।
ওই সময় পুলিশ অসওয়াল্ডকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছিল, টেলিভিশনে সরাসরি তা দেখানো হচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ রুবিকে গ্রেপ্তার করে। পরে বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে রুবি আপিল করলে তাঁর সাজা বাতিল হয় এবং নতুন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রুবি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই রুবি মারা যান ১৯৬৭ সালের ৩ জানুয়ারি। অসওয়াল্ড নিহত হওয়ায় কেনেডি হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। হত্যাকাণ্ড ঘিরে অনেক ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উঠে আসে।

আরও পড়ুন:

John F. Kennedy assassination conspiracy theories - Wikipedia

ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব:

আরও পড়ুন:

২০২২ সালে কেনেডির হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার মতো একটি শীর্ষ দেশের প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হল, আর সন্দেহভাজন হত্যাকারী ধরা পড়ার পর পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুই দিনের মাথায় তাঁকেও একেবারে সামনে থেকে গুলি করে মারা হল, বিষয়টি অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন হত্যাকারী অসওয়াল্ডকে ঘিরেও ছিল অনেক প্রশ্ন। কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্রুত অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়াতে থাকে। কারণও ছিল। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট কেনেডি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা চলাকালে। কেনেডি হত্যার পর যেকোনো সময় পরমাণু যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
কেনেডি হত্যা-রহস্য উদ্ঘাটনে মার্কিন সরকারের নিয়োগ করা কমিশন তদন্তের পর বলেছিল, অসওয়াল্ড একাই এ কাজ করেছেন, তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের কথা কমিশন নাকচ করে দেয়। কিন্তু কমিশন অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। লি হার্ভি অসওয়াল্ড কেনেডি হত্যাকাণ্ডের আগে বেশ কিছু সময় সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিলেন। বলা হয়, তিনি সোভিয়েতের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। তবে কেনেডি হত্যাকাণ্ডের আগের বছর তিনি মার্কিন মুলুকে ফিরে আসেন। কোনো কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্বে দাবি করা হয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কিউবার পক্ষ হয়ে এ কাজ করেছেন অসওয়াল্ড। আরেক তত্ত্বে দাবি করা হয়, এর পেছনে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র হাত ছিল। এমনকি কেউ কেউ তো কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাঁরই ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের হাত থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনিই নাকি প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে ছিলেন।
২২ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট কেনেডির মৃতদেহ লাভফিল্ড বিমানবন্দর নিয়ে এসে এয়ারফোর্স ওয়ানে রাখা হয়। মৃতদেহ নিয়ে আকাশে ওড়ার আগেই ভিড়ে ঠাসা কেবিনের ভেতরেই ৩৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন লিন্ডন বি জনসন। বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে জনসনকে শপথবাক্য পাঠ করান মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক সারাহ হিউজ। সিআইএ এবং এফবিআই আগে থেকে এ রকম এক হুমকির ব্যাপারে কতটা জানত, তা নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। অনেকের বিশ্বাস, কেনেডির ওপর গুলি চালিয়েছিলেন একজন নয়, দু-জন বন্দুকধারী।

আরও পড়ুন:

Assassination of John F. Kennedy - Wikipedia

প্রত্যক্ষদর্শীর স্বীকারোক্তি:

আরও পড়ুন:

২২ নভেম্বর জন এফ কেনেডি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর কাছ থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা পল ল্যান্ডিস। কেনেডির লিমুজিনের পেছনের গাড়িতেই তিনি ছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমস-কে সাক্ষাৎকারে ল্যান্ডিস কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে ওয়ারেন কমিশনের দেওয়া ‘একক বুলেট তত্ত্ব’কে চ্যালেঞ্জ করেন। ওয়ারেন কমিশনের ওই তত্ত্বে বলা হয়, একটি গুলিই প্রেসিডেন্ট কেনেডির মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে বেরিয়ে গভর্নর কনালির পিঠ, কবজি ও ঊরুতে আঘাত করে। গুলি কনালির পিঠ দিয়ে প্রবেশ করে তাঁর ফুসফুসে আঘাত করেছিল। একটি গুলি কীভাবে সাতটি ক্ষত তৈরি করে, তা নিয়ে এখনো বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা ওয়ারেন কমিশন কখনোই ল্যান্ডিসের সাক্ষাৎকার নেয়নি। ল্যান্ডিস নিজেও কখনো এ বিষয়ে সামনে এসে মুখ খোলেননি। প্রায় ৬০ বছর চুপ থাকার পর ৮৮ বছর বয়সী পল ল্যান্ডিস তাঁর স্মৃতিচারণামূলক বই নিয়ে প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। কেনেডির রহস্যময় হত্যাকাণ্ড নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশ পায় ল্যান্ডিসের বই ‘দ্য ফাইনাল উইটনেস’। পল ল্যান্ডিস তাঁর বইয়ে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বরের ঘটনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিবরণ দিয়েছেন। তবে ল্যান্ডিস বইয়ে লিখেছেন, তিনি কেনেডি হত্যা নিয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব প্রচার করতে চান না।

আরও পড়ুন:

President Kennedy Challenges NASA to Go to the Moon

যেমন ছিলেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি:

আরও পড়ুন:

জন এফ কেনেডির পুরো নাম জন ফিটজেরাল্ড কেনেডি। ১৯৬১ সালের ২০ জানুয়ারি ৩৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি শপথ নেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। অভিজাত ও মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসা জন এফ কেনেডি কেমন প্রেসিডেন্ট ছিলেন? অনেকের কাছে তিনি ছিলেন বহুমুখী গুণের অধিকারী ক্যারিশমাটিক নেতা। কেনেডি আমেরিকাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচিয়েছেন। বর্ণবাদে বিভক্ত আমেরিকাকে এক সুতায় গাঁথতে কাজ করেছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির হোতা রিচার্ড নিক্সনকে ১৯৬০ সালের নির্বাচনে পরাজিত করেছেন।
তবে নিন্দুকের কাছে কেনেডি ‘প্লেবয়’; যিনি হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর সঙ্গে গোপন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাকে দীর্ঘায়িত করেছেন। নাগরিক অধিকারকে তিনি রাজনৈতিক সমস্যা নয়; বরং নৈতিক সংকটের দৃষ্টি থেকে দেখে সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এসব নিন্দুক মনে করেন, কেনেডির মৃত্যু তাঁকে ট্যাবলয়েড পত্রিকার রসালো শিরোনাম হওয়ার যাতনা থেকে রক্ষা করেছে। হলিউড তারকা মেরিলিন মনরো বা মাফিয়া জুডিথ ক্যাম্পবেলের সঙ্গে দহরম-মহরম তাঁকে এমন অবস্থায় ফেলতেই পারত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেনেডি তাঁর আড়াই বছরের শাসনামলে নাগরিক অধিকার নিয়ে নানা কাজ করলেও ওই বয়সে বড় ধরনের কোনো সামাজিক পরিবর্তন চাননি। কারণ, তাঁর মনে ভয় ছিল, ওই বয়সে এত বড় কাজ করতে গেলে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরও পড়ুন:

Why We Still Don't Have the JFK Assassination Files - POLITICO

গোপন নথি প্রকাশ:

আরও পড়ুন:

কেনেডি হত্যার পর প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন এ হত্যাকাণ্ড তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেন। কমিশনের প্রধান করা হয় সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর্ল ওয়ারেনকে। ১৯৬৪ সালে কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অসওয়াল্ড একাই কেনেডিকে হত্যা করেছেন। তাঁর সঙ্গে আর কারও জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ১৯৯২ সালের ‘জেএফকে রেকর্ডস অ্যাক্ট’ নামের একটি আইনের অধীন ২০১৭ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যাকাণ্ড নিয়ে সব গোপন নথি প্রকাশ করার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে কয়েক দফায় হাজার হাজার পৃষ্ঠার গোপন নথি প্রকাশ করা হয়। চলতি বছর মার্চেও কেনেডির গুপ্তহত্যা নিয়ে দুই হাজারের বেশি গোপন নথি প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
কেনেডি নিহত হওয়ার পর মার্কিন সরকার এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছিল, তা যে সঠিক নয়, নতুন প্রকাশিত নথিতে এর পক্ষে তেমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেসব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল, প্রকাশিত নথি নতুন করে তাতে আলো ফেলেছে। এসব নথিতে কেনেডির হত্যাকারী সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যদিও কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পর ছয় দশকের বেশি পেরিয়ে গেছে, এখনো বেশির ভাগ মার্কিন এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারি বয়ানে বিশ্বাস করেন না।
এ নিয়ে ২০২৩ সালে একটি জরিপ চালায় জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ। তাতে উঠে আসে, ওয়ারেন কমিশনের উপসংহার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ৬৫ শতাংশ মার্কিন। মার্চে প্রকাশিত নতুন নথিতে ওয়ারেন কমিশনের টানা উপসংহার ছাড়া তেমন নতুন কিছু সামনে আসেনি। তবে নতুন প্রকাশিত নথির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কেনেডিকে হত্যার আগে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও কিউবার দূতাবাসে গিয়েছিলেন অসওয়াল্ড।
একটি নথিতে কিছু গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে অসওয়াল্ড কখন সোভিয়েত ইউনিয়নে গিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সেই নথি অনুযায়ী, চাকরি ও মার্কিন নাগরিকত্ব ছেড়ে ১৯৫৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমান অসওয়াল্ড। তিন বছর পর ১৯৬২ সালে আবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। ওই নথিতে সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির নিকোনভ নামে একজন গুপ্তচরের নাম রয়েছে। তিনি সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থায় থাকা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখেছেন, অসওয়াল্ড কখনো কেজিবির গুপ্তচর ছিলেন কি না।
মার্কিন সরকারের নজরদারিবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অসওয়াল্ড যুক্তরাষ্ট্রে আবার ফিরে আসার পর তাঁর গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারি করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসওয়াল্ড গুলি চালানোর ক্ষেত্রে তেমন দক্ষ ছিলেন না বলে ধারণা করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এ হত্যাকাণ্ড–সম্পর্কিত সব নথি প্রকাশ করা হবে। কিন্তু সিআইএ ও এফবিআইয়ের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করতে পেরেছিলেন মাত্র ২ হাজার ৮০০টি নথি। ট্রাম্পের পর জো বাইডেনের প্রশাসন আরও প্রায় ১৭ হাজার নথি প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder