BREAKING:
নববর্ষে আল মোস্তফা মিশনে ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও উৎকর্ষ বাংলা কর্মসূচি মুর্শিদাবাদের রানিনগর, ডোমকল, জলঙ্গি তিন আসনেই তৃণমূল হারবে: বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ শর্ত সাপেক্ষে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহের অনুমতি এসআইআর: সবার ভোটাধিকার ফেরাতে লড়াই জোরালো হবে কালিয়াচকে ওয়াইসি, মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সামসেরগঞ্জে জনজোয়ার, রাহুলের সভায় গর্জে উঠল কংগ্রেস বিজেপি-আরএসএস  দেশের সংবিধান ধ্বংস করতে ব্যস্ত: রাহুল গান্ধি গ্রাম থেকে শহর, পাড়ায় পাড়ায় লাল মিছিল রোডম্যাপ ঈদসংখ্যা প্রকাশ ও সেমিনার সম্পন্ন, সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন “আক্রান্ত সাধারণের শিক্ষা, এসো গড়ি প্রতিরোধ” শীর্ষক আলোচনা সভা  হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় ত্রিমুখী লড়াই, ইস্যুতে সেতু, পানীয় জল ও নদীভাঙন রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবার ব্যান্ডেলে অভিষেকের সভায় সদলবলে তৃণমূলে যোগ দিলেন চুঁচুড়ার দাপুটে বিজেপি নেতা সুরেশ সাউ গান্ধীজিকে কটূক্তির প্রতিবাদে ধূপগুড়িতে রাস্তা অবরোধ  এসআইআর বাতিলের দাবিকে জোরালো করতেই ১৪ তারিখ মহাসমাবেশ ঘোষণা  বিজেপির যোগ দান কর্মসূচি কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সাগরদিঘীতে তৃণমূল বনাম এসডিপিআই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১০০ বছরের অধিক সময় ধরে মাদুর তৈরি করে চলেছেন শিল্পীরা বসিরহাটের মহাকুমায় কংগ্রেসের শক্তি প্রদর্শন মনোনয়ন ঘিরে শক্তি প্রদর্শন নবীনচন্দ্র বাগের কান্দিতে শক্তি বাড়িয়ে প্রচারে ঝড় মিম পার্টির হুগলির বলাগড়ের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের জনমুখী প্রকল্পের কথা প্রয়াত গনি খানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী চার তারিখ যখন ভোট বাক্স খুলবে তখন পদ্মফুলের নেতারা চোখে সর্ষে ফুল দেখবে: অভিষেক সুতিতে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের নিয়ে নির্বাচনী সভা, ইমানী বিশ্বাসের সমর্থনে জনসমাগম ইলামবাজার থানার পক্ষ থেকে জঙ্গলমহলে রুটমার্চ  প্রান্তিক কিন্নর সমাজের অবহেলিত জীবনের কথা, অন্তরালে’র প্রদর্শনীতে ভিড় উপচে পড়ল নন্দনে চুঁচুড়ায় বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রার্থী বললেন ঘরের মাঠে লড়াই করবেন বিধানসভা নির্বাচনঃ হুগলি জেলা নির্বাচনী দপ্তরের উদ্যোগে সর্বদলীয় বৈঠক সম্পন্ন হল উন্নয়ন বনাম প্রতিশ্রুতি– উত্তরবঙ্গে অভিষেকের জনসভায় রাজনৈতিক বার্তা ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন, তৃণমূলকে সমর্থনের বার্তা  নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি, বসিরহাটে দরবারে জিয়ারত ডঃ শহিদুল হকের ১ বুথে ৪২৭ ভোটারের নাম বাদ, ক্ষোভে মালদহ রাজ্য সড়ক অবরোধ  দুবরাজপুর বিধানসভাকে পাখির চোখ করে জনসভা মুখ্যমন্ত্রীর ভোট প্রচার ছেড়ে দ্রুত রক্তদানের ব্যবস্থা করলেন বড়জোড়ার সিপিআইএম প্রার্থী হুগলি জেলা নির্বাচন দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ভোটার সচেতনতা র‍্যালি  আরো এক ধাপ এগিয়ে মধ্যমগ্রামের প্রতিবিম্ব ফাউন্ডেশন  ভোট প্রচারে পখন্না এলাকায়  তৃণমূল প্রার্থী  গৌতম মিশ্র  লরির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু, উত্তেজনায় অবরুদ্ধ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে হুগলি জেলার সবকটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘরের জন্য ইভিএম ও ভিভিপ্যাট পরীক্ষা করা হল এল পি জি সংকটের মধ্যে সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের বদলে জল বেরোনোর অভিযোগ, উত্তেজনা পোলবায় পথে পথে ভালোবাসা, সিউড়িতে অভিনব জনসংযোগে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সিউড়ি আদালতে হাজিরা দিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল  “গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব নয়” মোথাবাড়িতে বামদের কড়া বার্তা বাতাবারির চার্চে উষ্ণ অভ্যর্থনা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে জাঁকজমকপূর্ণ বাসন্তী পুজোর সূচনা ভাঙড়ে ভোটের আগে ‘বারুদ-ছায়া’ ইন্দাসে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী রায় বাগদী তৃণমূলের প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারের ঝড় জামালপুরে পাথর প্রতিমায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সভায় জনসমুদ্র এস ভি আই এস টি কলেজ ক্যাম্পাসে শুরু হলো আন্ত স্কুল স্পোর্টস টুর্নামেন্ট সুন্দরবনে তৈরি হলো ম্যানগ্রোভ রিসোর্স হাব আরণ্যক এস‌আইআর বিরোধী প্রতিবাদ সপ্তাহে ভগৎ সিং স্মরণ রাজ্যের বৃহত্তম ঈদের জামাত কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা ঈদগাহে কুলতলিতে বিরোধী শিবিরে বড়সড় ধাক্কা ১৫০০ কর্মী-সমার্থক তৃণমূলে যোগদান প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে হুগলি জেলায় সুষ্ঠুভাবে পালিত হল ঈদের নামাজ ‘তিনদিনের যোগী’ বলে সাংসদ রচনাকে কটাক্ষ অসিত মজুমদারের মালদহে আরও চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করলো আম জনতা উন্নয়ন পার্টি অকাল বৃষ্টিতে আলু চাষে বিপর্যয়, ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের আর্তি গ্রেফতার তৃণমূল ছাত্রনেতা: মেলায় জুয়া খেলার অভিযোগে চাঞ্চল্য থেমে নেই মানবিকতার লড়াই – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জীবনে আলো জ্বালাচ্ছেন রামপুরহাটের শিক্ষিকা বর্ণালী রুজ উদ্যোক্তা সুব্রত মিদ্যার গ্রাম থেকে গ্লোবাল হওয়ার গল্প বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসের প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে অধ্যাপক ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর ঘোষ  আন্তর্জাতিক মঞ্চে উজ্জ্বল বসিরহাটের কন্যা, আরাধ্যা কুণ্ডুর সাফল্যে গর্বিত ক্রীড়ামহল বহরমপুরে লাল কেল্লার থিমে জমজমাট ঈদ উদযাপন রাজ্যে অলিখিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে বলে অভিযোগ তৃণমূল সুপ্রিমোর  নিম্নমানের রাস্তার কাজের অভিযোগে বিক্ষোভ, কাজ বন্ধ করলেন গ্রামবাসীরা ! আস সুফ্ফাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণে মানবিক দৃষ্টান্ত নির্বাচন ঘোষণা হতেই তৎপর প্রশাসন, ব্যান্ডেল জংশন স্টেশনে জোর তল্লাশি খাটিয়ায় গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয়ে গেল জয়নগরে তৃনমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে প্রার্থী ঘোষণা হতেই প্রচারে সিপিআইএম প্রার্থী নিরঞ্জন রায় চা বাগানে ফের খাঁচাবন্দি পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘ, এলাকায় চাঞ্চল্য  সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চাকুলিয়ায় নজিরবিহীন ইফতার মাহফিল ভিক্টরের, ২০ হাজার মানুষের ঢলে রেকর্ড ভাঙল সমাগম ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল ত্যাগ সাসপেন্ডেড নেতা আরাবুল ইসলাম মালদহে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন বিভিন্ন গণসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পবিত্র রমজান উপলক্ষে মালদহে মানবতার ছোঁয়া, দুস্থদের পাশে বিদেশের মসজিদ মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘বিচারাধীন’, স্মারকলিপি সদভাবনা মঞ্চের জাহাজের ধাক্কায় সুমুদ্রে ট্রলার ডুবিতে গুরুতর জখম ৯ নিখোঁজ ২  আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিচারাধীন বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রাখার দাবিতে ডেপুটেশন মহেশতলায় নির্যাতিতার পাশে মানবাধিকার প্রতিনিধি দল হুগলির পোলবায় অবৈধ পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ১০৭টি অসহায় পরিবারের পাশে আলোর মানবিক সংস্থা মোথাবাড়ির ভূমিপুত্র নজরুল ইসলামের উদ্যোগে হাজারো দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ উত্তরপাড়া এখন চোরেদের আঁতুরঘর, রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী  মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, গ্যাস আতঙ্কে ইনডাকশন ওভেন কেনার ধুম চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান, নষ্ট করা হলো সরঞ্জাম সরকারি উদ্যোগে আলু সংরক্ষণ শুরু, ন্যায্যমূল্যের আশায় খুশি কৃষকরা মালদহে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র গণ আন্দোলন গড়ে উঠেছে ‘স্বাধীনোত্তর ভারতে নারীর অধিকার ও মর্যাদা’ শীর্ষক সেমিনার কলকাতায় ডিজিটাল আসক্তি বনাম বইমুখী সংস্কৃতি: লাইব্রেরি কি হারিয়ে যাচ্ছে? ভোটাধিকার রক্ষায় জেলা শাসকের দপ্তরে হাজারো মানুষের জমায়েত ও ডেপুটেশন হুমায়ুনের হেতমপুরে তৃণমূলের কোর কমিটি ঘিরে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পদত্যাগের হুঁশিয়ারি একাংশ নেতার সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল লেভেল ক্রসিং বন্ধ ঘিরে বিক্ষোভ, মানুষের চাপে সিদ্ধান্ত বদল রেলের ভোটার তালিকা নিয়ে মুর্শিদাবাদে ক্ষোভ, জেলাশাসককে স্মারকলিপি মিল্লি ঐক্য মঞ্চের মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান সংগ্রহ কেন্দ্রের উদ্বোধন হাওড়ার আমতায় জলকষ্টের অবসান, মাজুরিয়া আদিবাসী পাড়ায় নতুন পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন ভাবতা আজিজিয়া হাই মাদ্রাসার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ

সঞ্জয় গান্ধীর প্রয়াণের ৪৫ পর ফিরে দেখা অতীত আকাশপথে কীভাবে মারা গিয়েছিলেন ইন্দিরা-পুত্র?

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৪৬

বিশেষ প্রতিবেদন

(বিমানবন্দরে ১০ মিনিট, আকাশে ১২ মিনিট। রাজীব গান্ধীর মতোই সঞ্জয় গান্ধীও ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি ও বিমান চালনায় দক্ষ ছিলেন। কিন্তু নয়াদিল্লিতে স্টান্ট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণ হারান। জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার ছায়া, বিতর্কিত সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ এবং ক্ষমতার প্রতি আকর্ষণ ইতিহাসে এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে তাঁকে। ১৪ ডিসেম্বর তাঁর জন্মদিনে তরুণ এই রাজনীতিবিদের ঘটনাবহুল জীবনের কিছু অনালোচিত ও অনালোকিত দিক সম্পর্কে লিখেছেন আবু হুরাইরাহ)

আরও পড়ুন:

১৯৮০ সালের ২৩ জুন, নয়াদিল্লি। সকালটা ছিল শান্ত, তবু ইতিহাসের এক অমোঘ অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছোট ছেলে, সাবেক কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় গান্ধী মাত্র ৩৩ বছর বয়সে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তাঁর এমন মৃত্যু একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের শুধু শোকের ঘটনাই নয়; বরং ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে বিতর্ক, ষড়যন্ত্র ও রহস্যের গভীর অধ্যায় হিসেবেও চিহ্নিত হয়ে আছে।
সঞ্জয় গান্ধীর জীবন ছিল রাজনৈতিক উত্থান-পতনের এক মেলবন্ধন। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার আগে তিনি একাধিকবার হত্যাচেষ্টারও শিকার হন। কিন্তু কীভাবে ঘটেছিল রহস্যেঘেরা সেই বিমান দুর্ঘটনা? রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও অনেক সাধারণ মানুষের কাছে আজও এটি কৌতূহলী এক প্রশ্ন।
সঞ্জয় গান্ধীর জন্ম ১৪ ডিসেম্বর ১৯৪৬। তাঁর জন্ম হয় দেশের সবথেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে। প্রপিতামহ মতিলাল নেহরু ছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও মহাত্মা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দাদু জওহরলাল নেহরু স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। মা ইন্দিরা গান্ধীও ছিলেন দেশের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৬-৭৭ ও ১৯৮০-৮৪)। ভাই রাজীব গান্ধীও পরে প্রধানমন্ত্রী হন। সঞ্জয়কে তাঁর মায়ের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হত।
সঞ্জয় গান্ধীর সবচেয়ে সমালোচিত পদক্ষেপ ছিল ‘স্টপ অ্যাট টু’ নামে জন্মনিয়ন্ত্রণ অভিযান। লক্ষ্য ছিল, দেশের জনসংখ্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে ৬০ লক্ষাধিক পুরুষকে জোর করে বন্ধ্যাকরণ করা হয়। এ অভিযান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।
পুলিশ গ্রাম ঘিরে ফেলত এবং দরিদ্র পুরুষদের ধরে এনে বন্ধ্যাকরণ করানো হত বলে অভিযোগ। ছোটবেলা থেকেই সঞ্জয়ের মনোযোগ ছিল প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির ওপর। ইংল্যান্ডে রোলস-রয়েস প্রতিষ্ঠানে তিনি অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৭৬ সালে পাইলট হিসেবে লাইসেন্স পান এবং অ্যারোবেটিক চালনায় তাঁর দক্ষতা ছিল। এই আগ্রহ তাঁর ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উইকিলিকসের নথি অনুযায়ী, ইন্দিরা গান্ধী ছেলে সঞ্জয়কে কখনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেখেননি। তবু জরুরি অবস্থার সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এবং কংগ্রেসের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করার দায়িত্ব সঞ্জয়ের হাতে ছিল।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্কিত ভূমিকা:

আরও পড়ুন:

দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে ১৯৭৫ সালের জুনে ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এরপর সঞ্জয় গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু। জরুরি অবস্থায় ইন্দিরা গান্ধী নাগরিক অধিকার স্থগিত করেন এবং কয়েক হাজার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার করেন বলে অভিযোগ। ওই সময় সঞ্জয় কার্যত মায়ের উপদেষ্টার ভূমিকা নেন এবং ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। ওই সময় (জুন ১৯৭৫-মার্চ ১৯৭৭) নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রভাব আরও বাড়াতে বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেন সঞ্জয়। ‘স্টপ অ্যাট টু’ ছিল সঞ্জয় গান্ধীর পাঁচ দফা কর্মসূচির একটি। অন্য চারটি ছিল গাছ লাগানো, সাক্ষরতা বাড়ানো, বিয়েতে পণ বা যৌতুকের বিরুদ্ধে লড়াই ও বর্ণব্যবস্থার বিলুপ্তি।
সঞ্জয়ের আরেকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছিল ভিড়ভাট্টা ও দরিদ্র মানুষের বসতি উচ্ছেদ। কিছু এলাকাকে নগর উন্নয়নের পথে বাধা মনে করতেন তিনি। ফলে পুরোনো দিল্লির বহু বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন, যার মধ্যে জামা মসজিদ ও তুর্কমান গেটের এলাকাগুলোও ছিল। দিল্লিই ছিল এসব উচ্ছেদের প্রধান কেন্দ্র। তবে গুজরাট, হরিয়ানা-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যে একই অভিযান চালানো হয়। তুর্কমান গেটে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত হন। ১৯৭৭ সালে গঠিত জাস্টিস জে.সি শাহ তদন্ত কমিশন জানায়, অন্তত ৬ থেকে ২০ জন নিহত হন। পুরো অভিযানে লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। শাহ কমিশন এই উচ্ছেদ অভিযানকে জরুরি অবস্থার সময় সরকারের করা ‘সবচেয়ে বড় মাত্রার অতিরিক্ত ক্ষমতার ব্যবহার’ বলে মন্তব্য করে।
ব্যঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র ‘কিসসা কুর্সি কা’ (একটি সিংহাসনের কাহিনি) ধ্বংসের ঘটনাতেও সঞ্জয় সরাসরি জড়িত ছিলেন। ‘কিসসা কুর্সি কা’ ১৯৭০-এর দশকে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক চলচ্চিত্র, যা ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে ব্যঙ্গ করেছিল। সঞ্জয় চলচ্চিত্রটির প্রিন্ট পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই পদক্ষেপকে সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী | জীবনী, কংগ্রেস পার্টি, ইন্দিরা গান্ধী, জরুরি অবস্থা, এবং  মৃত্যু | ব্রিটানিকা
১৯৭৮ সালে জরুরি অবস্থা শেষে, চলচ্চিত্রটি পুনরায় চিত্রায়িত হয় ও মুক্তি পায়। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টে চলচ্চিত্র ধ্বংসের ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মামলায় আদালত সঞ্জয় গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছর কারাদণ্ড দেন। বিচার চলাকালীন তিনি এক মাস কারাগারে ছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে খালাস পান।
বিতর্কিত নানা পদক্ষেপের কারণে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী হেরে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন। তবে ১৯৮০ সালে কংগ্রেস আবার জয়ী হয় এবং সঞ্জয় গান্ধী লোকসভার সাংসদ হন। তিনি দেশের রাজনীতিতে মায়ের পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ১৯৮০ সালের মে মাসে, মৃত্যুর ঠিক এক মাস আগে, তিনি তাঁর মায়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস (আই) দলকে ৯টি রাজ্যে নির্বাচনের মধ্যে আটটিতে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধীকে স্মরণ করা: ভবিষ্যতের নেতা যিনি খুব তাড়াতাড়ি মারা গেছেন -  ইন্ডিয়া টুডে
হত্যাচেষ্টা ও নিরাপত্তাঝুঁকি:

আরও পড়ুন:

সঞ্জয় গান্ধী রাজনৈতিক জীবনে তিনবার হত্যাচেষ্টার সম্মুখীন হন। মার্কিন দূতাবাসের এক নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে অজ্ঞাত হামলাকারী সঞ্জয় গান্ধীকে নিশানা করেছিল। একই বছরের আগস্টে তাঁকে লক্ষ্য করে তিনবার গুলি করা হয়, তবে তিনি গুরুতর আহত হননি। এ ঘটনা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে দেয়। হত্যাচেষ্টার পেছনে দায়ী করা হয় ‘বহিরাগত শক্তি’কে। হত্যাচেষ্টার এই তথ্য উইকিলিকস প্রকাশ করার আগে ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের মধ্যেই সীমিত ছিল এবং জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পরও কোনো তদন্তে প্রকাশ পায়নি।

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনার দিন:

আরও পড়ুন:

২৩ জুন ১৯৮০-এর সেই সকালে, সঞ্জয় গান্ধী সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে কুর্তা-পায়জামা ও কোলাপুরি চপ্পল পরে সফদরজং বিমানবন্দরে পৌঁছন। তিনি নিজের প্রিয় স্টান্ট বিমানের ককপিটে ওঠেন। সামনের আসনে ছিলেন প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সুভাষ সাক্সেনা। সঞ্জয়ের এটি চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের। তবু নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি আকাশে ওড়ে। অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সঞ্জয় আকাশে স্টান্ট শুরু করেন। কিন্তু বিমান যথাযথ উচ্চতায় পৌঁছাতে না পারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ডানা নিচে গাছে ধাক্কা খায়। উড়ানের মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে সকাল ৮টা ১০ মিনিট বিমানটি নয়াদিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর বাসভবনের কাছেই বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সঞ্জয় গান্ধী ও ক্যাপ্টেন সাক্সেনা। জানা যায়, তাঁর মৃত্যু মাথায় আঘাতের কারণে হয়েছে।
ইন্দিরা গান্ধী নিজের অফিসেই ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে শুধু বিমানের ধ্বংসস্তূপই দেখতে পান। কংগ্রেস নেতাদের মতে, সঞ্জয় ছিলেন ইন্দিরার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। তাই এই মৃত্যু তাঁর পরিবারের জন্য ছিল এক গভীর আঘাত। সঞ্জয়ের মৃত্যুতে ইন্দিরা ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েছিলেন। কিন্তু প্রকাশ্যে বিষয়টি দেখাননি। রাজনীতিবিদদের ধারণা, যদি সঞ্জয় গান্ধী অকালেই মারা না যেতেন, তবে কংগ্রেসের বর্তমান ও দেশের রাজনৈতিক চিত্র হয়ত ভিন্ন কিছু হত।

আরও পড়ুন:

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ:

আরও পড়ুন:

বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয় গান্ধী নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় কংগ্রেস-ইউ দলের আর.পি যাদব ১৯৮০ সালের ১১ অক্টোবর একটি চিঠি প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও বিরোধী রাজনীতিক নানাজী দেশমুখ একজন উগ্র হিন্দু মেকানিককে বিমানের ইঞ্জিনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করতে প্ররোচিত করেছিলেন। ওই মেকানিক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর সদস্য ছিলেন।
অভিযোগ ওঠে দলের বিহারের সদস্য আর.পি সারাঙ্গী দলীয় সভাপতি অটল বিহারী বাজপেয়ীকে চিঠিটি লিখেছিলেন। তবে তিনি চিঠি লেখার অভিযোগ অস্বীকার এবং যাদবকে ‘চরিত্রহানি’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। কীভাবে চিঠির ওই ফটোকপি পেয়েছেন, সেটি যাদব বলেননি। আর বাজপেয়ী বলেছিলেন, তিনি কখনো চিঠিটি পাননি এবং অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য সরকারিভাবে তদন্তের দাবি করেন।

আরও পড়ুন:

30 বছর ধরে নিখোঁজ সঞ্জয় গান্ধীর মূর্তি, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে কংগ্রেস  খুঁজে বের করল - ওড়িশাপোস্ট
রাজনৈতিক বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন সঞ্জয়ের মৃত্যু নিয়ে বিজেপির সাবেক রাজ্যসভা সাংসদ সুব্রামনিয়াম স্বামী ২০১৮-১৯ সালে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, সোভিয়েতরা বিমানে ফাটল তৈরি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল এবং সোনিয়া গান্ধী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধান গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা কেজিবির এজেন্ট ছিলেন। সুব্রামনিয়ামের অভিযোগ, সোভিয়েত ইউনিয়ন সোনিয়ার সুবিধার জন্য সঞ্জয়কে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
সোনিয়ার বাবাও কেজিবির একজন এজেন্ট ছিলেন, যাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বন্দী করার পর সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়োগ করেছিল বলে অভিযোগ করেন স্বামী। সুব্রামনিয়াম স্বামী টুইট করেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত টিডিকে-কে সুবিধা দেওয়ার জন্য সোভিয়েতরা তাঁর (সঞ্জয়ের) বিমানে একটি ফাটল তৈরি করে এবং তাঁর জীবন শেষ করে। বিমানটি আশোকা হোটেলের কাছে বিধ্বস্ত হয়, কিন্তু বিস্ফোরিত হয়নি। কেন?’
সঞ্জয় গান্ধীর স্ত্রী মানেকা গান্ধী ও ছেলে ফিরোজ বরুণ গান্ধী জীবিত ছিলেন। দুজনই পরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সঞ্জয় মাত্র ৩৩ বছর বয়সে চলে গেলেও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর প্রভাব আজও অম্লান। তাঁর অকালমৃত্যু দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা বদলে দেওয়ার একটি মুহূর্তও।
সঞ্জয় গান্ধী বেঁচে থাকলে হয়ত কংগ্রেসের নেতৃত্ব, দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য ও নীতিনির্ধারণের রূপ ভিন্ন হত। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাই রাজীব গান্ধী উঠে আসেন নেতৃত্বের কেন্দ্রে। সঞ্জয়ের মৃত্যু-রহস্য, হত্যাচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আজও বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সব মিলিয়ে, কীভাবে একজন নেতার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি পুরো দেশের রাজনৈতিক গতিপথ গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে, সেটিই মনে করিয়ে দেয় সঞ্জয়ের জীবন ও মৃত্যু। (ঋণ স্বীকার: প্রথম আলো)

আরও পড়ুন
Copyright © Notun Poigam
Developed by eTech Builder