দৈনিক ‘নতুন পয়গাম’ সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ১১ এপ্রিল: শনিবার ১১ই এপ্রিল ২০২৬ কলকাতার শিয়ালদহে অবস্থিত কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে দৈনিক নতুন পয়গাম সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যা প্রকাশ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে গিয়েছিলাম। এমনিতেই দীর্ঘদিন পর আমি এই ধরনের কোন অনুষ্ঠানে গেলাম। সাধারণত এই অনুষ্ঠানগুলোকে আমি এড়িয়ে চলি, কারণ অনেকটা সময় চলে যায়, ব্যক্তিগতভাবে পেশাগত কাজ করার পাশাপাশি বাংলার জনরব নিউজ পোর্টালের খবরগুলিকে আপলোড করতে হয়। একইসঙ্গে ইউটিউব চ্যানেলেও বিভিন্ন বিষয়ে আমি প্রতিদিন বিশ্লেষণ করে থাকি। তাই সময় কম থাকে। এজন্য বহু অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু এই সকল নানাবিধ যৌক্তিক কারণে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয় না।
তবে দৈনিক নতুন পয়গাম পত্রিকার ঈদ সংখ্যার অনুষ্ঠানে আমাকে যেতে হয়েছিল এই কারণে যে, ওই পত্রিকার সম্পাদক মুদাসসির নিয়াজ আমার অত্যন্ত স্নেহের, তাঁর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে পারিনি। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখলাম, দৈনিক নতুন পয়গাম পত্রিকার ঈদ সংখ্যার অনুষ্ঠানে রীতিমত চাঁদের হাট বসেছে। বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি, সাহিত্যিক, লেখকরা উপস্থিত হয়েছেন। বেশ কয়েক মাস পরে দেখা হল বিশিষ্ট উপন্যাসিক ইসমাইল দরবেশ এর সঙ্গে, অনেক কয়েক বছর পর দেখা হল উপন্যাসিক এবং লেখক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুসা আলীর সঙ্গে। দেখা হল চিকিৎসক আসাদ আলীর সঙ্গে, বহুদিনের বন্ধু কবি নুরুল হুদার সঙ্গে। নুরুল হুদা, এতটাই আমার সঙ্গে দেখা করার পর উৎসাহিত হলেন যে, তিনি সেলফি তুলতে শুরু করলেন, যেটা আমি সাধারণত পছন্দ করি না। যাইহোক নতুন পয়গাম সংবাদপত্রের আমন্ত্রণে এই অনুষ্ঠানে না গেলে অনেকের সঙ্গেই দেখা হত না।
এখানেই দেখা হল আমার বহুদিনের সাংবাদিকতার অন্যতম শিক্ষক মুজতবা আল মামুনের সঙ্গে। আর দৈনিক নতুন পয়গাম পত্রিকার সম্পাদক মুদাসসির নিয়াজ তো রীতিমতো আমার সম্পর্কে যা বললেন, তাতে আমি লজ্জিত হয়ে পড়েছি। আসলে সম্পাদক মুদাসসির নিয়াজ এবং আমি একটি দৈনিক পত্রিকায় একসঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। সেখানে আমরা পরস্পরকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু নানা কারণে বহুদিন দেখা হয়নি, তবে সম্পর্কটা জুড়ে ছিল। দৈনিক নতুন পয়গাম পত্রিকা প্রকাশের পর থেকেই আমাকে নানা সময় লেখা দিতে বলেছে সম্পাদক। কিন্তু আমি সময় পাইনি বলে লেখা দিতে পারিনি। কিন্তু তবুও কোন সময়ই সম্পর্ক ছিন্ন করেনি আমার সঙ্গে। যদিও ঈদ সংখ্যায় আমার একটা প্রবন্ধ আছে। আমার পরিচয়কে এমনভাবে দেখানো হল, যেন মনে হচ্ছে আমি একজন খুব বড় মাপের সাংবাদিক। কোনকালেই ছিলাম না, তবুও পত্রিকার সম্পাদক আমার পরিচয় দিতে গিয়ে নানা উপমা ব্যবহার করলেন। শেষে আমাকে বলতে বললেন, কী আর বলব? যা বললাম তা উপস্থিত শ্রোতা দর্শকরা শুনলেন। তারপরে দেখলাম একাধিক ব্যক্তি এসে আমার নাম্বার নিতে শুরু করলেন। আমার একটা অন্য কাজ থাকায় সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে আসতে হয়। সম্পাদকের স্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা হল। এই প্রথম পরিচয়। তিনি জোর করেই আমার হাতে দু-প্যাকেট বিরিয়ানি ধরিয়ে দিলেন। আসলে মুদাসসির নিয়াজ আমার ছোট ভাইয়ের মতো। একটা সময় আমরা সুখ-দুঃখের গল্প করতাম, অনেক কথা শেয়ার করতাম। আজ ও সাংবাদিকতা জগতে একটা উঁচু পদে বসে আছে। আমরা অনেক দূরে আছি। তবু যে ও আমাকে ভোলেনি, এজন্য নিয়াজ ভাইয়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সবমিলিয়ে শনিবারের ঈদ সংখ্যা উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুধু ভাল লেগেছে, তা নয়। তার এই কঠিন লড়াই ও নিত্যদিনের সংগ্রাম আমাকে উজ্জীবিত করেছে এবং আমি পরম করুণাময় এর কাছে প্রার্থনা করি, দৈনিক নতুন পয়গাম যেন সত্যিকার অর্থেই বাংলার মজলুম, দলিত, শোষিত, প্রান্তিক মানুষের মুখপত্র হয়ে ওঠে। আমি এটা বিশ্বাস করি, ওই পত্রিকার বর্তমান সম্পাদক যে লড়াই এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই কঠিন কাজটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা একদিন সফল হবেই।








